রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!

পর্ব-১৫৮: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৮: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

ঈপ্সিতা চুপ করে ছেলেটার দূর্ভাগ্যের কথা ভাবে! স্বচ্ছন্দে ওকালতি করতে পারতো। তা না করে মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক। গ্রুপ-বি নন-গেজেটেড র্যা ঙ্ক। বাংলা ইংরিজি দু’ ভাষাতেই দখল রয়েছে, এসব পুলকের কাছে শোনা। বিরূপাক্ষ যে বিএএলএলবি সেটা ঈপ্সিতা আজই শুনল। হ্যাঁ, মাসে হাজার পঞ্চাশ মাইনে। কাজের কোনও সময় নেই। বাদবিচার নেই। কিন্তু বিরূপাক্ষের এই যে একটা নির্বিরোধী সাতচড়ে রা না করা, সর্বক্ষণ মিইয়ে থাকা একটা ইমেজ, এটা এই ধরনের কাজে খুব জরুরি!

পর্ব-১৫৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

মা জানতেও পারলো না এই উত্তরাই সেদিন সুকৌশলে পুলক আর ঈপ্সিতার মধ্যে তার উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্যে সম্ভবত পুলকের অজান্তেই তাঁর ল্যাপটপ ব্যাগে চাবির সঙ্গে তাঁর বেআব্রু অস্তিত্বও পাঠিয়ে দিয়েছিল। ঈপ্সিতা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেই আক্রমণ এড়িয়ে গিয়েছে। বরং সেই আঘাতকে নিজের সুযোগে বদলে নিয়েছে। তারপর হয়তো ঈশ্বরের ইচ্ছেতেই পুলকের একটা মারাত্মক ভুলে সে কালো হুডির আড়ালে কে ছিলো তাকে চিনে নিতে পেরেছে।

পর্ব-১৫৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

একটু আগে পুলকের ফোনটা পেয়ে মনটা আচমকা ভিজে গেল ঈপ্সিতার। হঠাৎ করে মনে হল একটু আগে ফোনে তার সঙ্গে সেই চন্দননগরের পুলক কথা বলছিল। মাঝখানের এতগুলো বছরের সাফল্য। বৈভব। আদর্শচ্যুতি। একটু একটু করে সম্পর্কের দেওয়ালে আঁচড় কেটেছে। সম্পর্কের মেরামতি না হলে সেখানে ফাটল ধরে। সেই ফাটল দিয়ে সময়ের জল ঢুকে দেয়ালের সিমেন্ট বালি ইটের গায়ে ক্ষয় ধরিয়ে দেয়। নিজেদের অজান্তে দেওয়া সম্পর্কের গাঁথুনি, ভিত সবই একদিন অজান্তেই আলগা হয়ে যায়।

পর্ব-১৫৫: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৫: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

হঠাৎ একটা ভয়েস মেসেজ পেয়েছিল ঈপ্সিতা! পুলকের ভয়েস মেসেজ। তার ইমার্জেন্সি ফোন থেকে পাঠানো! ভয়েস মেসেজটা একবার শুনেই মনে হল, এটা পুলক একটা মারাত্মক ভুল করে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও এটা কিছুতেও পুলক ঈপ্সিতাকে পাঠাতে পারে না। যাকে এই মেসেজটা পাঠাতে চেয়েছিল তাকেও পাঠানো উচিত ছিল?

পর্ব-১৫৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

যায়— দ্য হেভেনের সিকিউরিটি মনিটরে দেখা ওই কালো হুডি পরা মেয়েটিকে সে আর একবার দেখেছে। ঈপ্সিতা জানে এটা যখন তার মনে পড়ছে! তার বারে বারে মনে হচ্ছে! তখন এটা স্পষ্ট যে তার মস্তিষ্ক আরও অনেক কিছু খুঁজে বের করে ফেলেছে। তাই মনটাকে শান্ত করতে পারলেই ছেঁড়া সুতোগুলো জুড়ে যাবে আর স্পষ্ট হয়ে যাবে কোথায় কখন সে এই কালো হুডিপরা মেয়েটিকে দেখেছে?

পর্ব-১৫৩: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৩: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

সবে দুপুর দুটো। আট ঘণ্টা, আশি কিলোমিটার। গাড়ি নিয়ে বেলুড় চলে গেল ঈপ্সিতা। সেখানে খানিকক্ষণ বসল গঙ্গার ধারে। আজ কোনও খিদে নেই, তৃষ্ণা নেই। শুধু যন্ত্রণাবিদ্ধ মনকে বয়ে নিয়ে বেড়ানো। একবার ফোন খুলল। অদ্ভুতভাবে দেখল পুলকের মেসেজ! — “তুমি কোথায়?” এমন তো হয় না! পুলক আজ প্রায় বহুবছর পর তাকে মেসেজ করল! কিন্তু কেন? পুলক কি কোনও একটা সমস্যায় পড়েছে? সেখানে ঈপ্সিতার সাহায্য প্রয়োজন?!

পর্ব-১৫২: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫২: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

ঈপ্সিতার স্মৃতি খুব প্রখর। যাকে বলে ক্যামেরা মেমরি! একবার কিছু দেখলে ভোলে না। ‘The Heaven B-1301’ সে ভোলেনি। গুগল করে দেখে নিয়েছে, এটি উত্তর কলকাতার একটি হালফ্যাশনের রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স। এবিসিডি করে আটখানা টাওয়ার আছে। পরের দিন সকালে প্রথম কাজ হল গাড়ি নয়, ওলা বা উবের-এর আটঘন্টার গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া।

পর্ব-১৫১: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ৩১

পর্ব-১৫১: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ৩১

ব্যাগের মধ্যে থেকে ফোনের ভাইব্রেশনের চাপা গোঁ গোঁ শব্দ! পুলকের স্নানে অনেক সময় লাগে! নানা রকমের বডিলোশন মাখা। এটা সেটা। তার এসব আছে। তাই ফোন নিয়েই চানে যায়।কিন্তু এটা কী সেই পারসোন্যাল নম্বরের ফোন!? হতে পারে খুব কনফিডেন্সিয়াল ফোন! সিএম হতে পারেন?

পর্ব-১৫০: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ৩০

পর্ব-১৫০: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ৩০

ডিজিটাল লক লাগানো হল, যা যা বলা হয়েছিল সবই করা হল। কিন্তু যেদিন পুলকের ফোন বন্ধ থাকায় বিরূপাক্ষকে ঈপ্সিতা ফোন করেছিল সেদিন প্রথম পুলক বাড়ি ফিরে উদ্ধত ব্যবহার করল। যেদিন সম্পূর্ণ এক অন্য চেহারার পুলককে দেখল ঈপ্সিতা। রুক্ষ সাংঘাতিক উত্তেজিত কিছুটা উন্মত্ত পুলক আজকাল মদ্যপ হয়ে ফেরে। এত সাফল্যের পরেও কী চায় পুলক? মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার? সেদিন সে আরও অস্বাভাবিক ছিল।

পর্ব-১৪৯: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৯

পর্ব-১৪৯: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৯

কনফিডেন্সিয়ালিটির জন্য এটা স্যার বা আপনাকেই করতে হবে! না হলে আমি এসে সব করে দিতাম কিন্তু সেটা ঠিক হবে না। আর ওই কার্ডের কোড নম্বরটা নিয়ে আমি রেজিস্ট্রেশন সব করে দেব আপনার ফোন নম্বর আমার কাছে আছে। এটা ওদেরও দেখার কথা নয়, সেজন্যই আমি আপনাকে এত কিছু বললাম।

পর্ব-১৪৮: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৮

পর্ব-১৪৮: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৮

হঠাৎ কী হল? বিরূপাক্ষ তড়িঘড়ি ফোনটা ছেড়ে দিল কেন? পুলকের সঙ্গে কথা হয়েছে শুনে বিরূপাক্ষ ঘাবড়ে গেল কেন? বিরূপাক্ষ অন্যদিন যতটা আত্মবিশ্বাসী থাকে আজ তেমন লাগলো না কেন? মনে হল আজকের ফোনটার জন্য বিরূপাক্ষ যেন তৈরি ছিল না! কেন? পুলককে ফোনে না পেলে ঈপ্সিতা তো বিরূপাক্ষকেই ফোন করে? আজ পুলক কোথায় আছে সেটা কি বিরূপাক্ষ জানে না?

পর্ব-১৪৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৭

পর্ব-১৪৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৭

সরকারি চাকরি দিতে অনেক হ্যাপা। পরে এ নিয়ে খোঁচাখুঁচি হলে ঝঞ্ঝাট অনেক। কিন্তু এতও হিসেবী এতো বুদ্ধিমান হয়েও ইপ্সিতার কাছে পুলকের পরকীয়া ধরা পড়ে গেল। মা কেন, ইপ্সিতা ছাড়া সারা পৃথিবীর আর কেউ জানে না। পুলক হাঁটুর বয়সী টেলিনায়িকা উত্তরা মুখার্জির সঙ্গে ডুবে ডুবে বিষপান করছে।

পর্ব-১৪৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৬

পর্ব-১৪৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৬

বিনীতা বেশ অবাক। মাত্র গতকাল ভোরেই বুতাইয়ের জীবনের এতও বড়ো একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে। তারপর গোটা একটা দিনের ছোটাছুটি! হাসপাতাল শ্মশান! কিন্তু আজ বুতাইকে দেখে মনে হচ্ছে এক তার মনে কোনও কষ্ট নেই আর নাহলে ইচ্ছে করে পাগলের মতো বকবক করছে। জোর করে শোকের থেকে শকের থেকে নিজেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনতে চাইছে মেয়েটা।

পর্ব-১৪৫: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৫

পর্ব-১৪৫: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৫

পুলক সেদিন অনেক রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফেরে। আবার মদের বোতল নিয়ে বসেছিল। বারান্দার কাচের বড় জানলা খুলে দিয়েছিল। বুতাই রাগারাগি করে শুয়ে পড়েছিল। হয়তো সেখান দিয়েই অসাবধানে পড়ে যায়। সব কমপ্লেসেই গভীর রাতে সিকিউরিটি গার্ড ঘুমোয়। এমন নামী কমপ্লেক্সেও তার অন্যথা হয় না। এদিন বেশ রাতে আবার ঝমঝম করে বৃষ্টি হয়েছিল। ভোররাতে সিকিউরিটি ইনচার্জ এসে বেল দিয়ে দিয়ে ঈপ্সিতার ঘুম ভাঙিয়েছিল।

পর্ব-১৪৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৪

পর্ব-১৪৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৪

ঘটনাটা ঘটেছে ভোরবেলায়। রাজ্য রাজনীতির ব্যস্ত মন্ত্রী কিন্তু ভোরবেলায় উঠে হাঁটতে যেত পুলক। বহুদিন আগে যখন প্রথম মন্ত্রী হয়েছিল তখন স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে যেত। সানি অ্যাপার্টমেন্টের পিছনটা টেনিস কোর্ট। তারও ওপাশে গেলে সিসিএফসি গ্রাউন্ড। ওসব জায়গায় অবাধ যাতায়াত ছিল। সঙ্গে থাকতো সরকারি পিএসও। পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার।

Skip to content