শুক্রবার ৫ জুন, ২০২৬

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ

পর্ব-৩০ : প্লাবন বেলায়

পর্ব-৩০ : প্লাবন বেলায়

সুনীতিও একটু নিশ্চিন্ত হন। সত্যি কথা বলতে ইদানিং সুনীতির বুকের ভার যেন খানিকটা লাঘব হয়েছে। তার রাজকন্যা মেয়ে। সেই মেয়ের মুখের রামধনু রংয়ের আসা-যাওয়া সুনীতি ছাড়া আর কেইবা এমন গভীর করে টের পাবে। টুলুর মায়ের সঙ্গে সুনীতির চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে। সামনের সপ্তাহে উনি যাবেন বিবাহ নিয়ে প্রাথমিক কথা বলতে।

read more
পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

তিলজলা খালের ধার ঘেঁষে উদ্বাস্তু ঝুপড়ি। শুধু বাংলাদেশের উদ্বাস্তু নয়। এ বঙ্গের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কলকাতায় খুদ কুঁড়ো খুঁজতে হা-ঘরেদের ভিড়। শংকর এদের পরিত্রাতা হবে। এই তার স্বপ্ন। নয়া ভুবনের ঝিলিক আঁধার পাড়ার জোনাক আলোর সঙ্গে মিশে ওকে পথ দেখায়। এই টিন চালার নিচের প্রতিটা মানুষের হৃদস্পন্দন ওর চেনা। ডায়মন্ড হারবারে থাকতেই এই প্রাণের যোগ তৈরি হয়েছিল।শংকর 'এরা' 'এরা' করছে কেন? এরা মানে কি সকলের মিলিত একটা নামহীন বিশেষত্বহীন স্তূপাকার আকৃতি? একটা গুচ্ছবন্দি কলতান, নাকি এরাও এক এক করে একজন! সাধারণ থেকে বিশেষ...

read more
পর্ব-২৮ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (২)

পর্ব-২৮ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (২)

সাহেবের মাঠের শেষ প্রান্ত দিয়ে যে রেললাইনটা গিয়েছে সেখান দিয়ে মাঝে মাঝে ট্রেন চলে। কু কু ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক। অবাক চোখে দুই বোন দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা রেলগাড়ি দেখে। ট্রেন চলে গেলে দু’জনে মনের সুখে ঠান্ডা লাইন ধরে হাঁটতে থাকে। ইস্পাত রেখার একদিকে সুধা অন্যদিকে তার ফুলদি। কাচির মতো বেঁকেবেঁকে পা ফেলে ফেলে চলে সরু লাইনে। তখনও শক্ত করে দু’জনের হাত দু’জনে ধরা। আচমকা কখনও বেসামাল হলেই ধপাশ। চিৎপাত পড়ে যায় লাইনের কাঠের পাতে। পাতের মাঝখানে বিছিয়ে রাখা কাঁকড় ফুটে যায় পিঠে। তখন হাসি আর হাসি।

read more
পর্ব-২৭ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (১)

পর্ব-২৭ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (১)

গৌরীর অনেক সময়ই ভালো লাগত না সেই একঘেয়ে গপ্প। সে দৌড়ে চলে যেত মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে খেলতে। কিন্তু সুধা বসে থাকতো ঠায়। শুয়ে পড়ত কোলে। সাদা নুড়ি চুলগুলো ইচ্ছে খুশি আঁচড়ে পাকাত একটা লকলকে বিনুনি। আর দিদিমার গল্প বয়ে চলত অবিরাম। একই গল্পের পুরনো খোসা টুপ করে ছাড়িয়ে যেত অজান্তে। জন্ম নিত এক একটা আস্ত নতুন খোলা। তার ভিতরে পুরনো কথামালারা ছাড়ানো টাটকা বাদামের মতন মচমচ করে উঠতো।

read more
পর্ব-২৬ : ‘বসন্তবায় মোরে জাগায় পল্লব কল্লোলে’

পর্ব-২৬ : ‘বসন্তবায় মোরে জাগায় পল্লব কল্লোলে’

সকালে সুনীতি ভাত নামিয়ে চাপিয়ে দিয়েছে মাছের ঝোল। পুঁই শাকের ডাঁটা চচ্চড়ি বসবে। আনাজ পাতি ধুয়ে আঁশ কড়াইয়ে খানিকটা ছাই দিয়ে একটু ছোবড়ার খোঁজ করতে বেরোচ্ছিল খুকু। প্রায় ধাক্কাই লাগছিল একটু হলে। ধাক্কা না লাগলেও ছোঁয়া তো লেগেইছে। সঙ্গে নিবিড় একটা ঘ্রাণ। আর সেই মন ভোলানো দৃষ্টি। নরম চাপা গলায় মৃদু উষ্মা প্রকাশ করেছে খুকু —এত্তদিন পরে স্মরণে আইল, তাও এই সাইত সকালে!

read more
পর্ব-২৫ : যে জন রহে মাঝখানে

পর্ব-২৫ : যে জন রহে মাঝখানে

আজকে শংকর একটু চিন্তিত উত্তেজিত। ভালোই কাজের চাপ। প্রথমে যাবে তিলজলা ক্যাম্প। নবীনকে সবার আগে সঙ্গী করা দরকার। আফজাল রসিক পানু নবীন আর সে নিজে এই পাঁচ মাথায় মিলে কিছু প্ল্যান করে নেবে। তারপর বেরোতে হবে কমরেডের নির্দেশ বুঝে। দিন দুয়েকের মধ্যে। ফলে, আজ রাতেও ডায়মন্ড হারবারে ফেরা হবে না।

read more
পর্ব-২৪ : চম্পারণ-বেতিয়া এবং অভিযাত্রী শংকর

পর্ব-২৪ : চম্পারণ-বেতিয়া এবং অভিযাত্রী শংকর

বেতিয়া ক্যাম্প যেন নগ্নতা ক্ষুধা মৃত্যুর শ্মশানভূমি। অনেক উদ্বাস্তু এখানকার জীবন সহ্য করতে না পেরে পালিয়েছে। বাকিরা মৃত্যুর দিন গুনছে। ক্যাম্প অফিসাররা হৃদয়হীন। আর ক্যাম্পবাসীদের দেখতে কীট-পতঙ্গের মতো। দঙ্গল দঙ্গল মানুষ খেতে পাচ্ছে না। তার ওপর রোজের থেকে রোজ পঙ্গপাল মানুষের ভিড় বাড়ছে। ভিড়ের সঙ্গে ভিড় ঢেউয়ের মতো মিশে বেতিয়া চম্পারণ কে বানিয়েছে উদ্বাস্তু বাঙালের বিচ্ছিন্ন দ্বীপভূমি।

read more
পর্ব-২৩ : অপারেশন উদ্বাস্তু এবং গুরু-শিষ্য সংবাদ

পর্ব-২৩ : অপারেশন উদ্বাস্তু এবং গুরু-শিষ্য সংবাদ

রাস্তার মেটে ধুলো উড়িয়ে ওরা দু’জন হাঁটছে। ব্রজেন স্যারের কষ্ট হচ্ছে। হবেই তো। এতদিনের উপবাস, অনিদ্রা, অসম্মান, কেমন জীর্ণ হয়ে গিয়েছেন স্যার! ভিতরে ভিতরে যেন বেঁচে নেই মানুষটা! এমন একটা মরা মানুষের পক্ষে উদ্বাস্তুর যন্ত্রণায় মলম লাগানো কি সম্ভব? ক্ষতের মুখ চিঁড়ে বার করে আনতে পারবেন পুঁজ রক্ত স্রাব! অপারেশন উদ্বাস্তুর অগ্নিগর্ভ লড়াইতে ধুঁকতে ধুঁকতে যেন সামিল হচ্ছে একটি অর্ধদগ্ধ শব!

read more
পর্ব-২২: সঞ্চারিত অনুরাগের রেশ

পর্ব-২২: সঞ্চারিত অনুরাগের রেশ

দরজা ভেজিয়ে স্বামীর পায়ের কাছে বসলেন সুনীতি। অন্য দিন হলে আদিনাথ সরে শুতেন। বালিশ গুছিয়ে যত্নে স্ত্রীর শোবার বন্দোবস্ত করে দিতেন। আজ নির্বাক। বন্ধ চোখের ওপর আড়াআড়ি হাত দিয়ে শুয়ে আছেন। দীর্ঘ দেহ। স্পন্দনহীন। ঝড়ের পূর্বাভাস। একের পর এক বিচিত্র সব ঘটনার অভিঘাত যেন জমাট যন্ত্রণা হয়ে আছড়ে পড়বে সুনীতির ওপর।

read more
পর্ব-২১: বিবাহ সংবাদ, আদিনাথ-গোরা

পর্ব-২১: বিবাহ সংবাদ, আদিনাথ-গোরা

পুষ্প সুরভিময় আদিনাথের শয়ন কক্ষ। চৌকিতে টানটান বিছানা পাতা। ধবধবে চাদর। জানলার ধারে টেবিল চেয়ার। নিখুঁত গোছানো খাতা বই লেখালেখির সরঞ্জাম। ওপাশে একটা কাঠের দেরাজ। খাটের পাশে ছোট্ট তেপায়ায় ফুলতোলা কাচের বাটি। জলে ভেজা দশ বারোটা টাটকা গন্ধরাজ। খুকুর হাতের পরিচর্যার ছাপ চারপাশে ছড়ানো।

read more
পর্ব-২০: গোরা-সুনীতি: সম্পর্কের অন্য সুর

পর্ব-২০: গোরা-সুনীতি: সম্পর্কের অন্য সুর

সকলে মিলে মুড়ি নারকেল পাটালি খেয়ে নিয়েছে। খেয়েই নবীন লেগে পড়েছে কাজে। নারকেল গাছের পাতা কুড়িয়ে পিছনের বাগান পরিষ্কার করছে। ছোট একটা কোদাল জোগাড় করেছে কোথা থেকে। তাই দিয়ে মাটি কুপিয়ে গাঁদাল পালং পুঁইয়ের চারা পুঁতছে। তুলসীর ভাঙা মঞ্চ সারাই করে মাটি দিয়ে তকতকে করেছে। গোরা তার কর্মকান্ড দেখে অবাক। যে উদ্দেশ্যে তার ডায়মন্ডহারবারে আসা নবীনের আগমনের ঘনঘটায় সব যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

read more
পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

মায়ের নীল নীল শিরাওলা হাত দুটোর কথা মনে পড়েছিল। হেড দিদিমণির কাছে খুকুর ভর্তির জন্য সেই পাঁচ সিকে সহ বাড়িয়ে দেওয়া হাত। উদ্বাস্তু কন্যা সন্তানের শিক্ষা এরপর ফ্রি স্টুডেন্টশিপে চলবে ভেবেছিল তার মা। যেমন করেই হোক, মায়ের ফাঁকা বুকখানা খুকু ভরিয়ে দেবে পড়াশুনা করে।

read more
পর্ব-১৮: পরবাস প্রস্তুতি (চার)

পর্ব-১৮: পরবাস প্রস্তুতি (চার)

খুকু হেসেছে। সুনীতির তথৈবচ অবস্থা তো ও বোঝে সবচেয়ে বেশি! সংসারে দশটার ব্যস্ততা সাংঘাতিক। তখন খুকু সামলায় রান্নাঘর আর মা দাদাদের অফিস কাছারি, ভাইদের স্কুল কলেজ, খাওয়া-দাওয়া, ব্যস্ত থাকেন বিভিন্ন দরকারে। এরই মধ্যে আছে বাবার স্নানের জোগাড়। মধ্যে মধ্যে সেলাইয়ের মেশিন টেনেও বসেন সুনীতি।

read more
পর্ব-১৭: পরবাস প্রস্তুতি (তিন)

পর্ব-১৭: পরবাস প্রস্তুতি (তিন)

সুধা চোখের জল গোপন করে দৌড়ে চলে গেল নিজেদের ঘরে। সব মিলিয়ে মন খারাপ আর মন খারাপ। এত মন খারাপ নিয়ে কী করবে সুধা! বুঝতে পারছে এ বাড়ির পাট এবার উঠে যাবে। রাঙা কাকা মূল ফটক দিয়ে ঢুকে গেলেন। সুধাকে দেখতে পাননি। সুধা রোয়াক ছেড়ে নেমে গলির অন্ধকারে লুকিয়ে পড়েছিল।

read more
পর্ব-১৬: পরবাস প্রস্তুতি (দুই)

পর্ব-১৬: পরবাস প্রস্তুতি (দুই)

জ্যেষ্ঠ পুত্রের সঙ্গে কথায় কথায় পার হয়ে গেল কত সময়। উদ্বেল আবেগে ভাসছিলেন আদিনাথ। কথা ফুরিয়ে এসেছিল দু’জনের। আদিনাথের বুক থেকে নিঃসরিত হচ্ছিল পূর্ণতার সুখশ্বাস। দেবব্রতর কাজ অনেক। এখনই হয়তো উঠে যাবে। আদিনাথ কথা খুঁজছেন। আর কিছুক্ষণ যদি নিজের পাশে আটকে রাখা যেত ছেলেকে।

read more

 

 

Skip to content