এই দেশ এই মাটি

পর্ব-১০৫ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৪

পর্ব-১০৫ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৪

ভারতে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর আরও প্রায় ছয় দশক দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরাতে এই কুপ্রথা প্রচলিত ছিল। উল্লেখ করা যায় যে, মহারাজা বীরচন্দ্রের রাজত্বকালে ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরায় প্রথম ইংরেজ সরকার পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত করে। ইংরেজ সরকার এরপর থেকেই ত্রিপুরার রাজাকে নানা ভাবে চাপের মধ্যে রেখেছিল। ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকারের নির্দেশ মোতাবেক চট্টগ্রামের কমিশনার লায়াল সাহেব ত্রিপুরার সতীদাহ প্রথা রদ করতে উদ্যোগী হন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাস হল মেঠো ইঁদুরদের প্রজননের সময়। তবে চূড়ান্ত প্রজনন হয় জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে। অর্থাৎ বর্ষার সময়। একটি স্ত্রী মেঠো ইঁদুর একবারে ৫ থেকে ৬ টি বাচ্চার জন্ম দেয়। এদের গর্ভাবস্থায় স্থায়ী হয় প্রায় তিন সপ্তাহ অর্থাৎ এক বছরেই এরা অনেকবার বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। আর তাই এদের সংখ্যাবৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি। বাচ্চা মেঠো ইঁদুর কয়েক মাসের মধ্যেই যৌন ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়।

read more
পর্ব-১০৪ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৩

পর্ব-১০৪ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৩

‘রাজমালা’কারগণ অবশ্য দেব মাণিক্যের রানির নাম উল্লেখ করেননি। পুত্র বিজয়ের মাতা হিসেবেই তাঁর পরিচয় দেয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, ‘রাজমালা’য় ত্রিপুরার অনেক রাজার রানির নাম নেই। কোনও ক্ষেত্রে শুধু পট্ট মহিষীর নামই দেয়া হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে আবার তাও নেই। যাইহোক, ধন্য মাণিক্যের পর দেব মাণিক্যের রানির ক্ষেত্রে সতী হবার ঘটনা জানা যায়।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৮: কালো ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৮: কালো ইঁদুর

কালো ইঁদুররা বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এদের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যাধিক্যের কারণে সুন্দরবন অঞ্চলে মাটিতে বাসা তৈরি করে এমন বহু পাখির সমস্যা বেড়েছে। তাছাড়া এরা বহু ম্যানগ্রোভের মাটিতে পড়া বীজ খেয়ে নিয়ে ম্যানগ্রোভের বিস্তারেও বাধা সৃষ্টি করছে। এই কালো ইঁদুরেরাই ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ সাল পর্যন্ত ইউরোপে ভয়াবহ প্লেগ অতিমারি ঘটিয়েছিল। ইতিহাসে এই ঘটনা ব্ল্যাক ডেথ নামে পরিচিত।

read more
পর্ব-১০৩ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /২

পর্ব-১০৩ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /২

ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথার কথা ‘রাজমালা’ সূত্রে ধন্য মাণিক্যের রানি কমলা মহাদেবীর কাহিনি উল্লেখ করা হয়েছে। সেটা ষোড়শ শতকের প্রথম দিকের কথা। ধন্য মাণিক্য (১৪৯০-১৫১৫ খ্রিঃ) ত্রিপুরার এক বীর নৃপতি ছিলেন। তাঁর আমলে ত্রিপুরার রাজ্যসীমা অনেক বিস্তৃত হয়েছিল। গৌড়াধিপতি হুসেন শাহ বার কয়েক ত্রিপুরা আক্রমণ করেন তাঁর সময়কালে। কিন্তু রাজার বীর সেনাপতি রায় কয়চাগ গৌড় বাহিনীর আক্রমণ ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৭: ধেড়ে ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৭: ধেড়ে ইঁদুর

ধেড়ে ইঁদুররা সুন্দরবন অঞ্চলের লবণাক্ত পরিবেশে চমৎকারভাবে অভিযোজিত প্রাণী। যেহেতু সুন্দরবন অঞ্চলে জোয়ারের সময় কিংবা জলোচ্ছ্বাসে ওদের গর্তগুলো প্রায়শই জলমগ্ন হয়ে যায়, তাতে কিন্তু এদের খুব বেশি যে অসুবিধা হয় তা কিন্তু নয়। আবার এদের খাদক প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেক সময় এরা এমন গর্ত করে যার এক বা একাধিক মুখ থাকে জলসংলগ্ন বা জলের উপরিতলের সামান্য নিচে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৬: কাঠবিড়ালি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৬: কাঠবিড়ালি

কাজী নজরুল ইসলামের লেখা “খুকী ও কাঠবিড়ালি” ছড়া পড়েনি এমন বাঙালি পাওয়া মুশকিল। কাঠবিড়ালি চর্মচক্ষে দেখা হোক বা না হোক এই ছড়া দিয়েই বাঙালি শিশুর প্রথম পরিচয় কাঠবিড়ালির সঙ্গে। তারপর কাঠবিড়ালির সঙ্গে বাঙালির দ্বিতীয় পরিচয় রামায়ণের কাহিনিতে। রামচন্দ্রের সীতা-উদ্ধার কাহিনিতে প্রধান ভূমিকায় যারা ছিল তারা ভারতীয়দের মননে উজ্জ্বলভাবে উপস্থিত হলেও পার্শ্বচরিত্রে কাঠবিড়ালিও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। ছোট্ট, অতি সাধারণ এই প্রাণীটি কিন্তু সমুদ্রের ওপর দিয়ে সেতুবন্ধে বানরসেনাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

read more
পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /১

পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /১

গ্রিক ঐতিহাসিক ডিওডোরাস সিকিউলাস খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫ সালে আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময়কালে ভারতের ‘কাথি’ জাতির মধ্যে সহমরণের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন সেই জাতির মধ্যে সদ্য বিধবা স্ত্রীদের স্বামীর সঙ্গে পুড়িয়ে মারা হতো। কোনও এক স্ত্রীলোক তার স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার পর এই ভয়াবহ প্রথার প্রচলন হয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে যে সব বিদেশি পর্যটক ভারত সফরে এসেছিলেন তাদের ভ্রমণ বৃত্তান্তেও উল্লেখিত হয়েছে সতীদাহের কথা।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা

সুন্দরবন অঞ্চলে তথা ভারতবর্ষে আপাতত চামচিকা বিপন্ন নয়। আর তাই ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এরা সংরক্ষিত নয়। কিন্তু যেভাবে এরা দিন দিন বাসস্থান হারাচ্ছে তাতে আগামী দিনে এরা যে বিপন্ন হবে তা বোঝার জন্য উচ্চ মেধার প্রয়োজন নেই। মশাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ভক্ষণ করে চামচিকা আমাদের পরম বন্ধু হিসেবে উপকার করে। আর তাই তাদের থাকার জায়গাটুকু করে দেওয়া আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৪: কুকুরমুখো ফল বাদুড়

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৪: কুকুরমুখো ফল বাদুড়

এই কুকুরমুখো ফল বাদুড়ের আকার ভারতীয় ফল বাদুড়ের থেকে অনেকটাই ছোট। এরা লম্বায় হয় ৭০ থেকে ১২৭ মিলিমিটার আর ওজন হয় মাত্র ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম। এদের একটা ছোট লেজও আছে যার দৈর্ঘ্য ৬ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এদের দুটো ডানা কিন্তু বেশ চওড়া, চামচিকাদের মতো। যখন দুটো ডানা ছড়ায় তখন তার বিস্তার হয় ৪৫ থেকে ৪৮ সেন্টিমিটার। আর ডানার চামড়া খুব পাতলা ও অর্ধস্বচ্ছ হওয়ায় ওড়ার সময় ডানার হাড়ের সাদাটে রং খুব ভালোভাবে বোঝা যায়। এদের গায়ের লোম খুব নরম, ছোট এবং রেশমের মতো মসৃণ।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৩: বাদুড়

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৩: বাদুড়

বাদুড় উড়তে পারলেও সে কিন্তু পাখি নয়, স্তন্যপায়ী প্রাণী। অর্থাৎ এদের বাচ্চারা মায়ের স্তনদুগ্ধ পান করে বড় হয় আর স্ত্রী বাদুড় বাচ্চা প্রসব করে। অধিকাংশ সময় স্ত্রী বাদুড় একটাই বাচ্চা প্রসব করে। জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ মা বাদুড় বাচ্চাকে তার সঙ্গে সঙ্গেই বয়ে নিয়ে যায়। বাচ্চা তার মাকে আঁকড়ে থাকে। বাচ্চা বাদুড় তার নখর ও দাঁত দিয়ে মায়ের লোম ধরে থাকে। জন্মের সময় থেকেই বাচ্চাদের পিছনের পা খুব শক্তিশালী হয় এবং নখরও খুব তীক্ষ্ণ হয়।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫২: বেজি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫২: বেজি

বেজিরা বিষধর সাপ নিধন করে এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে যেমন উপকার করে তেমনই পরিবেশের বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সুন্দরবনের এই সুন্দর প্রাণীটি সুন্দরবনের বেশিরভাগ অঞ্চলে আপাতত যথেষ্ট সংখ্যায় দেখা গেলেও এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে এরা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। যেমন ঘোড়ামারা দ্বীপে স্থলজ সাপ যেমন নেই, তেমনই একটাও বেজি নেই।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন

ইরাবতী ডলফিন সুন্দরবনের ঈষৎ লবণাক্ত অগভীর জলের নদী, খাঁড়ি ও মোহনার কাছে বসবাস করে। জলের গভীরতা যেখানে মোটামুটি ২০-৫০ মিটার সেখানে এদের পাওয়া যেতে পারে। এরা ঘোলা জল বেশি পছন্দ করে কারণ এই জলে মাছ থাকে বেশি। মাছ হল ওদের খাদ্য তালিকার সবচেয়ে পছন্দসই খাবার। জোয়ারের সময় ওরা স্রোতের অনুকূলে ভেসে যেমন স্থলভাগের অনেকটা ভিতরের দিকে চলে যেতে পারে তেমনই ভাঁটার সময় উল্টো টানে ভাসতে ভাসতে আবার মোহনার কাছে চলে আসে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫০: তারখেল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫০: তারখেল

তারখেলদের কোথাও কোথাও সর্দার গোসাপও বলা হয়। সর্দার কারণ আমাদের দেশে গোসাপদের মধ্যে এদেরই হল সবচেয়ে বড় আকার। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত লম্বায় হয় ৫-৬ ফুট অর্থাৎ প্রায় এক মানুষ প্রমাণ লম্বা। আর ওজন হয় ২০-৫০ কেজি। তবে শ্রীলঙ্কায় নাকি একটা তারখেল পাওয়া গিয়েছিল যার দৈর্ঘ্য ছিল ৩.২১ মিটার অর্থাৎ প্রায় ১০ ফুট লম্বা।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৯: নোনা জলের কুমির

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৯: নোনা জলের কুমির

সুন্দরবনে মানুষ-কুমিরের সংঘাত অতি পরিচিত ঘটনা। পেটের দায়ে যেসব মানুষ চিংড়ির মিন ধরতে বা কাঁকড়া শিকার করতে নদীতে যান মূলত তাঁরাই কুমিরের শিকার হন। আক্রান্ত মানুষের মধ্যে দেখা গিয়েছে ৮০ শতাংশই চিংড়ির মিন অর্থাৎ বাগদা চিংড়ির বাচ্চা সংগ্রহ করতে যাওয়া মানুষ। আর আক্রান্তদের মধ্যে ৬১.১৬ শতাংশই মারা গিয়েছেন। আসলে কুমিরের প্রচণ্ড শক্তিশালী কামড় থেকে বেঁচে ফেরা খুব মুশকিল।

read more

Skip to content