এই দেশ এই মাটি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো

রাত্রিবেলায় এদের ঘরের মধ্যে ঢুকতে দেখলেও এদের বাসা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘরের বাইরে বর্জ্য বা আবর্জনার স্তুপের ভিতরে, পরিত্যক্ত বাড়ি বা কক্ষের ভেতরে, কিংবা বাড়ির ফাটলের মধ্যে যেখানে সরাসরি দিনের আলো পৌঁছোয় না। অন্ধকার এদের খুব প্রিয়। তাই এরা খাবারের খোঁজে বেরোয় রাতে আর দিনের বেলায় বাসায় বিশ্রাম নেয়। সুন্দরবন অঞ্চলে এদের জঙ্গল এলাকায় পাওয়া যায় না। দেখা যায় কেবল জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কারণ ভেজা কাদামাটি এদের একেবারেই না-পসন্দ।

read more
পর্ব-১০৮ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ১

পর্ব-১০৮ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ১

ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাদের ইতিহাসে নানা বৈপরীত্যের মাঝেও উজ্জ্বল হয়ে আছেন বীরচন্দ্র। রাজ্যাধিকার থেকে রাজ্য পরিচালনা সর্ব ক্ষেত্রেই যেন বিতর্ক তাড়া করেছে তাঁকে। তারপরও বলতে হবে তিনি ছিলেন এক আশ্চর্য গুণসম্পন্ন নৃপতি। একাধারে বীরচন্দ্র কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর, ফটোগ্রাফার, প্রশাসক এবং নিশ্চিত ভাবে বিরাট কূটনীতিকও ছিলেন। ভাবতে অবাক লাগে, যিনি রাজপরিবারের পরিচারিকা মহিলাদের ফটো তোলা কিম্বা বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন অর্থাৎ 'নিষিদ্ধ ছবি' নিয়ে সময় ব্যয় করেন, তিনিই কি না সম্পূর্ণ নিরাসক্ত ছিলেন মদিরা সেবনে! যে রাজা...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬১: নেংটি ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬১: নেংটি ইঁদুর

বর্ষার পরে এবং শীতের সময় এদের প্রজননের হার সবথেকে বেড়ে যায়। কারণ এই সময় খাবারের জোগান থাকে সবচেয়ে বেশি, আর সেই সব খাবারের পুষ্টিগত মানও হয় ভালো। পুরুষ নেংটি ইঁদুর হয় বহুগামী, অর্থাৎ একাধিক স্ত্রী নেংটি ইঁদুরের সঙ্গে মিলিত হয়। বাচ্চার জন্ম দেওয়ার জন্য কাগজ বা খড়ের স্তুপ, দেওয়ালের মধ্যে থাকা কোনও ফাটল বা ফোকর, ড্রয়ার, বাক্স, অব্যবহৃত বালতি, কৌটো, হাঁড়ি, কলসি, খড়ের চাল, খড়ের গাদা ইত্যাদি ওদের পছন্দ।

read more
পর্ব-১০৭ : পূর্বোত্তরে বাড়ছে শিশু নিখোঁজের ঘটনা

পর্ব-১০৭ : পূর্বোত্তরে বাড়ছে শিশু নিখোঁজের ঘটনা

ভারতে ২০২৩ সালে প্রায় ৯১ হাজার ২৯৬ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা প্রায় ২৫০। নিখোঁজ শিশুদের ৭৫ ভাগ ছিল মেয়ে শিশু। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য সমূহের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও স্পর্শকাতর বলা যায়। ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য এই অঞ্চলে সমস্যাটি আরও গুরুতর আকার ধারণ করছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে ভূটান, মায়ানমার ও বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬০: ধাড়ি ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬০: ধাড়ি ইঁদুর

ধাড়ি ইঁদুর যেমন সুন্দরবনের জঙ্গল এলাকাতে থাকে তেমনই বসতি এলাকাতেও থাকে। আবার জঙ্গল ও বসতির সংলগ্ন অঞ্চলেও এদের উপস্থিতি রয়েছে। যেসব অঞ্চলে নিয়মিত জোয়ার-ভাঁটা খেলে অর্থাৎ মাটি ভেজা থাকে সেখানে এদের গর্ত বেশি পরিমাণে দেখা যায়। কারণ এরা ভেজা মাটিতে বেশি গর্ত করে বাসা বানায়। এই কারণেই আমাদের বাড়ির সামনে খালের দু’ধারে এদের প্রচুর গর্ত দেখেছি। মিষ্টি জলের পুকুরের পাড়ে কিন্তু এদের কখনও গর্ত করতে দেখিনি। মাটির ঘরের মেঝেতেও যেমন এরা গর্ত করে তেমনই ভেজা বাগানের মাটিতেও গর্ত করে।

read more
পর্ব-১০৬ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৫

পর্ব-১০৬ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৫

ত্রিপুরার সতীদাহ প্রথা এবং তা নিবারণের বিষয়ে ইংরেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রসঙ্গে আলোচনাকালে স্বাভাবিক ভাবে অপর এক দেশীয় রাজ্য কোচবিহারের কথাও উল্লেখ করা যায়। ইংরেজ সরকার কর্তৃক ব্রিটিশ ভারতে সতীদাহ নিষিদ্ধ করার দুই দশক পর কোচবিহারে তা নিষিদ্ধ হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইংরেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেখানকার রাজদরবারেরও চিঠি চালাচালি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে ত্রিপুরার অনেক আগেই অবশ্য কোচবিহারে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

read more
পর্ব-১০৫ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৪

পর্ব-১০৫ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৪

ভারতে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর আরও প্রায় ছয় দশক দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরাতে এই কুপ্রথা প্রচলিত ছিল। উল্লেখ করা যায় যে, মহারাজা বীরচন্দ্রের রাজত্বকালে ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরায় প্রথম ইংরেজ সরকার পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত করে। ইংরেজ সরকার এরপর থেকেই ত্রিপুরার রাজাকে নানা ভাবে চাপের মধ্যে রেখেছিল। ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকারের নির্দেশ মোতাবেক চট্টগ্রামের কমিশনার লায়াল সাহেব ত্রিপুরার সতীদাহ প্রথা রদ করতে উদ্যোগী হন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাস হল মেঠো ইঁদুরদের প্রজননের সময়। তবে চূড়ান্ত প্রজনন হয় জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে। অর্থাৎ বর্ষার সময়। একটি স্ত্রী মেঠো ইঁদুর একবারে ৫ থেকে ৬ টি বাচ্চার জন্ম দেয়। এদের গর্ভাবস্থায় স্থায়ী হয় প্রায় তিন সপ্তাহ অর্থাৎ এক বছরেই এরা অনেকবার বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। আর তাই এদের সংখ্যাবৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি। বাচ্চা মেঠো ইঁদুর কয়েক মাসের মধ্যেই যৌন ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়।

read more
পর্ব-১০৪ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৩

পর্ব-১০৪ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৩

‘রাজমালা’কারগণ অবশ্য দেব মাণিক্যের রানির নাম উল্লেখ করেননি। পুত্র বিজয়ের মাতা হিসেবেই তাঁর পরিচয় দেয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, ‘রাজমালা’য় ত্রিপুরার অনেক রাজার রানির নাম নেই। কোনও ক্ষেত্রে শুধু পট্ট মহিষীর নামই দেয়া হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে আবার তাও নেই। যাইহোক, ধন্য মাণিক্যের পর দেব মাণিক্যের রানির ক্ষেত্রে সতী হবার ঘটনা জানা যায়।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৮: কালো ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৮: কালো ইঁদুর

কালো ইঁদুররা বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এদের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যাধিক্যের কারণে সুন্দরবন অঞ্চলে মাটিতে বাসা তৈরি করে এমন বহু পাখির সমস্যা বেড়েছে। তাছাড়া এরা বহু ম্যানগ্রোভের মাটিতে পড়া বীজ খেয়ে নিয়ে ম্যানগ্রোভের বিস্তারেও বাধা সৃষ্টি করছে। এই কালো ইঁদুরেরাই ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ সাল পর্যন্ত ইউরোপে ভয়াবহ প্লেগ অতিমারি ঘটিয়েছিল। ইতিহাসে এই ঘটনা ব্ল্যাক ডেথ নামে পরিচিত।

read more
পর্ব-১০৩ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /২

পর্ব-১০৩ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /২

ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথার কথা ‘রাজমালা’ সূত্রে ধন্য মাণিক্যের রানি কমলা মহাদেবীর কাহিনি উল্লেখ করা হয়েছে। সেটা ষোড়শ শতকের প্রথম দিকের কথা। ধন্য মাণিক্য (১৪৯০-১৫১৫ খ্রিঃ) ত্রিপুরার এক বীর নৃপতি ছিলেন। তাঁর আমলে ত্রিপুরার রাজ্যসীমা অনেক বিস্তৃত হয়েছিল। গৌড়াধিপতি হুসেন শাহ বার কয়েক ত্রিপুরা আক্রমণ করেন তাঁর সময়কালে। কিন্তু রাজার বীর সেনাপতি রায় কয়চাগ গৌড় বাহিনীর আক্রমণ ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৭: ধেড়ে ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৭: ধেড়ে ইঁদুর

ধেড়ে ইঁদুররা সুন্দরবন অঞ্চলের লবণাক্ত পরিবেশে চমৎকারভাবে অভিযোজিত প্রাণী। যেহেতু সুন্দরবন অঞ্চলে জোয়ারের সময় কিংবা জলোচ্ছ্বাসে ওদের গর্তগুলো প্রায়শই জলমগ্ন হয়ে যায়, তাতে কিন্তু এদের খুব বেশি যে অসুবিধা হয় তা কিন্তু নয়। আবার এদের খাদক প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেক সময় এরা এমন গর্ত করে যার এক বা একাধিক মুখ থাকে জলসংলগ্ন বা জলের উপরিতলের সামান্য নিচে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৬: কাঠবিড়ালি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৬: কাঠবিড়ালি

কাজী নজরুল ইসলামের লেখা “খুকী ও কাঠবিড়ালি” ছড়া পড়েনি এমন বাঙালি পাওয়া মুশকিল। কাঠবিড়ালি চর্মচক্ষে দেখা হোক বা না হোক এই ছড়া দিয়েই বাঙালি শিশুর প্রথম পরিচয় কাঠবিড়ালির সঙ্গে। তারপর কাঠবিড়ালির সঙ্গে বাঙালির দ্বিতীয় পরিচয় রামায়ণের কাহিনিতে। রামচন্দ্রের সীতা-উদ্ধার কাহিনিতে প্রধান ভূমিকায় যারা ছিল তারা ভারতীয়দের মননে উজ্জ্বলভাবে উপস্থিত হলেও পার্শ্বচরিত্রে কাঠবিড়ালিও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। ছোট্ট, অতি সাধারণ এই প্রাণীটি কিন্তু সমুদ্রের ওপর দিয়ে সেতুবন্ধে বানরসেনাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

read more
পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /১

পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /১

গ্রিক ঐতিহাসিক ডিওডোরাস সিকিউলাস খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫ সালে আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময়কালে ভারতের ‘কাথি’ জাতির মধ্যে সহমরণের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন সেই জাতির মধ্যে সদ্য বিধবা স্ত্রীদের স্বামীর সঙ্গে পুড়িয়ে মারা হতো। কোনও এক স্ত্রীলোক তার স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার পর এই ভয়াবহ প্রথার প্রচলন হয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে যে সব বিদেশি পর্যটক ভারত সফরে এসেছিলেন তাদের ভ্রমণ বৃত্তান্তেও উল্লেখিত হয়েছে সতীদাহের কথা।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা

সুন্দরবন অঞ্চলে তথা ভারতবর্ষে আপাতত চামচিকা বিপন্ন নয়। আর তাই ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এরা সংরক্ষিত নয়। কিন্তু যেভাবে এরা দিন দিন বাসস্থান হারাচ্ছে তাতে আগামী দিনে এরা যে বিপন্ন হবে তা বোঝার জন্য উচ্চ মেধার প্রয়োজন নেই। মশাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ভক্ষণ করে চামচিকা আমাদের পরম বন্ধু হিসেবে উপকার করে। আর তাই তাদের থাকার জায়গাটুকু করে দেওয়া আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

read more

Skip to content