রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক

পর্ব-১৭৩ : পিঞ্জরে অচিন পাখি

পর্ব-১৭৩ : পিঞ্জরে অচিন পাখি

কোলাহলটা কাছেই এগিয়ে আসছে। শাক্য ভাবল, কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। অনন্তের দলবল যদি হত, তাহলে নিশ্চয়ই এত হট্টগোল করে তারা আসত না, নিঃশব্দে এসে নিঃশব্দে কাজ মিটিয়ে যাওয়াই তারা পছন্দ করত। তাহলে কি অন্য কেউ। জঙ্গলে অনেকসময় পাতাকুড়ানি, কাঠকুটো কুড়ানোর জন্য স্থানীয় মানুষেরা আসেন দলবল নিয়ে। কিন্তু আজ তো পিশাচপাহাড় গ্রামে উৎসব। খাওয়াদাওয়া। এর মধ্যে গ্রামের লোকজন পাতা কুড়ানোর জন্য জঙ্গলে আসবে, তাও এমন দল বেঁধে এটা কেমন বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছিল না।

read more
পর্ব-১৭২ : শুধু হাসি-খেলা?

পর্ব-১৭২ : শুধু হাসি-খেলা?

পরিচিত সার্কেলের মধ্যে অনেকেই জানে। এ-ব্যাপারে সে রাখঢাক গুড়গুড় করে না। ক’দিন আগে অনেকদিন পরে কাউকে সে এভাবে ধর্ষণ করল। আসলে সম্মতি ছাড়া সঙ্গম, পেনিট্রেশন তো ধর্ষণই। সেদিক থেকে অর্ককে সে ধর্ষণই করেছে। আসলে ও এত হিপোক্রিট যে, সহ্য করতে না পেরে…। পরে অবশ্য একটু খারাপ লাগছিল। যতই হোক বন্ধু, হোক না তার ওরিয়েন্টেশন অন্যরকম, কিন্তু তা বলে…! তার নিজের ওরিয়েন্টেশনও তো অন্যরকম, তাহলে? পরের দিন একবার ভাবছিল ক্ষমা চেয়ে নেবে, তারপর আর ইচ্ছে করেনি।

read more
পর্ব-১৭১ : গুহার বাইরে তখন

পর্ব-১৭১ : গুহার বাইরে তখন

>ভাগ্য ভালো, বস ফোন ধরলেন। মৃদু স্বরে যতটুকু জানানোর জানাল সে, একইসঙ্গে সে যে আহত হয়েছে, তাও। বস কোনরকমে বললেন, “তুই চার্চ-হাসপাতালে দেখিয়ে নে। আমি বলে রাখছি। কোন সমস্যা হবে না। যত তাড়াতাড়ি পারিস ওখান থেকে বেরিয়ে আয়। আবদুলকে বলছি, বাইক নিয়ে অপেক্ষা করবে জঙ্গলের বাইরে। এক্ষুনি পাঠাচ্ছি ওকে। তার আগে নিজে যাতে ধরা না পড়িস সেই চেষ্টা দেখ! রাখছি!” বলে ফোন রেখে দিল। ক্লান্তিতে সে চোখ বুজেছে একটু, এমনসময় তার রগের কাছে কেউ একটা নল চেপে ধরল, তারপর ঠান্ডা গলার আওয়াজ শুনল সে, “পালাবার বৃথা চেষ্টা কর না। তুমি এখন আমার কব্জায়। আমাকে চেনো? আমার নাম শাক্য সিংহ!”

read more
পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল

পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল

সকাল থেকেই আজ সাজো-সাজো রব সেকারণেই। ফাদারের জিনিষপত্র বাঁধাছাঁদা কমপ্লিট আগেই। ফাদার যাবেন চার্চের অ্যাম্বুলেন্সে। মেডিক্যাল কিছু জিনিসপত্র কিনে কলকাতা থেকে সেই অ্যাম্বুলেন্স ফিরে আসবে। যাওয়ার আগে জনে-জনে ডেকে ফাদার কাল থেকেই পাখিপড়ার মতো বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আজকেও দিচ্ছেন আর ঘন-ঘন মোবাইল দেখছেন। যেন কারুর ফোনের অপেক্ষা করছেন। ফোন এল তখন দশটা বাজে। ফাদার ফোন হাতে অফিসঘরের দিকে চলে গেলেন। তাঁর মুখে আঁধার ঘনাচ্ছিল।

read more
পর্ব-১৬৯ : আড়ালে আছে আততায়ী

পর্ব-১৬৯ : আড়ালে আছে আততায়ী

শাক্য পকেট থেকে রিভলভার বার করে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ উল্টোদিক থেকে একটা বুলেট তীব্রগতিতে ছুটে এসে প্রায় কানের কাছ ঘেঁষে টিলাপাথরে লেগে আওয়াজ তুলল। শাক্য আর দেরি করল না। সে-ও পাল্টা গুলি চালাল। লোকটির পিস্তলধরা হাত টার্গেট করেই সে গুলিটা চালাল। ট্রেনিং-এর সময় নিখুঁত লক্ষ্যে গুলি চালানোর ব্যাপারে তার নামডাক ছিল। এবারেও ব্যর্থ হল না। একটা চিৎকার। তারপরেই লোকটির হাত থেকে পিস্তল খসে পড়ল। লোকটি আহত হয়েছে। শাক্য সেদিকে দৌড়ে গেল।

read more
পর্ব-১৬৮ : পথের শেষ কোথায়?

পর্ব-১৬৮ : পথের শেষ কোথায়?

পিনাকীবাবু জিভ কাটলেন, “না না স্যার। কী বলছেন? আমাকে দেখে কি তেমন মনে হয়? যতদিন আমার স্ত্রী জীবিত ছিলেন, ততদিন তালা লাগিয়ে আসার প্রয়োজন পড়ত না। তাঁর লাং-ক্যান্সার হয়েছিল। পাঁচ বছর হল তিনি গত হয়েছেন। আমাদের একটিই সন্তান। মুম্বই আইআইটিতে পড়ে!” বলে তিনি আর কথা না বাড়িয়ে শাক্যর হাত থেকে চাবির গোছা নিয়ে চেষ্টা করতে লাগলেন।

read more
পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো

পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো

শাক্যর মনে সন্দেহ জাগছিল, এই গুহার মধ্যে নিশ্চয়ই মানুষের যাতায়াত আছে এবং পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচলেরও কোন বন্দোবস্ত আছে, সে হতে পারে প্রাকৃতিক, কিংবা মানুষের দ্বারা ব্যবস্থা করা। গুহার সংকীর্ণ ফাঁক দিয়ে ভিতরের দিকে তাকিয়ে তার মনে হল, এই কারণেই ট্যানেলের মধ্যে এত সহজে তারা আসতে পেরেছে। সে কর্নেলকে বলল, “আমি কি মশালটা এবার নিভিয়ে ফেলতে পারি?”

read more
পর্ব-১৬৬ : ভাগ্য যখন ফেরে

পর্ব-১৬৬ : ভাগ্য যখন ফেরে

আফজল একটা কাঁচা খিস্তি মারল, তারপর বলল, “অপরাধীদের জন্য যতগুলি হিউম্যান রাইটস্‌ অরগ্যানাইজেশন সারা বিশ্বে চলে, সাধারণ মানুষের রাইটস্‌ নিয়ে ততটা কিন্তু চলে না। আপনি কোনও হিউম্যান রাইটস অরগ্যানাইজেশনকে দেখবেন না, যারা এই সমস্ত গ্যাং-এর ভিকটিম হিসেবে মারা গিয়েছে, তাদের হয়ে কথা বলতে। আমাদের সিস্টেম—ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত এত কোরাপটেড—আপনি তো জানেন, আমাদের পুলিশকেই কি লোকে সাধে এমনি-এমনি বদনাম করে?

read more
পর্ব-১৬৫ : কালাদেওর গুহায়

পর্ব-১৬৫ : কালাদেওর গুহায়

গুহাটি বেশ লম্বা, শেষ আর হয় না। হঠাৎ একজায়গায় এসে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল তারা তিনজনে। গুহাটি এতদূর এসে কে যেন দু’পাশ থেকে দু’হাতে চেপে গুহার যাতায়াতের পথ এতটাই সংকীর্ণ করে দিয়েছে যে, আরও এগোতে গেলে কোনভাবে দেওয়ালের দিকে মুখ করে এগোলে তবেই ওপাশে যাওয়া যাবে।

read more
পর্ব-১৬৪ : অতঃপর অভিযান

পর্ব-১৬৪ : অতঃপর অভিযান

আর্মির কর্নেল বললেন, “আপনার যুক্তি ঠিক মানছি, কিন্তু ধরুন অভিযান শুরু হওয়ার খব পাওয়ার পরে যদি তারা একইরকমভাবে প্রভাব খাটাতে চেষ্টা করে। পাবলিককে ক্ষেপিয়ে তুলে আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়, তখন? তখন কীভাবে তাদের সামাল দেবেন, সেই ব্যাপারটা নিশ্চয়ই আপনারা ভেবে রেখেছেন?”

read more
পর্ব-১৬৩ : রিমিতার ব্রেকিং-নিউজ

পর্ব-১৬৩ : রিমিতার ব্রেকিং-নিউজ

একেজি হাসলেন। শিশুসুলভ হাসি। বললেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ, গতবার বলেছিলেন। আমারই খেয়াল থাকে না। মনে রাখার চেষ্টা করব এবার থেকে। এখন বসুন ইরাবতী।” ইরাবতী বসতে-বসতে বলল, “আর আপনি আজ্ঞেও ছাড়তে হবে স্যার। আপনার অন্যান্য অফিসারদের আপনি যেমন নাম ধরে ডাকেন এবং তুমি বলেন, আমাকেও তেমনই বলতে হবে। হতে পারে তাঁরা আপনার স্নেহের যোগ্য, কিন্তু আমিও সময় পেলে সেই যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত!”

read more
পর্ব-১৬২ : আঁধারে আলো

পর্ব-১৬২ : আঁধারে আলো

উল্লাস সেই সন্ধ্যার দিকে ফোন করেছিল। তার কিছু পরে মেসেজ। এখন ঘড়ির কাঁটায় তার সাড়ে তিনটে। ক্লান্তিতে ঘুম জাঁকিয়ে আসার কথা। কিন্তু ঘুমের কোনও তাড়নাই নেই তার মধ্যে। এই সময় উল্লাসকে ফোন করা অমানবিক হবে ভেবে শাক্য তাকে একটা মেসেজ করল, “খুব বিজি ছিলাম। কাল সকালে কথা বলবো” বলে। সে আশা করেছিল, কাল সকালে মেসেজ দেখে উল্লাস রিপ্লাই দিলে সে তাকে ফোন করে নেবে। নিশ্চয়ই কোন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট আছে, না-হলে উল্লাস এতবার ফোন করত না। এই মুহূর্তে উল্লাস থাকলে ম্যাসাজ নেওয়া যেত। সারাদিনের হেকটিক শিডিউলসের পরে ম্যাসাজ জাস্ট চার্মিং রিফ্রেশমেন্ট। কিন্তু উপায় নেই। উল্লাস এখন আছে অনেক দূরে।

read more
পর্ব-১৬১ : গোবিন্দ সোরেন দ্য গ্রেট

পর্ব-১৬১ : গোবিন্দ সোরেন দ্য গ্রেট

সুদীপ্তর মনে পড়ে গেল, শাক্য স্যারের সঙ্গে যেদিন এসেছিল, একজন বৃদ্ধ কিন্তু সতর্ক এবং ক্ষিপ্র স্বভাবের একজন বয়স্ক মানুষ তাদের সত্যব্রতর কাছে নিয়ে গিয়েছিল। এ-কি সেই? তাহলে তার অ্যাসেসমেন্ট ঠিক ছিল। তবে লোকটি কেবল সতর্ক এবং ক্ষিপ্রই নয়, চতুরও বটে। এই ভাবে দু’জন ক্রিমিন্যালকে বন্দি করা চাট্টিখানি কথা নয়।

read more
পর্ব-১৬০ : সাতসকালের কিস্সা

পর্ব-১৬০ : সাতসকালের কিস্সা

উঠে পড়ল পূষণ। বিছানা থেকে নেমে পায়ে স্লিপার গলিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগোল সে। রিমিতা নিশ্চয়ই শাওয়ার নিচ্ছে। শাওয়ার সেক্স তার খুব পছন্দের। হলে মন্দ হয় না। কিন্তু ওয়াশরুমের দিকে গিয়ে হতাশ হল সে। ওয়াশরুমের দরজা এদিক থেকেই বন্ধ। তার মানে এটাই বোঝায় যে, রিমিতা ওয়াশরুমেও নেই। নীচে গিয়েছে কি? ডাইনিং-এ? হতে পারে। হয়তো সে ঘুমাচ্ছে দেখে তাকে আর বিরক্ত করেনি। ফ্রেশ হয়ে মর্নিং-টি খাচ্ছে লনে বসে। এখনও রোদ তেমন চড়া নয়। কিছুক্ষণ পরে আর লনে বসে থাকা যাবে না। এসেছিল যখন তখন ভরা বসন্ত। আর এখন চড়া বসন্ত!

read more
পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা

পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা

মুহূর্তের মধ্যে মাথার মধ্যে কীরকম একটা করে উঠল ভোলারামের। প্রাণঘাতী চিৎকার করে সে গ্রামের দিকে ছুটল। এখন আর তার পা টলছে না, মাথা ঝিমঝিম করছে না। ছুটেই চলেছে সে, আর চিৎকার করছে, “মরে গেছে! হায় কালাদেও! মরে গেছে! কালাদেওর সেবায়েত মঙ্গল ওঝা মরে গেছে!” তার সেই চিৎকারে কুকুর-শিয়ালগুলিও ঘাবড়ে গেল যেন। মুহূর্তে ছত্রভঙ্গ হয়ে সবাই ছিটকে গেল। এদিকে ভোর যে আবার নতুন এক পবিত্র, বিশুদ্ধ কবিতা লেখার আয়োজন করছিল, তাতে যেন রক্তের ছিটে এসে লাগল! একটা অনাঘ্রাত ভোর মুহূর্তেই কুশ্রী, বীভৎস হয়ে পড়ল!

read more

Skip to content