গল্পের ঝুলি

দশমী

দশমী

ঢাকের বাজনা এখন মিশে যাচ্ছে মাইকের ঘোষণায়, সিন্থেসাইজারের সুর হারিয়ে যাচ্ছে তাসার গর্জনে। বর্ণময় শোভাযাত্রায় আলোর সমুদ্রে ভেসে মা কৈলাশে ফিরে যাচ্ছেন। প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা এখন পাড়ার রাস্তা বেয়ে ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে বড় রাস্তার দিকে, পিছনে যেন রেখে যাচ্ছে একরাশ অন্ধকার।

read more
খুনসুটি

খুনসুটি

মা : এই কী হয়েছে রে? পুজোপাব্বনের দিনে কান্নাকাটি কীসের? হ্যাঁরে বাবিল,নিজে তো পড়তে বসিসনি, বোন পড়ছে,ওকেও পড়তে দিচ্ছিস না। পুজোর পরেই পরীক্ষা। বোন পাশ করে যাবে, আর তুই ওই ক্লাসেই পড়ে থাকবি। তখন বোন আর তুই একই ক্লাসে পড়বি। সেটা ভালোলাগবে তো? বাবলি : দেখো না মা, দাদা বলছে, তুমি নাকি আমাকে হাসপাতাল থেকে চেয়ে এনেছ?

read more
ইচ্ছাপূরণ

ইচ্ছাপূরণ

বৈজুর মা’র চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে থাকে। বলে, ‘ছেলেটা আমার খুব চাপা স্বভাবের। আমার অসুখ ,সংসারের নিত্যি অভাব ওকে ছোটো থাকতে দিলে না, এ বয়সের বাচ্চা কোথায় হেসে-খেলে বেড়াবে তা নয়, সারাক্ষণ টাকা রোজগারের জন্য খেটে চলেছে। নিজের ইচ্ছে, পছন্দের কথা কখনও মুখ ফুটে বলে না।’

read more
কনটেন্ট

কনটেন্ট

স্যারের গানের পোস্টটা এসবের মধ্যে আর শেয়ার করা হয়নি। নতুন নতুন ক্যাচলাইন ভাবতে ভাবতে এ’দুদিন সুমনদার কথাও মনে পড়েনি পত্রালির। বুকের ভিতর চিনচিনে ব্যথাটাও উধাও হয়ে গিয়েছে কী করে যেন! কবি বলেছিলেন বটে— প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে! কথাটা মিথ্যে নয়। সমাজমাধ্যমের দিব্যি, ভুবনজুড়েই প্রেমের রিচ। আর কন্টেন্ট হিসেবে ট্রু লাভের চেয়ে ভাঙা হৃদয়ের দাম বেশি, এই মুহূর্তে পত্রালির চেয়ে ভাল সেকথা আর কে-ই বা জানে!

read more
ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

বারো বছর আগের সেই নরম কোমল পল্লবী নয়— এই পল্লবীর যেন চোখের কোণে বয়সের সামান্য ছাপ পড়েছে, মুখে এসেছে পরিণত শান্তি। কিন্তু একই রকম রয়েছে সেই উজ্জ্বল চোখ দুটো! অনির্বাণ মনে মনে বলল— এই চোখ দুটোকে কী এত সহজে ভুলে থাকা যায়, প্রিয়ে? কয়েক মুহূর্ত অনির্বাণ পল্লবীর সঙ্গে কোনও কথা বলতে পারল না। নির্বাক দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল।

read more
দেবী

দেবী

শীতকাল, পিসিমা তাই একপ্রকার জোর করেই পিছন থেকে গায়ের চাদরটা ওর গলায় জড়িয়ে দেন। সাঁকোটা পার হতেই একটা উৎকট গন্ধ নাকে এসে লাগে। দেবী বোঝে বিপদ খুব কাছে। সে আরো সজাগ হয়ে হাঁটার গতি বাড়িয়ে দেয় কিন্তু একটু থামতেই গন্ধটা যেন তার ডান পাশে অনুভূত হল, দুর্গন্ধে দেবীর গা গুলিয়ে উঠল, তখনই পশুটার জ্বলন্ত চোখ দেবীর নজরে আসে।

read more
বন্ধুত্বের হাতছানি

বন্ধুত্বের হাতছানি

মা-হারা মেয়েকে এর আগে এত খুশি হারাধন কখনও দেখেনি। কাজের দেরি হবে জেনেও মেয়ের আনন্দের জন্য বাবা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো নদীর ধারে। তারপর দু’জনে মিলে মুড়ি-বাতাসা খেয়ে ফিরে এলো আবার জঙ্গলের মাঝে। তখন উঁচু উঁচু গাছগুলোর মাথা ভেদ করে সূর্যের আলো ঝিলিক দিচ্ছিল জঙ্গলের ভিতরে। এবার শুরু হল বাবার কাঠ কাটার আর কুসুমের শুকনো পাতা কুড়ানোর পালা। হঠাৎ একটা বাচ্চা হরিণ তাদের দিকে ছুটে আসতে আসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। হরিণ ছানার এক পায়ে তীরবেঁধা।

read more
শারদীয়ার গল্প-৬: দুর্গা রাগ

শারদীয়ার গল্প-৬: দুর্গা রাগ

মা দুইগ্গা আইতাছেন চাঁদ। দশ হাতে তাঁর মন্ডা মেঠাই, নূতন শাড়ি, জামা, কাপড় রাশি রাশি। আমরা ক্ষ্যাতের মিট্টি চাপড়ে লিয়ে ঘর দুয়োর নিকোবো…গিরিমাটি দে পেত্তেক বারের মতো দাওয়ায় এত্ত ছবি আঁকবা তুমি… সোন্দর সোন্দর চিত্তির...। ঠাকমার নিদ্রা বিজড়িত অলস অবশ হাত।‌ অভ্যাসবশে সন্তুর পিঠে ঢেঁকির মত আলতো করে উঠছে আর পড়ছে। সঙ্গে কানের পাশে একটানা কল্পিত পাঁচালি, বাহারি স্বপ্নের উড়োখই… পূজার দিন বামন কায়েতদের বাড়িত মনিব কুটুমজন ভিড় জমায়, অ্যাকব্যালা বানশি বাজনেই কত্তগুলা বকশিশ পাবে আমার সোনার চাঁদ… এহন খানিক ঘুম যাও...

read more
শারদীয়ার গল্প-৫: হটস্পট

শারদীয়ার গল্প-৫: হটস্পট

সামনে উল্টো দিকের এলিট বিরিয়ানিতে হঠাৎ করে ভিড়ে ভিড়, এপাশে বৌদির স্মার্ট বিরিয়ানির সবকটা টেবিল ফাঁকা। মোমোর দোকানে কিছু ভিড়, ও দিকের চাচার রোল, বাচ্চুর রোল হাউসে দু-চারজন বসে দাঁড়িয়ে। পলাশের হটস্পটের সামনে যেন ম্যাটিনি শোয়ের ভিড়। মাগো, মুখ তুলে চাও। একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে বাড়িয়ে ধরলে ওই স্নিগ্ধ হ্রদে ঢেউ উঠবে?

read more
শারদীয়ার গল্প-৪: অপ্রত্যাশিত

শারদীয়ার গল্প-৪: অপ্রত্যাশিত

আকাশ সোজা তাকালো স্পন্দিতার দিকে। স্পন্দিতা নির্বাক। ‘আপনি চাইলে আপনার আর আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দায়িত্ব আমি নিতে রাজি। যাই হোক না কেন, আমার আর ওর শরীরে তো একই রক্ত বইছে। এবার আপনি ভাবুন।’ খুব দ্রুত কথাগুলো বলে বেরিয়ে গেল আকাশ। স্পন্দিতা বসে পড়ল সোফায়। নিজের কানকেই বিশ্বাস হল না ওর। যা শুনলো, তা কি সত্যি! এও কি সম্ভব!

read more
শারদীয়ার গল্প-৩: নতুন পৃথিবীর সন্ধানে

শারদীয়ার গল্প-৩: নতুন পৃথিবীর সন্ধানে

রুমির স্কুলের শিক্ষিকারা তাকে পড়াশোনায় নানাভাবে সাহায্য করতেন। শিক্ষিকাদের সাহায্য, মায়ের ইচ্ছা আর নিজের মেধায় রুমি মাধ্যমিকে স্টার মার্কস নিয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করে। সে আমলে প্রথম বিভাগ পাওয়াটাই যথেষ্ট কঠিন ছিল, তার ওপর রুমি পেয়েছিল স্টার মার্কস। তাই সকলেরই প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

read more
শারদীয়ার গল্প-২: সালামের ঘোড়া

শারদীয়ার গল্প-২: সালামের ঘোড়া

সালাম ঘোড়ার পিছু পিছু হাঁটছিল। রাশ টানতেই থমকে দাঁড়ায়। উঠে পড়ে পিঠে। ঘোড়ার পিঠে উঠেই গতি বাড়ায়। ট্রামগুমটি পেরিয়ে শিয়ালদার ফ্লাইওভার। স্টেশনের ইলেকট্রনিক ঘড়িতে একটা পাঁচ। সালাম ঘোড়া ঘুরিয়ে ফেলে জগৎ সিনেমার দিকে। সব সময় সামনের দিকেই যেতে অভ্যস্ত ঘোড়া। চোখে ঢাকনা লাগানো থাকে। ফলে দু’পাশের কিছু দেখতে পায় না। যা দেখে, তা সোজা, বলা যায়, নাক-বরাবর।

read more
শারদীয়ার গল্প-১: কাঠ ঠোকরার বাসা

শারদীয়ার গল্প-১: কাঠ ঠোকরার বাসা

কাঠঠোকরা বলে হ্যাঁ হ্যাঁ, তা তো পারি। কিন্তু ভালো গাছ তো এ বাগানে দেখছি না। কোথায় পাবো শাল-সেগুন ভালো কাঠের গাছ? আমি তো ভালো কাঠওয়ালা গাছই খুঁজে বেড়াচ্ছি। শাল-সেগুন গাছ কোথায় আছে? ঠিক তখনই একদল চড়াই এসে বসল ওই গাছেরই আর একটা ডালে। একটা চড়াই বলল, একটা সেগুন গাছের হদিশ দিতে পারি আমি।

read more
ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার গল্প: জুতা আবিষ্কার

ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার গল্প: জুতা আবিষ্কার

বরকর্তা হিসেবে একটা নিটোল বিয়ের সুচারু ব্যবস্থাপনার পর সবাই নিশ্চিন্ত হয়ে বিয়ের আসর ছেড়ে ভুরিভোজের ঠিকানায় পা বাড়িয়েছি, তখন কন্যাপক্ষের এক যুবক এসে বললেন—কাকু ট্রলিব্যাগটা দিয়ে দিন। গাড়িটা যাচ্ছে ব্যাগটা বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

read more
দীপাবলির গল্প, থ্রেট /২

দীপাবলির গল্প, থ্রেট /২

শব্দবাজির কম্পাঙ্ক কমানোর জন্য আইনকানুন আলোচনা সবই হচ্ছে কিন্তু আখেরে কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। কানফাটানো শব্দের কোন বিরাম নেই। আর পাড়ার ভেতরে এতো কড়া আইনকানুন বলে কিছু নেই। মানা করতে গেলে বেশিরভাগ লোকই নাক কান চুলকে বলবেন——কালী পুজোর সময় বাজি পুড়বে না? এ কি হয় নাকি মশাই? কানে তুলে দিয়ে রাখুন, জোরসে মিউজিক চালিয়ে দিন।

read more

Skip to content