বিশেষ নিবন্ধ

মুকুন্দ দাস: স্বদেশ জাগরণের চারণকবি

মুকুন্দ দাস: স্বদেশ জাগরণের চারণকবি

মুকুন্দ দাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি ‘মাতৃপূজা’ যাত্রাপালা। দেশপ্রেম, মাতৃভূমির মুক্তি এবং ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এই পালার মূল উপজীব্য। নাটকটির মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে স্বদেশের প্রতি কর্তব্যবোধে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর ‘ছিল ধান গোলা ভরা, শ্বেত ইঁদুরে করল সারা’ গানটিতেও রূপকের সাহায্যে শোষণের চিত্র ফুটে উঠেছিল।

read more
রাজীব হত্যা : অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন অনিন্দ্য ভুক্ত

রাজীব হত্যা : অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন অনিন্দ্য ভুক্ত

রাজীব গান্ধী হত্যা রহস্যের উন্মোচন করেছিল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। কিন্তু সেই ঘটনার প্রায় তিরিশ বছর পরেও এই হত্যা রহস্য নিয়ে মানুষের কৌতুহলের নিরসন যে এখনও হয়নি তার অন্যতম প্রধান কারণ এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষের আচরণ, যার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

read more
সুদূর অতীতে উঃপূর্বাঞ্চলে দুর্গাপুজো

সুদূর অতীতে উঃপূর্বাঞ্চলে দুর্গাপুজো

আসামে শত শত বছর আগে থেকেই দুর্গা পূজা চলে আসছে। আসামের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ষোড়শ শতকে মূলত কোচদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রেই আসামে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়। দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী প্রতিমা গড়ার প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য আহোম রাজা তাঁর রাজ্যের শিল্পীদের কোচ রাজ্যে পাঠিয়েছিলেন বলে আসামের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

read more
বিশ্ব ডাক দিবস

বিশ্ব ডাক দিবস

“মেইল” এখন নানাবিধ “কল”… কলকলিয়ে কথা বলার যন্তর-মন্তর। শেষ কথাটা তবু থেকেই যায়। ডাকের চিঠি পড়ার দিন না থাকলেও, ডাকলে যেতে হয়, নাকি নয়? এর উত্তর ক্রান্তদর্শী কবির কাছেই। তিনি বলবেন, গঙ্গার তীরে চিতাকাঠ, খাদের পাশে চাঁদ… ক্রমাগত ডাকে “আয় আয়।” তবে, যেতে পারি, কিন্তু কেন যাব? ডাকের ঘরে এর উত্তর আছে?

read more
সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ

সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ

কুমিল্লাতেই কুমার শচীন দেববর্মণের বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা। কিন্তু আগরতলার সঙ্গে ছিল নিবিড় সম্পর্ক। মাঝে মাঝে তিনি আগরতলায় আসতেন। রাজ্যেশ্বর মিত্র এক লেখায় জানিয়েছেন যে, তিনি শচীনকর্তাকে আগরতলাতে সাধারণের ব্যবহৃত পথেঘাটে হেঁটে বেড়াতে দেখেছেন। রাস্তার লোকজন কর্তার জন্য সসম্ভ্রমে সরে দাঁড়ালেও তিনি কিন্তু কারও দিকে অবহেলার দৃষ্টিতে তাকাননি। আগরতলায় ফুটবল মাঠে রেফারিও থাকতেন তিনি। সঙ্গীত চর্চায় বিরতি ছিলনা এখানেও। রাজপরিবারের কারো কারও বাড়িতে সাহেব আলী নামে এক জন লোকশিল্পী গান শোনাতে আসতেন।

read more
বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর উপাধি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় একাই কেবল পাননি। সংস্কৃত কলেজের বিশেষ এই উপাধিতে ভূষিত বহু বিদ্যাসাগর আছেন। ইতিহাসে তাঁরাও আছেন তাঁদের সারস্বত সাধনার তাত্পর্য নিয়ে। তবুও, বিদ্যাসাগর বিপুল ও অভ্রভেদী হয়েছেন। কারণ, সকলেই যেমন কবি নন, কেউ কেউ কবি, তেমন-ই সকলেই যে ঈশ্বরচন্দ্র হতে পারেন না।

read more
বিনায়ক : বিশ্বকর্মা

বিনায়ক : বিশ্বকর্মা

মা দুগ্গার সঙ্গে কার্ত্তিক ঠাকুরের মতোই মর্ত্যধামে আসেন গণেশ-ও। বিশ্বকর্মার সঙ্গে কার্ত্তিকের নানা সাদৃশ্য যেমন দৃ্শ্যমান, তেমন-ই গণেশের সঙ্গে শত কিংবা সহস্র যোজনেও খুঁজে পাওয়া কঠিন। একজন সুঠাম যুবাপুরুষ। অন্যজন স্থূল নরশরীরে হস্তিমুণ্ড ধারণ করে আছেন। তবে দু’জনের-ই চারটি হাত। আরেকটি বিষয়ও দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে না হয়তো। বিশ্বকর্মার বাহন হাতি। সেই হাতির মস্তকটিই স্কন্ধে নিয়ে গণেশ প্রসিদ্ধ ও সর্বাগ্রে বন্দিত হয়েছেন। সভ্যতার তরণীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন যদি কষে হাল ধরেন তো অন্যজন পাল তুলে ধরেছেন সেই ঝঞ্ঝাকুটিল সাগরযাত্রায়।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৯ : ঘটজাতক/৪ : বীরভোগ্যা বসুন্ধরা

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৯ : ঘটজাতক/৪ : বীরভোগ্যা বসুন্ধরা

দুর্দমনীয় দশভাই দশভেয়েদের ত্রাসে তখন চারিদিকে একটাই রব—ত্রাহি ত্রাহি। এ এক আশ্চর্য ব্যাপার বটে! ভবিষ্যতে যিনি হবেন সকলের ইহকাল পরকালের ত্রাতা, তাঁর থেকেই তখন পরিত্রাণ চাইছে সকলে! মানুষই দেবতা গড়ে, তাহারই কৃপার ‘পরে করে দেব মহিমা নির্ভর!

read more
নিঃসঙ্গ বার্ধক্য

নিঃসঙ্গ বার্ধক্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।” এই কথার গভীর তাৎপর্য আজ নতুন করে উপলব্ধি করা দরকার। কারণ সম্পর্কের সংকটের মূলে শুধু প্রযুক্তি নয়; রয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাস, ধৈর্য ও সহমর্মিতার ক্রমশ অবক্ষয়।

read more
ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে

ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে

জীবনের থেকে বড় শিক্ষক বুঝি আর নেই। জীবন যখন “শুকায়ে যায়”, তিনি করুণাধারা হয়ে আসেন। ঝকঝকে বীর, নিখুঁত পরিকল্পক, সর্বত্র সফল, শ্রেষ্ঠ চিরবন্দিত নায়ক-ও কোথাও, কোনওদিন, অকস্মাৎ ভেঙে পড়েন। অথবা, তাঁর নিভৃত ভাঙনটুকু চোখে পড়ে না তেমন এই মর্ত্যলোকের। সেই দ্রষ্টা কিন্তু ঠিকই লক্ষ্য রাখেন। পাখির চোখে স্থিরনিশ্চল হয়ে দেখে যান কর্মফলভোক্তাকে, তারপর অজ্ঞানমোহ দূর করার সুতীব্র প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেন।

read more
হৃদয়হরণ

হৃদয়হরণ

একশো বছরে অনেক খ্যাতকীর্তি মানুষ-ই বিস্মৃত হন। আলোকবৃত্তে থাকা হয়ে ওঠে না অনেকের। উত্তমকুমার কী ছিলেন, কী ছিলেন না তা ফিল্মের আলোচকরা বলবেন। তবে তিনি নিজেই যেন এক আলোকবৃত্ত ছিলেন, হয়ে আছেন এ নিয়ে খুব বেশি মতভেদ হয়তো থাকবে না। সিনেমার ফ্রেমে তিনি এলেই সেই আলো জ্বলে ওঠে। তাই তিনি ভাস্বর হয়ে আছেন। তাঁর জীবন, তাঁর নায়কসত্তা, তাঁর আসা কিংবা যাওয়ার অধ্যায়গুলি তো সিরিয়াস বিদগ্ধ নানা আলোচনায় উঠে আসে।

read more
সংস্কৃত দিবস

সংস্কৃত দিবস

সংস্কৃত ভাষার নামের মধ্যেই তার পরিমার্জিত হয়ে ওঠার সূত্রটুকু থেকে যায়। ভাষার সঙ্গে নিবিড় আত্মবন্ধন মানুষকে সার্থক করে। ভাষার পথে তার মন, বুদ্ধি, চিন্তা কিংবা ভাবনা সংহত সাবলীল হয়। সংস্কৃত হয়ে ওঠা সেই ভাষার পথে ভারতবর্ষের মন, বুদ্ধি, চিন্তা কিংবা ভাবনা উত্সারিত হয়েছিল।

read more
স্বাধীনতার অর্থ: পতাকার ঊর্ধ্বে এক নৈতিক অঙ্গীকার

স্বাধীনতার অর্থ: পতাকার ঊর্ধ্বে এক নৈতিক অঙ্গীকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কালজয়ী প্রার্থনায় লিখেছিলেন— “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।” এই পঙ্ক্তিটি কেবলমাত্র একটি কবিতার অংশ নয়, এটি স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ। যেখানে মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে উদাত্ত কণ্ঠে সত্য উচ্চারণ করতে পারে, যেখানে জ্ঞান সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ নয়, সেখানেই স্বাধীনতার পূর্ণ বিকাশ।

read more
মানুষকে দেখি গণদেবতার বেশে…

মানুষকে দেখি গণদেবতার বেশে…

আজ ভারতবর্ষের আশিতম স্বাধীনতা দিবস। আটটি দশক ধরে স্বাধীন দেশ নিজের ভাবনায় চলছে। এই স্বাধীনতা কিংবা স্বাতন্ত্র্য নানারূপে কখনও ‘ফ্রিডম’, ‘ইন্ডিপেন্ডেন্স’, ‘লিবার্টি’ কিংবা ‘লিবারেশন’, ‘ইম্যানসিপেশন” অথবা আরও কিছু। সব কিছুর মূলেই বন্ধন-মুক্তির প্রসঙ্গ আছে। এই বাঁধা-পড়া কখনও স্বেচ্ছায় কখনও অনিচ্ছায়। তাই মুক্তির আকাঙ্ক্ষাতেও ইচ্ছা বা অনিচ্ছার প্রসঙ্গ থাকে। ওই পায়রাগুলো কায়মনোবাক্যে উড়তে চেয়েছিল।

read more
বাইশে শ্রাবণ

বাইশে শ্রাবণ

সাল ১৯০১। রবীন্দ্রনাথের জীবনতরণী তখন ঠিক মাঝদরিয়ায়। আশি বছরের জীবনে চল্লিশ তখন তাঁর। উপলব্ধি করলেন—
“মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ/ তোমা হতে যবে স্বতন্ত্র হয়ে আপনার পানে চাই// হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে যাহা-কিছু সব আছে আছে আছে–নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারই/ নিশিদিন কাঁদি তাই/ অন্তরগ্লানি সংসারভার পলক ফেলিতে কোথা একাকার/ জীবনের মাঝে স্বরূপ তোমার রাখিবারে যদি পাই।।”

read more

 

 

Skip to content