ব্যাগের মধ্যে থেকে ফোনের ভাইব্রেশনের চাপা গোঁ গোঁ শব্দ! পুলকের স্নানে অনেক সময় লাগে! নানা রকমের বডিলোশন মাখা। এটা সেটা। তার এসব আছে। তাই ফোন নিয়েই চানে যায়।কিন্তু এটা কী সেই পারসোন্যাল নম্বরের ফোন!? হতে পারে খুব কনফিডেন্সিয়াল ফোন! সিএম হতে পারেন?
ব্যাগের মধ্যে থেকে ফোনের ভাইব্রেশনের চাপা গোঁ গোঁ শব্দ! পুলকের স্নানে অনেক সময় লাগে! নানা রকমের বডিলোশন মাখা। এটা সেটা। তার এসব আছে। তাই ফোন নিয়েই চানে যায়।কিন্তু এটা কী সেই পারসোন্যাল নম্বরের ফোন!? হতে পারে খুব কনফিডেন্সিয়াল ফোন! সিএম হতে পারেন?
ডিজিটাল লক লাগানো হল, যা যা বলা হয়েছিল সবই করা হল। কিন্তু যেদিন পুলকের ফোন বন্ধ থাকায় বিরূপাক্ষকে ঈপ্সিতা ফোন করেছিল সেদিন প্রথম পুলক বাড়ি ফিরে উদ্ধত ব্যবহার করল। যেদিন সম্পূর্ণ এক অন্য চেহারার পুলককে দেখল ঈপ্সিতা। রুক্ষ সাংঘাতিক উত্তেজিত কিছুটা উন্মত্ত পুলক আজকাল মদ্যপ হয়ে ফেরে। এত সাফল্যের পরেও কী চায় পুলক? মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার? সেদিন সে আরও অস্বাভাবিক ছিল।
কনফিডেন্সিয়ালিটির জন্য এটা স্যার বা আপনাকেই করতে হবে! না হলে আমি এসে সব করে দিতাম কিন্তু সেটা ঠিক হবে না। আর ওই কার্ডের কোড নম্বরটা নিয়ে আমি রেজিস্ট্রেশন সব করে দেব আপনার ফোন নম্বর আমার কাছে আছে। এটা ওদেরও দেখার কথা নয়, সেজন্যই আমি আপনাকে এত কিছু বললাম।
হঠাৎ কী হল? বিরূপাক্ষ তড়িঘড়ি ফোনটা ছেড়ে দিল কেন? পুলকের সঙ্গে কথা হয়েছে শুনে বিরূপাক্ষ ঘাবড়ে গেল কেন? বিরূপাক্ষ অন্যদিন যতটা আত্মবিশ্বাসী থাকে আজ তেমন লাগলো না কেন? মনে হল আজকের ফোনটার জন্য বিরূপাক্ষ যেন তৈরি ছিল না! কেন? পুলককে ফোনে না পেলে ঈপ্সিতা তো বিরূপাক্ষকেই ফোন করে? আজ পুলক কোথায় আছে সেটা কি বিরূপাক্ষ জানে না?
সরকারি চাকরি দিতে অনেক হ্যাপা। পরে এ নিয়ে খোঁচাখুঁচি হলে ঝঞ্ঝাট অনেক। কিন্তু এতও হিসেবী এতো বুদ্ধিমান হয়েও ইপ্সিতার কাছে পুলকের পরকীয়া ধরা পড়ে গেল। মা কেন, ইপ্সিতা ছাড়া সারা পৃথিবীর আর কেউ জানে না। পুলক হাঁটুর বয়সী টেলিনায়িকা উত্তরা মুখার্জির সঙ্গে ডুবে ডুবে বিষপান করছে।
বিনীতা বেশ অবাক। মাত্র গতকাল ভোরেই বুতাইয়ের জীবনের এতও বড়ো একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে। তারপর গোটা একটা দিনের ছোটাছুটি! হাসপাতাল শ্মশান! কিন্তু আজ বুতাইকে দেখে মনে হচ্ছে এক তার মনে কোনও কষ্ট নেই আর নাহলে ইচ্ছে করে পাগলের মতো বকবক করছে। জোর করে শোকের থেকে শকের থেকে নিজেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনতে চাইছে মেয়েটা।
পুলক সেদিন অনেক রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফেরে। আবার মদের বোতল নিয়ে বসেছিল। বারান্দার কাচের বড় জানলা খুলে দিয়েছিল। বুতাই রাগারাগি করে শুয়ে পড়েছিল। হয়তো সেখান দিয়েই অসাবধানে পড়ে যায়। সব কমপ্লেসেই গভীর রাতে সিকিউরিটি গার্ড ঘুমোয়। এমন নামী কমপ্লেক্সেও তার অন্যথা হয় না। এদিন বেশ রাতে আবার ঝমঝম করে বৃষ্টি হয়েছিল। ভোররাতে সিকিউরিটি ইনচার্জ এসে বেল দিয়ে দিয়ে ঈপ্সিতার ঘুম ভাঙিয়েছিল।
ঘটনাটা ঘটেছে ভোরবেলায়। রাজ্য রাজনীতির ব্যস্ত মন্ত্রী কিন্তু ভোরবেলায় উঠে হাঁটতে যেত পুলক। বহুদিন আগে যখন প্রথম মন্ত্রী হয়েছিল তখন স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে যেত। সানি অ্যাপার্টমেন্টের পিছনটা টেনিস কোর্ট। তারও ওপাশে গেলে সিসিএফসি গ্রাউন্ড। ওসব জায়গায় অবাধ যাতায়াত ছিল। সঙ্গে থাকতো সরকারি পিএসও। পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার।
ইপ্সিতা বা তার বান্ধবীরা জবাব খুঁজে পায়নি। অনুষ্ঠানের অয়োজকেরা ক্লাস এইটের কিশোরের মুখে এই দৃপ্ত যুক্তি শুনে অবাক। অবাক হয়েছিল ইপ্সিতা নিজেও। এই ধাক্কা থেকেই বোধহয় তাঁর মনের কোণে মিনমিনে ঘামের মতো জন্ম নেওয়া প্রেমের নির্যাস সারা শরীরে ও মনে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরের ধাক্কায় আরও চমকিত সকলে পুলক বন্ধুদের নিয়ে লাইন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বলেছিল— তোমরা আগে ব্যাজ নিয়ে নাও! পরে নিলেও ব্যাজ শেষ হয়ে যাবে না!
এক স্কুলে না হলেও পুলক আর ইপ্সিতার ভাবসাব বহু বছর। অবশ্য উত্তম-সুচিত্রার অনেক ছবির মতো ঝগড়া দিয়ে আলাপ ও ক্রমে ঘনিষ্ঠতা। তবে শতদলবাবুর মত ছিল না একেবারেই। পুলক সাধারণ ছেলেপুলের মতো সরল, সোজা সে নয়। তার স্বপ্ন উচ্চাশা রাজনীতিতে সাফল্য। আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার না হলে চাকুরী বৃত্তি শিক্ষকতা এই গণ্ডীতেই ঘোরাফেরা করতো। ব্যবসায় ভয় চিরকালের। আর রাজনীতি যে পেশা হয়ে উঠবে সেটা দু’দশক আগেও কেউ কল্পনা করেননি।
খুনের রহস্য সমাধানে আবার ধৃতিমানের প্রশংসা হল। ধৃতিমান ও শ্রেয়াকে নীলাঞ্জনা একদিন লাঞ্চে ডাকল। শ্রেয়া জানিয়েছিল, অন্য ডিউটি যাবে না। তাই সেটা মাস্যার দ্বিতীয় রবিবার ধার্য হল। ওইদিন সাধারণত শুটিং বন্ধ থাকে। নীলাঞ্জনা দু’জনকেই বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল। তবে সকলের আড়ালে শ্রেয়া বলেছিল — পুরুষমানুষ এতও ঝগড়াটে হয় জানতাম না!
শ্রেয়া লোকাল থানায় ফোন করতে হবে কল্যানী আর আসানসোলে। কলকাতা থেকে ওখানে গিয়ে ইনভেস্টিগেট করবার সময় নেই। আমার শুধু পেশেন্টের নাম আর এড্রেস প্রুফটা লাগবে। শ্রেয়া সঙ্গে সঙ্গে ফোনে সেই দুটি থানায় খবর পাঠিয়ে দিল। লেক মার্কেট এর কাছে পরিচিত একটি এডিটিং কনসোলে ধৃতিমানকে নিয়ে গেল শ্রেয়া।
ধৃতিমান অবাক হয়ে ভাবছিল শ্রেয়াকে তার সন্দেহের কিছু প্রায় বলা হয়নি। কিন্তু ঘটনাটা আন্দাজ করে শ্রেয়া যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেগুলো একদম ঠিকঠাক। একজন সন্দেহভাজনকে কোনরকম চালাকি করতে না দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে নিতে এভাবেই এগোতে হবে। পুলিশের তৎপরতায় বাসনাকে পাওয়া গেল। শ্রেয়া নির্দেশ দিল তাকে থানায় বসিয়ে বরুন যেন লোকজন নিয়ে এসে অমিতাভর রিজেন্ট পার্কের এই ফ্ল্যাট আবার সিল করে দেয়।
অমিতাভ চক্রবর্তী দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা চক্রবর্তী হোয়াটসঅ্যাপ- এ ভয়েস মেসেজ করে তাঁর স্বীকারোক্তি জানিয়েছেন। তদন্তকারী অফিসের শ্রেয়া বাসুর কাছে আসা সেই স্বীকারোক্তি শ্রেয়া ধৃতিমানকে ফরওয়ার্ড করেছে। আরিফ রোডের ভাড়াবাড়ির দোতলার ঘরে অন্ধকার মধ্যরাতে কানে হেডফোন দিয়ে ধৃতিমান শুনছে সেই স্বীকারোক্তি।
নগেন ও শান্তার যান্ত্রিক সম্পর্কের মধ্যে পাশের বাড়ির বিমল অনুঘটকের কাজ করেছিল। আবার বিমল জানতেই পারেনি তার বোন প্রমিলা পাশের বাড়ির বিবাহিত নগেনের প্রতি অনুরক্ত। আর সেখান থেকেই প্রেম অতৃপ্তি নিয়ে মানবজীবনের জটিলতার আঁকিবুঁকি রচনা করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার চালু হল নীলাঞ্জনা স্বীকারোক্তি—আর পরবর্তী অংশ শুনে যেন চমকে উঠল ধৃতিমান!