রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
এরকম নির্লজ্জভাবে কেউ মিথ্যে বলছে শুনলে দিয়ার ভীষণ রাগ হয়। ক্লাস সিক্সে একবার একটি মেয়ের বজ্জাতির সাজা দিতে গিয়ে নিজেই বিপদে পড়ে গিয়েছিল। মেয়েটি ক্লাস টিচারের কাছে মিথ্যে বলে দিয়ার নামে দোষ চাপিয়ে ছিল। এমন খুনসুটি স্কুলে হয় কিন্তু দিয়া সেটা মেনে নিতে পারেনি! ক্লাস টিচারের সামনেই সেই মেয়ের চুলের ঝুঁটি ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে টিচারের সামনের টেবিলে মাথাটা চেপে ধরে তাকে দিয়ে সব সত্যি স্বীকার করিয়েছিল। কিন্তু ক্লাসটিচার হেডমিস্ট্রেসের কাছে দু’জনের নামেই নালিশ করেছিলেন।
হেডমিস্ট্রেস দু’জনকেই টিফিনের সময় অফিসরুমের বাইরে কান ধরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাই দেখে মিথ্যেবাদী সেই মেয়েটির মনে যেন অদ্ভুত একটা শান্তি হয়েছিল। সে আড়চোখে দিয়াকে দেখতে দেখতে ফিক ফিক করে হাসছিল। এই সমস্ত নির্লজ্জ বেহায়াদের এরকমই স্বভাব। নিজের মানঅপমান জ্ঞান নেই। কিন্তু অপরের বিপদে-অপমানে এরা চরম শান্তি উপভোগ করে। ছোটলোক শব্দটা অনেকে ঘুরিয়ে রেসিস্ট মন্তব্য বলে দাগিয়ে দিতে চান। ছোটলোক আসলে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষ নয়, বড়লোক শব্দের আক্ষরিক বিপরীত শব্দ নয়। এই ছোটলোক হল ইতরের প্রতিশব্দ।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৬৯: আকাশ এখনও মেঘলা

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

মাটির দিকে চোখ নামিয়ে দিয়া স্পষ্ট বুঝতে পারছিল মিথ্যেবাদী সেই মেয়ে খুশি হয়েছে। সারা স্কুলের সামনে এভাবে শাস্তি পাবার লজ্জা দিয়া বহুদিন ভুলতে পারেনি। কিন্তু সেইদিন থেকেই সে স্কুলের অন্যদের চোখে বিশিষ্ট হয়ে উঠেছিল। অন্য ছাত্রীরা সকলেই মনে মনে দিয়ার পক্ষ নিয়েছিল। তবে নিজের রাগকে বশ না করতে পারার যে শাস্তি সেদিন হেডমিস্ট্রেস দিয়েছিলেন, সেটাই দিয়াকে বদলে দিয়েছে। এরপর থেকে দিয়া নিজের রাগ ক্ষোভ দুঃখ বা দুর্বলতাকে সামলাতে শিখে গিয়েছে। ঠিক যেভাবে বিশুবাবুর জামাইয়ের মুখে সাজানো মিথ্যেবুলি শুনে নিজেকে সামলে নিল। শাড়ির আঁচলটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে কয়েকমুহূর্ত মাথা নিচু করে রাখল। ভীষণ ইচ্ছে করছিল বিশু পালের জামাইয়ের গালে দুহাতে ঠাস ঠাস করে দুটো চড় মারতে। ইচ্ছে করছিল চিৎকার করে বলে— বিশুবাবুর সামনে সাজিয়ে গুছিয়ে মিথ্যে বলতে লজ্জা করছে না! আর একটা বাজে কথা বললে তোমার জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলবো! ছোটলোক! ইতর কোথাকার!
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন

ক্যাবলাদের ছোটবেলা, পর্ব-৩৭: লোকে যারে বড় বলে

কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়েছে দিয়া। মাকে এখানে এই পরিবেশে কাজ করতে হবে। আর মিথ্যেবাদী হলেও অফিস ভর্তি লোকের সামনে নিজের জামাইয়ের সে অপমান বিশুবাবু ভালোভাবে নেবেন না। তা তিনি যতই আদর্শবান হোন! তাই কেটে কেটে শান্তভাবে জবাব দিল।
—না ডকুমেন্ট সবই আছে! আপনি যে ডেকেছেন আমরা শুনতে পাইনি, জেরক্স করাতে যাচ্ছিলাম!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: রাক্ষস খর ও রামের সংঘাতে, যুদ্ধের বিবিধবার্তা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

বিশুবাবু যথেষ্ট বুদ্ধিমান। মাত্র এই কটা কথাতেই আসল ঘটনাটা আন্দাজ করে ফেললেন।
—বৌদি আপনি বসুন! তুমি বসো মা! তোমাদের ডকুমেন্টগুলো আমায় দাও!
দিয়া একটা প্লাস্টিকফোল্ডারের মধ্যে সব জরুরি কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিল সেইটাই বিশুবাবুর হাতে দিয়ে দিল। এবার বিশুবাবু একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেন! জামাই এর হাতে ফোল্ডারটা দিয়ে বললেন—
—শান্তনু যাও! নিজে গিয়ে যা যা লাগবে সেগুলোর কপি বের করে নাও! খেয়াল রেখো অরিজিনাল একটা কাগজও যেন এদিকওদিক না হয়!
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

মায়ের চাকরি হয়ে গেল। প্রাথমিক আড়ষ্টতা কাটিয়ে মা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠলেন। দিয়া আবার চাকরির চেষ্টায় মন দিল। চাকরি সে পাচ্ছে। কিন্তু এত কম মাইনে! কোম্পানিটা শক্তপোক্ত হলে কম মাইনেতেও রাজি হওয়া যায়। বড়সড় কোম্পানির ইন্টারভিঊ আসছে কিন্তু ভাগ্যের দরজা খুলছে না। তাই ছোটখাট সব কোম্পানিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একবার ভাবল এমবিএ করবে। আইটি সেক্টরের এত চাকরিপ্রার্থীর ভিড়ের মধ্যে নিজেকে একটু স্বতন্ত্র করা যাবে। কিন্তু পড়ার খরচ অনেক বেশি। ‘CAT’ দিয়ে সুযোগ পাওয়া খুব শক্ত! বেশিদিন এভাবে চলবে না তাই সে এইচআর ম্যানেজমেন্টে এক বছরের ডিপ্লোমা করার সিদ্ধান্ত নিল। সস্তায় পুষ্টিকর সিদ্ধান্ত! মায়ের রোজগারে সংসার গড়িয়ে গড়িয়ে কোনওক্রমে চলছে! সামান্য কিছু জমার টাকার পুঁজি থেকে চুঁইয়ে পড়া সুদের টাকা আর বাবার অফিস থেকে এককালীন পাওয়া কিছু টাকাও শেষ হয়ে আসছে। সামনে একটা অনিশ্চিত অন্ধকার টানেল। সেটা এগিয়ে আসছে। আর শেষমুহূর্তে কম্পিউটার গেম এর মতো ট্রেনের লাইনটা আলোর দিকে ঘুরে গেল। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content