২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ শুক্রবার ৫ জুন, ২০২৬

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা

পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

রাস্তা থেকে যেটুকু দেখা যায়, তাতে মনে হয় কি অপার্থিব শান্তি সেখানে। এই নদীটা শেষ হলেই সামনে চলে আসে বিশাল পোর্টেজ হিমবাহ। সেটাও একটা পাহাড় থেকেই নেমে এসেছে। আর তার নীচেই রয়েছে একটা হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ। আমরা এর আগে এই হিমবাহের কাছাকাছি রাস্তায় বাঁক নিয়ে এই হ্রদের ধারে বসে থেকেছি অনেকক্ষণ, কোনও উদ্দেশ্য ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। আবার সেখান থেকে উঠে গাড়ি চালিয়ে ফিরে এসেছি বাড়ি।

read more
পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

সবাই মিলে সাড়ে তিনটে নাগাদ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। অ্যাঙ্করেজ থেকে সিউয়ার্ড যুক্ত হয়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ের মাধ্যমে। এখন যদিও অন্ধকার, তাই কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু এই রাস্তা ধরে এর আগে আমরা বহু জায়গায় বহুবার গিয়েছি। রাস্তার প্রথম পঞ্চাশ মাইলেড় মতো প্রশান্ত মহাসাগরীয় একটা খাঁড়ির ধার দিয়ে। সিউয়ার্ড যাওয়ার সময় রাস্তার একেবারে ডানদিকে বিপুল জলরাশি। তার ওদিকে তাকালে উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগর।

read more
পর্ব-৬৩: অগত্যা আমার গাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আলাস্কা ভ্রমণে

পর্ব-৬৩: অগত্যা আমার গাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আলাস্কা ভ্রমণে

পরিকল্পনা মাফিক বন্ধুরা যথারীতি এলো। সেটা সম্ভবত সেপ্টেম্বর মাস। ‘লেবর ডে’ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় শ্রমিক দিবস। কাজেই সপ্তাহান্তে লম্বা ছুটি সকলের। তার সঙ্গে আরও কিছু ছুটি-ছাঁটা যোগ করে সবাই চলে এসেছে চারপাঁচ দিনের জন্য আলাস্কা ঘুরতে। আর এই স্বল্প সময়ে কোন কোন জায়গা ঘুরলে আলাস্কা সম্পর্কে একটা সম্মক ধারণা পাওয়া যায়, সে-সব কিছু মাথায় রেখে আমি সবার মন মতো একটা পরিকল্পনা করে দিলাম।

read more
পর্ব-৬২: আলাস্কা ঘুরে দেখার জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া দুষ্কর

পর্ব-৬২: আলাস্কা ঘুরে দেখার জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া দুষ্কর

এখানে গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সরকার রেললাইন তৈরি করে বেসরকারি সংস্থাদের ইজারা (লিজ) দিয়ে দেয়। তারা এবার নিজের মতো ভাড়া নিয়ে রেলগাড়ি চালায়। সব রেলগাড়িই মূলত ভ্রমণের উদ্দেশ্যেই বানানো। কাজেই সেই সব রেলগাড়ির কামরা বেশ বিলাসবহুল। তাদের ভাড়াও প্রচুর। এটা শুধু আলাস্কা বলে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্রই একই ব্যাপার। সেই কারণে, এই দেশে লোকজন কোথাও ঘুরতে গেলে আগেই একটা গাড়ি ভাড়া নিয়ে নেয়।

read more
পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না

পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না

গাড়িতে যদি তেল শেষ হয়ে যায়, তাহলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে কোনও দিক থেকে গাড়ি আসে কিনা তার জন্য। গাড়ি এলে তাকে হাত দেখিয়ে থামাতে হবে। যদি সে থামে তখন তাকে দিয়ে খবর পাঠাতে হবে নিকটবর্তী শহরে, অথবা সেই গাড়িতে উঠে পড়তে হবে নিকটবর্তী শহরে যাওয়ার জন্য। হয়তো বা সে নিকটবর্তী শহর আরও একশো মাইল দূরে।

read more
পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা

পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা

প্রকৃতির কি অপরূপ সৃষ্টি। হ্রদের ধারে বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর আমরা উড়ে গেলাম একটা পাহাড়ের চূড়ায়। সেখান থেকে হিমবাহ এদিক-ওদিক অনেকটা দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ের চূড়ার কাছে পাইলট অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে হেলিকপ্টার অবতরণ করালেন। পুরো হেলে দাঁড়িয়ে আছে উড়ান। আমরা হেলিকপ্টার থেকে নেমেই দেখলাম ঝাঁকে ঝাঁকে ব্লু-বেরির গাছ।

read more
পর্ব-৫৯: নীল হ্রদের পারে, নীল আকাশের নিচে লাল রঙের হেলিকপ্টার অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল

পর্ব-৫৯: নীল হ্রদের পারে, নীল আকাশের নিচে লাল রঙের হেলিকপ্টার অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল

কি অপার্থিব অনুভূতি। আমরা গিয়ে নামলাম ওই নীল হ্রদের ধারে। নীল হ্রদের পারে নীল আকাশের নিচে আমাদের লাল রঙের হেলিকপ্টার যেন আরেকটা অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে চারপাশের পরিবেশে। আর কেউ কোথাও নেই। আমি আর আমার স্ত্রী এগিয়ে গেলাম ওই নীল হ্রদের দিকে। সেখানে দাঁড়িয়ে আঁজলা ভোরে তুলে নিলাম সে জল। দেখলাম স্বচ্ছতমর চেয়েও বেশি স্বচ্ছ সেই জল।

read more
পর্ব-৫৮: হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে পাহাড় দেখার রোমাঞ্চটাই আলাদা

পর্ব-৫৮: হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে পাহাড় দেখার রোমাঞ্চটাই আলাদা

আমরা গ্রিন হাউসে বসে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটালাম। সেখানে আমাদের মতো দম্পতিদের জন্য সুন্দর বসার জায়গা করা রয়েছে। সেখানে বসে বসে আমরা বাইরে শিপ পর্বতমালার শোভা দেখতে দেখতে খাওয়া দাওয়া করছি অল্পস্বল্প। এরই মধ্যে একসময় আমি ওই রেস্তরাঁর মধ্যে গিয়ে এখানকার কর্মীদের বলে এসেছি আমাদের এসে পড়ার কথা। সহধর্মিণী তখনও জানে না। ইতিমধ্যে, ওই গ্রিন হাউসের কাচের মধ্যে দিয়ে মাঝে মাঝে দুয়েকটা লাল হেলিকপ্টার ওঠা-নামা করতে দেখা যাচ্ছে পাহাড়গুলোর কাছ থেকে। আমার স্ত্রী খুব উৎসাহ নিয়ে তাদের ছবি তুলছে। আর মাঝে মাঝেই বলছে, ওই সব হেলিকপ্টারে উঠতে...

read more
পর্ব-৫৭: আলাস্কায় এমন অপরূপ দৃশ্যও দেখা যায়, যেখানে পাহাড়-সমুদ্র-হিমবাহ একসঙ্গে বিরাজমান

পর্ব-৫৭: আলাস্কায় এমন অপরূপ দৃশ্যও দেখা যায়, যেখানে পাহাড়-সমুদ্র-হিমবাহ একসঙ্গে বিরাজমান

গ্লেন হাইওয়েটাও খুব সুন্দর। এই হাইওয়ে ধরে কিছু দূর যাওয়ার পর থেকেই বাঁ দিকে এবং সামনে দূরে দেখা যায় বরফ সাদা পাহাড়। এগুলো সবই দূরে শিপ পর্বতমালার উঁচু শৃঙ্গগুলো। মাথার ওপরে নীল আকাশ, পাহাড়ি আঁকা বাঁকা রাস্তা, সামনে তুষার শুভ্র পর্বতশৃঙ্গ। শুধু অভাব বোধ হচ্ছিল সমুদ্রের।

read more
পর্ব-৫৬: একদিকে শ্বাসরুদ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যপট, অন্যদিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অনন্য নজির

পর্ব-৫৬: একদিকে শ্বাসরুদ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যপট, অন্যদিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অনন্য নজির

রাস্তার মাঝেই খানিকক্ষণ গাড়ি দাঁড় করিয়ে এদিক-ওদিক দেখে আবার গাড়ি করে একটু এগিয়ে গেলাম। পরের বাঁক ঘুরে যা দেখলাম, তা আরও বিস্ময়কর। হ্রদটা এখানে এসে একটা নদী হয়ে গিয়েছে। রাস্তার ধার দিয়েই কুলকুল শব্দে বয়ে চলেছে। নদীর মধ্যে ভাঙা ভাঙা পাতলা বরফের আস্তরণ। একে বলে প্যানকেক আইস।

read more
পর্ব-৫৫: সর্বত্র বরফ, কোত্থাও কেউ নেই, একেবারে গা ছমছম করা পরিবেশ

পর্ব-৫৫: সর্বত্র বরফ, কোত্থাও কেউ নেই, একেবারে গা ছমছম করা পরিবেশ

ধীরে ধীরে আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অপরূপ রূপের মহিমা উন্মোচন করে চলেছে পরমা প্রকৃতি। একটা পাহাড়ের ওপর থেকে নামতে গিয়ে দেখি একটি বিশাল হ্রদ, খুব সম্ভবত প্যাক্সন লেক। এখানে পৃথিবীর বক্রতার কারণেই হোক অথবা অন্য যে কোনও কারণেই হোক—পাহাড়ের উঁচু থেকে নীচের হ্রদগুলো দেখলে মনে হয় যেন একদিকে হেলে আছে।

read more
পর্ব-৫৪: গ্রীষ্মকালে আলাস্কা সত্যিই অচেনা এক দেশ

পর্ব-৫৪: গ্রীষ্মকালে আলাস্কা সত্যিই অচেনা এক দেশ

ফেয়ারব্যাঙ্কস থেকে দক্ষিণে কোথাও যেতে গেলে আমাদের আছে দুটো রাস্তা, পার্কস হাইওয়ে এবং রিচার্ডসন হাইওয়ে। সেদিন নিলাম রিচার্ডসন হাইওয়ে। সূর্য তখন সবে অস্ত গিয়েছে। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই পৌঁছলাম ডেল্টা শহরে। তখন আবার সূর্য উঠতে শুরু করেছে। রিচার্ডসন হাইওয়ে অসাধারণ সুন্দর। এ এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।

read more
পর্ব-৫৩: আলাস্কার দক্ষিণে রয়েছে সেই মনোরম গ্লেন হাইওয়ে

পর্ব-৫৩: আলাস্কার দক্ষিণে রয়েছে সেই মনোরম গ্লেন হাইওয়ে

বিবাহ বার্ষিকীর দিন যাত্রা শুরু করলাম। স্ত্রীকে বলেছি আলাস্কার দক্ষিণ দিকে রয়েছে মনোরম গ্লেন হাইওয়ে। সে দিকটায় যাওয়া হবে। আর ঘর থেকেই বিবাহবার্ষিকীর কেক ও তুলে নেওয়া হয়েছে। স্ত্রীকে বলেছি যে রাস্তায় যে জায়গাটা মনে হবে খুব সুন্দর সেখানেই আমরা বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করবো। গ্রীষ্মকালে এই জিনিসটা আমরা মাঝে মাঝেই করে থাকি।

read more
পর্ব-৫২: আলাস্কায় গ্রীষ্মকালে সাজো সাজো রব, সক্কলে ব্যস্ত

পর্ব-৫২: আলাস্কায় গ্রীষ্মকালে সাজো সাজো রব, সক্কলে ব্যস্ত

এখানে লোক জনের কাছে একটা ছোট নিজস্ব বিমান থাকা খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যেহেতু রাস্তাঘাট এখনও অনেক জায়গাতেই ভালো ভাবে তৈরি হয়নি সেহেতু অনেক ক্ষেত্রেই ওই বিমানই ভরসা কোথাও যাওয়ার জন্য। সে সব গল্পে পরে আসছি।

read more
পর্ব-৫১: রোজই দেখি আলাস্কা পর্বতশৃঙ্গের বাঁ দিকের চূড়া থেকে সূর্য উঠতে

পর্ব-৫১: রোজই দেখি আলাস্কা পর্বতশৃঙ্গের বাঁ দিকের চূড়া থেকে সূর্য উঠতে

গ্রীষ্মকালে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময়টা আমার নিজেকে বড় দুঃখবিলাসী মনে হয়। ঠিক যেমনটা ছিল বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালির’ অপু। নিশ্চিন্দিপুরের অপুর মতো আমারও দূরে দিগন্তে সূর্যটাকে ঠিক যেন মনে হয় মহাভারতের কর্ণের রথের চাকা। সূর্যাস্তের সময় সে যেন তলিয়ে যাচ্ছে ওই দূরদিগন্তে মাটির ভিতর। তার চারপাশে নানা রঙের আর নানান গড়নের মেঘগুলো যেন সত্যিই কর্ণের রথের মতোই দেখতে লাগে।

read more

Skip to content