
ফরিদপুরের নাড়ি ছিঁড়ে কলকাতা। আবার কলকাতা হারিয়ে সমুদ্র ব-দ্বীপ। ছ’ মাস আগে ধোঁয়ার ঢাকনা পরা রেলগাড়িতে চেপে সুনীতি সপরিবারে এসে পৌঁছেছিলেন ছোটখাটো এই একখানা একতলা বাড়িতে। পুরোনো গন্ধ ছড়ানো ঝোপ ঝাড় ঘেরা আশ্রয়টা বাসযোগ্য করতেই কেটে গিয়েছিল অনেকদিন। এখন আস্তে আস্তে খানিক গুছিয়ে ফেলা গিয়েছে।
সকাল থেকেই ব্যস্ত সুনীতি। গোরা এসেছে কাল রাতে। আজ দুপুরে খেয়ে রওনা দেবে। এরই মধ্যে হাজির নবীন। সে-ও কলকাতা থেকে। নবীনকে দেখে সুনীতির একগাল হাসি।
—নবীন আইছস! আয় বাবা।
নবীনও আসতে পেরে আহ্লাদে আটখানা।
—কত্তামা, দুফারে খামু কিন্তু।
—কী কথা ক’স, সে তো খাইবিই। গোরা আইসে।
—তুই আইলি, হক্কলে মিল্যা খাইবি, রান্না চাপছে।
—কত্তামা, সকালে ইষ্টিশন থিকা সুক্তার আনাজ আর লাউডাটা আনছি, বাবুর প্রিয়।
—কি যে করস, খামোখা বিস্তর পয়সা উড়াস।
—না না কত্তামা, খুব সামাইন্য দাম নিছে।
—নবীন আইছস! আয় বাবা।
নবীনও আসতে পেরে আহ্লাদে আটখানা।
—কত্তামা, দুফারে খামু কিন্তু।
—কী কথা ক’স, সে তো খাইবিই। গোরা আইসে।
—তুই আইলি, হক্কলে মিল্যা খাইবি, রান্না চাপছে।
—কত্তামা, সকালে ইষ্টিশন থিকা সুক্তার আনাজ আর লাউডাটা আনছি, বাবুর প্রিয়।
—কি যে করস, খামোখা বিস্তর পয়সা উড়াস।
—না না কত্তামা, খুব সামাইন্য দাম নিছে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — পাতিশিয়াল

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা/ দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৫৫: আকাশ এখনও মেঘলা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি পর্ব-৯৫ : রাজনীতির দাবার ছকে ত্যাগের মহাকাব্য: এক অন্য পঞ্চতন্ত্রের খোঁজে
সকলে মিলে মুড়ি নারকেল পাটালি খেয়ে নিয়েছে। খেয়েই নবীন লেগে পড়েছে কাজে। নারকেল গাছের পাতা কুড়িয়ে পিছনের বাগান পরিষ্কার করছে। ছোট একটা কোদাল জোগাড় করেছে কোথা থেকে। তাই দিয়ে মাটি কুপিয়ে গাঁদাল পালং পুঁইয়ের চারা পুঁতছে। তুলসীর ভাঙা মঞ্চ সারাই করে মাটি দিয়ে তকতকে করেছে। গোরা তার কর্মকান্ড দেখে অবাক। যে উদ্দেশ্যে তার ডায়মন্ডহারবারে আসা নবীনের আগমনের ঘনঘটায় সব যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
গোরা সংকুচিত কণ্ঠে রান্নাঘরের বাইরে থেকে ডাকে—
—মা এদিকে একবার আস না।
সুনীতি হাতের কাজ ফেলে বাইরে আসেন
—কও বাবা।
গোরা সংকুচিত কণ্ঠে রান্নাঘরের বাইরে থেকে ডাকে—
—মা এদিকে একবার আস না।
সুনীতি হাতের কাজ ফেলে বাইরে আসেন
—কও বাবা।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৭: অরণ্যজাতক : বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও
শুকনো মুখে খানিক আমতা আমতা করে গোরা বলে—
—মা ওনাদের বাড়ি থেকে বিবাহের জন্য চাপ দেয়, তোমার অনুমতি পাইলে ওনাদের সঙ্গে কথা কমু।
নিমেষে থমকে গেলেন সুনীতি। আবার সেই অজানা ভয়ের ঢেউগুলো ধেয়ে আসছে। পলকের ভালো লাগা উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় নিমেষে চূর্ণ হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। খুকুর সম্বন্ধ করতে হবে। গৌরী তরতরিয়ে বাড়ছে। দাশগুপ্ত বাড়ির ওই একটিমাত্র উপযুক্ত চাকুরে সন্তান। বউ আসবে কোথায়! থাকবে কোথায়! কলকাতার বাড়ির অবস্থা সুনীতি সবই বোঝেন।
—সে নয় হইল, বৌমারে লৈয়া থাকবি কোথা?
—ডিএল রায় স্ট্রিটের বাড়িতেই আপাতত।
—আমার আপিস, টিউশন, আরও খানকয়েক পড়ানোর অফার পাইছি, প্রমশনও সম্মুখে, মা গো তুমি শুধু যদি একটু মত দাও।
—গোরা, বাবা, ত’রে কয়ডা কথা কই। আমার কোনও আপত্তি নাই, তোদের সুখেই আমার সুখ, তবে ত’র বাবার অনুমতি আগে লওয়া উচিত। সঙ্গে বলি, তুই আমার একমাত্র উপযুক্ত সন্তান।
—মা ওনাদের বাড়ি থেকে বিবাহের জন্য চাপ দেয়, তোমার অনুমতি পাইলে ওনাদের সঙ্গে কথা কমু।
নিমেষে থমকে গেলেন সুনীতি। আবার সেই অজানা ভয়ের ঢেউগুলো ধেয়ে আসছে। পলকের ভালো লাগা উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় নিমেষে চূর্ণ হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। খুকুর সম্বন্ধ করতে হবে। গৌরী তরতরিয়ে বাড়ছে। দাশগুপ্ত বাড়ির ওই একটিমাত্র উপযুক্ত চাকুরে সন্তান। বউ আসবে কোথায়! থাকবে কোথায়! কলকাতার বাড়ির অবস্থা সুনীতি সবই বোঝেন।
—সে নয় হইল, বৌমারে লৈয়া থাকবি কোথা?
—ডিএল রায় স্ট্রিটের বাড়িতেই আপাতত।
—আমার আপিস, টিউশন, আরও খানকয়েক পড়ানোর অফার পাইছি, প্রমশনও সম্মুখে, মা গো তুমি শুধু যদি একটু মত দাও।
—গোরা, বাবা, ত’রে কয়ডা কথা কই। আমার কোনও আপত্তি নাই, তোদের সুখেই আমার সুখ, তবে ত’র বাবার অনুমতি আগে লওয়া উচিত। সঙ্গে বলি, তুই আমার একমাত্র উপযুক্ত সন্তান।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫২: শিকার এবং শিকারী

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা
বোনেদের বিবাহের দায়িত্ব লবার কেউ নাই। তোমাদের পিতার যন্ত্রণা তো বোঝো। কিন্তু আমার সর্বাধিক চিন্তা ত’রা থাকবি কোথা! এহানে আইলে কুনো চিন্তা নাই।
সুনীতির শান্ত বাচনের মধ্যিখানে তড়িঘড়ি কথা বলে ওঠে গোরা। স্বভাববিরুদ্ধ দৃঢ়তায় বলে—
—কলকাতায় কর্মস্থল, এতদুর জার্নি করা আমার পোষাবে না মা।
—আর বৌমা?
—ওর বাপের বাড়ির কাছাকাছি রাখাই ভালো।
—যা বোঝো বাবা, তুমি আমার সর্বাধিক বিচক্ষণ ছেলে।
—তাহলে মা সামনের মাসের গোড়ায় বিবাহ করুম। তার আগে অবশ্যই বড়দার সঙ্গে কথা বলে নিব। কারণ, আপাতত সেখানেই আমরা থাকুম।
সুনীতির শান্ত বাচনের মধ্যিখানে তড়িঘড়ি কথা বলে ওঠে গোরা। স্বভাববিরুদ্ধ দৃঢ়তায় বলে—
—কলকাতায় কর্মস্থল, এতদুর জার্নি করা আমার পোষাবে না মা।
—আর বৌমা?
—ওর বাপের বাড়ির কাছাকাছি রাখাই ভালো।
—যা বোঝো বাবা, তুমি আমার সর্বাধিক বিচক্ষণ ছেলে।
—তাহলে মা সামনের মাসের গোড়ায় বিবাহ করুম। তার আগে অবশ্যই বড়দার সঙ্গে কথা বলে নিব। কারণ, আপাতত সেখানেই আমরা থাকুম।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮২ : সখের চোর

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
গাঢ় শূন্যতায় সুনীতির কথা ভেসে গিয়েছে। দু’জনের মাঝখানে বয়ে গিয়েছে কিছু নির্বাক সময়।
—তোমারে যে একবার মেয়ে দেখতে যাইতে হয় মা, তারপর সবাইরে লইয়া বিবাহের সময় যামু। সুনীতি স্থির চোখে তাকিয়ে আছেন তাঁর বুঝদার পুত্রের দিকে। দেখছেন, বিবাহের কথায় গোরার চোখমুখ আরক্ত এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এমন মুহূর্তে অনূঢ়া ভগ্নিদের কথা আর নাইবা পারলেন সুনীতি! স্তিমিত হয়ে আসা দীপের অনুজ্জ্বলতা নিয়ে সুনীতি একদিকে মাথা হেলালেন। সম্মতি সূচক।—চলবে।
—তোমারে যে একবার মেয়ে দেখতে যাইতে হয় মা, তারপর সবাইরে লইয়া বিবাহের সময় যামু। সুনীতি স্থির চোখে তাকিয়ে আছেন তাঁর বুঝদার পুত্রের দিকে। দেখছেন, বিবাহের কথায় গোরার চোখমুখ আরক্ত এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এমন মুহূর্তে অনূঢ়া ভগ্নিদের কথা আর নাইবা পারলেন সুনীতি! স্তিমিত হয়ে আসা দীপের অনুজ্জ্বলতা নিয়ে সুনীতি একদিকে মাথা হেলালেন। সম্মতি সূচক।—চলবে।
* ধারাবাহিক উপন্যাস (novel): দেওয়াল পারের দেশ (Dewal Parer Desh)। লিখছেন জয়িতা দত্ত (Dr. Jayita Dutta), বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, হুগলি মহসিন কলেজ।

















