বিচিত্রের বৈচিত্র

বিনায়ক : বিশ্বকর্মা

বিনায়ক : বিশ্বকর্মা

মা দুগ্গার সঙ্গে কার্ত্তিক ঠাকুরের মতোই মর্ত্যধামে আসেন গণেশ-ও। বিশ্বকর্মার সঙ্গে কার্ত্তিকের নানা সাদৃশ্য যেমন দৃ্শ্যমান, তেমন-ই গণেশের সঙ্গে শত কিংবা সহস্র যোজনেও খুঁজে পাওয়া কঠিন। একজন সুঠাম যুবাপুরুষ। অন্যজন স্থূল নরশরীরে হস্তিমুণ্ড ধারণ করে আছেন। তবে দু’জনের-ই চারটি হাত। আরেকটি বিষয়ও দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে না হয়তো। বিশ্বকর্মার বাহন হাতি। সেই হাতির মস্তকটিই স্কন্ধে নিয়ে গণেশ প্রসিদ্ধ ও সর্বাগ্রে বন্দিত হয়েছেন। সভ্যতার তরণীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন যদি কষে হাল ধরেন তো অন্যজন পাল তুলে ধরেছেন সেই ঝঞ্ঝাকুটিল সাগরযাত্রায়।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৯ : ঘটজাতক/৪ : বীরভোগ্যা বসুন্ধরা

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৯ : ঘটজাতক/৪ : বীরভোগ্যা বসুন্ধরা

দুর্দমনীয় দশভাই দশভেয়েদের ত্রাসে তখন চারিদিকে একটাই রব—ত্রাহি ত্রাহি। এ এক আশ্চর্য ব্যাপার বটে! ভবিষ্যতে যিনি হবেন সকলের ইহকাল পরকালের ত্রাতা, তাঁর থেকেই তখন পরিত্রাণ চাইছে সকলে! মানুষই দেবতা গড়ে, তাহারই কৃপার ‘পরে করে দেব মহিমা নির্ভর!

read more
নিঃসঙ্গ বার্ধক্য

নিঃসঙ্গ বার্ধক্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।” এই কথার গভীর তাৎপর্য আজ নতুন করে উপলব্ধি করা দরকার। কারণ সম্পর্কের সংকটের মূলে শুধু প্রযুক্তি নয়; রয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাস, ধৈর্য ও সহমর্মিতার ক্রমশ অবক্ষয়।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৮ : ঘটজাতক/৩ : দশে মিলে?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৮ : ঘটজাতক/৩ : দশে মিলে?

নন্দগোপা-ই ভবিষ্যতের যশোদা, দেবগর্ভা দেবকী। ক্রমে ক্রমে তাঁদের দশটি করে কন্যা ও পুত্র জন্ম নিল। দেবগর্ভার পুত্রদের পালন করতে লাগলেন নন্দগোপা। নন্দগোপার কন্যারা লালিত হতে থাকল দেবগর্ভার কাছে। এই অতি গোপনীয় সত্য দুই মাতা ও দুই পিতা-ই জানলেন কেবল। আর কেউ এই রহস্যের বিন্দুমাত্র জানতেন না। ক্রমে কাল অতিবাহিত হতে থাকল তার নিজের বেগে। শিশুগুলি এখন পরিণত যুবক, যুবতী।

read more
ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে

ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে

জীবনের থেকে বড় শিক্ষক বুঝি আর নেই। জীবন যখন “শুকায়ে যায়”, তিনি করুণাধারা হয়ে আসেন। ঝকঝকে বীর, নিখুঁত পরিকল্পক, সর্বত্র সফল, শ্রেষ্ঠ চিরবন্দিত নায়ক-ও কোথাও, কোনওদিন, অকস্মাৎ ভেঙে পড়েন। অথবা, তাঁর নিভৃত ভাঙনটুকু চোখে পড়ে না তেমন এই মর্ত্যলোকের। সেই দ্রষ্টা কিন্তু ঠিকই লক্ষ্য রাখেন। পাখির চোখে স্থিরনিশ্চল হয়ে দেখে যান কর্মফলভোক্তাকে, তারপর অজ্ঞানমোহ দূর করার সুতীব্র প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেন।

read more
হৃদয়হরণ

হৃদয়হরণ

একশো বছরে অনেক খ্যাতকীর্তি মানুষ-ই বিস্মৃত হন। আলোকবৃত্তে থাকা হয়ে ওঠে না অনেকের। উত্তমকুমার কী ছিলেন, কী ছিলেন না তা ফিল্মের আলোচকরা বলবেন। তবে তিনি নিজেই যেন এক আলোকবৃত্ত ছিলেন, হয়ে আছেন এ নিয়ে খুব বেশি মতভেদ হয়তো থাকবে না। সিনেমার ফ্রেমে তিনি এলেই সেই আলো জ্বলে ওঠে। তাই তিনি ভাস্বর হয়ে আছেন। তাঁর জীবন, তাঁর নায়কসত্তা, তাঁর আসা কিংবা যাওয়ার অধ্যায়গুলি তো সিরিয়াস বিদগ্ধ নানা আলোচনায় উঠে আসে।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৭ : ঘটজাতক/২ : তাঁর চরণধ্বনি

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৭ : ঘটজাতক/২ : তাঁর চরণধ্বনি

কী আশ্চর্য! এই নগরীর নাম যে অসিতাঞ্জন। অসিত তো কৃষ্ণের নামান্তর। যা সিত নয়, শ্বেত নয়। আর অঞ্জন হল কাজল। নগরীর নামে এই কালোকাজল কীসের অভিজ্ঞান তবে? কার নীরব পদসঞ্চার শুনেছিল সেদিন আর্যাবর্ত, উত্তরাপথের সেইসকল জনপদ? তাদের ভাগ্যাকাশে নিবিড় দূরবিসারী কৃষ্ণছায়া কোনও পটপরিবর্তনের বার্তা নিয়ে বিস্তৃত হচ্ছিল দ্রুত, অতিদ্রুত?

read more
সংস্কৃত দিবস

সংস্কৃত দিবস

সংস্কৃত ভাষার নামের মধ্যেই তার পরিমার্জিত হয়ে ওঠার সূত্রটুকু থেকে যায়। ভাষার সঙ্গে নিবিড় আত্মবন্ধন মানুষকে সার্থক করে। ভাষার পথে তার মন, বুদ্ধি, চিন্তা কিংবা ভাবনা সংহত সাবলীল হয়। সংস্কৃত হয়ে ওঠা সেই ভাষার পথে ভারতবর্ষের মন, বুদ্ধি, চিন্তা কিংবা ভাবনা উত্সারিত হয়েছিল।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৬ : ঘটজাতক/১ : নিয়তিঃ কেন বাধ্যতে?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৬ : ঘটজাতক/১ : নিয়তিঃ কেন বাধ্যতে?

যমুনাতটে উত্তর মথুরায় সেই সময় রাজত্ব করতেন যে রাজা তাঁর নাম ছিল মহাসাগর। তাঁর দুই পুত্র যথাক্রমে সাগর ও উপসাগর। মহাসাগরের প্রয়াণের পর সাগর রাজা হলেন, উপসাগর হলেন উপরাজ। এই উসাগর কালক্রমে এই কাহিনির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠবেন। কিন্তু কেমন করে? কী সম্পর্ক তাঁর ওই অসিতাঞ্জন নগরের সঙ্গে?

read more
স্বাধীনতার অর্থ: পতাকার ঊর্ধ্বে এক নৈতিক অঙ্গীকার

স্বাধীনতার অর্থ: পতাকার ঊর্ধ্বে এক নৈতিক অঙ্গীকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কালজয়ী প্রার্থনায় লিখেছিলেন— “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।” এই পঙ্ক্তিটি কেবলমাত্র একটি কবিতার অংশ নয়, এটি স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ। যেখানে মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে উদাত্ত কণ্ঠে সত্য উচ্চারণ করতে পারে, যেখানে জ্ঞান সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ নয়, সেখানেই স্বাধীনতার পূর্ণ বিকাশ।

read more
বাইশে শ্রাবণ

বাইশে শ্রাবণ

সাল ১৯০১। রবীন্দ্রনাথের জীবনতরণী তখন ঠিক মাঝদরিয়ায়। আশি বছরের জীবনে চল্লিশ তখন তাঁর। উপলব্ধি করলেন—
“মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ/ তোমা হতে যবে স্বতন্ত্র হয়ে আপনার পানে চাই// হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে যাহা-কিছু সব আছে আছে আছে–নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারই/ নিশিদিন কাঁদি তাই/ অন্তরগ্লানি সংসারভার পলক ফেলিতে কোথা একাকার/ জীবনের মাঝে স্বরূপ তোমার রাখিবারে যদি পাই।।”

read more
এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

উপনিষদের প্রাসঙ্গিকতা মানে অতীতে ফিরে যাওয়া নয়। বরং আধুনিক বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ এবং মানবাধিকারের মূল্যবোধকে অস্বীকার না করেই উপনিষদের আত্মজ্ঞান, সহমর্মিতা, নৈতিকতা এবং বিশ্বমানবতার চেতনাকে সমকালীন জীবনে প্রয়োগ করা। উপনিষদ কোনও অন্ধ বিশ্বাস শেখায় না; বরং প্রশ্ন করতে, অনুসন্ধান করতে এবং নিজে উপলব্ধি করতে শেখায়। এই বৈজ্ঞানিক মনোভাবই তাকে চিরকালীন করে তুলেছে। লিখেছেন ড. সঞ্চিতা কুণ্ডু

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৫ : দ্বীপি-জাতক — না যেন করি ভয়

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৫ : দ্বীপি-জাতক — না যেন করি ভয়

দ্বীপী হল চিতাবাঘ। মেষশাবক ও নেকড়ের কথোপকথনে এই কাহিনিটি সুপরিচিত। বোধিসত্ত্ব এই গল্পের কোনও মুখ্য চরিত্র নন। তিনি দ্রষ্টা কেবল। মগধের এক ধনাঢ্যকুলে জন্ম নিয়ে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে বৈরাগ্য অবলম্বন করেছেন। প্রব্রজ্যা নিয়ে হিমালয়ে বাস করেছেন। তারপর সেই বিজন হিমগিরি ত্যাগ করে অন্য কোনও গিরিপথের কাছে বাস করছেন দেহের প্রয়োজনীয় লবণ ও অম্লসেবনের জন্য। নির্মাণ করেছেন পর্ণশালা, বাস করছেন সেখানে। কাছেই পশুপালকরা ছাগ চরায়। এমন করেই কাটে দিন। এমন-ই একটি দিনের কথা।সেদিন একটি চিতাবাঘ ছাগের পালের শেষে পড়ে যাওয়া এক...

read more
রথযাত্রা

রথযাত্রা

আজ রথযাত্রা। সূর্যের আপাতঃ বার্ষিক গতি, জগতের সচল মহাযাত্রার প্রতীক রথ, জগন্নাথ কিংবা নারায়ণ, বিষ্ণু কিংবা কৃষ্ণের সংশ্লেষ-সংযুক্তির তত্ত্বভারে “পথের ধারের রথের মেলা”র খুব একটা এসে যায় না।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৪ : পূর্ণনদী-জাতক —ফেরা যায় নাকি?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৪ : পূর্ণনদী-জাতক —ফেরা যায় নাকি?

বারাণসীর রাজপুরোহিতকুলে জন্ম নিয়েছেন বোধিসত্ত্ব। ক্রমে ক্রমে বড় হলেন। তক্ষশিলা থেকে বিদ্যালাভ করে ফিরে এলেন। পিতার মৃত্যুর পর পৌরোহিত্যে নিয়োজিত হলেন। হলেন রাজার ঐহিক ও পারত্রিক উভয়বিধ বিষয়ের হিতসাধক ধর্মার্থানুশাসক। তাঁর এই রাজকর্মের পথ নিষ্কণ্টক ছিল না। তিনি রাজার মঙ্গলসাধক হলেও তাঁর অকল্যাণের জন্য ‘কর্ণেজপ’ কান-ভাঙানো লোকের সংখ্যা কম ছিল না। এদের কাজই হল মনোমালিন্য ঘটানো, ভেদসাধন। রাজা ব্রহ্মদত্ত এদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে বিমোহিত হলেন। এই সময় মানুষ কানে দেখে, চোখে শোনে। রাজার দশাও তা-ই হল। সেই সকল দুষ্টু...

read more

 

 

Skip to content