গভীর অরণ্যে ফুরোয় না পথ। রাম, লক্ষ্মণ, সীতা চলেছেন দুর্গম পথের বাধা বিপত্তি পার হয়ে সুতীক্ষ্ণ মুনির আশ্রমে। সঙ্গে চলেছেন রামের শরণাগত মুনিরা।
গভীর অরণ্যে ফুরোয় না পথ। রাম, লক্ষ্মণ, সীতা চলেছেন দুর্গম পথের বাধা বিপত্তি পার হয়ে সুতীক্ষ্ণ মুনির আশ্রমে। সঙ্গে চলেছেন রামের শরণাগত মুনিরা।
বিরাধ রাক্ষস তার মুক্তিকালে রামকে জানিয়ে গিয়েছিল, এই গভীর, ভয়াল দণ্ডকারণ্যে নিরাপদ, নির্ভয় আশ্রয়ের ঠিকানা — শরভঙ্গ মুনির আশ্রম। সেখান থেকে সার্ধ যোজন দূরত্ব তার।
দণ্ডকারণ্যের সুরম্য, ভয়াল অরণ্যানী। চলার পথ খুঁজে পাওয়া ভার। এ যেন ঘনঘোর মেঘমালায় ঢেকেছে দিনের আলো। আবার তার সৌন্দর্য দু’ চোখ ভরে পান করেও যেন তৃপ্তি হয় না।
মায়েদের রাজপ্রাসাদে রেখে স্থির করলেন ভরত, নন্দিগ্রামে থাকবেন তিনি। সেখানেই অপেক্ষা করবেন রামের জন্য। চোদ্দ বছর পর অগ্রজ ফিরে এলে তাঁকে রাজ্যভার সমর্পণ করে তবে শান্তি পাবেন তিনি।
পুরবাসীদের কথা শুনে রাম বললেন, “ভরত, প্রজাদের কথা শুনলে তো? এবার তোমার কঠিন ব্রত ত্যাগ করো।” কুশশয্যা ছেড়ে উঠে জলস্পর্শ করলেন ভরত।
রাজা যুধিষ্ঠিরের রাজসূয়যজ্ঞানুষ্ঠান সম্পন্ন করে একচ্ছত্র সাম্রাজ্যের আধিপত্যলাভ প্রয়োজন। যুধিষ্ঠিরের সহযোদ্ধা তাঁর অন্য চার ভাই — ভীমসেন, অর্জুন, নকুল ও সহদেব। চারদিকে চারজন দিগ্বিজয়ের লক্ষ্যে বেড়িয়ে পড়লেন। কনিষ্ঠ নকুলের দায়িত্ব পশ্চিমদিকের রাজাদের আনুগত্য-আদায়। বুদ্ধিমান নকুল তাঁর বিশাল সৈন্যদল নিয়ে পশ্চিমদিকে যাত্রা করলেন। সিংহনাদে গর্জন করতে লাগল তাঁর যোদ্ধারা। রথচক্রের শব্দে কাঁপতে লাগল পৃথিবী। নকুল রোহীতকপর্বতে উপস্থিত হলেন।
রামের জীবনে এমন অনেক ঘটনা হয়তো কোনও মহৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনাগুলো তাঁকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে পরিণত ও অভিজ্ঞ করে গড়ে তুলেছে। দ্বন্দ্ববিক্ষুব্ধজীবনে শুধু ঝঞ্ঝার অভিঘাত সত্য নয়,তাদের মুখোমুখি হয়ে, জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে নিজেকে বিনির্মাণ সমান গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ প্রশাসকের এমন এক প্রশিক্ষণের সময়—এক একটি বাধা পার হয়ে সাফল্যের লক্ষ্যে পৌঁছানোর কাল। প্রশাসক রামের জীবনে রাক্ষসদের সঙ্গে সংঘাতের সূচনা ও তাঁর একক লড়াইয়ে সেই শিক্ষাই সূচিত হয়েছে।
মহাভারতীয় ভৌগোলিক মানচিত্রে আধুনিক ভারতের প্রদেশগুলির নামোল্লেখ,তাদের প্রাচীনতা চিহ্নিত করে। যুধিষ্ঠিরের রাজসূয়মহাযজ্ঞ এক অখণ্ড উপমহাদেশের ঐক্যসূত্রটি ধরে রেখেছে। সকলে এক বৃহৎ রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করেও প্রত্যেকেই স্বাধীন এবং নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। “বিবিধের মাঝে ওই মিলন মহান” যেন সত্যি হয়েছে। সহদেব শুধু সৈন্যবলের ওপরে নির্ভর করে যুদ্ধজয়ে উদ্যোগী হননি। তিনি একাধারে, বলপ্রয়োগ, সন্ধি ও কূটকৌশলের সাহায্য নিয়েছেন।
ভারতবাসী তাঁর রাক্ষসবধকে মনে রেখেছে, অশুভর বিরুদ্ধে শুভশক্তির জয়রূপে। তাঁরা যুদ্ধের নৃশংসতা মনে রাখেননি, রঘুপতি রাঘবের রাজকীয় করুণাঘন ভাবমূর্তি মনে রেখেছেন। তাঁদের স্মৃতিতে ঠাঁই পেয়েছেন অনুগত ভাই লক্ষ্মণ। চরম পিতৃতান্ত্রিক ভারতবর্ষ শ্রদ্ধার স্মরণে, নত হয় রামের পরিত্যক্তা স্ত্রী সীতার সামনেও। সাধারণ মানুষ গার্হস্থ্যপরিমণ্ডলের গণ্ডীতে চিরপরিচিত জনদের মনে রাখে শ্রদ্ধার ভালবাসায়, স্নেহাকুলতাময় সম্পর্কের নিরিখে। তাঁরা নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা ভুলে ভালটাই মনে রাখে, মন্দগুলো নয়। এটাই বোধ হয় চিরকালীন জীবনরস, যা জারিত রাখে ভারতীয় জীবন।
ক্রমে সমগ্র দেশে জনতা জনার্দনের রায় যখন তাদের অনুকূলে যাবে তখন দলটি বিরোধীহীন অপ্রতিহত একটি দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হবে। সেটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অনুকূলে না প্রতিকূল সেটি বিচার করবে ঘটমান সময়, ভাবি কাল ও সাধারণ মানুষ। মহাভারতের রাজসূয়যজ্ঞের প্রেক্ষিতে আছে ক্ষমতাদখলের যুদ্ধ, গণতন্ত্রের ভোটযুদ্ধেও আছে দলের ক্ষমতাদখলের লড়াই। বর্তমান গণতন্ত্রে, রাজতন্ত্রের অস্তিত্ব নেই কিন্তু রাজসূয়যজ্ঞের আবহ রয়ে গিয়েছে, ভরতবংশীয়রা মনে মনে এই আবহের সাযুজ্য কিছুটা হলেও হয়তো খুঁজে পাবেন।
রাক্ষস তো পালাল। ব্রাহ্মণ দেখলেন, এবার শুধু চোরটাই বাকি! মন্ত্র পড়া থামিয়ে তিনি ঘরের কোণ থেকে তুলে নিলেন এক মস্ত বড় ও মজবুত লাঠি। তারপর রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তেড়ে গেলেন সেই চোরের দিকে। জুতসই লাঠির বাড়ি পড়ার আগেই চোর বুঝল, আজ আর বাছুর চুরির আশা নেই। তাই নিজের পিঠ বাঁচাতে সেও সেখান থেকে চোঁ-চোঁ দৌড় দিল। আর এভাবেই, কেবল চোর আর রাক্ষসের নিজেদের বিবাদের কারণেই ব্রাহ্মণের প্রাণ এবং তাঁর বাছুর—দুটোই রক্ষা পেয়ে গেল।
উলূকরাজ অরিমর্দন মন্ত্রী দীপ্তাক্ষের যুক্তিপূর্ণ কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। রাজার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। তিনি এবার ধীরলয়ে তাঁর আরেক বিচক্ষণ সচিব বক্রনাসের দিকে ফিরলেন। গম্ভীর স্বরে রাজা প্রশ্ন করলেন, “মন্ত্রী দীপ্তাক্ষের অভিমত তো শুনলাম। হে ভদ্র! উদ্ভূত এই বিশেষ পরিস্থিতিতে এখন আমাদের ঠিক কী করা উচিত বলে আপনার মনে হয়?
পঞ্চতন্ত্রের এই কাহিনিতে বৃদ্ধ বণিকের প্রতি তাঁর নবযৌবনা স্ত্রীর বিতৃষ্ণাকে বোঝাতে গিয়ে বিষ্ণুশর্মা যে উপমাটি ব্যবহার করেছেন, তা কেবল সাহিত্যিক অলঙ্কার নয়; বরং তা তৎকালীন ভারতীয় সমাজকাঠামোর এক নির্মম ঐতিহাসিক দলিল। ‘চণ্ডাল-কূপ’ বা অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষের ব্যবহার্য কুয়োর প্রসঙ্গটি আমাদের দাঁড় করিয়ে দেয় প্রাচীন ভারতের এক অস্বস্তিকর কিন্তু অমোঘ সত্যের মুখোমুখি।
ব্যাধের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে কপোতী তার দগ্ধ স্বামীর মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল। তার সেই করুণ বিলাপে ফুটে উঠল ভারতীয় শাশ্বত গার্হস্থ্য ধর্মের এক চিরন্তন ছবি। মৃত পতিকে উদ্দেশ্য করে সেই সতী কপোতী কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল, “হে স্বামী! আজ আপনাকে ছাড়া এই বিশাল জগতে আমার বেঁচে থাকার আর কোনো অর্থই নেই। পতিহীনা এই দীন নারীর প্রাণধারণ করে লাভ কী?
খাঁচায় বন্দি কপোতী তার স্বামীর বিলাপ শুনে গৃহলক্ষ্মীর মতোই প্রজ্ঞার পরিচয় দিল। নিচ থেকে স্বামীকে আশ্বস্ত করে সে বলল, “প্রাণনাথ! এই ব্যাধ আমাকে খাঁচায় বন্দি করেছে বলে তুমি এর প্রতি অকারণ বিদ্বেষ দেখিও না। আজ আমি যে বন্দি, তা আমারই প্রাক্তন কর্মফল—স্বকৃতৈরেব বদ্ধ্যাঽহং প্রাক্তনৈঃ কর্মবন্ধনৈঃ। জীবনে দারিদ্র্য, রোগশোক কিংবা এই ব্যাধের হাতে বন্দিত্ব—এ সবই নিজের কৃতকর্মের পরিণাম। আজ যা কিছু অনিষ্ট হচ্ছে, তা আমারই পাপের ফসল—আত্মাপরাধবৃক্ষস্য ফলান্যেতানি দেহিনাম্।
চ্যবনমুনি গম্ভীর স্বরে রাজাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন, ‘হে রাজন এ আপনি ঠিক কাজ করেননি। মন্ত্রপূত এই জলে আপনার পুত্রজন্মের জন্য তেজোযুক্ত ছিল।’
অশ্বিনীকুমারেরা বললেন, ‘তোমার মতো এমন সুন্দরী কন্যাকে তোমার পিতা কেনই বা বৃদ্ধের হাতে তুলে দিয়েছেন? তুমিই বা কীভাবে বৃদ্ধ পতিকে স্বীকার করে নিয়ে সংসারজীবন যাপন করছো। তুমি সুন্দরী।
মুনি বললেন, ‘আমি আহত হয়েছি, এ সত্য। তবে আপনি যদি আপনার কন্যাকে আমার হাতে সম্প্রদান করেন, তবে আমি ক্ষমা করব।’
শুরু হল যুদ্ধ। প্রবল সে যুদ্ধে কার্ত্তবীর্যার্জুন মৃত্যুবরণ করলেন। অর্জুনের ছেলেরা এই সংবাদ পেয়ে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হল। তারা জমদগ্নিমুনিকে আক্রমণ করল এবং হত্যা করল।
অনেকদিন পর পিতার দেখা পেয়ে পুত্র অত্যন্ত খুশি হলেন। পিতাও পুত্রকে বিবাহিত দেখে প্রাণভরে আশীর্বাদ করলেন। পুত্রবধূ সত্যবতীও সেবা করে প্রসন্ন করলেন শ্বশুরকে।
দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মহর্ষিদেবের মৃত্যু-সংবাদ। বহু মানুষ এসে ভিড় করে জোড়াসাঁকোয়। ফুল আর আবির ছড়িয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিমতলা শ্মশানঘাটে। শ্মশানের ভেতরে নয়, দ্বিপেন্দ্রনাথের কথায় চিতা সাজানো হয়েছিল শ্মশানঘাট ছাড়িয়ে গঙ্গার পাড়ে। ওপারে তখন সূর্য অস্ত যাচ্ছিল। আকাশে সিঁদুরগোলা রং ছড়িয়ে পড়েছিল।
রবীন্দ্রনাথ তখন সবে পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। নোবেল না পেলেও পাওয়ার পটভূমি রচিত হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ সে সময় গিয়েছিলেন লন্ডনে। প্রকাশিত হয় ‘গীতাঞ্জলি’-র ইংরেজি সংস্করণ। প্রকাশমাত্রই প্রশংসার জোয়ার বয়ে যায়। পাঠকমহলে বিপুল সাড়া পড়ে। মুগ্ধতা জানিয়ে কবিকে অনেকেই চিঠি লেখেন। চিঠি লেখেন যুক্তিবাদী রাসেল। ইংল্যান্ডের নামি পত্রিকা ‘টাইমস লিটারারি সাপ্লিমেন্ট’-এ প্রকাশিত হয় প্রশংসিত আলোচনা। ছত্রে ছত্রে প্রশংসা, মুগ্ধতা। কবির পরম হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু রোটেনস্টাইনকে খুশি করেছিল এই উচ্ছ্বাসময় প্রশংসিত আলোচনা। রবীন্দ্রনাথ...
ছাত্রদের প্রতি রবীন্দ্রনাথের এই ভালোবাসার সত্যিই তুলনা হয় না। ভিতর থেকে উঠে আসা অকৃত্রিম ভালোবাসা। ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর ছিল মধুর ভালবাসার নিবিড় বন্ধন। নির্মলকুমারী মহলানবিশকে এক চিঠিতে কবি লিখেছিলেন, ‘আমার ক্লাসে ওরা মনে করে খেলা— এ তো পড়া নয়— আমি যেন ওদের খেলার সর্দার। সত্যিই আমি তাই— মনের ভিতর দিকে আমার আর বয়স হল না…।’
সরসসতায় ভরপুর। কথায় কথায় এমন মজা ক’জন আর করতে পারে। রবীন্দ্রনাথের গাম্ভীর্যের ছদ্ম-মুখোশ ছিল না। মানুষের সঙ্গে মিশতেন, মানুষকে ভালোবাসতেন। কোনও বানানো দূরত্ব ছিল না। খুব সহজেই মিশে যেতেন। হাসিতে খুশিতে, আনন্দে মজায় ভরিয়ে তুলতেন। কবির সরস-সান্নিধ্যে চারপাশের মানুষজনও ভালো থাকতেন।
শারীরিক ক্ষিপ্ততা হারালেও রবীন্দ্রনাথের মনের জোর ছিল অপরিসীম। দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন ‘বিসর্জন’-এ। অভিনয়ে দিনেন্দ্রনাথও কম পারদর্শী ছিলেন না। অভিনয়কালে রঘুপতি সাজা দিনেন্দ্রনাথের গলার রুদ্রাক্ষমালা ছিঁড়ে গিয়েছিল। দর্শকদের দিকে রুদ্রাক্ষগুলো ছুঁড়ে দেওয়ার পরও কারও মনে হয়নি, এভাবে সামাল নিলেন দিনেন্দ্রনাথ। এমনই সাবলীল ভাবে সে কাজ করেছিলেন যে, মনে হয়েছিল, সবই অভিনয়েরই অঙ্গ।
মহাপুরুষের ধ্যান-ধারণা দ্বারা আমরা আধ্যাত্মিক ক্ষুধা বাড়াতে পারি। তাঁরা আজও বর্তমান, চৈতন্য ও শাশ্বত প্রকাশের দ্বারা। যাঁরা অপকট, আন্তরিক ভাবে তাদের চেতনার স্তরেকে উন্নীত করে সেই সব মহাপুরুষের ধ্যান ও ধারণা করার সমর্থ্য লাভ করে, তাঁরা তাঁদের উপস্থিতি অনুভব করতে পারবে।
আধ্যাত্মিক জীবন গঠনের মূল বিষয় বা নিয়মগুলির যে কয়েকটি আমাদের সাধারণ জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রিত করে তার মধ্যে একটি হল—সত্যের ধারণা ও পালন। যা কিছুকেই মানুষ সত্য বলে গ্রহণ করে। তাই তার সমগ্র সত্তা, চিন্তারাশি, অনুভূতি এবং তার আকাঙ্ক্ষাকে আকর্ষণ করে।
নারদীয় ভক্তির প্রকাশ হল ভক্তি প্রার্থনার মধ্যেই নিজেকে কৃত-কৃতার্থ অনুভব করা। ঈশ্বরীয় সুখে লীন হয়ে যাওয়া। এগোপিনীদের দুঃখ প্রকাশ না চির সুখের অনুভব!
বেদের মায়া ও তন্ত্রের মহামায়া সমার্থক না হলেও ব্রহ্ম ও মহামায়া মূলত এক। ঈশ্বর ও প্রকৃতি শক্তি যেমন অভেদ। সৃষ্টির আদিতে ব্রহ্মই একমাত্র ছিল। শক্তিকে আশ্রয় করে সৃষ্টি শুরু হলে এই জীবজগৎ প্রকাশ করে তার মধ্যে চৈতন্য রূপে প্রকাশিত হতে থাকল। বেদ ও তন্ত্রের পার্থক্য এই যে, বেদ সিদ্ধান্ত শাস্ত্র আর তন্ত্র সাধন শাস্ত্র। বেদ প্রাচীন অপৌরুষেয় হলেও শক্তিপুজোর উল্লেখ রয়েছে।
আধ্যাত্মিক জীবনে নির্জনতার প্রয়োজনীয়তা আছে। অনেকে নির্জন স্থানে গিয়ে হাঁপিয়ে যান একাকিত্বের জন্য। আবার কারও জন্য একাকিত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনে কখনও কখনও একাকিত্ব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকের কাজ করে।
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।
এত সব শান্তিপাঠ, স্বস্ত্যয়ন করা হলেও মা সারদার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হল না। তবে এই অসুস্থতার মধ্যেও পাহারায় নিযুক্ত সেবকদের বুঝতে না দিয়ে অথবা তাদের অনুরোধ না শুনে শ্রীমা ভক্ত-সন্তানদের মনস্কামনা পূর্ণ করেছেন। যেমন কাউকে তার ইষ্টদর্শন করিয়ে, কারওকে দীক্ষা দিয়ে, আবার কারও সেবা গ্রহণ করে ধন্য করেছেন। দুর্গেশ দাস চৈত্রমাসে তাঁর আত্মীয়া প্রিয়ংবদা মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে আসেন শ্রীমার কাছে। তখন সকলে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি প্রিয়ংবদাকে মন্ত্রদান করেছিলেন।
শরৎ মহারাজ মা সারদাকে রোগমুক্ত করার কোন চেষ্টারই ত্রুটি রাখলেন না। কিছুদিন কবিরাজ রাজেন্দ্রনাথ সেন চিকিৎসা করেন। সেই সময় কবিরাজ কালীভূষণ সেনও শ্রীমাকে দেখতেন। তারপর কবিরাজ শ্যামাদাসকে আবার ডাকা হয়। তাঁর ছাত্র কবিরাজ রামচন্দ্র মল্লিক রোজ এসে শ্রীমাকে দেখে যেতেন আর নিজের হাতে ওষুধ তৈরি করে দিতেন। শেষ দুদিন ডাঃ কাঞ্জিলাল হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিলেন।
১৩২৫ সালের চোদ্দোই শ্রাবণ ঠাকুরের অন্তরঙ্গ সহচর বাবুরাম মহারাজ পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। শ্রীমার জীবনে একটি বেদনার দিন। পূবর্বঙ্গে বেশ কয়েকবার ঠাকুরের ভাব প্রচার করতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রমে তাঁর শরীর ভেঙে যায়। তিনি কালাজ্বরে আক্রান্ত হন। এই ঘটনার দুদিন আগে বাবুরাম মহারাজের অন্যতম সেবক মহাদেবানন্দ শ্রীমার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, যাতে তিনি সেরে ওঠেন।
ভক্ত আর ভগবানের মধ্যে চিরকাল লীলা চলে। তবে ‘নরলীলা নরবৎ’ হয়ে থাকে। তাই বয়সের ধর্মে মা সারদার ভগ্নপ্রায় মানবদেহ ক্রমে কাজের চাপে ভেঙে পড়তে লাগল। তাঁর জীবনকালের শেষ কিছু বছর যেমন তিনি গভীরভাবে নিজেকে কর্মে আবদ্ধ রেখেছিলেন, তেমনই সকলের প্রতি তাঁর অবিরাম করুণাধারা বর্ষিত হয়েছিল।
ঠাকুরের মহিলা ভক্তদের মধ্যে প্রথম শিষ্যা ছিলেন যেমন গৌরীমা, তেমনই শ্রীমার প্রথম শিষ্যা হলেন দুর্গাপুরী। শ্রীমার কাছে বাল্যকাল থেকেই তাঁর অবাধ যাতায়াত। শ্রীমা স্বেচ্ছায় তাঁকে বাল্যবয়সেই দীক্ষা দেন। চোদ্দ পনেরো বছর বয়সেই একান্তভাবে তাঁর আগ্রহে তিনি দুর্গাদেবীকে সন্ন্যাসদীক্ষা দেন। দুর্গাদেবী ছিলেন গৌরীমার পালিত কন্যা। তিনি আবাল্য সন্ন্যাসিনী ছিলেন।
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।
আজকাল শিরদাঁড়া নিয়ে খুব আলোচনা চলছে। মাইতিবাবু নিশ্চিত তাঁর শিরদাঁড়া আর সোজা নেই। বাড়ি করা ছেলেমেয়ে মানুষ করা তাদের বিয়ে-থা এ সব সামলে সোজা শিরদাঁড়া বেঁকে গিয়েছে। এখন শোবার সময় পিঠের চালাটা একটু টিপে দেবার জন্য বৌকে সাধ্যসাধনা করতে হয়। তাই বোধহয় আজকাল সামান্য একটু ঝুঁকেও চলতে হয়।
শরৎ আলোর আঁচল টুটে কীসের ঝলক নেচে ওঠে কে জানে, ওই চরণমূলে মরণের নাচের তালে তালে হাহারবে নিখিল অশ্রুসাগরের কূলে পূজা সাঙ্গ হয়, প্রতিবার।
ঘরে সুবিনয় আর কবিতা। কারো মুখে কথা নেই। শুধু বারেবারে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে চারটি চোখ। এতদিন মনে মনে দু’জন দু’জনাকে কত কথাই বলেছে। কত অভিমান… কত ভালোবাসা… কিন্তু এখন সামনাসামনি একটা কথাও সরছে না কারো মুখ থেকে। মন চাইছে আঁকড়ে ধরে এতদিনের সব যন্ত্রণাকে বাঁধভাঙা মুক্তি দিতে। কিন্তু পা দুটোকে কে যেন শক্ত করে মাটির সঙ্গে চেপে ধরে রেখেছে। কিছুতেই এগোতে পারছে না।
পুজো মানে দুর্গাপুজো। মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গতিহারিণীর অকালবোধন। আর পুজো পুজো ভাব মানে, পুজো আসার কিছুদিন আগে থেকে আকাশে বাতাসে একটা চোখে পড়ার মতো বদল আসা। হঠাত্ করে রোদ ঝলমলে আকাশ, আকাশের রঙে নীল নীল ভাব, বাতাসেও একটা ঝলমলে আনন্দ, কলকাতার আশেপাশেই কিংবা দূরে দূরে কাশফুল, এছাড়াও পাড়ার শিউলি ফুলের গাছটা হঠাৎ করেই শরতের চিঠি রেখে যেত।
আজ আবার মনে পড়ে গেল প্রিয়ার সেসব কথা। বাবার ডায়রির ভিতরে ছবিটা পেয়েছিল বলেই না সিদ্ধার্থদের বাড়ি গিয়ে ওর মায়ের পুরনো ছবিটা দেখে চমকে উঠেছিল। সব পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল ওর চোখে। পরের দিন সিদ্ধার্থকে সব বলেছে। সিদ্ধার্থও আবাক হয়েছে। ওরা দু’জনেই চায় এই হারিয়ে যাওয়া মানুষ দু’জন আবার কাছে আসুক।
কালাদেও যদি অপ্রাকৃত কোনও প্রেত হয়, তাহলে তার সঙ্গে পুলিশবিভাগের লড়াই করা হবে হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করার সামিল। কিন্তু একটা কথা সে বুঝতে পারছে না। আগে তার মাথায় আসেনি। এখন এল। কালাদেও প্রেত হলে তার কাছে দরজা বন্ধই থাক কিংবা খোলা কী যায় আসে? প্রেত তো সর্বত্রগামী হয়, তাই না? তাহলে সে যতই দরজা এঁটে ঘরের মধ্যে বসে থাক-না-কেন, সেখানে কালাদেওর ঢুকে পরতে তো কোন অসুবিধা নেই। তাহলে কেন সে দরজা নক্ করছে বারবার?
কোলাহলটা কাছেই এগিয়ে আসছে। শাক্য ভাবল, কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। অনন্তের দলবল যদি হত, তাহলে নিশ্চয়ই এত হট্টগোল করে তারা আসত না, নিঃশব্দে এসে নিঃশব্দে কাজ মিটিয়ে যাওয়াই তারা পছন্দ করত। তাহলে কি অন্য কেউ। জঙ্গলে অনেকসময় পাতাকুড়ানি, কাঠকুটো কুড়ানোর জন্য স্থানীয় মানুষেরা আসেন দলবল নিয়ে। কিন্তু আজ তো পিশাচপাহাড় গ্রামে উৎসব। খাওয়াদাওয়া। এর মধ্যে গ্রামের লোকজন পাতা কুড়ানোর জন্য জঙ্গলে আসবে, তাও এমন দল বেঁধে এটা কেমন বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছিল না।
পরিচিত সার্কেলের মধ্যে অনেকেই জানে। এ-ব্যাপারে সে রাখঢাক গুড়গুড় করে না। ক’দিন আগে অনেকদিন পরে কাউকে সে এভাবে ধর্ষণ করল। আসলে সম্মতি ছাড়া সঙ্গম, পেনিট্রেশন তো ধর্ষণই। সেদিক থেকে অর্ককে সে ধর্ষণই করেছে। আসলে ও এত হিপোক্রিট যে, সহ্য করতে না পেরে…। পরে অবশ্য একটু খারাপ লাগছিল। যতই হোক বন্ধু, হোক না তার ওরিয়েন্টেশন অন্যরকম, কিন্তু তা বলে…! তার নিজের ওরিয়েন্টেশনও তো অন্যরকম, তাহলে? পরের দিন একবার ভাবছিল ক্ষমা চেয়ে নেবে, তারপর আর ইচ্ছে করেনি।
>ভাগ্য ভালো, বস ফোন ধরলেন। মৃদু স্বরে যতটুকু জানানোর জানাল সে, একইসঙ্গে সে যে আহত হয়েছে, তাও। বস কোনরকমে বললেন, “তুই চার্চ-হাসপাতালে দেখিয়ে নে। আমি বলে রাখছি। কোন সমস্যা হবে না। যত তাড়াতাড়ি পারিস ওখান থেকে বেরিয়ে আয়। আবদুলকে বলছি, বাইক নিয়ে অপেক্ষা করবে জঙ্গলের বাইরে। এক্ষুনি পাঠাচ্ছি ওকে। তার আগে নিজে যাতে ধরা না পড়িস সেই চেষ্টা দেখ! রাখছি!” বলে ফোন রেখে দিল। ক্লান্তিতে সে চোখ বুজেছে একটু, এমনসময় তার রগের কাছে কেউ একটা নল চেপে ধরল, তারপর ঠান্ডা গলার আওয়াজ শুনল সে, “পালাবার বৃথা চেষ্টা কর না। তুমি এখন আমার কব্জায়। আমাকে চেনো? আমার নাম শাক্য সিংহ!”
সকাল থেকেই আজ সাজো-সাজো রব সেকারণেই। ফাদারের জিনিষপত্র বাঁধাছাঁদা কমপ্লিট আগেই। ফাদার যাবেন চার্চের অ্যাম্বুলেন্সে। মেডিক্যাল কিছু জিনিসপত্র কিনে কলকাতা থেকে সেই অ্যাম্বুলেন্স ফিরে আসবে। যাওয়ার আগে জনে-জনে ডেকে ফাদার কাল থেকেই পাখিপড়ার মতো বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আজকেও দিচ্ছেন আর ঘন-ঘন মোবাইল দেখছেন। যেন কারুর ফোনের অপেক্ষা করছেন। ফোন এল তখন দশটা বাজে। ফাদার ফোন হাতে অফিসঘরের দিকে চলে গেলেন। তাঁর মুখে আঁধার ঘনাচ্ছিল।
খুনের রহস্য সমাধানে আবার ধৃতিমানের প্রশংসা হল। ধৃতিমান ও শ্রেয়াকে নীলাঞ্জনা একদিন লাঞ্চে ডাকল। শ্রেয়া জানিয়েছিল, অন্য ডিউটি যাবে না। তাই সেটা মাস্যার দ্বিতীয় রবিবার ধার্য হল। ওইদিন সাধারণত শুটিং বন্ধ থাকে। নীলাঞ্জনা দু’জনকেই বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল। তবে সকলের আড়ালে শ্রেয়া বলেছিল — পুরুষমানুষ এতও ঝগড়াটে হয় জানতাম না!
শ্রেয়া লোকাল থানায় ফোন করতে হবে কল্যানী আর আসানসোলে। কলকাতা থেকে ওখানে গিয়ে ইনভেস্টিগেট করবার সময় নেই। আমার শুধু পেশেন্টের নাম আর এড্রেস প্রুফটা লাগবে। শ্রেয়া সঙ্গে সঙ্গে ফোনে সেই দুটি থানায় খবর পাঠিয়ে দিল। লেক মার্কেট এর কাছে পরিচিত একটি এডিটিং কনসোলে ধৃতিমানকে নিয়ে গেল শ্রেয়া।
ধৃতিমান অবাক হয়ে ভাবছিল শ্রেয়াকে তার সন্দেহের কিছু প্রায় বলা হয়নি। কিন্তু ঘটনাটা আন্দাজ করে শ্রেয়া যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেগুলো একদম ঠিকঠাক। একজন সন্দেহভাজনকে কোনরকম চালাকি করতে না দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে নিতে এভাবেই এগোতে হবে। পুলিশের তৎপরতায় বাসনাকে পাওয়া গেল। শ্রেয়া নির্দেশ দিল তাকে থানায় বসিয়ে বরুন যেন লোকজন নিয়ে এসে অমিতাভর রিজেন্ট পার্কের এই ফ্ল্যাট আবার সিল করে দেয়।
অমিতাভ চক্রবর্তী দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা চক্রবর্তী হোয়াটসঅ্যাপ- এ ভয়েস মেসেজ করে তাঁর স্বীকারোক্তি জানিয়েছেন। তদন্তকারী অফিসের শ্রেয়া বাসুর কাছে আসা সেই স্বীকারোক্তি শ্রেয়া ধৃতিমানকে ফরওয়ার্ড করেছে। আরিফ রোডের ভাড়াবাড়ির দোতলার ঘরে অন্ধকার মধ্যরাতে কানে হেডফোন দিয়ে ধৃতিমান শুনছে সেই স্বীকারোক্তি।
নগেন ও শান্তার যান্ত্রিক সম্পর্কের মধ্যে পাশের বাড়ির বিমল অনুঘটকের কাজ করেছিল। আবার বিমল জানতেই পারেনি তার বোন প্রমিলা পাশের বাড়ির বিবাহিত নগেনের প্রতি অনুরক্ত। আর সেখান থেকেই প্রেম অতৃপ্তি নিয়ে মানবজীবনের জটিলতার আঁকিবুঁকি রচনা করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার চালু হল নীলাঞ্জনা স্বীকারোক্তি—আর পরবর্তী অংশ শুনে যেন চমকে উঠল ধৃতিমান!
ফাঁসি নিশ্চিত ছিল। দুলাল মানসিকভাবে তৈরি ছিল। কিন্তু প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট অবনী চৌধুরী বিনা পয়সায় প্রো-বোনো কেস লড়ে সাজা ফাঁসি থেকে যাবজ্জীবন করেছিলেন। ফাদার স্যামুয়েল বিশ্বাসের কাছে দুলাল ও তৃপ্তির একমাত্র সন্তান এই অতনু সেন। পিতৃমাতৃহীন অতনুকে পুত্রস্নেহে চার্চে রেখে মানুষ করেছেন ফাদার। অতনুর কাছে অতীতের সবকিছু বলেছেন।
হঠাৎ ঘুম থেকে ডাকলেও ঘাবড়ে গিয়ে মায়ের বুক ধড়ফড় করে। কোনও কারণে ঝড়বৃষ্টিতে বা প্রতিবাদ প্রতিরোধের মিছিল মিটিঙের ভিড়ে একটু দেরি হলেই মা আতঙ্কিত হয়ে ফোন করতে থাকেন। মায়ের কথা ভেবেই দামি ব্লু-ট্যুথ কিনতে হয়েছে দিয়াকে। যাতে চটপট উত্তর দিয়ে মাকে শান্ত করতে পারে। শরীরের পক্ষে অতিরিক্ত রেডিয়েশনের জন্যেই ব্লু-ট্যুথ ভাল নয় এটা জেনেও ব্যবহার করতে হয়। সাধারণ তারওয়ালা ইয়ারফোন নিয়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করা যায় না।
বিতান গাড়ি চালাচ্ছে। শরীর থেকে কোলনের গন্ধ নাকে আসছে। বিনিকে দিয়ার কথা বিতান ঠিক কী বলেছে? কতটা বলেছে? মানে বন্ধু বলেছে। আর কী? সরস্বতী পুজোর অঞ্জলির ফুলে দিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব লেখা কাগজ গুঁজে দেওয়ার কথাটা কি বলেছে? এতটা সৎসাহস দেখিয়ে কারও মনের সাঁকো নাড়ানো বোধহয় ঠিক নয়! সিকিউরিটি সার্ভিস চালানো বিতান সেটা বোঝে।
বিনি কি দিয়াকে দেখতে চেয়েছিল? তার মানে বিতানকে বিনির কাছে দিয়ার কথা বলতে হয়েছে। বিতান সব বলেছে ? না সব মানে, দিয়া ও বিতানের মধ্যে যে প্রেম ছিল এমনটা তো নয়! বিতানের দিক থেকে যে দূর্বলতা ছিল, সেটা দিয়ার ছিল না! সত্যিই কি ছিল না? নিজেক জিজ্ঞেস করেছে? একা বন্ধ ঘরে। বন্ধ চানের ঘরে। কিংবা চোখ বুজে আশপাশ ভুলে গিয়ে! বিছানায় শুয়ে। বয়ে যাওয়া কোনও নদীর সামনে। একা একা। নিজের মুখোমুখি। যখন মানুষ মিথ্যে বলতে পারে না!
সামাজিক বৈবাহিকতায় দ্বন্দ্ব আছে দূরত্ব আছে রাগ অভিমানের ভাঙ্গাগড়া আছে, কিন্তু সন্তানের সামাজিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোথায় যেন জীবনের শেষপর্যন্ত একটা দায়িত্ববোধের বন্ধন আছে। একসময় যারা বিবাহ সম্পর্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে একা থাকতে চেয়েছেন তেমন অনেককেই শেষ জীবনে গিয়ে আক্ষেপ করতে দেখেছে দিয়া। পশুদের মতো মানুষও যূথবদ্ধ জীব। একা বাঁচতে পারে না। তাই মানুষ বন্ধু খোঁজে। সঙ্গী খোঁজে।
নেরুলে ওদের বাংলো বাড়ি। আগেই বলেছিল। কিচেনটা আলাদা। সেখানে আগুন লেগে ও মারা যায়। শ্বশুরবাড়ির ফ্যামিলি স্টেটমেন্ট দিয়েছে এক্সিডেন্ট। পুলিশ অন্য কিছু সন্দেহ করছে।
আমার মাথা কাজ করছে না। এতদিন যাকে ভুলে ছিলাম। সর্বশক্তি দিয়ে মন থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম। সে যেন আচমকা সমস্ত অতীত সঙ্গে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
ঘন নীল চোখ তাঁর। একটু ঘোলাটে। চশমা বিহীন। বিদেশের সিনেমাতে যেরকম বয়স্ক মানুষকে হঠাৎ দেখা যায় ঠিক তেমন। কোন বৃদ্ধার চোখ এরকম নীল হতে পারে আমি ভাবতেও পারি না।
চোখ দুটো গোল গোল নীলচে। নাক আর ঠোঁটটা ছোট হয়ে গেল। এই অদ্ভুত চেহারা নিয়ে তিনি আমার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর ফিসফিস করে বললেন।
দেওয়ালে ঠেস দিয়ে মেঝেতে। তার চোখ দুটো কপালে গোঁগোঁ করে একটা শব্দ হচ্ছে। সারাঘরে ফিস ফিস করছে অনেকগুলো অবয়ব আর তীব্র চামড়াপোড়াগন্ধ।
আসলে আমরা যে সময় বড় হয়েছি, সেই সময় মানুষের সভ্যতা ভদ্রতা আচার-আচরণে চুইংগামের মত স্বার্থ লেগে থাকত না। আমরা যখন বুড়ো হলাম দেখলাম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আচার-আচরণ স্বার্থের তেলে চুপচুপ করছে তার গায়ে সভ্যতা ভদ্রতার গঙ্গাজলের ছিটেফোঁটা ছুঁতেই পারছে না।
ছবিটা দেখে বাবলি প্রথমে থতিয়ে গিয়েছিল। এতটা সাবধানতা নেবার পরেও এরকম কোনও ছবি উঠবে সেটা সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। আর তার এই থতিয়ে যাওয়াতেই প্রণয় বাবলির সঙ্গে অরুণাভর সম্পর্কের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গেল।
মদের আধিক্য আমাদের শরীরের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমকে খুব ধীরে ধীরে অকেজো করে দেয়। ব্রেনসেল শুকিয়ে দেয়। মস্তিষ্কের সেরাটোনিন লেভেল কমিয়ে দেয়। এর ফলে যে ডিপ্রেশন ভুলতে মানুষ মদ খায় মদ সেই ডিপ্রেশনকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এ বার বসুন্ধরা আর স্বর্ণময়ীর ছবি রেখে পুজোর আয়োজন হল। খাওয়াদাওয়া হল। নিয়মমেনে পুজো হল। ইভেন ম্যানেজমেন্ট এর লোকজন ছুটোছুটি করে ভিড় সামলালেন। তবে এ বছরের জলসাতে তেমন কোন আকর্ষণ ছিল না। এমনিভাবেই পুজোর চারটে দিন কেটে গিয়ে বিজয়া দশমী এল। বরণ হল, সিঁদুরখেলা হল।
বাবলি একটা অদ্ভুত দোটানায় ভুগছে। ছোটবেলায় মোটর দূর্ঘটনায় বাবার ভয়ঙ্কর মৃত্যু চোখের সামনে দেখেছে। দেখেছে জ্ঞান হারানোর ঠিক আগের মুহুর্ত পর্যন্ত অনেক চিকিৎসার পর সেই মানসিক ঝড় কাটিয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরেছিল বটে কিন্তু দুঃস্বপ্নের দগদগে ক্ষত থেকে গিয়ে মনের গভীরে।
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।