শুক্রবার ৫ জুন, ২০২৬

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি

পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

ইন্দিরা বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রমথ চৌধুরীর সঙ্গে। অত্যন্ত রুচিবান আধুনিকমনস্ক মানুষ ছিলেন তিনি। বিবাহ হঠাৎ ঘটেনি। প্রমথ চৌধুরীর অগ্রজ আশুতোষ ছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাতা ও কবির বন্ধু। রবীন্দ্র-অগ্রজ হেমেন্দ্রনাথের কন্যা প্রতিভাসুন্দরীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়েছিল। সেই সূত্রে আশুতোষ-ভ্রাতারা অগ্রজের শ্বশুরালয়ে আসতেন। তাঁদের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ মেলামেশা’র কথা ইন্দিরা নিজেই জানিয়েছেন।

read more
পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত

পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত

রবীন্দ্রনাথের সবে তখন বিয়ে হয়েছে। থাকতেন জোড়াসাঁকোয়, দোতলার এক ঘরে। প্রথম-জীবনে অনেক জায়গা নিয়ে সাজিয়েগুছিয়ে ঘর-সংসার করার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর। সীমিত পরিসরে, নানা প্রতিকূলতায়, প্রতিবন্ধকতায় কোনওরকমে দিনযাপন। আর পাঁচজনের থেকে তো তাঁর একটু বেশিই জায়গা প্রয়োজন! সবার সঙ্গে মেলানো যাবে না, তাঁর বাড়তি জিনিসও তো কম নয়। কোথায় বইপত্র রাখবেন, বসবেন, লিখবেন, সেসব নিয়ে রীতিমতো ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

read more
পর্ব-১৪৬: কবির টুপি, কবির জোব্বা

পর্ব-১৪৬: কবির টুপি, কবির জোব্বা

ছেলেবেলায়, যৌবনে রবীন্দ্রনাথ যে খুব বেশি পোশাক সচেতন ছিলেন, তা নয়। এই সচেতনতা তৈরি হয়েছে মধ্য-বয়সে। মাঝেমধ্যে তিনি টুপিও পরতেন। বাহারি টুপি। সুতির বা ভেলভেটের। কখনও ঘন রঙের মোটা সিল্কের টুপি। রানি চন্দ সান্নিধ্য পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথের, অত্যন্ত স্নেহ করতেন তাঁকে। ‘গুরুদেব’ নামে একটি বইয়ে সেই সান্নিধ্য-অভিজ্ঞতার কথা তিনি লিখেওছেন।

read more
পর্ব-১৪৫: পোষা হরিণকে সাঁওতালপাড়ায় মারা হয়েছিল তির ছুঁড়ে

পর্ব-১৪৫: পোষা হরিণকে সাঁওতালপাড়ায় মারা হয়েছিল তির ছুঁড়ে

শান্তিনিকেতন আশ্রমে দুটো হরিণ ছিল। দুটো ময়ূর ছিল। ময়ূর দুটোকে ছাত্রাবাসের দক্ষিণ দিকে রাখা হয়েছিল। ময়ূর দুটোর থাকার জায়গা ঘিরেও দেওয়া হয়েছিল জাল দিয়ে। হরিণ দুটো আশ্রমে ইতস্তত ঘুরে বেড়াত। একদিন একটা হরিণকে অনেকগুলো কুকুর তাড়া করে। তাড়া খেয়ে হরিণটা আশ্রমের বাইরে বেরিয়ে পড়ে। দৌড়াতে থাকে। কোথায় যে গেল, কে জানে! আশ্রমের সকলেই ভাবনায় পড়লেন, কেউ কেউ এদিক-সেদিক খুঁজে হতাশ হয়ে শেষে ফিরে আসেন।

read more
পর্ব-১৪৪: কবি-কন্যার প্রিয় বান্ধবী

পর্ব-১৪৪: কবি-কন্যার প্রিয় বান্ধবী

আনন্দ-সুখের মাঝে কখনো দুঃখের ছোঁয়া। দুই বান্ধবীর এভাবেই কাটছিল দিনগুলি। হঠাৎই ছন্দপতন। শরৎকুমার ব্যারিস্টার হতে বিলেতে গিয়েছেন। মাধুরীলতা বাপের বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেছেন। অনুরূপা দেবী কখনও কলকাতায় এলে ঠিক পৌঁছে যেতেন জোড়াসাঁকোয়। তাঁকে জোড়াসাঁকোয় দেখে রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমিই বেলার সবচেয়ে বড় বন্ধু? তোমার কথা ওর কাছে ঢের শুনেছি।’

read more
পর্ব-১৪৩: মাঝ-রাতে আশ্রমে একটি বালক কাঁদছিল কেন?

পর্ব-১৪৩: মাঝ-রাতে আশ্রমে একটি বালক কাঁদছিল কেন?

ত্রিপুরার মহারাজ রবীন্দ্রনাথকে কিশোর-বয়সে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ত্রিপুরার প্রতি রবীন্দ্রনাথের দুর্বলতা ছিল। দুর্গম পথ পেরিয়ে অন্তত সাতবার গিয়েছিলেন ত্রিপুরায়। মহারাজ রাধাকিশোর মাণিক্যকে রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছিলেন, আশ্রম-বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা। কেমন হবে সে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষকরা কীভাবে পড়াবেন, প্রতি ক্লাসে কতজন ছাত্র থাকবে, সেই সঙ্গে ব্যায়ামচর্চার ব্যবস্থা রাখতেও যে আগ্রহী, সবই ত্রিপুরার রাজাকে বিশদে লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

read more
পর্ব-১৪২: কাদম্বরীর পিতামহ ছিলেন ঠাকুরবাড়ির পাহারাদার, পিতা ছিলেন বাজারসরকার

পর্ব-১৪২: কাদম্বরীর পিতামহ ছিলেন ঠাকুরবাড়ির পাহারাদার, পিতা ছিলেন বাজারসরকার

পিতা ও পিতামহের সামাজিক অবস্থানের কথা ভেবেই সত্যেন্দ্রনাথ চাননি কাদম্বরী দেবী ঠাকুরবাড়িতে বধূ হয়ে আসুন, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হোক। পত্নী জ্ঞানদানন্দিনীকে আহমদনগর থেকে লিখেছিলেন, ‘কোন্ হিসাবে যে এ কন্যা নতুনের উপযুক্ত হইয়াছে জানি না।’ আরেক চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘শ্যামবাবুর মেয়ে মনে করিয়া আমার কখনই মনে হয় না যে ভাল মেয়ে হইবে-কোন অংশেই জ্যোতির উপযুক্ত তাহাকে মনে হয় না।’

read more
পর্ব-১৪১: ঘটি চেয়ে বঁটি

পর্ব-১৪১: ঘটি চেয়ে বঁটি

ঠাকুরবাড়িতে অসুস্থ যোগমায়াকে বেলিসাহেব দেখতে আসার পর এক কাণ্ড ঘটেছিল। যোগমায়া দেবী দ্বারকানাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় পুত্র গিরীন্দ্রনাথের পত্নী। রবীন্দ্রনাথের ‘মেজকাকিমা’ তিনি। অবনীন্দ্রনাথ তাঁর এই ‘দিদিমা’র কথা ‘ঘরোয়া’তে শুনিয়েছেন। দিদিমাকে তিনি চোখে দেখেননি। ছবি দেখারও সুযোগ হয়নি। কেউ তাঁর ছবি তুলে রাখেননি। অবনীন্দ্রনাথ শুধুই তাঁর গল্প শুনেছিলেন।

read more
পর্ব-১৪০: বেচারা বড় কষ্টে আছে, মহর্ষি সাহায্য পাঠিয়েছিলেন সাত হাজার টাকা

পর্ব-১৪০: বেচারা বড় কষ্টে আছে, মহর্ষি সাহায্য পাঠিয়েছিলেন সাত হাজার টাকা

জ্যোতিরিন্দ্রনাথের লেখা থেকে জানা যায়, তাঁদের জন্য ‘উত্তম ঘর ও উত্তম আহারাদির ব্যবস্থা’ করতেন নিয়মিত। যাঁরা এইভাবে উপকৃত হয়েছিলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর মহর্ষির সঙ্গে শুধু নয়, পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা হলেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘প্রায় দুই একজন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রকে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়া তাহার শিক্ষার ব্যয়ভার তিনি বহন করিতেন। তন্মধ্যে একজন পরীক্ষোত্তীর্ণ ছাত্র—এখন ডাক্তার— আমাদের সহিত কখনও সাক্ষাৎ হইলেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিয়া থাকেন।’

read more
পর্ব-১৩৯: মধ্যরাতে শিশুর কান্না শুনে রবীন্দ্রনাথ ওষুধ হাতে হাজির হয়েছিলেন

পর্ব-১৩৯: মধ্যরাতে শিশুর কান্না শুনে রবীন্দ্রনাথ ওষুধ হাতে হাজির হয়েছিলেন

রানি চন্দকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন অবনীন্দ্রনাথ। মুখে মুখে কত গল্প শোনাতেন তাঁকে। শোনা গল্প নিখুঁত- নির্ভুলভাবে ঠিক অবনীন্দ্রনাথের ভাষাতে লিখে ফেলতেন তিনি। এভাবেই লেখা হয়েছিল দুটি বই, ‘ঘরোয়া’ ও ‘জোড়াসাঁকোর ধারে’। রবীন্দ্রনাথও রানি চন্দকে খুব স্নেহ করতেন। রবীন্দ্রনাথের বলে যাওয়া লেখারও অনুলিখন করেছিলেন রানি। রোগশয্যায় কবি মৃদুুস্বরে বলেছেন কবিতা, সে কবিতা দ্রুত কাগজে লিখে নিয়েছেন রানি চন্দ। অবনীন্দ্রনাথের তো বটেই, রবীন্দ্রনাথের অনুলিখনও যথাযথভাবে করতে পেরেছিলেন তিনি। কবির সঙ্গে তিনি ভ্রমণেও গিয়েছিলেন।...

read more
পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মহর্ষিদেবের মৃত্যু-সংবাদ। বহু মানুষ এসে ভিড় করে জোড়াসাঁকোয়। ফুল আর আবির ছড়িয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিমতলা শ্মশানঘাটে। শ্মশানের ভেতরে নয়, দ্বিপেন্দ্রনাথের কথায় চিতা সাজানো হয়েছিল শ্মশানঘাট ছাড়িয়ে গঙ্গার পাড়ে। ওপারে তখন সূর্য অস্ত যাচ্ছিল। আকাশে সিঁদুরগোলা রং ছড়িয়ে পড়েছিল।

read more
পর্ব-১৩৭: বিলেতে হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের অস্ত্রোপচার

পর্ব-১৩৭: বিলেতে হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের অস্ত্রোপচার

রবীন্দ্রনাথ তখন সবে পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। নোবেল না পেলেও পাওয়ার পটভূমি রচিত হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ সে সময় গিয়েছিলেন লন্ডনে। প্রকাশিত হয় ‘গীতাঞ্জলি’-র ইংরেজি সংস্করণ। প্রকাশমাত্রই প্রশংসার জোয়ার বয়ে যায়। পাঠকমহলে বিপুল সাড়া পড়ে। মুগ্ধতা জানিয়ে কবিকে অনেকেই চিঠি লেখেন। চিঠি লেখেন যুক্তিবাদী রাসেল। ইংল্যান্ডের নামি পত্রিকা ‘টাইমস লিটারারি সাপ্লিমেন্ট’-এ প্রকাশিত হয় প্রশংসিত আলোচনা। ছত্রে ছত্রে প্রশংসা, মুগ্ধতা। কবির পরম হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু রোটেনস্টাইনকে খুশি করেছিল এই উচ্ছ্বাসময় প্রশংসিত আলোচনা। রবীন্দ্রনাথ...

read more
পর্ব-১৪৩: মাঝ-রাতে আশ্রমে একটি বালক কাঁদছিল কেন?

পর্ব-১৩৬: রবীন্দ্রনাথ ছাত্রদের মশারিও গুঁজে দিতেন

ছাত্রদের প্রতি রবীন্দ্রনাথের এই ভালোবাসার সত্যিই তুলনা হয় না। ভিতর থেকে উঠে আসা অকৃত্রিম ভালোবাসা। ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর ছিল মধুর ভালবাসার নিবিড় বন্ধন। নির্মলকুমারী মহলানবিশকে এক চিঠিতে কবি লিখেছিলেন, ‘আমার ক্লাসে ওরা মনে করে খেলা— এ তো পড়া নয়— আমি যেন ওদের খেলার সর্দার। সত্যিই আমি তাই— মনের ভিতর দিকে আমার আর বয়স হল না…।’

read more
পর্ব-১৩৫: সুস্থ থাকলে কেউ কি কবিতা লেখে?

পর্ব-১৩৫: সুস্থ থাকলে কেউ কি কবিতা লেখে?

সরসসতায় ভরপুর। কথায় কথায় এমন মজা ক’জন আর করতে পারে। রবীন্দ্রনাথের গাম্ভীর্যের ছদ্ম-মুখোশ ছিল না। মানুষের সঙ্গে মিশতেন, মানুষকে ভালোবাসতেন। কোনও বানানো দূরত্ব ছিল না। খুব সহজেই মিশে যেতেন। হাসিতে খুশিতে, আনন্দে মজায় ভরিয়ে তুলতেন। কবির সরস-সান্নিধ্যে চারপাশের মানুষজনও ভালো থাকতেন।

read more
পর্ব-১৩৪: বিশাল বপু নিয়ে দিনেন্দ্রনাথ ধপাস করে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের উপর

পর্ব-১৩৪: বিশাল বপু নিয়ে দিনেন্দ্রনাথ ধপাস করে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের উপর

শারীরিক ক্ষিপ্ততা হারালেও রবীন্দ্রনাথের মনের জোর ছিল অপরিসীম। দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন ‘বিসর্জন’-এ। অভিনয়ে দিনেন্দ্রনাথও কম পারদর্শী ছিলেন না। অভিনয়কালে রঘুপতি সাজা দিনেন্দ্রনাথের গলার রুদ্রাক্ষমালা ছিঁড়ে গিয়েছিল। দর্শকদের দিকে রুদ্রাক্ষগুলো ছুঁড়ে দেওয়ার পরও কারও মনে হয়নি, এভাবে সামাল নিলেন দিনেন্দ্রনাথ। এমনই সাবলীল ভাবে সে কাজ করেছিলেন যে, মনে হয়েছিল, সবই অভিনয়েরই অঙ্গ।

read more

 

 

Skip to content