বিচিত্রের বৈচিত্র

সংস্কৃত দিবস

সংস্কৃত দিবস

সংস্কৃত ভাষার নামের মধ্যেই তার পরিমার্জিত হয়ে ওঠার সূত্রটুকু থেকে যায়। ভাষার সঙ্গে নিবিড় আত্মবন্ধন মানুষকে সার্থক করে। ভাষার পথে তার মন, বুদ্ধি, চিন্তা কিংবা ভাবনা সংহত সাবলীল হয়। সংস্কৃত হয়ে ওঠা সেই ভাষার পথে ভারতবর্ষের মন, বুদ্ধি, চিন্তা কিংবা ভাবনা উত্সারিত হয়েছিল।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৬ : ঘটজাতক/১ : নিয়তিঃ কেন বাধ্যতে?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৬ : ঘটজাতক/১ : নিয়তিঃ কেন বাধ্যতে?

যমুনাতটে উত্তর মথুরায় সেই সময় রাজত্ব করতেন যে রাজা তাঁর নাম ছিল মহাসাগর। তাঁর দুই পুত্র যথাক্রমে সাগর ও উপসাগর। মহাসাগরের প্রয়াণের পর সাগর রাজা হলেন, উপসাগর হলেন উপরাজ। এই উসাগর কালক্রমে এই কাহিনির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠবেন। কিন্তু কেমন করে? কী সম্পর্ক তাঁর ওই অসিতাঞ্জন নগরের সঙ্গে?

read more
স্বাধীনতার অর্থ: পতাকার ঊর্ধ্বে এক নৈতিক অঙ্গীকার

স্বাধীনতার অর্থ: পতাকার ঊর্ধ্বে এক নৈতিক অঙ্গীকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কালজয়ী প্রার্থনায় লিখেছিলেন— “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।” এই পঙ্ক্তিটি কেবলমাত্র একটি কবিতার অংশ নয়, এটি স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ। যেখানে মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে উদাত্ত কণ্ঠে সত্য উচ্চারণ করতে পারে, যেখানে জ্ঞান সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ নয়, সেখানেই স্বাধীনতার পূর্ণ বিকাশ।

read more
বাইশে শ্রাবণ

বাইশে শ্রাবণ

সাল ১৯০১। রবীন্দ্রনাথের জীবনতরণী তখন ঠিক মাঝদরিয়ায়। আশি বছরের জীবনে চল্লিশ তখন তাঁর। উপলব্ধি করলেন—
“মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ/ তোমা হতে যবে স্বতন্ত্র হয়ে আপনার পানে চাই// হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে যাহা-কিছু সব আছে আছে আছে–নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারই/ নিশিদিন কাঁদি তাই/ অন্তরগ্লানি সংসারভার পলক ফেলিতে কোথা একাকার/ জীবনের মাঝে স্বরূপ তোমার রাখিবারে যদি পাই।।”

read more
এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

উপনিষদের প্রাসঙ্গিকতা মানে অতীতে ফিরে যাওয়া নয়। বরং আধুনিক বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ এবং মানবাধিকারের মূল্যবোধকে অস্বীকার না করেই উপনিষদের আত্মজ্ঞান, সহমর্মিতা, নৈতিকতা এবং বিশ্বমানবতার চেতনাকে সমকালীন জীবনে প্রয়োগ করা। উপনিষদ কোনও অন্ধ বিশ্বাস শেখায় না; বরং প্রশ্ন করতে, অনুসন্ধান করতে এবং নিজে উপলব্ধি করতে শেখায়। এই বৈজ্ঞানিক মনোভাবই তাকে চিরকালীন করে তুলেছে। লিখেছেন ড. সঞ্চিতা কুণ্ডু

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৫ : দ্বীপি-জাতক — না যেন করি ভয়

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৫ : দ্বীপি-জাতক — না যেন করি ভয়

দ্বীপী হল চিতাবাঘ। মেষশাবক ও নেকড়ের কথোপকথনে এই কাহিনিটি সুপরিচিত। বোধিসত্ত্ব এই গল্পের কোনও মুখ্য চরিত্র নন। তিনি দ্রষ্টা কেবল। মগধের এক ধনাঢ্যকুলে জন্ম নিয়ে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে বৈরাগ্য অবলম্বন করেছেন। প্রব্রজ্যা নিয়ে হিমালয়ে বাস করেছেন। তারপর সেই বিজন হিমগিরি ত্যাগ করে অন্য কোনও গিরিপথের কাছে বাস করছেন দেহের প্রয়োজনীয় লবণ ও অম্লসেবনের জন্য। নির্মাণ করেছেন পর্ণশালা, বাস করছেন সেখানে। কাছেই পশুপালকরা ছাগ চরায়। এমন করেই কাটে দিন। এমন-ই একটি দিনের কথা।সেদিন একটি চিতাবাঘ ছাগের পালের শেষে পড়ে যাওয়া এক...

read more
রথযাত্রা

রথযাত্রা

আজ রথযাত্রা। সূর্যের আপাতঃ বার্ষিক গতি, জগতের সচল মহাযাত্রার প্রতীক রথ, জগন্নাথ কিংবা নারায়ণ, বিষ্ণু কিংবা কৃষ্ণের সংশ্লেষ-সংযুক্তির তত্ত্বভারে “পথের ধারের রথের মেলা”র খুব একটা এসে যায় না।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৪ : পূর্ণনদী-জাতক —ফেরা যায় নাকি?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৪ : পূর্ণনদী-জাতক —ফেরা যায় নাকি?

বারাণসীর রাজপুরোহিতকুলে জন্ম নিয়েছেন বোধিসত্ত্ব। ক্রমে ক্রমে বড় হলেন। তক্ষশিলা থেকে বিদ্যালাভ করে ফিরে এলেন। পিতার মৃত্যুর পর পৌরোহিত্যে নিয়োজিত হলেন। হলেন রাজার ঐহিক ও পারত্রিক উভয়বিধ বিষয়ের হিতসাধক ধর্মার্থানুশাসক। তাঁর এই রাজকর্মের পথ নিষ্কণ্টক ছিল না। তিনি রাজার মঙ্গলসাধক হলেও তাঁর অকল্যাণের জন্য ‘কর্ণেজপ’ কান-ভাঙানো লোকের সংখ্যা কম ছিল না। এদের কাজই হল মনোমালিন্য ঘটানো, ভেদসাধন। রাজা ব্রহ্মদত্ত এদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে বিমোহিত হলেন। এই সময় মানুষ কানে দেখে, চোখে শোনে। রাজার দশাও তা-ই হল। সেই সকল দুষ্টু...

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৩ : অস্থান-জাতক—অসম্ভবের ছন্দ

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৩ : অস্থান-জাতক—অসম্ভবের ছন্দ

এই জগতে সকল কিছুই ঘটা সম্ভব? অভিজ্ঞতা বলবে, যার সম্ভাবনা কোটিতে গুটি, কিংবা তার চেয়েও ঢের কম, তা একপ্রকার অসম্ভব বটে। যেসব কারণের জন্য কেউ হয় ডুমুরের ফুল, কিছু কল্পনা হয় আকাশকুসুম, সেই সম্ভাবনাগুলি তখনই সত্য হয়, যদি সূর্য পশ্চিমে উদিত হন। অসম্ভব কোনও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়, নাকি অসম্ভবের সম্ভাব্য হয়ে ওঠার দুরাকাঙ্ক্ষাটিই একান্ত মনোজাগতিক সেই তর্ক এ কাহিনির তত্ত্ব নয়। তবে, অনেক গল্পে দেখা যায়, যা একান্তই অসম্ভব বলে মনে করা হয়, তা ঘটে যায়।

read more
পর্ব-৬২ : পলাশজাতক—দেবতার গ্রাস!

পর্ব-৬২ : পলাশজাতক—দেবতার গ্রাস!

একবার কোনও এক পাখি সেই পলাশগাছের কাণ্ডে বসে মলত্যাগ করেছিল। তার আগে সে পরশপাথরের পাকা বটফল খেয়েছিল। পলাশগাছের কাণ্ড ও শাখার সংযোগস্থলে সেই মলের মধ্যে থাকা বটের বীজে ক্রমে ক্রমে অঙ্কুরোদ্গম ঘটল। দেখতে দেখতে আঙুল-চারেক লম্বা হয়ে গেল সেই চারাগাছ। রক্তাভ অঙ্কুর থেকে উদ্গত সবুজ কোমল পাতা অনন্ত ভবিষ্যতের ইশারা পেয়েছিল বুঝি! কিন্তু যা পরিত্যজ্য, তাকে ত্যাগ করাই ভাল। যা আশঙ্কার কারণ, তাকে থেকে আশঙ্কিত হওয়াই শ্রেয়।

read more
পর্ব-৬১ : সুবর্ণকর্কট-জাতক —সকল কাঁটা ধন্য করে

পর্ব-৬১ : সুবর্ণকর্কট-জাতক —সকল কাঁটা ধন্য করে

এই গল্পের একদিকে যেমন মানুষ, তেমন-ই অন্যদিকে তারা, যারা মানুষ নয়। কিন্তু তারাই এই গল্পের মুখ্যভূমিকায়, তারাই হয়ে ওঠে মানুষের প্রতিভূ। তাই এই গল্প শেষ পর্যন্ত মানুষের, মনুষ্যপ্রকৃতির। তার দুর্দমনীয় স্বভাব ও আত্মজয়ের এই কাহিনির একদিকে মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মবন্ধনের প্রতিষ্ঠা, অন্যদিকে থাকে স্বার্থসংশ্লিষ্ট জীবন ও প্রবঞ্চনাকুটিল সার্থসিদ্ধির জগতে যথার্থ হিতাকাঙ্ক্ষীর অভ্যুদয় ও আত্মরক্ষার পাঠ।

read more
পর্ব-৬০ : কাকজাতক — ভেবে দেখ মন

পর্ব-৬০ : কাকজাতক — ভেবে দেখ মন

একদিন বারাণসী নগরের তোরণদ্বারে দুটি কাক বসে আছে। একটি অবিমৃষ্যকারী, স্বভাবচপল। অপরটি স্থিতধী। রাজপুরোহিত তোরণদ্বার অতিক্রম করে নদীতে গেলেন। সেখানে স্নান সমাপন করে গায়ে দিলেন গন্ধবিলোপন, ধারণ করলেন মাল্য ও মহার্ঘ্য বস্ত্র। শুদ্ধদেহে তিনি ফিরতে লাগলেন রাজপুরীর দিকে। চপল কাকটি অপরটিকে বলল, “আমি ওর গায়ে বিষ্ঠা ত্যাগ করব ভাবছি।”

read more
সাগর উঠে তরঙ্গিয়া

সাগর উঠে তরঙ্গিয়া

শাস্ত্রে দু’রকম পালনীয় কাজের কথা বলা হয়েছে। নিত্য ও নৈমিত্তিক। শাস্ত্র উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন যে, সন্ধ্যাবন্দনা ইত্যাদি হল নিত্য কর্ম। আপনি নিত্যদিন যে সব কাজ করে বেঁচে থাকেন, তা যদি হয় নিত্যকর্ম, তবে কালেভদ্রে, তিথি মেনে, পঞ্জিকা-ক্যালেণ্ডার দেখে যা হবে তা নৈমিত্তিক। কোনও কারণ ঘটলে তবেই তার অনুষ্ঠান। এই যেমন দোলদুর্গোৎসব কিংবা মন খারাপ লাগলে একটু ঘুরে আসা, সিনেমা দেখা কিংবা মাসে একটি দিন হলেও নিজের জন্য কিছু সময় রাখা। কিন্তু হঠাৎ করে নিত্য ও নৈমিত্তিক কর্মের কথা কেন? কেন না, আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। নিত্যদিন...

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৯: বিড়ালীকৌশিক-জাতক —অতি ইচ্ছার সঙ্কট

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৯: বিড়ালীকৌশিক-জাতক —অতি ইচ্ছার সঙ্কট

জাতকমালার এই কাহিনিটির আজ প্রথম পর্ব। সামাজিক পরিসর পরিবর্তিত হয়, দিন বদলায়, কিন্তু “দান” তার অত্যুজ্জ্বল মহিমা নিয়ে অক্ষুণ্ণ থাকে। কঠোপনিষদে নচিকেতার গল্প হোক কিংবা মহাভারতে কর্ণের কাহিনি, অথবা ইতিহাস-পুরাণের নানা আখ্যান উপাখ্যান, দানের প্রসঙ্গ সর্বদাই অন্য এক মাত্রা, মর্যাদা নিয়ে অনন্য।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৮: শ্যালক-জাতক—অচিনপাখি

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৮: শ্যালক-জাতক—অচিনপাখি

বোধিসত্ত্বের সঙ্গে এক সাপুড়ের পরিচয় হয়েছিল। সেই সাপুড়ে একটি বাঁদরকে বিশেষ শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করেছিল, তাকে বিষপ্রতিষেধক ওষুধ খাইয়ে সাপের সঙ্গে খেলা করাতো সে। এই ছিল তার জীবিকা। একদিন বারাণসীতে এক উত্সব ঘোষিত হল। সাপুড়ে কি বাঁদরটিকে নিয়ে সাপের খেলা দেখাতে উত্সবে গেল এবার?

read more

 

 

Skip to content