রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক

পর্ব-১৯১: কেন পান্থ, চঞ্চলতা!

পর্ব-১৯১: কেন পান্থ, চঞ্চলতা!

হাসপাতালে উন্মেষাকে দেখবে বলে আশা করেনি তৃধা। সঙ্গে আবার কাপাডিয়া। লোকটিকে দেখলেই তার মন অখুশি হয়ে ওঠে। মুখচোখের চেহারা যেন কেমন! চামরা ভাঁজ পড়ে গুটিয়ে এসেছে। মুখের একপাশটা কেমন থবড়ে গিয়েছে বলে মনে হয়। স্কিন কেমন খসখসে। মরা মাছের চামরার মতো। অন্ধকারে প্রথম দেখতে তৃধা নির্ঘাৎ প্রেত ভেবে চিৎকার করে উঠত। কিন্তু এসেছে কেন ও?

read more
পর্ব-১৯০: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/২

পর্ব-১৯০: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/২

ইরাবতীর ডায়েরিতে এরপর আছে গ্রুপের মহিলা সদস্যদের সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট। প্রথমেই তৃধার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। শাক্য দেখল লেখা আছে—তৃধা। বয়স—৩৩ বছর। দক্ষিণ কলকাতার নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট। বছর সাতেক বিবাহ হয়েছে। স্বামী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। যোধপুর পার্কে পেল্লায় সাইজের ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন। জীবনযাত্রা, বোহেমিয়ান টাইপ। এমনিতে স্বামীকে নিয়ে সুখী সংসার।

read more
পর্ব-১৮৯: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/১

পর্ব-১৮৯: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/১

অনিল সম্পর্কে পড়ার পর শাক্য নিজের মনে প্রশ্ন সাজালো। এই রিপোর্টে অনিলের ফ্যামিলির কোন ডিটেইলস্‌ নেই। কেন? তার বাবা মা, দাদা ভাই বোন ইত্যাদি কেউ নেই? না কি থাকলেও তাঁদের সঙ্গে অনিলের কোনও সম্পর্ক ছিল না। না থাকলেও ইরাবতীর অন্তত উল্লেখ করা উচিত ছিল। যে মানুষটি নেই, তার সম্পর্কে জানতে হলে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব এঁদের দরকার। অনিলের ক্ষেত্রে তাহলে কার কাছে যাবে সে?

read more
পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার

পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার

একটা দীর্ঘ শাওয়ার নেওয়ার পর শাক্য দেহ-মনে কিছুটা শান্তি এবং এনার্জি ফিরে পেল। দু’দিন ধরে নাগাড়ে ছোটাছুটি চলছে। এখানে আসা ইস্তক কাজের চাপে ফ্রি-হ্যান্ড করার সময়টুকুও পাচ্ছে না ভালো করে। কাল ভোরে উঠে অন্তত চল্লিশ মিনিট সে ফ্রি-হ্যান্ডের পিছনে খরচ করবে ঠিক করল। বনদপ্তরের বাংলো এই মুহূর্তে সুনসান। টাওয়েল দিয়ে শরীরের জল ভালো করে মুছে খাটো সাদা বক্সার পরে বারান্দায় এসে বসল সে। বারান্দায় সর্বক্ষণ একটা টি-টেবল আর চেয়ার রাখা থাকে। এই মুহূর্তে দরকার ছিল ছোট্ট দু’ পেগ। কিন্তু এখন আর তা চাওয়ার কোন মানে হয় না। সুদীপ্ত তাকে...

read more
পর্ব-১৮৭:  স্কুপ-নিউজ

পর্ব-১৮৭: স্কুপ-নিউজ

একে-একে থানায় ঢুকছিল গাড়িগুলি। সদর থেকে বড়সড় ফোর্স এসে গিয়েছিল আগেই। ঢুকছে সব একে-একে। এসপি নিজে উপস্থিত। ডিএমের জরুরি একটা মিটিং থাকায় তিনি আসতে পারেননি। তবে ওভার ফোন যোগাযোগ রাখছেন। থানার সামনে লোকে লোকারণ্য। প্রিন্ট এবং টেলিমিডিয়া—উভয় মাধ্যমের সাংবাদিকদের জটলা চোখে পড়ছে। সকলেই স্কুপ নিউজের জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে আছে। গোটা অপারেশনটা এমন গোপন রাখা হয়েছিল যে, কাকপক্ষীও টের পায়নি। লালবাজার থেকে আসা শাক্য সিংহের ঢিলেঢালা ভাব দেখে সকলে কিছুদিন আগেও ভেবেচজিল, নামেই গোয়েন্দা, কাজে অষ্টরম্ভা; তারা সকলেই নড়েচড়ে বসেছে।...

read more
পর্ব-১৮৬: থানায় তখন

পর্ব-১৮৬: থানায় তখন

“স্যার, ছোট জায়গা বলেই তো পিছনে লাগবে। স্থানীয় অনেকেই আমাদের দেখাদেখি এখানে হোটেল বা রিসর্ট কিংবা স্টে-হোমের ব্যবসা চালু করেছে। এইটুকু জায়গায় বছিওরের বিশেষ সিজন ছাড়া তো আর ট্যুরিস্ট হয় না। গরমের দিনে যতই আপনি এসির ব্যবস্থা রাখুন, লোকে যেহেতু বাইরে বেরুতে পারে না, ঘুরে-বেড়াতে পারে না, তারা কেন আসবে? আমাদের ইখানে সামারসিজনে এজন্যই ট্যুরিস্ট হয় না।”

read more
পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

আইসিইউতে অরণ্যকে রাখা হয়েছিল কেবিন নম্বর ২০৪-এ। কেবিনের সামনে দু’জন পুলিশ পাহারায় ছিল। শাক্য এসপিকে পইপই করে বলে দিয়েছিল, চব্বিশ ঘণ্টার একটা মুহূর্তও যেন পুলিশিপাহারা শিথিল না করা হয়। যেভাবেই হোক, নির্দিষ্ট ডাক্তার ছাড়া আর কেউ যাতে অরণ্যর কেবিনে ঢুকতে না পারে, তা দেখার দায়িত্বও ছিল পুলিশের। কেবল তাই নয়, নির্দিষ্ট নার্স এবং হাসপাতাল সুপারের উপস্থিতিতেই সেই ডাক্তার অরণ্যকে দেখতে পারবেন, এমনটিও ঠিক করে দিয়েছিল সে। আপাতত একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে তাকে। সদর হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার রিস্ক নেয়নি তারা।...

read more
পর্ব-১৮৪: বুনো তেঁতুল, বাঘা ওল

পর্ব-১৮৪: বুনো তেঁতুল, বাঘা ওল

নকল ফাদার আন্তোনিও ওরফে আনাতোলের দিকে তাকিয়ে মুহূর্তে উপস্থিত সবাই যেন ফ্রিজ হয়ে গেল। কী করবে, বুঝে উঠতে পারছিল না কেউ। আকস্মিক এমন ঘটনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি ছিল না কারও-ই। যে দিকে ঘটনাপ্রবাহ এগোচ্ছিল, তাতে সকলেই ভেবেছিল, খেলা একেবারে শেষের পথে। স্বরূপ উদ্‌ঘাটনের পরে নকল ফাদার আন্তোনিও ভেঙে পড়ে সারেন্ডার করবে। কিন্তু সে যে পকেট থেকে রিভলভার বার করে খেলা ঘুরিয়ে দিতে চাইবে, এমনটা কেউ ভাবেনি। মিস্টার শর্মা শাক্য এবং সুদীপ্তর মুখের দিকে তাকালেন।

read more
পর্ব-১৮৩: জোড়া আন্তোনিওর রহস্য

পর্ব-১৮৩: জোড়া আন্তোনিওর রহস্য

শাক্য একদৃষ্টিতে পেশেন্টের স্ট্রেচারে শায়িত আন্তোনিওর মুখের দিকে তাকিয়েছিল। সেই অবস্থাতেই সে বলল, “ভূতেরা যে কেবল রাতের বেলা বেরোয়, এ কিন্তু আপনার ভুল ধারণা মিঃ শর্মা। আপনি ভূতেদের আন্ডার-এস্টিমেট করছেন। মানহানির মোকদ্দমা হতে পারে ভৌতিক আদালতে। আমাদের বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ঠিক দুক্কুর বেলা, ভূতে মারে ঢেলা! তা ভূতেরা যদি দুপুরবেলা না-ই বেরোয়, তাহলে ঢেলা মারবে কী করে শুনি? তাই তো ফাদার?”

read more
পর্ব-১৮২: ডাবল ধামাকা

পর্ব-১৮২: ডাবল ধামাকা

শাক্য নিচুগলায় শর্মাকে কিছু বলল। শর্মা শুনে ঘাড় নাড়লেন। তারপর ফাদারের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ফাদার, আপনি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। আসুন। আপনি যাতে পরে কোন অভিযোগ না করতে পারেন, সেজন্য আপনারও থাকা উচিৎ এখানে। দেখুন, আন=মরা কিন্তু জাস্ট রুটিন এনকোয়ারি করছি। ফাদার এগিয়ে এলেন। তাঁকে কিছুটা নার্ভাস দেখাচ্ছিল। সেইসঙ্গে চাপা বিরক্তির চিহ্ন মুখে-চোখে।

read more
পর্ব-১৮১: সীমান্ত-সংঘাত

পর্ব-১৮১: সীমান্ত-সংঘাত

ফাদার চোখ রগড়ে ভালো করে দেখলেন, তাই তো। অন্তত খান পাঁচ-সাত গাড়ি দাঁড়িয়ে। তার মধ্যে বড় গাড়িও আছে দুটি। একটি আবার লোডেড। চেকপোস্টে যে সব পুলিশ এবং কাস্টমসের লোক থাকেন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে, তাদের অনেককেই ফাদার চেনেন ভালো করে। চার্চের গাড়ি, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স দেখলে তারা রুটিনমাফিক কেবল একবার উঁকি দিয়ে দেখে। পেশেন্ট থাকলে তো কথাই নেই। সঙ্গে-সঙ্গে ছেড়ে দেয়। সব সময় তো ফাদার নিজে থাকেন না। কিন্তু চার্চের গাড়ি আলাদা ট্রিটিমেন্ট পায় পুলিশ-প্রশাসনের কাছ থেকে।

read more
পর্ব-১৮০: যাত্রাপথে

পর্ব-১৮০: যাত্রাপথে

ড্রাইভারের বেশ অল্পবয়স। আগে কখনও দেখেনি শাক্য। থানায় অবশ্য বেশ কয়েকটি গাড়ি। সব ড্রাইভারকে চেনাতার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তাকে যতটা সম্ভব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুনে সে বেশ উত্তেজিতও হয়ে উঠেছিল। আজকালকার ওয়েব-সিরিজ দেখে সম্ভবত খুব। পাকা হাত অবশ্য। বেশ জোরেই গাড়ি চালাচ্ছিল। সুদীপ্ত খরচোখে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।

read more
পর্ব-১৭৯ : নুনিয়ার টান

পর্ব-১৭৯ : নুনিয়ার টান

শেফালিকা আছেন বলে নুনিয়ার খাওয়া-দাওয়ার কোনও অসুবিধা নেই। বাইরের খাবার দেওয়ার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নুনিয়াকে রাজসাক্ষী করা হবে এটাই ঠিক আছে। এই অবস্থায় তার প্রাণের উপর আবার অ্যাটেম্পট হলে ওইটুকু বাচ্চার প্রাণ তো যাবেই, কেসের ভবিষ্যতও বিশ বাঁও জলে চলে যাবে।

read more
পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

সুদীপ্ত ভেবেছিল রেস্ট নেবে ক’দিন, বেশ ধকল গিয়েছে পিশাচপাহাড় হেলথ সেন্টার চেজের ঘটনায়, কিন্তু আজ সকালের ঘটনা শুনে সে ছুটে এসেছে। সঙ্গে আফজল নামের ছেলেটিও আছে। আফজল-ও বেশ করিতকর্মা। এক ওই মালাকার ছাড়া এই থানার বাকি সকলের দক্ষতা এবং উদ্যম নিয়ে শাক্যর কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু মালাকার যেন গা-ছেড়ে দিয়েছেন আগে থেকেই। এত কিছুর পরেও তাঁর বিশ্বাস, কালাদেওই এত কিছুর হোতা। কিছুক্ষণ আগেও তার কানের কাছে সেই ব্যাপারে বকবক করছিলেন।

read more
পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

হেড কুক অনন্ত পাণিগ্রাহী সমস্ত জিনিস ফ্রিজে তুলে রাখছে। গেস্টদের জন্য লাঞ্চের পাট আজ সম্ভবত উঠল। তাদের নিজেদের লাঞ্চের মেনু হিসাবে আজ ভাত, আলুসেদ্ধ, পটলভাজা আর ডিমের কারি ঠিক হয়েছিল গতকাল রাতেই। কিন্তু আজ সে-সব রান্না হবে কি-না কেউ জানে না। সকলেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় তটস্থ হয়ে আছে। সত্যিই তো এ-রিসর্টকে কেন্দ্র করে যা-সব চলছে বেশ কিছুদিন ধরে, তাতে মাথা ঠিক রাখা আর কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

read more

Skip to content