ছবিটির মূল চালিকা শক্তি, সুসংহত এবং পরিমিত চিত্রনাট্য। গল্পের প্রতিটি ঘটনা, চরিত্রের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোথাও অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য নেই। সংলাপগুলি সাহিত্যগুণসম্পন্ন হলেও অত্যন্ত সহজবোধ্য। অনেক সংলাপেই জীবনের গভীর দর্শন প্রকাশ পেয়েছে।
ছবিটির মূল চালিকা শক্তি, সুসংহত এবং পরিমিত চিত্রনাট্য। গল্পের প্রতিটি ঘটনা, চরিত্রের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোথাও অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য নেই। সংলাপগুলি সাহিত্যগুণসম্পন্ন হলেও অত্যন্ত সহজবোধ্য। অনেক সংলাপেই জীবনের গভীর দর্শন প্রকাশ পেয়েছে।
ভ্রান্তিবিলা ছবির সামাজিক তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘ভ্রান্তিবিলাস’ শুধুমাত্র একটি কমেডি চলচ্চিত্র নয়; এর মধ্যে গভীর সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। চলচ্চিত্রটি আমাদের শেখায় বাহ্যিক চেহারা দেখে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়। ভুল বোঝাবুঝি অনেক বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। পারিবারিক সম্পর্ক বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত-সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই।
‘উত্তরায়ণ’ নামটির মধ্যেই একটি প্রতীকী অর্থ নিহিত রয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘উত্তরায়ণ’ মানে সূর্যের উত্তরগমন, যা নতুন আলোর, নতুন আশার এবং আত্মোন্নয়নের প্রতীক। ‘অগ্রদূত’ পরিচালিত এ ছবিতেও এই ভাবনাটি বিভিন্ন চরিত্রের জীবনসংগ্রাম ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
‘নিশীথে’ প্রেম, অপরাধবোধ ও মানবিক সংকটের এক সংবেদনশীল চলচ্চিত্র। উত্তম কুমার অভিনীত এক স্মরণীয় বাংলা ছবির সমালোচনামূলক পর্যালোচনা। বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগে মহানায়ক উত্তম কুমার একের পর এক বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয়ক্ষমতার অসাধারণ পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি ছিল রোম্যান্টিক নায়কের ইমেজ, কিন্তু সেই পরিচয়ের বাইরেও তিনি বহু জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেই ধরনের ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘নিশীথে’।
শেষ দৃশ্যে এসে সমস্ত রহস্যের সমাধান ঘটে এবং তখন বোঝা যায় যে পুরো কাহিনিটি কত নিখুঁতভাবে নির্মিত হয়েছে। ছবির নাম ‘শেষ অঙ্ক’—এই নামের মধ্যেই যেন তার নাটকীয় পরিণতির ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে। বাংলা চলচ্চিত্রে রহস্যধর্মী গল্পের একটি বড় সমস্যা ছিল যে অনেক সময় রহস্য আগেভাগেই অনুমান করা যেত। কিন্তু ‘শেষ অঙ্ক’ সেই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেছে।
উত্তম কুমারের অভিনয়, এ ছবির প্রধান আকর্ষণ। উত্তম কুমারকে অনেকেই কেবল রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে মনে রাখেন। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের প্রকৃত শক্তি ছিল চরিত্রের আবেগকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতায়। ‘কান্না’-য় তিনি সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে এক গভীর মানবিক চরিত্র নির্মাণ করেছেন।
‘শিউলিবাড়ি’-র কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিজু নামের এক যুবক। শিক্ষিত, সংবেদনশীল এবং আদর্শবাদী এক যুবক হঠাৎ একদিন জানতে পারে যে যাঁদের সে এতদিন নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতা বলে জেনে এসেছে, তাঁরা আসলে তার প্রকৃত অভিভাবক নন। এই আবিষ্কার তার সমগ্র জীবনকে নাড়িয়ে দেয়। মানুষের পরিচয়বোধ তার অস্তিত্বের অন্যতম ভিত্তি। সেই ভিত্তিই যখন ভেঙে পড়ে, তখন মানুষের মানসিক জগতে যে প্রবল অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, বিজুর জীবন তারই প্রতিফলন। সে বুঝতে পারে যে তার পরিচয়ের ইতিহাস, পারিবারিক স্মৃতি এবং আবেগের জগত এক গভীর প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘বিপাশা’ একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছবি। ‘সপ্তপদী’-র হিমালয় প্রমাণ জনপ্রিয়তা চলাকালীন এ ছবির মুক্তি ঘটেছিল। উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত এ চলচ্চিত্র শুধুমাত্র একটি রোমান্টিক ছবি নয়; এটি একদিকে যেমন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রেম ও আত্মত্যাগের কাহিনি, তেমনই অন্যদিকে সমাজ-মনস্তত্ত্ব ও রাজনৈতিক আদর্শের সূক্ষ্ম সংঘাতেরও চিত্র।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে ‘দুই ভাই’ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও হৃদয়স্পর্শী ছবি। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মহানায়ক উত্তম কুমার এবং বিশিষ্ট অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। পারিবারিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও মানবিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন এই চলচ্চিত্রকে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
সপ্তপদী ছবির স্টোরি টেলিং যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেখানে ছবিটির কয়েকটি বিভাগ উপবিভাগ ভীষণ মূল্যবান। কৃষ্ণেন্দুর ছাত্রজীবন যেখানে অত্যন্ত উজ্জ্বল, সেখানে রীণা এবং ক্লেটনের উপস্থিতি ও পারস্পরিক মহড়া কখনো মনে হয়েছিল ছবিটির মধ্যে অযথা একঘেয়েমি তথা ম্যানারিজম আমদানি করা হচ্ছে কিন্তু অরুণ ততদিনে উত্তম কুমার হয়ে আগামীতে মহানায়ক হবার পথে পা বাড়িয়েছেন।
নেকলেস হল ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলা চলচ্চিত্র, যা পরিচালনা করেছিলেন দিলীপ নাগ। এই ছবিতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন মহানায়ক উত্তম কুমার এবং সুনীতা দেবী। ছবির মূল কাহিনি একটি মূল্যবান নেকলেসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে, যা সম্পর্ক, ভালোবাসা, সন্দেহ এবং সামাজিক অবস্থানের দ্বন্দ্বকে সামনে আনে। গল্পে দেখা যায়—একটি নেকলেসকে ঘিরে নানা ভুল বোঝাবুঝি, চুরি-অভিযোগ এবং আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
উত্তম কুমারের ফিল্মি কেরিয়ারে একটি মাইলস্টোন এ ছবি। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে মূলত প্রেক্ষাপট রচিত হলেও উত্তম কুমারের নিজগুনে এবং তপন সিংহ- অসাধারণ স্ক্রীন-প্লে-তে এ ছবি কালোত্তীর্ণ হয়ে উঠেছিল। ছবির অলিতে গলিতে বিচরণের আগে সবার প্রথমে উৎসগত মিল এবং অমিল খানিকটা আলোচনা করে নিলে ভালো হয়।
অগ্রদূতের কর্ণধারদের সুপ্রিয়ার এই অংশটা ভীষণ পছন্দের ছিল তাই পোশাকের ব্যাপারে কোনও রাকঢাক গুড় গুড় না রেখে যেকোনও ভালো দৃশ্যায়নে অত্যন্ত সাহসী চিন্তা ভাবনা করার মত একটা উত্তরণ ঘটাতে পেরেছিলেন। এই জুটিকে সঙ্গে নিয়ে এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে আর কিছুদিনের মধ্যে ‘উত্তরায়ণ’-এর মতো একটা মনোজ্ঞ ছবি মুক্তি পেতে চলবে। যার পটভূমি ‘অগ্নিসংস্কার’ ছবিতে তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
১৯৬১ সালের বাংলা চলচ্চিত্র ‘সাথীহারা’ হল উত্তম কুমার ও মালা সিনহা অভিনীত একটি রোম্যান্টিক ড্রামা যা, কুন্দন ও রূপা নামের দুই ভবঘুরে গায়কের কাহিনি অনুসরণ করে। শুরুতে একে অপরের প্রেমের ব্যাপারে অজ্ঞাত থাকলেও পরিস্থিতি, তাদের ভালোবাসার গভীরতা উপলব্ধি করতে বাধ্য করে। সুজন নামের একজন সংগীত পরিচালকের পাল্লায় পড়ে তাদের জীবনে নেমে আসে বিচ্ছেদ ও ভুল বোঝাবুঝি অবশেষে কাহিনীর হাত ধরে কুন্দন রূপাকে উদ্ধার করে মিলন সম্পন্ন করে।
চলচ্চিত্র শিল্পে উত্তম কুমার নামক একজন ক্ষণজন্মা নায়কের আবির্ভাবে বাংলা চলচ্চিত্রের মোড় ঘুরে গিয়েছিল। অতি সাধারণ কাহিনিকে অসাধারণ মোড়কে উপস্থাপন করার এবং দর্শক মনের প্রতিটি স্বরলিপির সাথে নিজেকে সঠিক সরগম-এ বাঁধার একটা অতুলনীয় দক্ষতা তার স্ক্রিন প্রেজেন্সে পাওয়া যেত।