রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক

পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

আইসিইউতে অরণ্যকে রাখা হয়েছিল কেবিন নম্বর ২০৪-এ। কেবিনের সামনে দু’জন পুলিশ পাহারায় ছিল। শাক্য এসপিকে পইপই করে বলে দিয়েছিল, চব্বিশ ঘণ্টার একটা মুহূর্তও যেন পুলিশিপাহারা শিথিল না করা হয়। যেভাবেই হোক, নির্দিষ্ট ডাক্তার ছাড়া আর কেউ যাতে অরণ্যর কেবিনে ঢুকতে না পারে, তা দেখার দায়িত্বও ছিল পুলিশের। কেবল তাই নয়, নির্দিষ্ট নার্স এবং হাসপাতাল সুপারের উপস্থিতিতেই সেই ডাক্তার অরণ্যকে দেখতে পারবেন, এমনটিও ঠিক করে দিয়েছিল সে। আপাতত একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে তাকে। সদর হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার রিস্ক নেয়নি তারা।...

read more
পর্ব-১৮৪: বুনো তেঁতুল, বাঘা ওল

পর্ব-১৮৪: বুনো তেঁতুল, বাঘা ওল

নকল ফাদার আন্তোনিও ওরফে আনাতোলের দিকে তাকিয়ে মুহূর্তে উপস্থিত সবাই যেন ফ্রিজ হয়ে গেল। কী করবে, বুঝে উঠতে পারছিল না কেউ। আকস্মিক এমন ঘটনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি ছিল না কারও-ই। যে দিকে ঘটনাপ্রবাহ এগোচ্ছিল, তাতে সকলেই ভেবেছিল, খেলা একেবারে শেষের পথে। স্বরূপ উদ্‌ঘাটনের পরে নকল ফাদার আন্তোনিও ভেঙে পড়ে সারেন্ডার করবে। কিন্তু সে যে পকেট থেকে রিভলভার বার করে খেলা ঘুরিয়ে দিতে চাইবে, এমনটা কেউ ভাবেনি। মিস্টার শর্মা শাক্য এবং সুদীপ্তর মুখের দিকে তাকালেন।

read more
পর্ব-১৮৩: জোড়া আন্তোনিওর রহস্য

পর্ব-১৮৩: জোড়া আন্তোনিওর রহস্য

শাক্য একদৃষ্টিতে পেশেন্টের স্ট্রেচারে শায়িত আন্তোনিওর মুখের দিকে তাকিয়েছিল। সেই অবস্থাতেই সে বলল, “ভূতেরা যে কেবল রাতের বেলা বেরোয়, এ কিন্তু আপনার ভুল ধারণা মিঃ শর্মা। আপনি ভূতেদের আন্ডার-এস্টিমেট করছেন। মানহানির মোকদ্দমা হতে পারে ভৌতিক আদালতে। আমাদের বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ঠিক দুক্কুর বেলা, ভূতে মারে ঢেলা! তা ভূতেরা যদি দুপুরবেলা না-ই বেরোয়, তাহলে ঢেলা মারবে কী করে শুনি? তাই তো ফাদার?”

read more
পর্ব-১৮২: ডাবল ধামাকা

পর্ব-১৮২: ডাবল ধামাকা

শাক্য নিচুগলায় শর্মাকে কিছু বলল। শর্মা শুনে ঘাড় নাড়লেন। তারপর ফাদারের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ফাদার, আপনি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। আসুন। আপনি যাতে পরে কোন অভিযোগ না করতে পারেন, সেজন্য আপনারও থাকা উচিৎ এখানে। দেখুন, আন=মরা কিন্তু জাস্ট রুটিন এনকোয়ারি করছি। ফাদার এগিয়ে এলেন। তাঁকে কিছুটা নার্ভাস দেখাচ্ছিল। সেইসঙ্গে চাপা বিরক্তির চিহ্ন মুখে-চোখে।

read more
পর্ব-১৮১: সীমান্ত-সংঘাত

পর্ব-১৮১: সীমান্ত-সংঘাত

ফাদার চোখ রগড়ে ভালো করে দেখলেন, তাই তো। অন্তত খান পাঁচ-সাত গাড়ি দাঁড়িয়ে। তার মধ্যে বড় গাড়িও আছে দুটি। একটি আবার লোডেড। চেকপোস্টে যে সব পুলিশ এবং কাস্টমসের লোক থাকেন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে, তাদের অনেককেই ফাদার চেনেন ভালো করে। চার্চের গাড়ি, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স দেখলে তারা রুটিনমাফিক কেবল একবার উঁকি দিয়ে দেখে। পেশেন্ট থাকলে তো কথাই নেই। সঙ্গে-সঙ্গে ছেড়ে দেয়। সব সময় তো ফাদার নিজে থাকেন না। কিন্তু চার্চের গাড়ি আলাদা ট্রিটিমেন্ট পায় পুলিশ-প্রশাসনের কাছ থেকে।

read more
পর্ব-১৮০: যাত্রাপথে

পর্ব-১৮০: যাত্রাপথে

ড্রাইভারের বেশ অল্পবয়স। আগে কখনও দেখেনি শাক্য। থানায় অবশ্য বেশ কয়েকটি গাড়ি। সব ড্রাইভারকে চেনাতার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তাকে যতটা সম্ভব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুনে সে বেশ উত্তেজিতও হয়ে উঠেছিল। আজকালকার ওয়েব-সিরিজ দেখে সম্ভবত খুব। পাকা হাত অবশ্য। বেশ জোরেই গাড়ি চালাচ্ছিল। সুদীপ্ত খরচোখে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।

read more
পর্ব-১৭৯ : নুনিয়ার টান

পর্ব-১৭৯ : নুনিয়ার টান

শেফালিকা আছেন বলে নুনিয়ার খাওয়া-দাওয়ার কোনও অসুবিধা নেই। বাইরের খাবার দেওয়ার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নুনিয়াকে রাজসাক্ষী করা হবে এটাই ঠিক আছে। এই অবস্থায় তার প্রাণের উপর আবার অ্যাটেম্পট হলে ওইটুকু বাচ্চার প্রাণ তো যাবেই, কেসের ভবিষ্যতও বিশ বাঁও জলে চলে যাবে।

read more
পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

সুদীপ্ত ভেবেছিল রেস্ট নেবে ক’দিন, বেশ ধকল গিয়েছে পিশাচপাহাড় হেলথ সেন্টার চেজের ঘটনায়, কিন্তু আজ সকালের ঘটনা শুনে সে ছুটে এসেছে। সঙ্গে আফজল নামের ছেলেটিও আছে। আফজল-ও বেশ করিতকর্মা। এক ওই মালাকার ছাড়া এই থানার বাকি সকলের দক্ষতা এবং উদ্যম নিয়ে শাক্যর কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু মালাকার যেন গা-ছেড়ে দিয়েছেন আগে থেকেই। এত কিছুর পরেও তাঁর বিশ্বাস, কালাদেওই এত কিছুর হোতা। কিছুক্ষণ আগেও তার কানের কাছে সেই ব্যাপারে বকবক করছিলেন।

read more
পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

হেড কুক অনন্ত পাণিগ্রাহী সমস্ত জিনিস ফ্রিজে তুলে রাখছে। গেস্টদের জন্য লাঞ্চের পাট আজ সম্ভবত উঠল। তাদের নিজেদের লাঞ্চের মেনু হিসাবে আজ ভাত, আলুসেদ্ধ, পটলভাজা আর ডিমের কারি ঠিক হয়েছিল গতকাল রাতেই। কিন্তু আজ সে-সব রান্না হবে কি-না কেউ জানে না। সকলেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় তটস্থ হয়ে আছে। সত্যিই তো এ-রিসর্টকে কেন্দ্র করে যা-সব চলছে বেশ কিছুদিন ধরে, তাতে মাথা ঠিক রাখা আর কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

read more
পর্ব-১৭৬ : আলোচনার টেবিলে

পর্ব-১৭৬ : আলোচনার টেবিলে

কোর্টে একটা বড় অ্যাডভান্টেজ পেয়েছে পুলিশ। যে-বিপুল পরিমাণে অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার হয়েছে কালাদেওর গুহা থেকে, তা কেবল জেলা বা রাজ্য নয়, সারা দেশেই আলোড়ন তুলেছে। পুলিশের স্থানীয় দেওতার থানে প্রবেশ নিয়ে যে ক্ষোভ তলে তলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল, তা আর দানা বাঁধতে পারেনি। প্রায় সকলেই একযোগে এখন দুষছে মঙ্গল ওঝাকে। লোকটি মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছে, নাহলে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতেই হয়ত তার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করত।

read more
পর্ব-১৭৫ : শেষের খুব কাছে

পর্ব-১৭৫ : শেষের খুব কাছে

কালাদেও জেগে ওঠার আগে, বছর দু’য়েক আগেও অনেকেই ভোরবেলা ওই পথে যাতায়াত করত। আসানমুড়ায় একখানা সিমেন্টের কারখানা হয়েছে বছর পাঁচ-সাত, সেখানে এদিককার অনেকেই কাজ করে। তারা দল বেঁধে, কখন একা সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করত। কিন্তু তাদের একজন ফেরার পথে কালাদেওর বলি হয়, সেই থেকে সকলে এত ভয় পেয়ে গিয়েছে যে, যাদের ইভনিং শিফট থাকে, তারা আর ফেরে না। নাইট শিফটে এক্সট্রা ডিউটি নিয়ে পরের দিন সকালে ফেরে। আজকাল পিশাচপাহাড়ে অনেকগুলি রিসর্ট-হোটেল তৈরি হয়েছে।

read more
পর্ব-১৭৪ :কালাদেও নয়?

পর্ব-১৭৪ :কালাদেও নয়?

কালাদেও যদি অপ্রাকৃত কোনও প্রেত হয়, তাহলে তার সঙ্গে পুলিশবিভাগের লড়াই করা হবে হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করার সামিল। কিন্তু একটা কথা সে বুঝতে পারছে না। আগে তার মাথায় আসেনি। এখন এল। কালাদেও প্রেত হলে তার কাছে দরজা বন্ধই থাক কিংবা খোলা কী যায় আসে? প্রেত তো সর্বত্রগামী হয়, তাই না? তাহলে সে যতই দরজা এঁটে ঘরের মধ্যে বসে থাক-না-কেন, সেখানে কালাদেওর ঢুকে পরতে তো কোন অসুবিধা নেই। তাহলে কেন সে দরজা নক্‌ করছে বারবার?

read more
পর্ব-১৭৩ : পিঞ্জরে অচিন পাখি

পর্ব-১৭৩ : পিঞ্জরে অচিন পাখি

কোলাহলটা কাছেই এগিয়ে আসছে। শাক্য ভাবল, কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। অনন্তের দলবল যদি হত, তাহলে নিশ্চয়ই এত হট্টগোল করে তারা আসত না, নিঃশব্দে এসে নিঃশব্দে কাজ মিটিয়ে যাওয়াই তারা পছন্দ করত। তাহলে কি অন্য কেউ। জঙ্গলে অনেকসময় পাতাকুড়ানি, কাঠকুটো কুড়ানোর জন্য স্থানীয় মানুষেরা আসেন দলবল নিয়ে। কিন্তু আজ তো পিশাচপাহাড় গ্রামে উৎসব। খাওয়াদাওয়া। এর মধ্যে গ্রামের লোকজন পাতা কুড়ানোর জন্য জঙ্গলে আসবে, তাও এমন দল বেঁধে এটা কেমন বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছিল না।

read more
পর্ব-১৭২ : শুধু হাসি-খেলা?

পর্ব-১৭২ : শুধু হাসি-খেলা?

পরিচিত সার্কেলের মধ্যে অনেকেই জানে। এ-ব্যাপারে সে রাখঢাক গুড়গুড় করে না। ক’দিন আগে অনেকদিন পরে কাউকে সে এভাবে ধর্ষণ করল। আসলে সম্মতি ছাড়া সঙ্গম, পেনিট্রেশন তো ধর্ষণই। সেদিক থেকে অর্ককে সে ধর্ষণই করেছে। আসলে ও এত হিপোক্রিট যে, সহ্য করতে না পেরে…। পরে অবশ্য একটু খারাপ লাগছিল। যতই হোক বন্ধু, হোক না তার ওরিয়েন্টেশন অন্যরকম, কিন্তু তা বলে…! তার নিজের ওরিয়েন্টেশনও তো অন্যরকম, তাহলে? পরের দিন একবার ভাবছিল ক্ষমা চেয়ে নেবে, তারপর আর ইচ্ছে করেনি।

read more
পর্ব-১৭১ : গুহার বাইরে তখন

পর্ব-১৭১ : গুহার বাইরে তখন

>ভাগ্য ভালো, বস ফোন ধরলেন। মৃদু স্বরে যতটুকু জানানোর জানাল সে, একইসঙ্গে সে যে আহত হয়েছে, তাও। বস কোনরকমে বললেন, “তুই চার্চ-হাসপাতালে দেখিয়ে নে। আমি বলে রাখছি। কোন সমস্যা হবে না। যত তাড়াতাড়ি পারিস ওখান থেকে বেরিয়ে আয়। আবদুলকে বলছি, বাইক নিয়ে অপেক্ষা করবে জঙ্গলের বাইরে। এক্ষুনি পাঠাচ্ছি ওকে। তার আগে নিজে যাতে ধরা না পড়িস সেই চেষ্টা দেখ! রাখছি!” বলে ফোন রেখে দিল। ক্লান্তিতে সে চোখ বুজেছে একটু, এমনসময় তার রগের কাছে কেউ একটা নল চেপে ধরল, তারপর ঠান্ডা গলার আওয়াজ শুনল সে, “পালাবার বৃথা চেষ্টা কর না। তুমি এখন আমার কব্জায়। আমাকে চেনো? আমার নাম শাক্য সিংহ!”

read more

Skip to content