সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে কেউটের মতো গোখরো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বিষাক্ত হওয়ায় এদের সম্বন্ধে আমাদের ভয় থাকা স্বাভাবিক কিন্তু আমরা যদি সতর্ক হয়ে চলাফেরা করি এবং দংশনের পর দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারি তাহলে আমরা বাঁচবো, গোখরও বাঁচবে।
সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে কেউটের মতো গোখরো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বিষাক্ত হওয়ায় এদের সম্বন্ধে আমাদের ভয় থাকা স্বাভাবিক কিন্তু আমরা যদি সতর্ক হয়ে চলাফেরা করি এবং দংশনের পর দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারি তাহলে আমরা বাঁচবো, গোখরও বাঁচবে।
বীরচন্দ্রের বহুমুখী প্রতিভা যেমন আমাদের মুগ্ধ করে,তেমনই তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও আমাদের বিস্ময়ের উদ্রেক করে। বৈষ্ণব ভক্ত কবি রাজা বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন করেন, পরিচারিকা মহিলাদের ফটো তোলেন, আবার তন্ময় হয়ে যান ঝুলন গীতিতে। তিনি রাজনীতিক, কূটনীতিকও। কিন্তু রাজার কঠোর সমালোচক ঐতিহাসিক কৈলাসচন্দ্রের মতে বীরচন্দ্র ছিলেন ‘পানাদি দোষে বর্জ্জিত’! সুরাপান, বাইজি নাচ-এ সব রাজাদের সহজাত প্রবৃত্তি হলেও বীরচন্দ্র ছিলেন ব্যতিক্রমী।
সুন্দরবনের সাপকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়— এক, তীব্র বিষসম্পন্ন সাপ, দুই: ক্ষীণ বিষসম্পন্ন সাপ এবং তিন: বিষহীন সাপ। আবার প্রত্যেকটি শ্রেণিকে তাদের বাসস্থান অনুসারে স্থলের সাপ ও জলের সাপ হিসেবে ভাগ করা যায়। স্থলের সাপ আবার গর্তবাসী ও বৃক্ষবাসী হতে পারে। একইভাবে জলের সাপও স্বাদু জলের ও নোনা জলের হতে পারে।
ফটোগ্রাফির চর্চা তখনও এ দেশে তেমন ব্যাপ্তি লাভ করেনি, কিন্তু বীরচন্দ্র ত্রিপুরার মতো প্রত্যন্ত রাজ্যে বসে চমকপ্রদ কাজ করেছেন এ ক্ষেত্রে। ভারতীয় রাজন্যবর্গের মধ্যে ফটোগ্রাফি চর্চায় তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। ফটোগ্রাফির কারিগরী বিষয়ে তাঁর জানার অদম্য আগ্রহ ছিল। নানা সময়ে তিনি এ সব ব্যাপারে চিঠি লিখেছেন ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার কাছে।নতুন নতুন পন্থা পদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গিয়েছেন রাজা।
বীরচন্দ্র একজন চিত্রকর এবং এক অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফারও ছিলেন। এমনকি ভারতবর্ষে ফটোগ্রাফি চর্চার সূচনাপর্বের ইতিহাসে বীরচন্দ্রের নাম আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে। সব মিলিয়ে একজন মানুষের মধ্যে এত গুণের সমাহার সত্যিই বিরল। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সম্পর্কও বীরচন্দ্রকে ঔজ্জ্বল্য দান করেছে।
রাত্রিবেলায় এদের ঘরের মধ্যে ঢুকতে দেখলেও এদের বাসা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘরের বাইরে বর্জ্য বা আবর্জনার স্তুপের ভিতরে, পরিত্যক্ত বাড়ি বা কক্ষের ভেতরে, কিংবা বাড়ির ফাটলের মধ্যে যেখানে সরাসরি দিনের আলো পৌঁছোয় না। অন্ধকার এদের খুব প্রিয়। তাই এরা খাবারের খোঁজে বেরোয় রাতে আর দিনের বেলায় বাসায় বিশ্রাম নেয়। সুন্দরবন অঞ্চলে এদের জঙ্গল এলাকায় পাওয়া যায় না। দেখা যায় কেবল জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কারণ ভেজা কাদামাটি এদের একেবারেই না-পসন্দ।
ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাদের ইতিহাসে নানা বৈপরীত্যের মাঝেও উজ্জ্বল হয়ে আছেন বীরচন্দ্র। রাজ্যাধিকার থেকে রাজ্য পরিচালনা সর্ব ক্ষেত্রেই যেন বিতর্ক তাড়া করেছে তাঁকে। তারপরও বলতে হবে তিনি ছিলেন এক আশ্চর্য গুণসম্পন্ন নৃপতি। একাধারে বীরচন্দ্র কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর, ফটোগ্রাফার, প্রশাসক এবং নিশ্চিত ভাবে বিরাট কূটনীতিকও ছিলেন। ভাবতে অবাক লাগে, যিনি রাজপরিবারের পরিচারিকা মহিলাদের ফটো তোলা কিম্বা বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন অর্থাৎ 'নিষিদ্ধ ছবি' নিয়ে সময় ব্যয় করেন, তিনিই কি না সম্পূর্ণ নিরাসক্ত ছিলেন মদিরা সেবনে! যে রাজা...
বর্ষার পরে এবং শীতের সময় এদের প্রজননের হার সবথেকে বেড়ে যায়। কারণ এই সময় খাবারের জোগান থাকে সবচেয়ে বেশি, আর সেই সব খাবারের পুষ্টিগত মানও হয় ভালো। পুরুষ নেংটি ইঁদুর হয় বহুগামী, অর্থাৎ একাধিক স্ত্রী নেংটি ইঁদুরের সঙ্গে মিলিত হয়। বাচ্চার জন্ম দেওয়ার জন্য কাগজ বা খড়ের স্তুপ, দেওয়ালের মধ্যে থাকা কোনও ফাটল বা ফোকর, ড্রয়ার, বাক্স, অব্যবহৃত বালতি, কৌটো, হাঁড়ি, কলসি, খড়ের চাল, খড়ের গাদা ইত্যাদি ওদের পছন্দ।
ভারতে ২০২৩ সালে প্রায় ৯১ হাজার ২৯৬ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা প্রায় ২৫০। নিখোঁজ শিশুদের ৭৫ ভাগ ছিল মেয়ে শিশু। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য সমূহের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও স্পর্শকাতর বলা যায়। ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য এই অঞ্চলে সমস্যাটি আরও গুরুতর আকার ধারণ করছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে ভূটান, মায়ানমার ও বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
ধাড়ি ইঁদুর যেমন সুন্দরবনের জঙ্গল এলাকাতে থাকে তেমনই বসতি এলাকাতেও থাকে। আবার জঙ্গল ও বসতির সংলগ্ন অঞ্চলেও এদের উপস্থিতি রয়েছে। যেসব অঞ্চলে নিয়মিত জোয়ার-ভাঁটা খেলে অর্থাৎ মাটি ভেজা থাকে সেখানে এদের গর্ত বেশি পরিমাণে দেখা যায়। কারণ এরা ভেজা মাটিতে বেশি গর্ত করে বাসা বানায়। এই কারণেই আমাদের বাড়ির সামনে খালের দু’ধারে এদের প্রচুর গর্ত দেখেছি। মিষ্টি জলের পুকুরের পাড়ে কিন্তু এদের কখনও গর্ত করতে দেখিনি। মাটির ঘরের মেঝেতেও যেমন এরা গর্ত করে তেমনই ভেজা বাগানের মাটিতেও গর্ত করে।
ত্রিপুরার সতীদাহ প্রথা এবং তা নিবারণের বিষয়ে ইংরেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রসঙ্গে আলোচনাকালে স্বাভাবিক ভাবে অপর এক দেশীয় রাজ্য কোচবিহারের কথাও উল্লেখ করা যায়। ইংরেজ সরকার কর্তৃক ব্রিটিশ ভারতে সতীদাহ নিষিদ্ধ করার দুই দশক পর কোচবিহারে তা নিষিদ্ধ হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইংরেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেখানকার রাজদরবারেরও চিঠি চালাচালি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে ত্রিপুরার অনেক আগেই অবশ্য কোচবিহারে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
ভারতে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর আরও প্রায় ছয় দশক দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরাতে এই কুপ্রথা প্রচলিত ছিল। উল্লেখ করা যায় যে, মহারাজা বীরচন্দ্রের রাজত্বকালে ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরায় প্রথম ইংরেজ সরকার পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত করে। ইংরেজ সরকার এরপর থেকেই ত্রিপুরার রাজাকে নানা ভাবে চাপের মধ্যে রেখেছিল। ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকারের নির্দেশ মোতাবেক চট্টগ্রামের কমিশনার লায়াল সাহেব ত্রিপুরার সতীদাহ প্রথা রদ করতে উদ্যোগী হন।
মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাস হল মেঠো ইঁদুরদের প্রজননের সময়। তবে চূড়ান্ত প্রজনন হয় জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে। অর্থাৎ বর্ষার সময়। একটি স্ত্রী মেঠো ইঁদুর একবারে ৫ থেকে ৬ টি বাচ্চার জন্ম দেয়। এদের গর্ভাবস্থায় স্থায়ী হয় প্রায় তিন সপ্তাহ অর্থাৎ এক বছরেই এরা অনেকবার বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। আর তাই এদের সংখ্যাবৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি। বাচ্চা মেঠো ইঁদুর কয়েক মাসের মধ্যেই যৌন ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়।
‘রাজমালা’কারগণ অবশ্য দেব মাণিক্যের রানির নাম উল্লেখ করেননি। পুত্র বিজয়ের মাতা হিসেবেই তাঁর পরিচয় দেয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, ‘রাজমালা’য় ত্রিপুরার অনেক রাজার রানির নাম নেই। কোনও ক্ষেত্রে শুধু পট্ট মহিষীর নামই দেয়া হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে আবার তাও নেই। যাইহোক, ধন্য মাণিক্যের পর দেব মাণিক্যের রানির ক্ষেত্রে সতী হবার ঘটনা জানা যায়।
কালো ইঁদুররা বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এদের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যাধিক্যের কারণে সুন্দরবন অঞ্চলে মাটিতে বাসা তৈরি করে এমন বহু পাখির সমস্যা বেড়েছে। তাছাড়া এরা বহু ম্যানগ্রোভের মাটিতে পড়া বীজ খেয়ে নিয়ে ম্যানগ্রোভের বিস্তারেও বাধা সৃষ্টি করছে। এই কালো ইঁদুরেরাই ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ সাল পর্যন্ত ইউরোপে ভয়াবহ প্লেগ অতিমারি ঘটিয়েছিল। ইতিহাসে এই ঘটনা ব্ল্যাক ডেথ নামে পরিচিত।