২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ শনিবার ৬ জুন, ২০২৬

অনন্ত এক পথ পরিক্রমা

পর্ব-৯১: সন্ধিপুজো ও দেবী চামুণ্ডা

পর্ব-৯১: সন্ধিপুজো ও দেবী চামুণ্ডা

দেবী সপ্তশতীর মধ্যে সবথেকে বেশি করে মন আকর্ষণকারী অংশ হল দেবী-দূত সংবাদ এবং চণ্ড ও মুণ্ড বধ, যা দেবী মাহাত্ম্যকে শতগুণে বাড়িয়ে তোলে। অহংকার নাশক দৈবী শক্তির জয় লাভ ও আসুরিক শক্তির পরাজয় জ্ঞাপক। মেধা ঋষি বলছেন, কাশ্যপের ঔরসে ও ভার্যা দনুর গর্ভে শম্ভু ও নিশুম্ভের জন্ম। শম্ভু ও নিশুম্ভ সমস্ত দেবতা, সূর্য, চন্দ্রাদি সকলকে পরাজিত করে, ইন্দ্রের ত্রিলোকাধিপত্য ও যজ্ঞভাগও অধিকার করেন। দেবগণ সমস্ত অধিকার শূন্য ও পরাজিত হলে, স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে অপরাজিতা দেবীকে স্মরণ করেন। দেবী পূর্বে কথা দিয়েছিলেন, বিপদে তাঁকে...

read more
পর্ব-৯০: আদ্যাশক্তি নব নব রূপে নবদুর্গা

পর্ব-৯০: আদ্যাশক্তি নব নব রূপে নবদুর্গা

শ্রীশ্রীচণ্ডীর মূল গ্রন্থ অর্থাৎ দুর্গা সপ্তশতী পাঠের পূর্বে সকলেই দেবীকবচ পাঠ করেন। শ্রীশ্রীচণ্ডীকা দেবীর প্রীতির জন্য পাঠ করা হয়। যেখানে ঋষি মার্কণ্ডেয় সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে জগতের পরম গোপনীয় অথচ মঙ্গলকারক আদি শক্তি, সর্বজীবের রক্ষাকর্তী মহামায়ার কীর্তি, জয়গাথা শোনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। কবচ শব্দের অর্থ বর্ম; যা পরিধানে শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করা যায়।

read more
পর্ব-৮৯: দুর্বলেরা কখনও সত্য লাভ করতে পারে না

পর্ব-৮৯: দুর্বলেরা কখনও সত্য লাভ করতে পারে না

আমরা শারীরিকভাবে এক একটি অঙ্গকে ত্রুটিমুক্ত করব, এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। বরং নিজের আত্মশক্তির ধারণার দ্বারা সার্বিকভাবে ত্রুটিমুক্ত হওয়া যায়। সর্বদা সব বিষয়ে সজাগ থাকলে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা যায়। ফলে মন ক্রমশ সচেতন হয়। সচেতনতার সঙ্গে করা মন বা ইন্দ্রিয় একবার যা অনুভব করে, তা চিত্রের মতো থেকে যায়। আমরা নিজেদের ব্যস্ততার জন্য বা অন্য কোনও কারণে সেই ছবিকে দেখতে পাই না বা অনেক ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাই।

read more
পর্ব-৮৮ ধর্মের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির ধর্ম

পর্ব-৮৮ ধর্মের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির ধর্ম

অনেকে ধর্ম বন্ধনের কারণ বলে মনে করেন। কোনও ধর্মাবলম্বী হতে চান না, বা মতাদর্শে চলতে পছন্দ করেন। ধর্ম ত্যাগ করাটাই বা কোনও ধর্মের অবলম্বী না হয়ে থাকাটাই নতুন সমাজ ভাবনা মনে করে। কিন্তু ধর্মের কি অন্য কোনও দিক আছে, যা মানুষকে ঈশ্বর ভাবা-পন্ন করে করা ছাড়াও আর বিশেষ কিছু করতে পারে? আমার উত্তর হবে ধর্মের আরেকটা ভালো রূপ হচ্ছে সংস্কৃত বান, চরিত্রবান করে তোলা।

read more
পর্ব-৮৭: লৌকিক বাসনা ত্যাগই ঈশ্বর প্রাপ্তির হেতু

পর্ব-৮৭: লৌকিক বাসনা ত্যাগই ঈশ্বর প্রাপ্তির হেতু

অর্থ উপার্জন অন্যায় নয় কারণ ওই অর্থ বিতরণের জন্য। গৃহস্থই জীবন ও সমাজের কেন্দ্র অর্থ উপার্জন অসৎ কাজে অর্থ ব্যয় করা তার পক্ষে উপাসনা, কারণ যে গৃহস্থ সদুপায়ে ও সৎ উদ্দেশ্যে ধনী হবার চেষ্টা করছেন—সন্ন্যাসী নিজ কুঠিরে বসে উপাসনা করলে উহা যেমন তার মুক্তি লাভের সহায় হয়, সেই গৃহস্থেরও ঠিক তাই হয়ে থাকে।

read more
পর্ব-৮৬: তিন টান একত্র হলে তবেই ঈশ্বর দর্শন সম্ভব

পর্ব-৮৬: তিন টান একত্র হলে তবেই ঈশ্বর দর্শন সম্ভব

"তিন টান একত্র হলে তবে তিনি দেখা দেন। বিষয়ের বিষয়ের উপর, মায়ের সন্তানের উপর, আর সতীর পতির উপর টান। এই তিন টান যদি কারও একসঙ্গে হয়, সেই টানের জোরে ঈশ্বরকে লাভ করতে পারে।" [কথামৃত পৃঃ ২১] ঈশ্বরীয় প্রেম সর্বদাই কথা ও শব্দের আড়ালে মানুষ লৌকিক ভালোবাসার সামঞ্জস্য খুঁজে। কিন্তু লোকত্ত্বর সে ভালোবাসার সামঞ্জস্য ও গভীরতা বোধগম্যের পারে। মানবের সহজ প্রবৃত্তি হল তুলনামূলক বিচারের দ্বারা ধারণা উৎপাদন করা। বাস্তবিক, মানব মন বুদ্ধির পারে চিরকালীন অব্যক্ত প্রেম রয়েছে তাকে গ্রহণ করতে পারে না। 'আমি' কে না হারিয়ে যা পাওয়া...

read more
পর্ব-৮৫: আত্মানং রথিনং বিদ্ধি

পর্ব-৮৫: আত্মানং রথিনং বিদ্ধি

আমাদের লক্ষ্য আনন্দ লাভ, স্বরূপ উপলব্ধি। অর্থ নয়, সম্পত্তি নয়, সুখও নয়, দুঃখও নয়। অর্থ বা সম্পদের প্রাপ্তির ইচ্ছার মূল লক্ষ্য, আনন্দ। কিন্তু আমাদের চক্ষু-আদি ইন্দ্রিয় সকল বহির্মুখী বিষয়ের ভোগের কারণে ক্ষণিকের সুখে মত্ত হয়ে পড়ে। অন্তরে বিষয় ব্যতীত আনন্দের ভান্ডার রয়েছে। শরীরের বহির্ভাগে ভগবান যেন ইন্দ্রিয়গুলি খোদাই করে বসিয়ে দিয়েছেন।

read more
পর্ব-৮৪: জগৎ আপনার, কেউ পর নয়: মা সারদা

পর্ব-৮৪: জগৎ আপনার, কেউ পর নয়: মা সারদা

‘অয়ং নিজ পরবেতি গণনা লঘু চেতসাম্, উদার চরিতানান্তু বসুধৈব কুটুম্বকম্।’ (নীতি) যাহারা সংকীর্ণ চিত্ত স্বার্থপর ব্যক্তি, তাহারা সর্বদা আমি ও আমার চিন্তায় ব্যস্ত। কিন্তু উদার প্রকৃতির লোকেরা সারা জগতবাসীকে আত্মীয় গান করেন, তাদের নিকট আপন পর বোধ থাকে না। তাদের দূর্বল চিত্ত আপনার গণ্ডি এত ছোট করে যে সে জায়গাতেই থেকে যায়, আর সম্প্রসারণ হয় না।

read more
পর্ব-৮৩: ‘কর্ম করা না থাকলে বৈরাগ্য হয় না, ভোগ না হলে বৈরাগ্য হয় না’

পর্ব-৮৩: ‘কর্ম করা না থাকলে বৈরাগ্য হয় না, ভোগ না হলে বৈরাগ্য হয় না’

কর্ম করলে চিত্তের বিক্ষেপ হওয়া স্বাভাবিক। উপাসকের তাহলে কর্ম করা অনুচিত। কিন্তু কর্ম না করে, চিত্তের বিক্ষেপ প্রতিরোধ করা কী সম্ভব? পতঞ্জল বলছেন, “যোগঃ চিত্ত-বৃত্তি নিরোধঃ”। বৃত্তিহীন মন সাধন ছাড়া উপার্জনক্ষম। কর্মফল বিনাশী বা সঞ্চয়কারী হলেও কর্ম সর্বদা পরিত্যক্ত নয়। শাস্ত্রবিহিত কর্ম চিত্রের স্বাভাবিক এবং দুশ প্রবৃত্তি দূর করে ও নিষ্কাম কর্মের দ্বারা চিত্রশুদ্ধিকরণ হলে জ্ঞাননিষ্ঠার উপযোগী হয় সাধক।

read more
পর্ব-৮২: সংস্কারমুক্ত অখণ্ড জ্ঞানই ঈশ্বর

পর্ব-৮২: সংস্কারমুক্ত অখণ্ড জ্ঞানই ঈশ্বর

মানুষ, সীমিত সত্ত্বা এবং ক্ষুদ্র অহংকার যুক্ত। যে কারণেই সে পৃথক ঈশ্বর থেকে। সংস্কারমুক্ত অখণ্ড জ্ঞানই ঈশ্বর, আর খণ্ডিত জ্ঞান কর্ম ও সংস্কারযুক্ত মানুষ। এই সীমা বা বন্ধনের বাইরে যাওয়াই উপাসনার লক্ষ্য। এ জগৎ, যা পরিব্যপ্ত হয়ে আছে তা জড়। যদি বলি তবে প্রশ্ন জড় থেকে জড় উৎপন্ন হতে পারে কী করে? না, তবে এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনও সজীব সত্ত্বা রয়েছে।

read more
পর্ব-৮১: শক্তি অক্ষয়, চির শাশ্বত

পর্ব-৮১: শক্তি অক্ষয়, চির শাশ্বত

মহাপুরুষের ধ্যান-ধারণা দ্বারা আমরা আধ্যাত্মিক ক্ষুধা বাড়াতে পারি। তাঁরা আজও বর্তমান, চৈতন্য ও শাশ্বত প্রকাশের দ্বারা। যাঁরা অপকট, আন্তরিক ভাবে তাদের চেতনার স্তরেকে উন্নীত করে সেই সব মহাপুরুষের ধ্যান ও ধারণা করার সমর্থ্য লাভ করে, তাঁরা তাঁদের উপস্থিতি অনুভব করতে পারবে।

read more
পর্ব-৮০: আধ্যাত্মিক জীবন গঠনের মূল কথা— সত্যের ধারণা ও পালন

পর্ব-৮০: আধ্যাত্মিক জীবন গঠনের মূল কথা— সত্যের ধারণা ও পালন

আধ্যাত্মিক জীবন গঠনের মূল বিষয় বা নিয়মগুলির যে কয়েকটি আমাদের সাধারণ জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রিত করে তার মধ্যে একটি হল—সত্যের ধারণা ও পালন। যা কিছুকেই মানুষ সত্য বলে গ্রহণ করে। তাই তার সমগ্র সত্তা, চিন্তারাশি, অনুভূতি এবং তার আকাঙ্ক্ষাকে আকর্ষণ করে।

read more
পর্ব-৮৫: আত্মানং রথিনং বিদ্ধি

পর্ব-৭৯: নারদীয় ভক্তির স্বরূপ কামনাহীন প্রেম, শুধু নিজেকে উৎসর্গ করা

নারদীয় ভক্তির প্রকাশ হল ভক্তি প্রার্থনার মধ্যেই নিজেকে কৃত-কৃতার্থ অনুভব করা। ঈশ্বরীয় সুখে লীন হয়ে যাওয়া। এগোপিনীদের দুঃখ প্রকাশ না চির সুখের অনুভব!

read more
পর্ব-৭৮: ব্রহ্ম ও মায়া মূলত এক ও অভেদ

পর্ব-৭৮: ব্রহ্ম ও মায়া মূলত এক ও অভেদ

বেদের মায়া ও তন্ত্রের মহামায়া সমার্থক না হলেও ব্রহ্ম ও মহামায়া মূলত এক। ঈশ্বর ও প্রকৃতি শক্তি যেমন অভেদ। সৃষ্টির আদিতে ব্রহ্মই একমাত্র ছিল। শক্তিকে আশ্রয় করে সৃষ্টি শুরু হলে এই জীবজগৎ প্রকাশ করে তার মধ্যে চৈতন্য রূপে প্রকাশিত হতে থাকল। বেদ ও তন্ত্রের পার্থক্য এই যে, বেদ সিদ্ধান্ত শাস্ত্র আর তন্ত্র সাধন শাস্ত্র। বেদ প্রাচীন অপৌরুষেয় হলেও শক্তিপুজোর উল্লেখ রয়েছে।

read more
পর্ব-৭৭: নির্জনতা মনকে শান্ত করে

পর্ব-৭৭: নির্জনতা মনকে শান্ত করে

আধ্যাত্মিক জীবনে নির্জনতার প্রয়োজনীয়তা আছে। অনেকে নির্জন স্থানে গিয়ে হাঁপিয়ে যান একাকিত্বের জন্য। আবার কারও জন্য একাকিত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনে কখনও কখনও একাকিত্ব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকের কাজ করে।

read more

Skip to content