অবসর

শাশ্বতী রামায়ণী

পর্ব-৫২: আঁধার ঘনালো বুঝি সীতার ভুবনে…

পর্ব-৫২: আঁধার ঘনালো বুঝি সীতার ভুবনে…

অযোধ্যা ত্যাগ করে আসার সময় রাম ছিলেন পঁচিশ বছরের পূর্ণ যুবা, আর সীতা নিজে ছিলেন অষ্টাদশী। জনকনন্দিনী বৈদেহী যুক্তিক্রম হারিয়ে ভুলে যান, অপরিচিতা নারীর দেহসৌন্দর্যের সকাম স্তুতি পরিব্রাজকের স্বভাব নয়।

read more
পর্ব-৫১: মারীচমায়ায় কি দিগভ্রান্ত সীতা?

পর্ব-৫১: মারীচমায়ায় কি দিগভ্রান্ত সীতা?

সোনার হরিণের মোহময় রূপ ভুলিয়েছিল সীতার মন। তার ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে রাম একাই চললেন গভীর বনে। সঙ্গী তাঁর স্বর্ণভূষিত বিপুলকায় শরাসন, ধনু, তীক্ষ্ণ বাণ।

read more
পর্ব-৫০: আমার সোনার হরিণ চাই—সীতার চাওয়া কি সত্যি হবে?

পর্ব-৫০: আমার সোনার হরিণ চাই—সীতার চাওয়া কি সত্যি হবে?

হিতাকাঙ্ক্ষী মারীচের এত কথা কিন্তু রাবণের কর্ণগোচর হল না। তার বহু চেষ্টা বিফলে গেল। সীতাহরণের বিষয়ে রাবণ নিজের সংকল্পে অবিচল থাকলেন। মারীচ নিজের আসন্ন মৃত্যুর চিন্তায় ডুব দিল এবারে।

read more
পর্ব-৪৯: রাবণ-মারীচ সংবাদ এগোল কোন পথে?

পর্ব-৪৯: রাবণ-মারীচ সংবাদ এগোল কোন পথে?

রাতের অন্ধকারে যজ্ঞবেদীর চারপাশে মারীচ আর অন্যান্য রাক্ষসেরা যখন নিক্ষেপ করছে মাংসের টুকরো, রক্তে ভরে যাচ্ছে যজ্ঞবেদী, রামের হাতে জ্বলে উঠেছে তখন মানবাস্ত্র।

read more
পর্ব-৪৮: অভীষ্ট লাভ নাকি আত্মবিনাশ — লঙ্কাধিপতি কোনটি বেছে নিলেন?

পর্ব-৪৮: অভীষ্ট লাভ নাকি আত্মবিনাশ — লঙ্কাধিপতি কোনটি বেছে নিলেন?

রামের সঙ্গে যুদ্ধে পরাস্ত, নিহত হল খর, দূষণ, ত্রিশিরা সহ জনস্থানবাসী চোদ্দ হাজার রাক্ষস। শূর্পণখা আশায় বুক বেঁধেছিল যে, খর-দূষণের পরাক্রমের কাছে পরাভূত হবে রাম। রামের উষ্ণ রক্ত সে পান করবে।

read more

মহাকাব্যের কথকতা

পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

প্রকাশ্য রাজসূয়যজ্ঞসভায় আমন্ত্রিত রাজাদের সম্মুখে কৌরববংশের প্রবীণতম সদস্য ভীষ্ম, কৃষ্ণের সমালোচক চেদিরাজ শিশুপালের জন্মবৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন। তিনি জানালেন, অপরাধজনিতকারণে কৃষ্ণের হাতে শিশুপালের মৃত্যু নিশ্চিত। কুরুপিতামহ ভীষ্ম আরও জানালেন, শিশুপালের মায়ের অনুরোধে, কৃষ্ণ, শিশুপালের একশত অপরাধ ক্ষমা করবেন। ভীষ্মের অনুমান, চেদিপতি শিশুপাল নিশ্চয়ই কৃষ্ণের সেই কৃষ্ণপ্রদত্ত বরদানের ভরসায়,প্রকাশ্যে তাঁর আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভীমের প্রতি সমরাহ্বান জানিয়ে এত ঔদ্ধত্য প্রকাশ করছেন। ভীষ্ম আশঙ্কা প্রকাশ করলেন,...

read more
পর্ব-১৭৮: যুদ্ধে ছলনার আশ্রয় এবং বলপ্রয়োগ, উভয়ের কোনও তারতম্য আছে কি?

পর্ব-১৭৮: যুদ্ধে ছলনার আশ্রয় এবং বলপ্রয়োগ, উভয়ের কোনও তারতম্য আছে কি?

ছলনার আশ্রয়ে যুদ্ধজয় না আত্মশক্তিবলে বিজয়ীর সম্মান, দুইটির মধ্যে কোনটি প্রশংসনীয় সেটা রামায়ণের উপসংহার প্রমাণ করবে। আধুনিকপ্রযুক্তিনির্ভর কৌশল, ছল ও বলকে ছাপিয়ে উঠেছে।কৌশল অতীতে ছিল ক্ষুরধার মস্তিষ্কপ্রসূত। বর্তমানে মস্তিষ্কপ্রসূত যুদ্ধাস্ত্রের প্রয়োগকৌশল,যুদ্ধজয়ের অন্যতম অবলম্বন হয়েছে। তবে ছদ্মবেশধারী মারীচ এখনও আছে, পারিবারিক জীবনে, সামাজিক পরিমণ্ডলে বৃহত্তম রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নাম ও রূপের আড়ালে।

read more
পর্ব-১৭৭: শিশুপালের একশত অপরাধ ক্ষমার যোগ্য, কেন? এর কোন তাৎপর্য আছে কি?

পর্ব-১৭৭: শিশুপালের একশত অপরাধ ক্ষমার যোগ্য, কেন? এর কোন তাৎপর্য আছে কি?

ইন্দ্রপ্রস্থনগরে রাজসূয়যজ্ঞের আসরে আমন্ত্রিত রাজাদের মধ্যে অন্যতম চেদিরাজ শিশুপাল, কৌরবপিতামহ ভীষ্মের নিন্দায় মুখর হয়েছেন। কারণ হল, চেদিরাজের উগ্র কৃষ্ণবিরাগ। ভীষ্মের অনুরোধে যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজক, রাজা যুধিষ্ঠির, কৃষ্ণকে অর্ঘ্য দান করেছেন। কৃষ্ণের সম্মাননাপ্রদানে শিশুপালের ঘোর আপত্তি। কৃষ্ণনিন্দুক শিশুপালের আক্রমণের লক্ষ্য হলেন প্রবীণতম কৌরবপ্রধান ভীষ্ম। ভীষ্মের অতীত টেনে এনে,তাঁকে বাক্যবাণে জর্জরিত করলেন শিশুপাল। মাননীয় ভীষ্মের যত যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, সেগুলির অপব্যাখ্যা করে তাঁকে হেনস্থা করত তিনি দ্বিধা...

read more
পর্ব-১৭৬: সীতাহরণের সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাব্যিক পালাবদলের ইঙ্গিত

পর্ব-১৭৬: সীতাহরণের সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাব্যিক পালাবদলের ইঙ্গিত

রামের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ রাক্ষসরাজ রাবণ, ভগিনী শূর্পনখার প্ররোচনায় রামপত্নী সীতাকে অপহরণ করবার উদ্দেশ্য নিয়ে উপস্থিত হল মায়াবী রাক্ষস মারীচের কাছে। মারীচ, মায়াবলে যে কোনও রূপ ধারণ করতে পারে। তাই রাবণ তার সাহায্যপ্রার্থী হল। রাবণের পরিকল্পনা-অনুযায়ী মারীচ রূপার বিন্দুতে চিত্রিত সোনার হরিণের রূপ ধারণ করে সীতাকে মুগ্ধ করবে। সীতার অনুরোধে হরিণটিকে অপহরণের জন্য রাম ও লক্ষ্মণ হরিণটিকে অনুসরণ করে দূরে যাবেন যখন, তখন ছদ্মবেশী রাবণ সীতাকে অপহরণ করবেন।

read more
পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল?না ভীষ্ম?

পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল?না ভীষ্ম?

জ্যেষ্ঠপাণ্ডব যুধিষ্ঠিরায়োজিত রাজসূয়যজ্ঞে প্রবীণতম কুরুপ্রধান ভীষ্মের নির্দেশে, কৃষ্ণকে অর্ঘ্য দান করা হল।চেদিরাজ শিশুপালের সেই পূজা অসহনীয় মনে হল। শিশুপালস্তু তাং পূজাং বাসুদেবে ন চক্ষমে। তাঁর তিরস্কারের লক্ষ্য হলেন ভীষ্ম ও যুধিষ্ঠির। অন্যান্য সম্মানীয় যোগ্য ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিতান্তই অপাত্র কৃষ্ণের কেন এত সমাদর? কেন এত শ্রদ্ধাপ্রদর্শন?

read more

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি

পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

রাষ্ট্রনীতির নির্মম দাবার বোর্ডে মন্ত্রীর আসল পরিচয় তাঁর পদে নয়, তাঁর প্রদত্ত মন্ত্রণায়। বৃদ্ধ গুপ্তচর স্থিরজীবী মনে মনে জানতেন—যে মন্ত্রী রাজাকে অপ্রিয় কিন্তু হিতকর সত্য না বলে, কেবল চাটুকারিতায় অন্ধ করে অনুচিত পরামর্শ দেয়, সে আসলে মন্ত্রী নয়; সে হল রাজার ছদ্মবেশী আততায়ী!

read more
পর্ব-১০৭: চাটুকারদের স্তুতিবাক্যই রাজ্যের পতন ডেকে আনে! পেঁচাদের ট্র্যাজেডি আর ‘কথা বলা গুহার’ এক কালজয়ী রাজনৈতিক পাঠ

পর্ব-১০৭: চাটুকারদের স্তুতিবাক্যই রাজ্যের পতন ডেকে আনে! পেঁচাদের ট্র্যাজেডি আর ‘কথা বলা গুহার’ এক কালজয়ী রাজনৈতিক পাঠ

নিজের চোখের সামনে নিজের মাতৃভূমির এই তিলে তিলে এগিয়ে আসা মৃত্যু দেখে প্রধান অমাত্য ও বংশানুক্রমিক দূরদর্শী মন্ত্রী রক্তাক্ষের হৃদয় বেদনায় ও ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। তিনি বুঝলেন, এই অন্ধ রাজার দরবারে বসে অরণ্যে রোদন করার আর কোনো অর্থ হয় না। যে রাষ্ট্রযন্ত্র শত্রুর মিষ্টি কথায় ভুলে প্রজ্ঞাবান মন্ত্রীর উপদেশ পদদলিত করে, তার পতন তখন কেবলসময়ের অপেক্ষা মাত্র।

read more
পর্ব-১০৬: যে রাজা চাটুকারদের দ্বারা পরিবেষ্টিত, তার পতন স্বয়ং বিধাতাও আটকাতে পারেন না

পর্ব-১০৬: যে রাজা চাটুকারদের দ্বারা পরিবেষ্টিত, তার পতন স্বয়ং বিধাতাও আটকাতে পারেন না

রাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে ভয়ংকর ভ্রান্তি হল শত্রুর আত্মসমর্পণকে নিজের শক্তির বিজয় বলে ভুল করা। কূটনীতির ময়দানে যখন কোনও প্রাজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের পুরনো শত্রু হঠাৎ বশ্যতা স্বীকার করে, তখন বুঝতে হয় তার পিছনে কোনও গভীর মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ পাতা রয়েছে। উলূকরাজ অরিমর্দন ঠিক সেই ফাঁদেই পা দিলেন। বিচক্ষণ মন্ত্রী রক্তাক্ষের সমস্ত অকাট্য যুক্তি, দূরদর্শিতা আর রক্তজল করা সতর্কবাণী সেদিন রাজসভার চাটুকারদের স্তুতিবাক্যের স্রোতে খড়কুটোর মতো ভেসে গেল। পেঁচাদের দল যেন এক অদ্ভুত আত্মঘাতী উল্লাসে নিজেদের চিরন্তন বিনাশ ডেকে আনার জন্যই কাকদের বৃদ্ধ ও ক্ষতবিক্ষত মন্ত্রী স্থিরজীবীকে সসম্মানে নিজেদের দুর্গের ভিতরে নিয়ে এলো।

read more
পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

ইঁদুর থেকে ঋষির কৃপায় মানুষ হওয়া সেই পরম রূপবতী কন্যার বিয়ের বয়স হয়েছে। মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য মেয়ের জন্য বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের শ্রেষ্ঠ পাত্রের সন্ধান করতে চাইলেন। মহর্ষি প্রথমে আকাশের অধিপতি, পরম তেজস্বী বিবস্বান সূর্যকে আহ্বান করলেন। বৈদিক মন্ত্রের মহিমাময় প্রভাবে আকাশ আলো করে স্বয়ং সূর্যদেব মর্ত্যে আবির্ভূত হলেন। ঋষিকে প্রণাম জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করলেন, “ভগবন্! কিমহাম্ আহূতঃ? — হে দেব! আমাকে কী কারণে আহ্বান করেছেন?”

read more
পর্ব-১০৪: “যোগ্য পাত্র ছাড়া কন্যাদান নয়”— শাস্ত্রের শৃঙ্খল ভেঙে কন্যার সম্মতির জয়

পর্ব-১০৪: “যোগ্য পাত্র ছাড়া কন্যাদান নয়”— শাস্ত্রের শৃঙ্খল ভেঙে কন্যার সম্মতির জয়

মহর্ষি চোখ বন্ধ করলেন। তিনি বেদান্তের প্রবক্তা, তিনি জানেন আত্মার কোনো লিঙ্গ হয় না, ব্রহ্মস্বরূপের কোনও অশৌচ হয় না। এই সমাজিক ভয় তো কেবল মানুষেরই তৈরি করা নিগড়! যখন চোখ খুললেন, তখন তাঁর দৃষ্টিতে আর কোনও শাস্ত্রভয় নেই। সেখানে জ্বলজ্বল করছে এক শাশ্বত পিতৃসত্তার প্রশান্ত তেজ।

read more

মহাভারতের আখ্যানমালা

পর্ব-৬০: দুই ভাইয়ের সাক্ষাৎ হল, হনুমানের রূপে মুগ্ধ হলেন ভীমসেন

পর্ব-৬০: দুই ভাইয়ের সাক্ষাৎ হল, হনুমানের রূপে মুগ্ধ হলেন ভীমসেন

হনুমানকে দেখে ভীমসেন অত্যন্ত তৃপ্ত হন। আরও খুশি হন একথা শুনে যে, রামপত্নী সীতার কাছে এমনি বর পেয়েছিলেন হনুমান যে, যতদিন রামকথা পৃথিবীতে প্রচলিত থাকবে লোকমুখে ততদিনই হনুমানও রয়ে যাবেন এই পৃথিবীতে।

read more
পর্ব-৫৯: দ্রৌপদীর জন্য স্বর্গীয় ফুলের খোঁজে ভীমসেন কোনও পথে পাড়ি দিলেন!

পর্ব-৫৯: দ্রৌপদীর জন্য স্বর্গীয় ফুলের খোঁজে ভীমসেন কোনও পথে পাড়ি দিলেন!

পাণ্ডবভাইয়েরা একের পর এক তীর্থ দর্শন করতে করতে এগিয়ে চলেছেন। সকলেই অধীর হয়ে উঠেছেন, অর্জুনের সঙ্গে দেখা করবার জন্য। কিন্তু অর্জুন যে দেবস্থানে গিয়েছেন। সে স্থান সাধারণের গম্য নয়। অতি কঠোর সে যাত্রাপথ।

read more
পর্ব-৫৮: দেবতাদের আশীর্বাদে আর অর্ব্বাবসুর প্রার্থনায় যবক্রীত বেদজ্ঞান লাভ করলেন

পর্ব-৫৮: দেবতাদের আশীর্বাদে আর অর্ব্বাবসুর প্রার্থনায় যবক্রীত বেদজ্ঞান লাভ করলেন

ভরদ্বাজ পুত্রের এমন করুণ মৃত্যুসংবাদ শুনে অত্যন্ত শোকগ্রস্ত হলেন। নানাভাবে বিলাপ করতে করতে তিনি বলে উঠলেন, ‘হে পুত্র! না পড়েও ব্রাহ্মণদের হৃদয়ে বেদের ঠাঁই হোক, এমনটাই প্রয়াস ছিল তোমার।’

read more
পর্ব-৫৭: তপোলব্ধ বেদজ্ঞান দর্পী যবক্রীতের বিনাশ ডেকে আনল

পর্ব-৫৭: তপোলব্ধ বেদজ্ঞান দর্পী যবক্রীতের বিনাশ ডেকে আনল

প্রাচীনকালে বালধি নামধারী এক মুনি ছিলেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। তাঁর কোনও পুত্র ছিল না। তাই তিনি একসময় অত্যন্ত অস্থিরচিত্ত হয়ে পড়েন। একটি অমর পুত্রের কামনায় তিনি তীব্র তপস্যা আরম্ভ করেন।

read more
পর্ব-৫৬: বেদজ্ঞান লাভের জন্য কঠোর তপস্যায় ব্রতী হলেন যবক্রীত

পর্ব-৫৬: বেদজ্ঞান লাভের জন্য কঠোর তপস্যায় ব্রতী হলেন যবক্রীত

মুনি বলে চলেন, ‘হে পাণ্ডুপুত্র! স্থূলশিরা মুনির আশ্রমের পশেই এই রৈভ্যমুনির আশ্রম। এখানে ভরদ্বাজমুনির পুত্র যবক্রীত বিনষ্ট হয়েছিলেন। আজ তোমাদের আমি কবি যবক্রীতের কাহিনি শোনাবো।’

read more

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি

পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

ইন্দিরা বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রমথ চৌধুরীর সঙ্গে। অত্যন্ত রুচিবান আধুনিকমনস্ক মানুষ ছিলেন তিনি। বিবাহ হঠাৎ ঘটেনি। প্রমথ চৌধুরীর অগ্রজ আশুতোষ ছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাতা ও কবির বন্ধু। রবীন্দ্র-অগ্রজ হেমেন্দ্রনাথের কন্যা প্রতিভাসুন্দরীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়েছিল। সেই সূত্রে আশুতোষ-ভ্রাতারা অগ্রজের শ্বশুরালয়ে আসতেন। তাঁদের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ মেলামেশা’র কথা ইন্দিরা নিজেই জানিয়েছেন।

read more
পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত

পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত

রবীন্দ্রনাথের সবে তখন বিয়ে হয়েছে। থাকতেন জোড়াসাঁকোয়, দোতলার এক ঘরে। প্রথম-জীবনে অনেক জায়গা নিয়ে সাজিয়েগুছিয়ে ঘর-সংসার করার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর। সীমিত পরিসরে, নানা প্রতিকূলতায়, প্রতিবন্ধকতায় কোনওরকমে দিনযাপন। আর পাঁচজনের থেকে তো তাঁর একটু বেশিই জায়গা প্রয়োজন! সবার সঙ্গে মেলানো যাবে না, তাঁর বাড়তি জিনিসও তো কম নয়। কোথায় বইপত্র রাখবেন, বসবেন, লিখবেন, সেসব নিয়ে রীতিমতো ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

read more
পর্ব-১৪৬: কবির টুপি, কবির জোব্বা

পর্ব-১৪৬: কবির টুপি, কবির জোব্বা

ছেলেবেলায়, যৌবনে রবীন্দ্রনাথ যে খুব বেশি পোশাক সচেতন ছিলেন, তা নয়। এই সচেতনতা তৈরি হয়েছে মধ্য-বয়সে। মাঝেমধ্যে তিনি টুপিও পরতেন। বাহারি টুপি। সুতির বা ভেলভেটের। কখনও ঘন রঙের মোটা সিল্কের টুপি। রানি চন্দ সান্নিধ্য পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথের, অত্যন্ত স্নেহ করতেন তাঁকে। ‘গুরুদেব’ নামে একটি বইয়ে সেই সান্নিধ্য-অভিজ্ঞতার কথা তিনি লিখেওছেন।

read more
পর্ব-১৪৫: পোষা হরিণকে সাঁওতালপাড়ায় মারা হয়েছিল তির ছুঁড়ে

পর্ব-১৪৫: পোষা হরিণকে সাঁওতালপাড়ায় মারা হয়েছিল তির ছুঁড়ে

শান্তিনিকেতন আশ্রমে দুটো হরিণ ছিল। দুটো ময়ূর ছিল। ময়ূর দুটোকে ছাত্রাবাসের দক্ষিণ দিকে রাখা হয়েছিল। ময়ূর দুটোর থাকার জায়গা ঘিরেও দেওয়া হয়েছিল জাল দিয়ে। হরিণ দুটো আশ্রমে ইতস্তত ঘুরে বেড়াত। একদিন একটা হরিণকে অনেকগুলো কুকুর তাড়া করে। তাড়া খেয়ে হরিণটা আশ্রমের বাইরে বেরিয়ে পড়ে। দৌড়াতে থাকে। কোথায় যে গেল, কে জানে! আশ্রমের সকলেই ভাবনায় পড়লেন, কেউ কেউ এদিক-সেদিক খুঁজে হতাশ হয়ে শেষে ফিরে আসেন।

read more
পর্ব-১৪৪: কবি-কন্যার প্রিয় বান্ধবী

পর্ব-১৪৪: কবি-কন্যার প্রিয় বান্ধবী

আনন্দ-সুখের মাঝে কখনো দুঃখের ছোঁয়া। দুই বান্ধবীর এভাবেই কাটছিল দিনগুলি। হঠাৎই ছন্দপতন। শরৎকুমার ব্যারিস্টার হতে বিলেতে গিয়েছেন। মাধুরীলতা বাপের বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেছেন। অনুরূপা দেবী কখনও কলকাতায় এলে ঠিক পৌঁছে যেতেন জোড়াসাঁকোয়। তাঁকে জোড়াসাঁকোয় দেখে রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমিই বেলার সবচেয়ে বড় বন্ধু? তোমার কথা ওর কাছে ঢের শুনেছি।’

read more

অনন্ত এক পথ পরিক্রমা

পর্ব-৯১: সন্ধিপুজো ও দেবী চামুণ্ডা

পর্ব-৯১: সন্ধিপুজো ও দেবী চামুণ্ডা

দেবী সপ্তশতীর মধ্যে সবথেকে বেশি করে মন আকর্ষণকারী অংশ হল দেবী-দূত সংবাদ এবং চণ্ড ও মুণ্ড বধ, যা দেবী মাহাত্ম্যকে শতগুণে বাড়িয়ে তোলে। অহংকার নাশক দৈবী শক্তির জয় লাভ ও আসুরিক শক্তির পরাজয় জ্ঞাপক। মেধা ঋষি বলছেন, কাশ্যপের ঔরসে ও ভার্যা দনুর গর্ভে শম্ভু ও নিশুম্ভের জন্ম। শম্ভু ও নিশুম্ভ সমস্ত দেবতা, সূর্য, চন্দ্রাদি সকলকে পরাজিত করে, ইন্দ্রের ত্রিলোকাধিপত্য ও যজ্ঞভাগও অধিকার করেন। দেবগণ সমস্ত অধিকার শূন্য ও পরাজিত হলে, স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে অপরাজিতা দেবীকে স্মরণ করেন। দেবী পূর্বে কথা দিয়েছিলেন, বিপদে তাঁকে...

read more
পর্ব-৯০: আদ্যাশক্তি নব নব রূপে নবদুর্গা

পর্ব-৯০: আদ্যাশক্তি নব নব রূপে নবদুর্গা

শ্রীশ্রীচণ্ডীর মূল গ্রন্থ অর্থাৎ দুর্গা সপ্তশতী পাঠের পূর্বে সকলেই দেবীকবচ পাঠ করেন। শ্রীশ্রীচণ্ডীকা দেবীর প্রীতির জন্য পাঠ করা হয়। যেখানে ঋষি মার্কণ্ডেয় সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে জগতের পরম গোপনীয় অথচ মঙ্গলকারক আদি শক্তি, সর্বজীবের রক্ষাকর্তী মহামায়ার কীর্তি, জয়গাথা শোনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। কবচ শব্দের অর্থ বর্ম; যা পরিধানে শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করা যায়।

read more
পর্ব-৮৯: দুর্বলেরা কখনও সত্য লাভ করতে পারে না

পর্ব-৮৯: দুর্বলেরা কখনও সত্য লাভ করতে পারে না

আমরা শারীরিকভাবে এক একটি অঙ্গকে ত্রুটিমুক্ত করব, এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। বরং নিজের আত্মশক্তির ধারণার দ্বারা সার্বিকভাবে ত্রুটিমুক্ত হওয়া যায়। সর্বদা সব বিষয়ে সজাগ থাকলে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা যায়। ফলে মন ক্রমশ সচেতন হয়। সচেতনতার সঙ্গে করা মন বা ইন্দ্রিয় একবার যা অনুভব করে, তা চিত্রের মতো থেকে যায়। আমরা নিজেদের ব্যস্ততার জন্য বা অন্য কোনও কারণে সেই ছবিকে দেখতে পাই না বা অনেক ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাই।

read more
পর্ব-৮৮ ধর্মের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির ধর্ম

পর্ব-৮৮ ধর্মের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির ধর্ম

অনেকে ধর্ম বন্ধনের কারণ বলে মনে করেন। কোনও ধর্মাবলম্বী হতে চান না, বা মতাদর্শে চলতে পছন্দ করেন। ধর্ম ত্যাগ করাটাই বা কোনও ধর্মের অবলম্বী না হয়ে থাকাটাই নতুন সমাজ ভাবনা মনে করে। কিন্তু ধর্মের কি অন্য কোনও দিক আছে, যা মানুষকে ঈশ্বর ভাবা-পন্ন করে করা ছাড়াও আর বিশেষ কিছু করতে পারে? আমার উত্তর হবে ধর্মের আরেকটা ভালো রূপ হচ্ছে সংস্কৃত বান, চরিত্রবান করে তোলা।

read more
পর্ব-৮৭: লৌকিক বাসনা ত্যাগই ঈশ্বর প্রাপ্তির হেতু

পর্ব-৮৭: লৌকিক বাসনা ত্যাগই ঈশ্বর প্রাপ্তির হেতু

অর্থ উপার্জন অন্যায় নয় কারণ ওই অর্থ বিতরণের জন্য। গৃহস্থই জীবন ও সমাজের কেন্দ্র অর্থ উপার্জন অসৎ কাজে অর্থ ব্যয় করা তার পক্ষে উপাসনা, কারণ যে গৃহস্থ সদুপায়ে ও সৎ উদ্দেশ্যে ধনী হবার চেষ্টা করছেন—সন্ন্যাসী নিজ কুঠিরে বসে উপাসনা করলে উহা যেমন তার মুক্তি লাভের সহায় হয়, সেই গৃহস্থেরও ঠিক তাই হয়ে থাকে।

read more

যত মত, তত পথ

পর্ব-৮: আনন্দের ফেরিওয়ালা

পর্ব-৮: আনন্দের ফেরিওয়ালা

রামকৃষ্ণ নামে এক ফেরিওয়ালা রাস্তায় ফেরি করতে বেরিয়েছে। অদ্ভুত লোক বটে! ঝুড়িতে তাঁর খাঁটি সোনার সব গহনা—জ্ঞান, ভক্তি, বিবেক, বৈরাগ্য, আনন্দ, সমাধি। সেই অমূল্য সব গহনা সে বিনা পয়সায় দিতে চায়। কিন্তু নেবার লোক নেই।

read more
পর্ব-৭: ঈশ্বরে মনে রেখে সংসার ধর্ম—শ্রীরামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ

পর্ব-৭: ঈশ্বরে মনে রেখে সংসার ধর্ম—শ্রীরামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ সংসারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মন, সব কাজের মধ্যেও সবসময়, উত্তর-মুখ কম্পাসের কাঁটার মতো, ঈশ্বরের দিকে ঘুরে আছে। একথা প্রমাণ হয় তাঁর প্রতিদিনের জীবনচর্যা অনুসরণ ও সংগীত সহ চিঠিপত্র, প্রবন্ধ ও বিবিধ রচনাবলী পড়লেই।

read more
পর্ব-৬: ঈশ্বরলাভ ক’রে / শুদ্ধাভক্তি লাভ ক’রে সংসারে থাকা—শ্রীরামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ

পর্ব-৬: ঈশ্বরলাভ ক’রে / শুদ্ধাভক্তি লাভ ক’রে সংসারে থাকা—শ্রীরামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ

শ্রীরামকৃষ্ণ (কথামৃত : ১-১-৫) সব কাজ করবে কিন্তু মন ঈশ্বরেতে রাখবে। স্ত্রী, পুত্র, বাপ, মা, সকলকে নিয়ে থাকবে ও সেবা করবে। যেন কত আপনার লোক। কিন্তু মনে জানবে যে তারা তোমার কেউ নয়।

read more
পর্ব-৫: ঈশ্বরের আনন্দ ও সংসার—শ্রীরামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ

পর্ব-৫: ঈশ্বরের আনন্দ ও সংসার—শ্রীরামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রসংগীত রবীন্দ্রনাথ সংসারে থেকেও ঈশ্বরের আনন্দ পেয়েছিলেন বলেই, যৌবনে মানুষ যখন সাংসারিক আনন্দে একেবারে মেতে থাকে, তখন তাঁর কলম থেকে বের হয়েছে এইসব কালজয়ী গান।

read more

বিবেকের কাছে

কোনও ফলাফল পাওয়া যায়নি

আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।

আলোকের ঝর্ণাধারায়

পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

বাগবাজারে শ্রীমার আঙিনার মাথার আকাশ আজ থমথমে, বর্ষার মেঘের মতো। শরৎ মহারাজ মা সারদাকে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসার যে সুবন্দোবস্ত করেছিলেন, এমনকি দৈব প্রতিকার, স্বস্ত্যয়নাদিরও অনুষ্ঠান করেছিলেন। সেই সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে গেল। চিকিৎসারত ডাক্তার ও কবিরাজদের দর্শন দিয়ে ধন্য করে মা সারদা ১৩২৭ সনে বা ১৮৪২ শকাব্দে, ১৯২০ সালের একুশে জুলাই, বাংলার চৌঠা শ্রাবণে মঙ্গলবার রাত দেড়টার সময় তাঁর বাড়ি উদ্বোধনে মানবীলীলা সম্বরণ করলেন।

read more
পর্ব-১০৯: মা সারদার কাছের সেবিকাবৃন্দ

পর্ব-১০৯: মা সারদার কাছের সেবিকাবৃন্দ

শ্রীমার দেহ রাখার পর একদিন একজন উদ্বোধনে তাঁকে দেখেন যে, তাঁর দেহ একেবারে ভেঙে গিয়েছে। তখন তিনি বিছানার উপর রাখা মা সারদার পটচিত্রের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে বলেন, ‘কি করব বল বাবা, মাই যে সব ভেঙে দিয়ে গেছেন’। কেদারের মা কোয়ালপাড়ায় থাকতেন। তিনি ঠাকুরকে দর্শন করে কৃতার্থ হয়েছিলেন। তাঁর স্বামী জয়রামবাটিতে পাঠশালার শিক্ষক ছিলেন। তিনিও ঠাকুরের স্নেহধন্য ছিলেন।

read more
পর্ব-১০৮: সকলের উপর মা সারদার ছিল সমান অধিকার

পর্ব-১০৮: সকলের উপর মা সারদার ছিল সমান অধিকার

মানুষ নয়, পশু, পাখি, বেড়াল, কুকুর, এরাও জানত মা সারদার ভালবাসার মহিমা। একবার ছোট্ট রাধু শ্রীমার বাড়ির দোতলার বারান্দা থেকে একটা বাচ্চা বেড়াল নিচে ফেলে দিলে, তাই দেখে শ্রীমার অস্থির অবস্থা। এক সেবক তাঁর অবস্থা দেখে ছুটে গিয়ে বেড়ালছানাটিকে কোলে করে তুলে আনল। শ্রীমা তখন তাকে কোলে শুইয়ে গরম দুধ খাওয়ালেন আর গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। সবাই জয়রামবাটির বেড়ালটাকে ‘মায়ের বেড়াল’ বলত। আর সেই সুযোগে সে দুষ্টুমি করে বেড়াত। একদিন সবাই শ্রীমার কাছে এসে বেড়ালটার বিরুদ্ধে নালিশ জানাল। শ্রীমা আর কি করবেন, হাতে...

read more
পর্ব-১০৭: অসুস্থ মা সারদার জন্য ভক্তদের উদ্বেগ

পর্ব-১০৭: অসুস্থ মা সারদার জন্য ভক্তদের উদ্বেগ

শ্রীমার অসুখের সংবাদ শুনে দূরদেশ থেকে শ্রীমার সন্তান সারদেশানন্দ এসেছেন। তিনি সকলের পরিচিত বলে শ্রীমার ঘরে গিয়ে কুশল জিজ্ঞাসা করে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলেন। কখনও যদি শ্রীমা ডাকেন তো দুটো কথা হয়। ভয়ে ভয়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন, যাতে শ্রীমার কষ্ট না হয়।

read more
পর্ব-১০৬: দীনদুখিনীর জননী সারদা

পর্ব-১০৬: দীনদুখিনীর জননী সারদা

রামলাল কাজের জন্য দক্ষিণেশ্বরে থাকলেও মাঝে মাঝে কামারপুকুরে যাতায়াত করতেন। শ্রীমার ভিক্ষাপুত্র শিবরাম সর্বদা গৃহদেবতা রঘুবীরের পুজো ও ঘরবাড়ির দেখাশোনা করতেন। শ্রীমার মন তখন অতীন্দ্রিয় জগতে ঘুরে বেড়াত। তিনি সংসার থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ঠাকুর তাঁকে যে ঘরখানা দিয়েছিলেন, সেখানেই থাকতেন। পাকশালার একাংশে নিজেই রান্না করে ঠাকুরকে নিবেদন করে সেই প্রসাদী শাকান্নে কালাতিপাত করতেন।

read more

নিবেদিতা নানা রূপে

কোনও ফলাফল পাওয়া যায়নি

আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।

গল্পের ঝুলি

দশমী

দশমী

ঢাকের বাজনা এখন মিশে যাচ্ছে মাইকের ঘোষণায়, সিন্থেসাইজারের সুর হারিয়ে যাচ্ছে তাসার গর্জনে। বর্ণময় শোভাযাত্রায় আলোর সমুদ্রে ভেসে মা কৈলাশে ফিরে যাচ্ছেন। প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা এখন পাড়ার রাস্তা বেয়ে ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে বড় রাস্তার দিকে, পিছনে যেন রেখে যাচ্ছে একরাশ অন্ধকার।

read more
খুনসুটি

খুনসুটি

মা : এই কী হয়েছে রে? পুজোপাব্বনের দিনে কান্নাকাটি কীসের? হ্যাঁরে বাবিল,নিজে তো পড়তে বসিসনি, বোন পড়ছে,ওকেও পড়তে দিচ্ছিস না। পুজোর পরেই পরীক্ষা। বোন পাশ করে যাবে, আর তুই ওই ক্লাসেই পড়ে থাকবি। তখন বোন আর তুই একই ক্লাসে পড়বি। সেটা ভালোলাগবে তো? বাবলি : দেখো না মা, দাদা বলছে, তুমি নাকি আমাকে হাসপাতাল থেকে চেয়ে এনেছ?

read more
ইচ্ছাপূরণ

ইচ্ছাপূরণ

বৈজুর মা’র চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে থাকে। বলে, ‘ছেলেটা আমার খুব চাপা স্বভাবের। আমার অসুখ ,সংসারের নিত্যি অভাব ওকে ছোটো থাকতে দিলে না, এ বয়সের বাচ্চা কোথায় হেসে-খেলে বেড়াবে তা নয়, সারাক্ষণ টাকা রোজগারের জন্য খেটে চলেছে। নিজের ইচ্ছে, পছন্দের কথা কখনও মুখ ফুটে বলে না।’

read more
কনটেন্ট

কনটেন্ট

স্যারের গানের পোস্টটা এসবের মধ্যে আর শেয়ার করা হয়নি। নতুন নতুন ক্যাচলাইন ভাবতে ভাবতে এ’দুদিন সুমনদার কথাও মনে পড়েনি পত্রালির। বুকের ভিতর চিনচিনে ব্যথাটাও উধাও হয়ে গিয়েছে কী করে যেন! কবি বলেছিলেন বটে— প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে! কথাটা মিথ্যে নয়। সমাজমাধ্যমের দিব্যি, ভুবনজুড়েই প্রেমের রিচ। আর কন্টেন্ট হিসেবে ট্রু লাভের চেয়ে ভাঙা হৃদয়ের দাম বেশি, এই মুহূর্তে পত্রালির চেয়ে ভাল সেকথা আর কে-ই বা জানে!

read more
ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

বারো বছর আগের সেই নরম কোমল পল্লবী নয়— এই পল্লবীর যেন চোখের কোণে বয়সের সামান্য ছাপ পড়েছে, মুখে এসেছে পরিণত শান্তি। কিন্তু একই রকম রয়েছে সেই উজ্জ্বল চোখ দুটো! অনির্বাণ মনে মনে বলল— এই চোখ দুটোকে কী এত সহজে ভুলে থাকা যায়, প্রিয়ে? কয়েক মুহূর্ত অনির্বাণ পল্লবীর সঙ্গে কোনও কথা বলতে পারল না। নির্বাক দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল।

read more

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক

পর্ব-১৯০: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/২

পর্ব-১৯০: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/২

ইরাবতীর ডায়েরিতে এরপর আছে গ্রুপের মহিলা সদস্যদের সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট। প্রথমেই তৃধার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। শাক্য দেখল লেখা আছে—তৃধা। বয়স—৩৩ বছর। দক্ষিণ কলকাতার নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট। বছর সাতেক বিবাহ হয়েছে। স্বামী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। যোধপুর পার্কে পেল্লায় সাইজের ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন। জীবনযাত্রা, বোহেমিয়ান টাইপ। এমনিতে স্বামীকে নিয়ে সুখী সংসার।

read more
পর্ব-১৮৯: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/১

পর্ব-১৮৯: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/১

অনিল সম্পর্কে পড়ার পর শাক্য নিজের মনে প্রশ্ন সাজালো। এই রিপোর্টে অনিলের ফ্যামিলির কোন ডিটেইলস্‌ নেই। কেন? তার বাবা মা, দাদা ভাই বোন ইত্যাদি কেউ নেই? না কি থাকলেও তাঁদের সঙ্গে অনিলের কোনও সম্পর্ক ছিল না। না থাকলেও ইরাবতীর অন্তত উল্লেখ করা উচিত ছিল। যে মানুষটি নেই, তার সম্পর্কে জানতে হলে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব এঁদের দরকার। অনিলের ক্ষেত্রে তাহলে কার কাছে যাবে সে?

read more
পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার

পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার

একটা দীর্ঘ শাওয়ার নেওয়ার পর শাক্য দেহ-মনে কিছুটা শান্তি এবং এনার্জি ফিরে পেল। দু’দিন ধরে নাগাড়ে ছোটাছুটি চলছে। এখানে আসা ইস্তক কাজের চাপে ফ্রি-হ্যান্ড করার সময়টুকুও পাচ্ছে না ভালো করে। কাল ভোরে উঠে অন্তত চল্লিশ মিনিট সে ফ্রি-হ্যান্ডের পিছনে খরচ করবে ঠিক করল। বনদপ্তরের বাংলো এই মুহূর্তে সুনসান। টাওয়েল দিয়ে শরীরের জল ভালো করে মুছে খাটো সাদা বক্সার পরে বারান্দায় এসে বসল সে। বারান্দায় সর্বক্ষণ একটা টি-টেবল আর চেয়ার রাখা থাকে। এই মুহূর্তে দরকার ছিল ছোট্ট দু’ পেগ। কিন্তু এখন আর তা চাওয়ার কোন মানে হয় না। সুদীপ্ত তাকে...

read more
পর্ব-১৮৭:  স্কুপ-নিউজ

পর্ব-১৮৭: স্কুপ-নিউজ

একে-একে থানায় ঢুকছিল গাড়িগুলি। সদর থেকে বড়সড় ফোর্স এসে গিয়েছিল আগেই। ঢুকছে সব একে-একে। এসপি নিজে উপস্থিত। ডিএমের জরুরি একটা মিটিং থাকায় তিনি আসতে পারেননি। তবে ওভার ফোন যোগাযোগ রাখছেন। থানার সামনে লোকে লোকারণ্য। প্রিন্ট এবং টেলিমিডিয়া—উভয় মাধ্যমের সাংবাদিকদের জটলা চোখে পড়ছে। সকলেই স্কুপ নিউজের জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে আছে। গোটা অপারেশনটা এমন গোপন রাখা হয়েছিল যে, কাকপক্ষীও টের পায়নি। লালবাজার থেকে আসা শাক্য সিংহের ঢিলেঢালা ভাব দেখে সকলে কিছুদিন আগেও ভেবেচজিল, নামেই গোয়েন্দা, কাজে অষ্টরম্ভা; তারা সকলেই নড়েচড়ে বসেছে।...

read more
পর্ব-১৮৬: থানায় তখন

পর্ব-১৮৬: থানায় তখন

“স্যার, ছোট জায়গা বলেই তো পিছনে লাগবে। স্থানীয় অনেকেই আমাদের দেখাদেখি এখানে হোটেল বা রিসর্ট কিংবা স্টে-হোমের ব্যবসা চালু করেছে। এইটুকু জায়গায় বছিওরের বিশেষ সিজন ছাড়া তো আর ট্যুরিস্ট হয় না। গরমের দিনে যতই আপনি এসির ব্যবস্থা রাখুন, লোকে যেহেতু বাইরে বেরুতে পারে না, ঘুরে-বেড়াতে পারে না, তারা কেন আসবে? আমাদের ইখানে সামারসিজনে এজন্যই ট্যুরিস্ট হয় না।”

read more

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!

পর্ব-১৫৮: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৮: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

ঈপ্সিতা চুপ করে ছেলেটার দূর্ভাগ্যের কথা ভাবে! স্বচ্ছন্দে ওকালতি করতে পারতো। তা না করে মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক। গ্রুপ-বি নন-গেজেটেড র্যা ঙ্ক। বাংলা ইংরিজি দু’ ভাষাতেই দখল রয়েছে, এসব পুলকের কাছে শোনা। বিরূপাক্ষ যে বিএএলএলবি সেটা ঈপ্সিতা আজই শুনল। হ্যাঁ, মাসে হাজার পঞ্চাশ মাইনে। কাজের কোনও সময় নেই। বাদবিচার নেই। কিন্তু বিরূপাক্ষের এই যে একটা নির্বিরোধী সাতচড়ে রা না করা, সর্বক্ষণ মিইয়ে থাকা একটা ইমেজ, এটা এই ধরনের কাজে খুব জরুরি!

read more
পর্ব-১৫৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

মা জানতেও পারলো না এই উত্তরাই সেদিন সুকৌশলে পুলক আর ঈপ্সিতার মধ্যে তার উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্যে সম্ভবত পুলকের অজান্তেই তাঁর ল্যাপটপ ব্যাগে চাবির সঙ্গে তাঁর বেআব্রু অস্তিত্বও পাঠিয়ে দিয়েছিল। ঈপ্সিতা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেই আক্রমণ এড়িয়ে গিয়েছে। বরং সেই আঘাতকে নিজের সুযোগে বদলে নিয়েছে। তারপর হয়তো ঈশ্বরের ইচ্ছেতেই পুলকের একটা মারাত্মক ভুলে সে কালো হুডির আড়ালে কে ছিলো তাকে চিনে নিতে পেরেছে।

read more
পর্ব-১৫৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

একটু আগে পুলকের ফোনটা পেয়ে মনটা আচমকা ভিজে গেল ঈপ্সিতার। হঠাৎ করে মনে হল একটু আগে ফোনে তার সঙ্গে সেই চন্দননগরের পুলক কথা বলছিল। মাঝখানের এতগুলো বছরের সাফল্য। বৈভব। আদর্শচ্যুতি। একটু একটু করে সম্পর্কের দেওয়ালে আঁচড় কেটেছে। সম্পর্কের মেরামতি না হলে সেখানে ফাটল ধরে। সেই ফাটল দিয়ে সময়ের জল ঢুকে দেয়ালের সিমেন্ট বালি ইটের গায়ে ক্ষয় ধরিয়ে দেয়। নিজেদের অজান্তে দেওয়া সম্পর্কের গাঁথুনি, ভিত সবই একদিন অজান্তেই আলগা হয়ে যায়।

read more
পর্ব-১৫৫: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৫: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

হঠাৎ একটা ভয়েস মেসেজ পেয়েছিল ঈপ্সিতা! পুলকের ভয়েস মেসেজ। তার ইমার্জেন্সি ফোন থেকে পাঠানো! ভয়েস মেসেজটা একবার শুনেই মনে হল, এটা পুলক একটা মারাত্মক ভুল করে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও এটা কিছুতেও পুলক ঈপ্সিতাকে পাঠাতে পারে না। যাকে এই মেসেজটা পাঠাতে চেয়েছিল তাকেও পাঠানো উচিত ছিল?

read more
পর্ব-১৫৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পর্ব-১৫৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

যায়— দ্য হেভেনের সিকিউরিটি মনিটরে দেখা ওই কালো হুডি পরা মেয়েটিকে সে আর একবার দেখেছে। ঈপ্সিতা জানে এটা যখন তার মনে পড়ছে! তার বারে বারে মনে হচ্ছে! তখন এটা স্পষ্ট যে তার মস্তিষ্ক আরও অনেক কিছু খুঁজে বের করে ফেলেছে। তাই মনটাকে শান্ত করতে পারলেই ছেঁড়া সুতোগুলো জুড়ে যাবে আর স্পষ্ট হয়ে যাবে কোথায় কখন সে এই কালো হুডিপরা মেয়েটিকে দেখেছে?

read more

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৯৩ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৯৩ : আকাশ এখনও মেঘলা

ওয়েলেসলি জুটমিল কবে লাটে উঠে গিয়েছে। দুলাল সেন জুটমিল বিক্রিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দুলালের সামাজিক বলি হবার পর জুটমিল বিক্রি করে দিতে একটুও সময় নেয়নি ধুরন্দর ব্যবসায়ী কানাইলাল মহেশ্বরী। জুটমিল মালিক কানাইলাল মহেশ্বরী এখন মহেশ্বরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। ছোটখাট নানান ব্যবসার মধ্যে প্লাস্টিকের জলের ট্যাংক তৈরি করে ওরা। অনেক কোম্পানি আছে ওরাও তাদের মধ্যে একজন। কেএলএম ব্র্যান্ড (KLM brand) এর চৌকো বক্সের মত সিলিন্ড্রিক্যাল ব্যারেল তৈরি করে। ছেলে ভিকি মহেশ্বরী এখন সিইও। অতনু কানাইলালকে বিতানের...

read more
পর্ব-৯২ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৯২ : আকাশ এখনও মেঘলা

ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়েছে অচেনা পুরুষমানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখবে। মহিলাদের স্বাভাবিক ভয় আছে। শারীরিক কারণেই আতঙ্ক আছে। সেটাও অস্বাভাবিক নয়। একেবারে এই কারণেই রিসেপশনে মোটামুটি আকর্ষণীয় চেহারার মহিলাদের বসানো হয়। সেলস-এর চাকরিতে মহিলারা এগিয়ে। টেলিকলারস এর ক্ষেত্রেও মহিলারা অগ্রণী। ক্যাবিন ক্র্যু অবিবাহিতা সুন্দরী মহিলারাই হতেন। এখন সঙ্গে সুন্দর পুরুষরাও এয়ার ক্রু। আগে স্টুয়ার্ডস বা এয়ার হোস্টেস বলা হতো মহিলা আপ্যায়নকারী!

read more
পর্ব-৯১ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৯১ : আকাশ এখনও মেঘলা

বিতান বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী। প্রথম ধাক্কায় আচমকা একটু নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিল দিয়ার কথাটা না বলে সেটাকেই অন্যভাবে বলবে। কিন্তু পরক্ষণেই একটা গুড লেন্থের আউটস্যুইং করে অফ স্টাম্পের বাইরে যাচ্ছে দেখে ব্যাট তুলে বলটাকে যেতে দিল। এই জন্যই বলে যারা কম কথা বলেন তারা ভাবার অনেক স্পেস পান। অতনু নিজেই যখন একটা সম্ভাবনার কথা বললেন, বিতান সেখানে হ্যাঁ বা না কিছুই না বলে ব্যাপারটা থিতিয়ে দিতে চাইল।

read more
পর্ব-৯০ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৯০ : আকাশ এখনও মেঘলা

স্নিগ্ধার শ্লীলতাহানির মিথ্যে নাটকে আরও কিছু পাত্র-পাত্রী জড়ো করে দুলালকে দোষী সাব্যস্ত করা হল। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। যে উকিল দুলাল সেনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তাকে কানাইলাল মহেশ্বরী মোটা টাকা দিয়ে কিনে নেন। সেই উকিল আদালতে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। ধর্ষণের মামলায় দুলাল সেনের সাজা হল। তৃপ্তির একটা ক্ষীণ আশা ছিল দুলাল আদালতে ন্যায়বিচার পাবে। আগেই ছেলে অতনুকে চার্চে ফাদারের কাছে রেখে এসেছিল। কারণ এই এলাকার যে কোনও স্কুলে বাবার বিরুদ্ধে এই কুৎসা ছেলেটাকে শেষ করে দেবে। শেষ আশাটুকু এভাবে...

read more
পর্ব-৮৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

অতনুর মনে কি চলছে সেটা জানে একমাত্র অতনু আর সম্ভবত ঈশ্বর। কিন্তু অতনু কি ঈশ্বর বিশ্বাসী? অতনু বোধহয় ঈশ্বরকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না আবার অস্বীকারও করে না। তার বয়সী কোনও ছেলে বা মেয়েকে এই ভয়ংকর যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি। অথচ ওকে যেতে হল। যেতে হচ্ছে। কেন? ঈশ্বর কবে সেই জবাব দেবেন? অনেকে বলবেন যে ঈশ্বর অতনুকে একটা ঈর্ষণীয় কেরিয়ার দিয়েছেন। অতনু জবাবে তাঁদের বলবে কে চেয়েছিল এমন একটা সার্থক কেরিয়ার যেটা সে উপভোগ করতে পারবে না। তার চেয়ে সে সাধারণ মেরিটের একটা ছেলে হতো। একজন মধ্যবিত্ত ভদ্র শিক্ষিত চটকল...

read more

গা ছমছমে ভৌতিক উপন্যাস: মিস মোহিনীর মায়া

পর্ব-২৫: আফিফা কি ভয়ংকর ভাবে তার প্রতিশোধ নিল

পর্ব-২৫: আফিফা কি ভয়ংকর ভাবে তার প্রতিশোধ নিল

আফিফা চেয়েছিল আমি স্বচক্ষে এটা যেন দেখতে পাই। এবার মুক্তি পাবে ওরা। হয়ত আমিও। আমাকে ফিরে বুনিকে সব বলতে হবে। এ বার নিশ্চিন্তে কলকাতা ফিরবো।

read more
পর্ব-২৪: পিঠের পেছনে চেয়ারের ফ্রেমটা তাঁর চেহারার মধ্যে দিয়ে দেখা যাচ্ছে

পর্ব-২৪: পিঠের পেছনে চেয়ারের ফ্রেমটা তাঁর চেহারার মধ্যে দিয়ে দেখা যাচ্ছে

ঠিক যেমন প্লাস্টিকের প্যাকেটে ঢাকা জিনিস দেখা যায়। তেমনি বাবার শরীর ভেদ করে দেখা যাচ্ছে আরও দূরে আমার লেখার টেবিলটা।

read more
পর্ব-২৩: লেখার অক্ষরগুলোতে লাল রংটা ক্রমশ শুকিয়ে খয়েরি হয়ে যাচ্ছে, তবে কি রক্ত?

পর্ব-২৩: লেখার অক্ষরগুলোতে লাল রংটা ক্রমশ শুকিয়ে খয়েরি হয়ে যাচ্ছে, তবে কি রক্ত?

আমার অন্য লেখার ডট পেনের লাল রং নয়। আমার কাছে কোন লালকালির পেন নেই! আর এই লেখার অক্ষরগুলোতে লাল রংটা ক্রমশ শুকিয়ে খয়েরী হয়ে যাচ্ছে। তবে কি রক্ত!

read more

দুই বাংলার উপন্যাস: বসুন্ধরা এবং…

বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৫২: যবনিকাপতন

বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৫২: যবনিকাপতন

আপনাদের সকলের কাছে আমার একটা সবিনয় প্রশ্ন আছে। আমার এই ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা কি আমি আর বলব? আপনারা না বললে আমি কোনও দুঃখ পাবো না। তাহলে আমার পরবর্তী বক্তারা বলবার সুযোগ পাবেন, আপনাদের মতো আমিও তাদের কথাও শুনতে পারব।

read more
বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৫১: প্রায়শ্চিত্ত

বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৫১: প্রায়শ্চিত্ত

ঈশ্বর পৃথিবীর সবকিছুতে সময়ের নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন। বাড়ির দলিলের এই আইন মোতাবেক পরিবর্তনটা জরুরি ছিল। তাই বিনয়কান্তি দত্ত শারীরিকভাবে সজ্ঞানে ছিলেন। বসুন্ধরা ভিলায় এখন আর ছন্দ নেই সুর নেই। সর্বত্র যেন সুরতাল ছন্দহীন সময়ের ক্রমাগত ক্ষয়। বাড়িতে দু-দুজন অত্যন্ত সংকটজনক রোগী। ব্যবসায়ের আগের সময়কার রমরমা কমে আসছে। বসুন্ধরার স্বপ্নে দেখা সেই সকলকে নিয়ে ভরা সংসারের শিকড়ের মাটি আলগা হয়ে গিয়েছে।

read more
বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৫০: পুনরুত্থান

বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৫০: পুনরুত্থান

এরমধ্যে সুরঙ্গমার কাছে বাবলির একটা চিঠি এল। সেই চিঠির সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপ অফ কোম্পানির কাছে পাঠানো আলাদা আলাদা করে প্রণয়কান্তি ও বাবলি’র ই-মেল মারফৎ আবেদনের ছাপা কপি রয়েছে। প্রণয়কান্তি জানিয়েছে, তার যদি কিছু কিছু অর্থকরী পাওনা হয়ে থাকে সেই টাকা স্টাফ ওয়েলফেয়ার ফান্ডে সে দান করে দিতে চায়।

read more
বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৪৯: আত্মশুদ্ধি

বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৪৯: আত্মশুদ্ধি

সুজাতা চিৎকার করে উঠলেন। তাড়াহুড়ো করে প্রণয়কে বাধা দিতে গিয়ে হুইলচেয়ারের চাকায় পা জড়িয়ে গিয়ে মুখ থুবড়ে পুরো শরীরের ভার নিয়ে মেঝের ওপর পড়ে গেলেন। নাক-মুখ থেকে গলগল করে রক্ত বের হতে লাগলো। সুরঙ্গমা আর বাবলি ছুটে গিয়ে সুজাতাকে সোজা করে শোয়াতে গিয়ে দেখলেন সুজাতার জ্ঞান নেই।

read more
বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৪৮: স্বীকারোক্তি

বসুন্ধরা এবং…, ৩য় খণ্ড, পর্ব-৪৮: স্বীকারোক্তি

দিল্লিতে সামরিক পরিমণ্ডলে বড় হয়েও ন’ কাকিমা তন্ত্রমন্ত্র বশীকরণ বাণ মারা, এসব কালা জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিকে বিশ্বাস করতেন। দিল্লি কালীবাড়িতে নাকি একজন তান্ত্রিক আসতেন। তাঁর কাছেই অবিবাহিতার সুজাতা এবং তাঁর মা ঘন ঘন যেতেন। সেই তান্ত্রিক বাবাকে নিয়ে কি একটা সমস্যা হবার পর কালীবাড়ি কমিটি কালীবাড়ির মধ্যে তার বসার ওপর নিষেধ জারি করেন…

read more

দেওয়াল পারের দেশ

পর্ব-৩০ : প্লাবন বেলায়

পর্ব-৩০ : প্লাবন বেলায়

সুনীতিও একটু নিশ্চিন্ত হন। সত্যি কথা বলতে ইদানিং সুনীতির বুকের ভার যেন খানিকটা লাঘব হয়েছে। তার রাজকন্যা মেয়ে। সেই মেয়ের মুখের রামধনু রংয়ের আসা-যাওয়া সুনীতি ছাড়া আর কেইবা এমন গভীর করে টের পাবে। টুলুর মায়ের সঙ্গে সুনীতির চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে। সামনের সপ্তাহে উনি যাবেন বিবাহ নিয়ে প্রাথমিক কথা বলতে।

read more
পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

তিলজলা খালের ধার ঘেঁষে উদ্বাস্তু ঝুপড়ি। শুধু বাংলাদেশের উদ্বাস্তু নয়। এ বঙ্গের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কলকাতায় খুদ কুঁড়ো খুঁজতে হা-ঘরেদের ভিড়। শংকর এদের পরিত্রাতা হবে। এই তার স্বপ্ন। নয়া ভুবনের ঝিলিক আঁধার পাড়ার জোনাক আলোর সঙ্গে মিশে ওকে পথ দেখায়। এই টিন চালার নিচের প্রতিটা মানুষের হৃদস্পন্দন ওর চেনা। ডায়মন্ড হারবারে থাকতেই এই প্রাণের যোগ তৈরি হয়েছিল।শংকর 'এরা' 'এরা' করছে কেন? এরা মানে কি সকলের মিলিত একটা নামহীন বিশেষত্বহীন স্তূপাকার আকৃতি? একটা গুচ্ছবন্দি কলতান, নাকি এরাও এক এক করে একজন! সাধারণ থেকে বিশেষ...

read more
পর্ব-২৮ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (২)

পর্ব-২৮ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (২)

সাহেবের মাঠের শেষ প্রান্ত দিয়ে যে রেললাইনটা গিয়েছে সেখান দিয়ে মাঝে মাঝে ট্রেন চলে। কু কু ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক। অবাক চোখে দুই বোন দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা রেলগাড়ি দেখে। ট্রেন চলে গেলে দু’জনে মনের সুখে ঠান্ডা লাইন ধরে হাঁটতে থাকে। ইস্পাত রেখার একদিকে সুধা অন্যদিকে তার ফুলদি। কাচির মতো বেঁকেবেঁকে পা ফেলে ফেলে চলে সরু লাইনে। তখনও শক্ত করে দু’জনের হাত দু’জনে ধরা। আচমকা কখনও বেসামাল হলেই ধপাশ। চিৎপাত পড়ে যায় লাইনের কাঠের পাতে। পাতের মাঝখানে বিছিয়ে রাখা কাঁকড় ফুটে যায় পিঠে। তখন হাসি আর হাসি।

read more
পর্ব-২৭ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (১)

পর্ব-২৭ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (১)

গৌরীর অনেক সময়ই ভালো লাগত না সেই একঘেয়ে গপ্প। সে দৌড়ে চলে যেত মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে খেলতে। কিন্তু সুধা বসে থাকতো ঠায়। শুয়ে পড়ত কোলে। সাদা নুড়ি চুলগুলো ইচ্ছে খুশি আঁচড়ে পাকাত একটা লকলকে বিনুনি। আর দিদিমার গল্প বয়ে চলত অবিরাম। একই গল্পের পুরনো খোসা টুপ করে ছাড়িয়ে যেত অজান্তে। জন্ম নিত এক একটা আস্ত নতুন খোলা। তার ভিতরে পুরনো কথামালারা ছাড়ানো টাটকা বাদামের মতন মচমচ করে উঠতো।

read more
পর্ব-২৬ : ‘বসন্তবায় মোরে জাগায় পল্লব কল্লোলে’

পর্ব-২৬ : ‘বসন্তবায় মোরে জাগায় পল্লব কল্লোলে’

সকালে সুনীতি ভাত নামিয়ে চাপিয়ে দিয়েছে মাছের ঝোল। পুঁই শাকের ডাঁটা চচ্চড়ি বসবে। আনাজ পাতি ধুয়ে আঁশ কড়াইয়ে খানিকটা ছাই দিয়ে একটু ছোবড়ার খোঁজ করতে বেরোচ্ছিল খুকু। প্রায় ধাক্কাই লাগছিল একটু হলে। ধাক্কা না লাগলেও ছোঁয়া তো লেগেইছে। সঙ্গে নিবিড় একটা ঘ্রাণ। আর সেই মন ভোলানো দৃষ্টি। নরম চাপা গলায় মৃদু উষ্মা প্রকাশ করেছে খুকু —এত্তদিন পরে স্মরণে আইল, তাও এই সাইত সকালে!

read more
পর্ব-২৫ : যে জন রহে মাঝখানে

পর্ব-২৫ : যে জন রহে মাঝখানে

আজকে শংকর একটু চিন্তিত উত্তেজিত। ভালোই কাজের চাপ। প্রথমে যাবে তিলজলা ক্যাম্প। নবীনকে সবার আগে সঙ্গী করা দরকার। আফজাল রসিক পানু নবীন আর সে নিজে এই পাঁচ মাথায় মিলে কিছু প্ল্যান করে নেবে। তারপর বেরোতে হবে কমরেডের নির্দেশ বুঝে। দিন দুয়েকের মধ্যে। ফলে, আজ রাতেও ডায়মন্ড হারবারে ফেরা হবে না।

read more
পর্ব-২৪ : চম্পারণ-বেতিয়া এবং অভিযাত্রী শংকর

পর্ব-২৪ : চম্পারণ-বেতিয়া এবং অভিযাত্রী শংকর

বেতিয়া ক্যাম্প যেন নগ্নতা ক্ষুধা মৃত্যুর শ্মশানভূমি। অনেক উদ্বাস্তু এখানকার জীবন সহ্য করতে না পেরে পালিয়েছে। বাকিরা মৃত্যুর দিন গুনছে। ক্যাম্প অফিসাররা হৃদয়হীন। আর ক্যাম্পবাসীদের দেখতে কীট-পতঙ্গের মতো। দঙ্গল দঙ্গল মানুষ খেতে পাচ্ছে না। তার ওপর রোজের থেকে রোজ পঙ্গপাল মানুষের ভিড় বাড়ছে। ভিড়ের সঙ্গে ভিড় ঢেউয়ের মতো মিশে বেতিয়া চম্পারণ কে বানিয়েছে উদ্বাস্তু বাঙালের বিচ্ছিন্ন দ্বীপভূমি।

read more
পর্ব-২৩ : অপারেশন উদ্বাস্তু এবং গুরু-শিষ্য সংবাদ

পর্ব-২৩ : অপারেশন উদ্বাস্তু এবং গুরু-শিষ্য সংবাদ

রাস্তার মেটে ধুলো উড়িয়ে ওরা দু’জন হাঁটছে। ব্রজেন স্যারের কষ্ট হচ্ছে। হবেই তো। এতদিনের উপবাস, অনিদ্রা, অসম্মান, কেমন জীর্ণ হয়ে গিয়েছেন স্যার! ভিতরে ভিতরে যেন বেঁচে নেই মানুষটা! এমন একটা মরা মানুষের পক্ষে উদ্বাস্তুর যন্ত্রণায় মলম লাগানো কি সম্ভব? ক্ষতের মুখ চিঁড়ে বার করে আনতে পারবেন পুঁজ রক্ত স্রাব! অপারেশন উদ্বাস্তুর অগ্নিগর্ভ লড়াইতে ধুঁকতে ধুঁকতে যেন সামিল হচ্ছে একটি অর্ধদগ্ধ শব!

read more
পর্ব-২২: সঞ্চারিত অনুরাগের রেশ

পর্ব-২২: সঞ্চারিত অনুরাগের রেশ

দরজা ভেজিয়ে স্বামীর পায়ের কাছে বসলেন সুনীতি। অন্য দিন হলে আদিনাথ সরে শুতেন। বালিশ গুছিয়ে যত্নে স্ত্রীর শোবার বন্দোবস্ত করে দিতেন। আজ নির্বাক। বন্ধ চোখের ওপর আড়াআড়ি হাত দিয়ে শুয়ে আছেন। দীর্ঘ দেহ। স্পন্দনহীন। ঝড়ের পূর্বাভাস। একের পর এক বিচিত্র সব ঘটনার অভিঘাত যেন জমাট যন্ত্রণা হয়ে আছড়ে পড়বে সুনীতির ওপর।

read more
পর্ব-২১: বিবাহ সংবাদ, আদিনাথ-গোরা

পর্ব-২১: বিবাহ সংবাদ, আদিনাথ-গোরা

পুষ্প সুরভিময় আদিনাথের শয়ন কক্ষ। চৌকিতে টানটান বিছানা পাতা। ধবধবে চাদর। জানলার ধারে টেবিল চেয়ার। নিখুঁত গোছানো খাতা বই লেখালেখির সরঞ্জাম। ওপাশে একটা কাঠের দেরাজ। খাটের পাশে ছোট্ট তেপায়ায় ফুলতোলা কাচের বাটি। জলে ভেজা দশ বারোটা টাটকা গন্ধরাজ। খুকুর হাতের পরিচর্যার ছাপ চারপাশে ছড়ানো।

read more
পর্ব-২০: গোরা-সুনীতি: সম্পর্কের অন্য সুর

পর্ব-২০: গোরা-সুনীতি: সম্পর্কের অন্য সুর

সকলে মিলে মুড়ি নারকেল পাটালি খেয়ে নিয়েছে। খেয়েই নবীন লেগে পড়েছে কাজে। নারকেল গাছের পাতা কুড়িয়ে পিছনের বাগান পরিষ্কার করছে। ছোট একটা কোদাল জোগাড় করেছে কোথা থেকে। তাই দিয়ে মাটি কুপিয়ে গাঁদাল পালং পুঁইয়ের চারা পুঁতছে। তুলসীর ভাঙা মঞ্চ সারাই করে মাটি দিয়ে তকতকে করেছে। গোরা তার কর্মকান্ড দেখে অবাক। যে উদ্দেশ্যে তার ডায়মন্ডহারবারে আসা নবীনের আগমনের ঘনঘটায় সব যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

read more
পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

মায়ের নীল নীল শিরাওলা হাত দুটোর কথা মনে পড়েছিল। হেড দিদিমণির কাছে খুকুর ভর্তির জন্য সেই পাঁচ সিকে সহ বাড়িয়ে দেওয়া হাত। উদ্বাস্তু কন্যা সন্তানের শিক্ষা এরপর ফ্রি স্টুডেন্টশিপে চলবে ভেবেছিল তার মা। যেমন করেই হোক, মায়ের ফাঁকা বুকখানা খুকু ভরিয়ে দেবে পড়াশুনা করে।

read more
পর্ব-১৮: পরবাস প্রস্তুতি (চার)

পর্ব-১৮: পরবাস প্রস্তুতি (চার)

খুকু হেসেছে। সুনীতির তথৈবচ অবস্থা তো ও বোঝে সবচেয়ে বেশি! সংসারে দশটার ব্যস্ততা সাংঘাতিক। তখন খুকু সামলায় রান্নাঘর আর মা দাদাদের অফিস কাছারি, ভাইদের স্কুল কলেজ, খাওয়া-দাওয়া, ব্যস্ত থাকেন বিভিন্ন দরকারে। এরই মধ্যে আছে বাবার স্নানের জোগাড়। মধ্যে মধ্যে সেলাইয়ের মেশিন টেনেও বসেন সুনীতি।

read more
পর্ব-১৭: পরবাস প্রস্তুতি (তিন)

পর্ব-১৭: পরবাস প্রস্তুতি (তিন)

সুধা চোখের জল গোপন করে দৌড়ে চলে গেল নিজেদের ঘরে। সব মিলিয়ে মন খারাপ আর মন খারাপ। এত মন খারাপ নিয়ে কী করবে সুধা! বুঝতে পারছে এ বাড়ির পাট এবার উঠে যাবে। রাঙা কাকা মূল ফটক দিয়ে ঢুকে গেলেন। সুধাকে দেখতে পাননি। সুধা রোয়াক ছেড়ে নেমে গলির অন্ধকারে লুকিয়ে পড়েছিল।

read more
পর্ব-১৬: পরবাস প্রস্তুতি (দুই)

পর্ব-১৬: পরবাস প্রস্তুতি (দুই)

জ্যেষ্ঠ পুত্রের সঙ্গে কথায় কথায় পার হয়ে গেল কত সময়। উদ্বেল আবেগে ভাসছিলেন আদিনাথ। কথা ফুরিয়ে এসেছিল দু’জনের। আদিনাথের বুক থেকে নিঃসরিত হচ্ছিল পূর্ণতার সুখশ্বাস। দেবব্রতর কাজ অনেক। এখনই হয়তো উঠে যাবে। আদিনাথ কথা খুঁজছেন। আর কিছুক্ষণ যদি নিজের পাশে আটকে রাখা যেত ছেলেকে।

read more
পর্ব-১৫: পরবাস প্রস্তুতি (এক)

পর্ব-১৫: পরবাস প্রস্তুতি (এক)

পিসতুতো ভাই অমূল্য বাড়ি দেখে রেখেছে। বড় বাড়ি। অসুবিধা হবার কথা নয়। তবু বুকের ভিতর বালির বাঁধ ভাঙছিল। সেই একই যন্ত্রণা। একাকিত্বের। আলাদা হয়ে যাবার। জ্যেষ্ঠ পুত্রের কাছ থেকে বিদায় নিতে হবে পুনর্বার। আবার তাঁর জন্য নির্ধারিত হল অন্যবাস। দেবব্রত তাঁর বড় ছেলে। কেন যেন আদিনাথের জীবনের একমাত্র সম্বল। ঢেউয়ের ধাক্কায় ঝুপঝুপ করে ভাঙছিল তীরভূমি। অশনি সংকেতময় সেই ভাঙনের শব্দ এখনও কানে বাজে। ভিতরের বদ্ধ দীর্ঘশ্বাস বুক ফুঁড়ে বাইরে বেরোনোর আগে তাই আর একটিবার বলে দেখতে চাইছিলেন তাঁর খোকাকে। দেবব্রতকে।

read more
পর্ব-১৪: রাঙা মেঘের বেলাভূমি

পর্ব-১৪: রাঙা মেঘের বেলাভূমি

হা-আ-আ-ডু-ডু-ডু-ডু। জেলেপাড়ার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ক্রীড়া প্রমত্ত গৌরী। ফুলদিকে নিয়ে চিন্তিত সুধা এখন আর তাকে একা ছাড়ে না। নিতান্ত অনিচ্ছায় সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে চটি ধরে বসে থাকে। ফুলদি সে-দিন একখানা চটি হারিয়েছে। এটা নতুন। সুন্দরদা কলকাতা থেকে কিনে এনেছে। খেলার মাঠে তার ফুলদিই সবচেয়ে যোগ্য এবং শক্তিশালী খেলোয়াড়। সুধা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে দেখে। দু’ দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে ওরা। একদিকে মেয়েদের দল।

read more
পর্ব-১৩: ডায়মন্ড হারবার, গৌরীর হারিয়ে যাবার দিন

পর্ব-১৩: ডায়মন্ড হারবার, গৌরীর হারিয়ে যাবার দিন

গৌরী এবার উঠবে। নয়ত মায়ের হাতে খুন্তি পিটুনি। এতক্ষণে চমকে ওঠে। সর্বনাশ! চিনতে পারছে না। ছুটে ছুটে চলে তো এসেছে বহুদূর। পথের নিশানা করেনি! এধার ওধার ছুটোছুটি করলো খানিকক্ষণ। আচ্ছা সামনের ওই নালাটা কি পার হয়েছিল? সামনে কাকচক্ষু জল। অনেকক্ষণ ধরে জলতেষ্টা পেয়েছে। মুখ নিচু করে দু’ আঁজলা জল ভরে খেয়ে তবে শান্তি। না কোথাও কিছু চেনা নজরে আসছে না তো, সুন্দর বিলটা কোথায় গেল কোথায়? জেলে বস্তির অস্তিত্বই তো নেই চারপাশে, বালিয়াড়ির মধ্যেখানে একলা গৌরী যতদূর চোখ যায় তাকিয়ে বুঝলো, ও হারিয়ে গিয়েছে।

read more
পর্ব-১২: এ দিন যাবে, রবে না

পর্ব-১২: এ দিন যাবে, রবে না

শিয়ালদহ স্টেশনে ভিড়টা স্বাভাবিক ঠেকছে না। প্রবল মারপিট হাতাহাতি চলছে দুটো দলে। শঙ্কর জানে এ হররোজের ঘটনা। তার চেয়ে টিকিট লাইনে দাঁড়িয়ে পড়া ভালো। কী ভেবে চম্পারণের দুটো টিকিট কাটল। মন্মথ আসতে পারে বলেছিল। এমনিতে একা গেলেই ভালো হয়। পুরো ব্যাপারটা একদম নিজের মতো করে বুঝে আসা যায়। কিন্তু চারপাশে যা গরম হাওয়া, যুদ্ধ যুদ্ধ হুংকার, তাতে সম্পূর্ণ একলা গেলে সমস্যা হতে পারে।

read more
পর্ব-১১: স্বপ্নভূমি তিলজলা

পর্ব-১১: স্বপ্নভূমি তিলজলা

শিয়ালদা স্টেশনে খুব ভিড়। বদ্দি বিশ্বাস এসে তিলজলা ক্লাবে শংকরদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার আগে একদিনের জন্য চট করে চম্পারণ ক্যাম্পে ঘুরে আসবে শঙ্কর। টুকিটাকি জিনিস-সহ ছোট একটা ব্যাগ আগেই গুছিয়ে নিয়ে এসেছে। মায়ের কাছ থেকে দশটা টাকা ও যোগাড় করেছে। এ টাকা মাকে ফেরত দিয়ে দেবে শঙ্কর। অ্যাড এঁকেই তুলে দিতে পারবে টাকা। এখন হাতে বেশ কয়েকটা ব্যানার আঁকার কাজ আছে। সবটা করতে পারলে শ’খানেক তো হয়েই যাবে।

read more
পর্ব-১০: চাঁদের ওপিঠে কালো

পর্ব-১০: চাঁদের ওপিঠে কালো

শ্রবণ দর্শনের ক্ষমতাকেন্দ্র জড়ো করে এখন কেবল সুনীতি শুনছে আর দেখছে। গোরার দু’চোখে বিভ্রান্তি, অসহায়তা। তোতলাচ্ছে সামান্য। আকুল নিবেদনে জানাচ্ছে নিজের কৃতকর্ম। সুনীতির ধূসর অক্ষিগোলকের সামনে যেন কলাপাতায় মুড়ে বহু যত্নে নিবেদন করছে বধূর দুধেআলতা পদচিহ্ন। মাগো ওদের সম্পন্ন পরিবার শিক্ষিত বৈদ্যবংশ, সেনগুপ্ত, ভারী কোমল স্বভাবের ভদ্র মেয়ে।

read more
পর্ব-৯: শো-কেস শহর, উপসাগরীয় শিস এবং গোরার দিনরাত্রি

পর্ব-৯: শো-কেস শহর, উপসাগরীয় শিস এবং গোরার দিনরাত্রি

গোরা মানে গোরাচাঁদ নয়। গৌরাঙ্গ নয়। এ পরিবার শিবমন্ত্রে দীক্ষিত। গোরা হল গৌরিতোষ। সুনীতির সব ছেলেই মহাদেবের দোরধরা। শঙ্কর গৌরিতোষ আশুতোষ আর পিনাকী। আগের পক্ষের দেবতোষ শিবতোষও তাই। তার ওপর আর এক চমৎকার। বছর চারেক বয়সে সুনীতি সপরিবার বারাণসী গিয়েছিলেন। বাবা কিনে দিয়েছিলেন ছোট একখানি শ্বেতপাথরের শিব। লিঙ্গ নয়। পদ্মাসনে বসে থাকা সুস্মিত দেবাদিদেব।

read more
পর্ব-৮: সুনীতির পথ জন্মান্তরে

পর্ব-৮: সুনীতির পথ জন্মান্তরে

সুনীতির শরীর ভেঙে আসছে। পা দুটো অসম্ভব ভারি। মনে পাষাণভার। কিচ্ছু ভালো না লাগার ক্লান্তি। নকুল যত্নে তাঁকে বসিয়ে দিয়েছে মহিলা সংরক্ষিত কামড়ায়। আশেপাশে ভিড় করে আরো অনেকে। নোংরা মেঝে। পানের পিক ফেলা দেওয়াল। ধুলোমাখা আরশোলা এখানে ওখানে হাঁটছে। প্রশস্ত জানলা ছাড়িয়ে চোখ যাচ্ছে বহুদূর অজানা দিগন্ত। অজানা জগৎ। অজানা ঠিকানা। বৃদ্ধ স্বামী। এতগুলো ছেলেমেয়ে। কি যে করবেন সুনীতি!

read more
পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

সুনীতি রাতের শিশির আর ভেসে আসা শৈবালের তরঙ্গ দুহাতে সরিয়ে শীতল জলের গভীরে নিজেকে ডুবিয়ে রাখেন অনেকক্ষণ। সারাদিনের কাজের গন্ধ ধুয়ে ফেলেন শরীর থেকে। ওই প্রত্যেকটা ডুবের ভিতরে মিশে থাকে তাঁর আত্মশুদ্ধির রাত-আহ্নিক। শুচিতার গৌরব মনের মধ্যে জ্যোতির্ময়ী প্রদীপ হয়ে জ্বলে। মৃদুমন্দ বহতায় আরাম ছড়ায় হিমেল বাতাস। সে বাতাসের শরীর জুড়ে প্রকৃতির নিজস্ব শান্তি।

read more
পর্ব-৬: বিষণ্ণ সকাল, নিঃসঙ্গ আদিনাথ

পর্ব-৬: বিষণ্ণ সকাল, নিঃসঙ্গ আদিনাথ

ইন্দুমতি আদিনাথ রাজযোটক। সকলেই তাই বলতো। তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা ইন্দু। ওই মোমের মত রং ওই স্পর্শ ওই সহবাস সুখ! এখনও নিঃশব্দ রাতগুলোয় ওই নারীকে কাছে ডাকেন আদিনাথ। সেও আসে। লুকিয়ে লুকিয়ে তাঁরা মিলিত হন। ইন্দুর অশরীরী অস্তিত্বের মায়ামৃগ এখনো তাঁকে দুঃসহ ছুটিয়ে বেড়ায়।

read more

 

 

Skip to content