রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক

পর্ব-১৭৯ : নুনিয়ার টান

পর্ব-১৭৯ : নুনিয়ার টান

শেফালিকা আছেন বলে নুনিয়ার খাওয়া-দাওয়ার কোনও অসুবিধা নেই। বাইরের খাবার দেওয়ার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নুনিয়াকে রাজসাক্ষী করা হবে এটাই ঠিক আছে। এই অবস্থায় তার প্রাণের উপর আবার অ্যাটেম্পট হলে ওইটুকু বাচ্চার প্রাণ তো যাবেই, কেসের ভবিষ্যতও বিশ বাঁও জলে চলে যাবে।

read more
পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

সুদীপ্ত ভেবেছিল রেস্ট নেবে ক’দিন, বেশ ধকল গিয়েছে পিশাচপাহাড় হেলথ সেন্টার চেজের ঘটনায়, কিন্তু আজ সকালের ঘটনা শুনে সে ছুটে এসেছে। সঙ্গে আফজল নামের ছেলেটিও আছে। আফজল-ও বেশ করিতকর্মা। এক ওই মালাকার ছাড়া এই থানার বাকি সকলের দক্ষতা এবং উদ্যম নিয়ে শাক্যর কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু মালাকার যেন গা-ছেড়ে দিয়েছেন আগে থেকেই। এত কিছুর পরেও তাঁর বিশ্বাস, কালাদেওই এত কিছুর হোতা। কিছুক্ষণ আগেও তার কানের কাছে সেই ব্যাপারে বকবক করছিলেন।

read more
পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

হেড কুক অনন্ত পাণিগ্রাহী সমস্ত জিনিস ফ্রিজে তুলে রাখছে। গেস্টদের জন্য লাঞ্চের পাট আজ সম্ভবত উঠল। তাদের নিজেদের লাঞ্চের মেনু হিসাবে আজ ভাত, আলুসেদ্ধ, পটলভাজা আর ডিমের কারি ঠিক হয়েছিল গতকাল রাতেই। কিন্তু আজ সে-সব রান্না হবে কি-না কেউ জানে না। সকলেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় তটস্থ হয়ে আছে। সত্যিই তো এ-রিসর্টকে কেন্দ্র করে যা-সব চলছে বেশ কিছুদিন ধরে, তাতে মাথা ঠিক রাখা আর কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

read more
পর্ব-১৭৬ : আলোচনার টেবিলে

পর্ব-১৭৬ : আলোচনার টেবিলে

কোর্টে একটা বড় অ্যাডভান্টেজ পেয়েছে পুলিশ। যে-বিপুল পরিমাণে অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার হয়েছে কালাদেওর গুহা থেকে, তা কেবল জেলা বা রাজ্য নয়, সারা দেশেই আলোড়ন তুলেছে। পুলিশের স্থানীয় দেওতার থানে প্রবেশ নিয়ে যে ক্ষোভ তলে তলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল, তা আর দানা বাঁধতে পারেনি। প্রায় সকলেই একযোগে এখন দুষছে মঙ্গল ওঝাকে। লোকটি মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছে, নাহলে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতেই হয়ত তার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করত।

read more
পর্ব-১৭৫ : শেষের খুব কাছে

পর্ব-১৭৫ : শেষের খুব কাছে

কালাদেও জেগে ওঠার আগে, বছর দু’য়েক আগেও অনেকেই ভোরবেলা ওই পথে যাতায়াত করত। আসানমুড়ায় একখানা সিমেন্টের কারখানা হয়েছে বছর পাঁচ-সাত, সেখানে এদিককার অনেকেই কাজ করে। তারা দল বেঁধে, কখন একা সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করত। কিন্তু তাদের একজন ফেরার পথে কালাদেওর বলি হয়, সেই থেকে সকলে এত ভয় পেয়ে গিয়েছে যে, যাদের ইভনিং শিফট থাকে, তারা আর ফেরে না। নাইট শিফটে এক্সট্রা ডিউটি নিয়ে পরের দিন সকালে ফেরে। আজকাল পিশাচপাহাড়ে অনেকগুলি রিসর্ট-হোটেল তৈরি হয়েছে।

read more
পর্ব-১৭৪ :কালাদেও নয়?

পর্ব-১৭৪ :কালাদেও নয়?

কালাদেও যদি অপ্রাকৃত কোনও প্রেত হয়, তাহলে তার সঙ্গে পুলিশবিভাগের লড়াই করা হবে হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করার সামিল। কিন্তু একটা কথা সে বুঝতে পারছে না। আগে তার মাথায় আসেনি। এখন এল। কালাদেও প্রেত হলে তার কাছে দরজা বন্ধই থাক কিংবা খোলা কী যায় আসে? প্রেত তো সর্বত্রগামী হয়, তাই না? তাহলে সে যতই দরজা এঁটে ঘরের মধ্যে বসে থাক-না-কেন, সেখানে কালাদেওর ঢুকে পরতে তো কোন অসুবিধা নেই। তাহলে কেন সে দরজা নক্‌ করছে বারবার?

read more
পর্ব-১৭৩ : পিঞ্জরে অচিন পাখি

পর্ব-১৭৩ : পিঞ্জরে অচিন পাখি

কোলাহলটা কাছেই এগিয়ে আসছে। শাক্য ভাবল, কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। অনন্তের দলবল যদি হত, তাহলে নিশ্চয়ই এত হট্টগোল করে তারা আসত না, নিঃশব্দে এসে নিঃশব্দে কাজ মিটিয়ে যাওয়াই তারা পছন্দ করত। তাহলে কি অন্য কেউ। জঙ্গলে অনেকসময় পাতাকুড়ানি, কাঠকুটো কুড়ানোর জন্য স্থানীয় মানুষেরা আসেন দলবল নিয়ে। কিন্তু আজ তো পিশাচপাহাড় গ্রামে উৎসব। খাওয়াদাওয়া। এর মধ্যে গ্রামের লোকজন পাতা কুড়ানোর জন্য জঙ্গলে আসবে, তাও এমন দল বেঁধে এটা কেমন বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছিল না।

read more
পর্ব-১৭২ : শুধু হাসি-খেলা?

পর্ব-১৭২ : শুধু হাসি-খেলা?

পরিচিত সার্কেলের মধ্যে অনেকেই জানে। এ-ব্যাপারে সে রাখঢাক গুড়গুড় করে না। ক’দিন আগে অনেকদিন পরে কাউকে সে এভাবে ধর্ষণ করল। আসলে সম্মতি ছাড়া সঙ্গম, পেনিট্রেশন তো ধর্ষণই। সেদিক থেকে অর্ককে সে ধর্ষণই করেছে। আসলে ও এত হিপোক্রিট যে, সহ্য করতে না পেরে…। পরে অবশ্য একটু খারাপ লাগছিল। যতই হোক বন্ধু, হোক না তার ওরিয়েন্টেশন অন্যরকম, কিন্তু তা বলে…! তার নিজের ওরিয়েন্টেশনও তো অন্যরকম, তাহলে? পরের দিন একবার ভাবছিল ক্ষমা চেয়ে নেবে, তারপর আর ইচ্ছে করেনি।

read more
পর্ব-১৭১ : গুহার বাইরে তখন

পর্ব-১৭১ : গুহার বাইরে তখন

>ভাগ্য ভালো, বস ফোন ধরলেন। মৃদু স্বরে যতটুকু জানানোর জানাল সে, একইসঙ্গে সে যে আহত হয়েছে, তাও। বস কোনরকমে বললেন, “তুই চার্চ-হাসপাতালে দেখিয়ে নে। আমি বলে রাখছি। কোন সমস্যা হবে না। যত তাড়াতাড়ি পারিস ওখান থেকে বেরিয়ে আয়। আবদুলকে বলছি, বাইক নিয়ে অপেক্ষা করবে জঙ্গলের বাইরে। এক্ষুনি পাঠাচ্ছি ওকে। তার আগে নিজে যাতে ধরা না পড়িস সেই চেষ্টা দেখ! রাখছি!” বলে ফোন রেখে দিল। ক্লান্তিতে সে চোখ বুজেছে একটু, এমনসময় তার রগের কাছে কেউ একটা নল চেপে ধরল, তারপর ঠান্ডা গলার আওয়াজ শুনল সে, “পালাবার বৃথা চেষ্টা কর না। তুমি এখন আমার কব্জায়। আমাকে চেনো? আমার নাম শাক্য সিংহ!”

read more
পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল

পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল

সকাল থেকেই আজ সাজো-সাজো রব সেকারণেই। ফাদারের জিনিষপত্র বাঁধাছাঁদা কমপ্লিট আগেই। ফাদার যাবেন চার্চের অ্যাম্বুলেন্সে। মেডিক্যাল কিছু জিনিসপত্র কিনে কলকাতা থেকে সেই অ্যাম্বুলেন্স ফিরে আসবে। যাওয়ার আগে জনে-জনে ডেকে ফাদার কাল থেকেই পাখিপড়ার মতো বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আজকেও দিচ্ছেন আর ঘন-ঘন মোবাইল দেখছেন। যেন কারুর ফোনের অপেক্ষা করছেন। ফোন এল তখন দশটা বাজে। ফাদার ফোন হাতে অফিসঘরের দিকে চলে গেলেন। তাঁর মুখে আঁধার ঘনাচ্ছিল।

read more
পর্ব-১৬৯ : আড়ালে আছে আততায়ী

পর্ব-১৬৯ : আড়ালে আছে আততায়ী

শাক্য পকেট থেকে রিভলভার বার করে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ উল্টোদিক থেকে একটা বুলেট তীব্রগতিতে ছুটে এসে প্রায় কানের কাছ ঘেঁষে টিলাপাথরে লেগে আওয়াজ তুলল। শাক্য আর দেরি করল না। সে-ও পাল্টা গুলি চালাল। লোকটির পিস্তলধরা হাত টার্গেট করেই সে গুলিটা চালাল। ট্রেনিং-এর সময় নিখুঁত লক্ষ্যে গুলি চালানোর ব্যাপারে তার নামডাক ছিল। এবারেও ব্যর্থ হল না। একটা চিৎকার। তারপরেই লোকটির হাত থেকে পিস্তল খসে পড়ল। লোকটি আহত হয়েছে। শাক্য সেদিকে দৌড়ে গেল।

read more
পর্ব-১৬৮ : পথের শেষ কোথায়?

পর্ব-১৬৮ : পথের শেষ কোথায়?

পিনাকীবাবু জিভ কাটলেন, “না না স্যার। কী বলছেন? আমাকে দেখে কি তেমন মনে হয়? যতদিন আমার স্ত্রী জীবিত ছিলেন, ততদিন তালা লাগিয়ে আসার প্রয়োজন পড়ত না। তাঁর লাং-ক্যান্সার হয়েছিল। পাঁচ বছর হল তিনি গত হয়েছেন। আমাদের একটিই সন্তান। মুম্বই আইআইটিতে পড়ে!” বলে তিনি আর কথা না বাড়িয়ে শাক্যর হাত থেকে চাবির গোছা নিয়ে চেষ্টা করতে লাগলেন।

read more
পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো

পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো

শাক্যর মনে সন্দেহ জাগছিল, এই গুহার মধ্যে নিশ্চয়ই মানুষের যাতায়াত আছে এবং পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচলেরও কোন বন্দোবস্ত আছে, সে হতে পারে প্রাকৃতিক, কিংবা মানুষের দ্বারা ব্যবস্থা করা। গুহার সংকীর্ণ ফাঁক দিয়ে ভিতরের দিকে তাকিয়ে তার মনে হল, এই কারণেই ট্যানেলের মধ্যে এত সহজে তারা আসতে পেরেছে। সে কর্নেলকে বলল, “আমি কি মশালটা এবার নিভিয়ে ফেলতে পারি?”

read more
পর্ব-১৬৬ : ভাগ্য যখন ফেরে

পর্ব-১৬৬ : ভাগ্য যখন ফেরে

আফজল একটা কাঁচা খিস্তি মারল, তারপর বলল, “অপরাধীদের জন্য যতগুলি হিউম্যান রাইটস্‌ অরগ্যানাইজেশন সারা বিশ্বে চলে, সাধারণ মানুষের রাইটস্‌ নিয়ে ততটা কিন্তু চলে না। আপনি কোনও হিউম্যান রাইটস অরগ্যানাইজেশনকে দেখবেন না, যারা এই সমস্ত গ্যাং-এর ভিকটিম হিসেবে মারা গিয়েছে, তাদের হয়ে কথা বলতে। আমাদের সিস্টেম—ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত এত কোরাপটেড—আপনি তো জানেন, আমাদের পুলিশকেই কি লোকে সাধে এমনি-এমনি বদনাম করে?

read more
পর্ব-১৬৫ : কালাদেওর গুহায়

পর্ব-১৬৫ : কালাদেওর গুহায়

গুহাটি বেশ লম্বা, শেষ আর হয় না। হঠাৎ একজায়গায় এসে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল তারা তিনজনে। গুহাটি এতদূর এসে কে যেন দু’পাশ থেকে দু’হাতে চেপে গুহার যাতায়াতের পথ এতটাই সংকীর্ণ করে দিয়েছে যে, আরও এগোতে গেলে কোনভাবে দেওয়ালের দিকে মুখ করে এগোলে তবেই ওপাশে যাওয়া যাবে।

read more

Skip to content