এই দেশ এই মাটি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৬: কাঠবিড়ালি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৬: কাঠবিড়ালি

কাজী নজরুল ইসলামের লেখা “খুকী ও কাঠবিড়ালি” ছড়া পড়েনি এমন বাঙালি পাওয়া মুশকিল। কাঠবিড়ালি চর্মচক্ষে দেখা হোক বা না হোক এই ছড়া দিয়েই বাঙালি শিশুর প্রথম পরিচয় কাঠবিড়ালির সঙ্গে। তারপর কাঠবিড়ালির সঙ্গে বাঙালির দ্বিতীয় পরিচয় রামায়ণের কাহিনিতে। রামচন্দ্রের সীতা-উদ্ধার কাহিনিতে প্রধান ভূমিকায় যারা ছিল তারা ভারতীয়দের মননে উজ্জ্বলভাবে উপস্থিত হলেও পার্শ্বচরিত্রে কাঠবিড়ালিও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। ছোট্ট, অতি সাধারণ এই প্রাণীটি কিন্তু সমুদ্রের ওপর দিয়ে সেতুবন্ধে বানরসেনাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

read more
পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা

পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা

গ্রিক ঐতিহাসিক ডিওডোরাস সিকিউলাস খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫ সালে আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময়কালে ভারতের ‘কাথি’ জাতির মধ্যে সহমরণের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন সেই জাতির মধ্যে সদ্য বিধবা স্ত্রীদের স্বামীর সঙ্গে পুড়িয়ে মারা হতো। কোনও এক স্ত্রীলোক তার স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার পর এই ভয়াবহ প্রথার প্রচলন হয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে যে সব বিদেশি পর্যটক ভারত সফরে এসেছিলেন তাদের ভ্রমণ বৃত্তান্তেও উল্লেখিত হয়েছে সতীদাহের কথা।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা

সুন্দরবন অঞ্চলে তথা ভারতবর্ষে আপাতত চামচিকা বিপন্ন নয়। আর তাই ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এরা সংরক্ষিত নয়। কিন্তু যেভাবে এরা দিন দিন বাসস্থান হারাচ্ছে তাতে আগামী দিনে এরা যে বিপন্ন হবে তা বোঝার জন্য উচ্চ মেধার প্রয়োজন নেই। মশাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ভক্ষণ করে চামচিকা আমাদের পরম বন্ধু হিসেবে উপকার করে। আর তাই তাদের থাকার জায়গাটুকু করে দেওয়া আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৪: কুকুরমুখো ফল বাদুড়

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৪: কুকুরমুখো ফল বাদুড়

এই কুকুরমুখো ফল বাদুড়ের আকার ভারতীয় ফল বাদুড়ের থেকে অনেকটাই ছোট। এরা লম্বায় হয় ৭০ থেকে ১২৭ মিলিমিটার আর ওজন হয় মাত্র ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম। এদের একটা ছোট লেজও আছে যার দৈর্ঘ্য ৬ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এদের দুটো ডানা কিন্তু বেশ চওড়া, চামচিকাদের মতো। যখন দুটো ডানা ছড়ায় তখন তার বিস্তার হয় ৪৫ থেকে ৪৮ সেন্টিমিটার। আর ডানার চামড়া খুব পাতলা ও অর্ধস্বচ্ছ হওয়ায় ওড়ার সময় ডানার হাড়ের সাদাটে রং খুব ভালোভাবে বোঝা যায়। এদের গায়ের লোম খুব নরম, ছোট এবং রেশমের মতো মসৃণ।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৩: বাদুড়

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৩: বাদুড়

বাদুড় উড়তে পারলেও সে কিন্তু পাখি নয়, স্তন্যপায়ী প্রাণী। অর্থাৎ এদের বাচ্চারা মায়ের স্তনদুগ্ধ পান করে বড় হয় আর স্ত্রী বাদুড় বাচ্চা প্রসব করে। অধিকাংশ সময় স্ত্রী বাদুড় একটাই বাচ্চা প্রসব করে। জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ মা বাদুড় বাচ্চাকে তার সঙ্গে সঙ্গেই বয়ে নিয়ে যায়। বাচ্চা তার মাকে আঁকড়ে থাকে। বাচ্চা বাদুড় তার নখর ও দাঁত দিয়ে মায়ের লোম ধরে থাকে। জন্মের সময় থেকেই বাচ্চাদের পিছনের পা খুব শক্তিশালী হয় এবং নখরও খুব তীক্ষ্ণ হয়।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫২: বেজি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫২: বেজি

বেজিরা বিষধর সাপ নিধন করে এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে যেমন উপকার করে তেমনই পরিবেশের বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সুন্দরবনের এই সুন্দর প্রাণীটি সুন্দরবনের বেশিরভাগ অঞ্চলে আপাতত যথেষ্ট সংখ্যায় দেখা গেলেও এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে এরা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। যেমন ঘোড়ামারা দ্বীপে স্থলজ সাপ যেমন নেই, তেমনই একটাও বেজি নেই।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন

ইরাবতী ডলফিন সুন্দরবনের ঈষৎ লবণাক্ত অগভীর জলের নদী, খাঁড়ি ও মোহনার কাছে বসবাস করে। জলের গভীরতা যেখানে মোটামুটি ২০-৫০ মিটার সেখানে এদের পাওয়া যেতে পারে। এরা ঘোলা জল বেশি পছন্দ করে কারণ এই জলে মাছ থাকে বেশি। মাছ হল ওদের খাদ্য তালিকার সবচেয়ে পছন্দসই খাবার। জোয়ারের সময় ওরা স্রোতের অনুকূলে ভেসে যেমন স্থলভাগের অনেকটা ভিতরের দিকে চলে যেতে পারে তেমনই ভাঁটার সময় উল্টো টানে ভাসতে ভাসতে আবার মোহনার কাছে চলে আসে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫০: তারখেল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫০: তারখেল

তারখেলদের কোথাও কোথাও সর্দার গোসাপও বলা হয়। সর্দার কারণ আমাদের দেশে গোসাপদের মধ্যে এদেরই হল সবচেয়ে বড় আকার। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত লম্বায় হয় ৫-৬ ফুট অর্থাৎ প্রায় এক মানুষ প্রমাণ লম্বা। আর ওজন হয় ২০-৫০ কেজি। তবে শ্রীলঙ্কায় নাকি একটা তারখেল পাওয়া গিয়েছিল যার দৈর্ঘ্য ছিল ৩.২১ মিটার অর্থাৎ প্রায় ১০ ফুট লম্বা।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৯: নোনা জলের কুমির

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৯: নোনা জলের কুমির

সুন্দরবনে মানুষ-কুমিরের সংঘাত অতি পরিচিত ঘটনা। পেটের দায়ে যেসব মানুষ চিংড়ির মিন ধরতে বা কাঁকড়া শিকার করতে নদীতে যান মূলত তাঁরাই কুমিরের শিকার হন। আক্রান্ত মানুষের মধ্যে দেখা গিয়েছে ৮০ শতাংশই চিংড়ির মিন অর্থাৎ বাগদা চিংড়ির বাচ্চা সংগ্রহ করতে যাওয়া মানুষ। আর আক্রান্তদের মধ্যে ৬১.১৬ শতাংশই মারা গিয়েছেন। আসলে কুমিরের প্রচণ্ড শক্তিশালী কামড় থেকে বেঁচে ফেরা খুব মুশকিল।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৮: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— তিল কাছিম

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৮: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— তিল কাছিম

তিল কাছিম শুধু সুন্দরবন নয়, প্রায় পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে পাওয়া যায়। এরা সর্বভুক। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে মাছ, শামুক, কেঁচো, পোকামাকড়, চিংড়ি, জলজ উদ্ভিদ এবং জলজ উদ্ভিদের ফল। এরা ব্যাঙ শিকার করতে ওস্তাদ। তাছাড়া মরা পচা প্রাণীর মাংসও খায়। যেহেতু মৃত প্রাণীর মাংস খায় তাই পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তিল কাছিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় তিল কাছিম খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— শিকরেঠুঁটো কাছিম

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— শিকরেঠুঁটো কাছিম

পৃথিবীর সমস্ত ক্রান্তীয় সমুদ্র অঞ্চলে শিকরেঠুঁটো কাছিমদের নিবাস হলেও সুন্দরবন অঞ্চলে যাদের আনাগোনা তারা মূলত ভারত মহাসাগরের বাসিন্দা। এরা কিন্তু জীবনের বিভিন্ন দশায় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারে। ডিম ফুটে বেরোনোর পর বাচ্চারা উপকূল থেকে অনেকটা দূরে বসবাস করে সেখানে সামুদ্রিক বিভিন্ন আগাছার মধ্যে থেকে খাবার সংগ্রহ করে।

read more
পর্ব-১০১ : ত্রিপুরাতেও সিপাহি বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল

পর্ব-১০১ : ত্রিপুরাতেও সিপাহি বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় ত্রিপুরার সিংহাসনে ছিলেন ঈশানচন্দ্র মাণিক্য। ত্রিপুরাতেও এই বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল সেদিন। ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের ৩৪ নং পদাতিক বাহিনীর ভারতীয় সিপাহিরা বিদ্রোহ করে অস্ত্রাগার ও কোষাগার লুণ্ঠন করে। কারাগার ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্ত করে তারা। বিদ্রোহীরা তারপর লুণ্ঠিত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ত্রিপুরার দিকে ধাবিত হয়। তাদের ধারণা ছিল দেশীয় রাজ্যের রাজা তাদের সাহায্য করবেন। কিন্তু ত্রিপুরার রাজা ছিলেন তখন ইংরেজদের প্রবল চাপের মুখে। তিনি বিদ্রোহী সিপাহিদের বহিষ্কারের আদেশ প্রচার করেন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৬: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— সবুজ কাছিম

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৬: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— সবুজ কাছিম

সবুজ কাছিম প্রজননক্ষম হয়ে উঠতে ২০ থেকে ৫০ বছর সময় লাগতে পারে। হ্যাঁ, ২০ থেকে ৫০ বছর! তাহলে এরা বাঁচে কতদিন? কচ্ছপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সবুজ কাছিমরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ৮০ বছর বাঁচে! তবে বাচ্চাদের মৃত্যুহার এত বেশি যে অনেক বেশি পরিমাণে বাচ্চাকে জন্ম দিতে হয়। বাচ্চাদের মাত্র এক শতাংশ প্রজননক্ষম অবস্থায় পৌঁছতে পারে। স্ত্রী ও পুরুষ পরিণত সবুজ কাছিম খালি চোখে দেখে চেনা যায় কারণ পুরুষদের লেজ স্ত্রীদের থেকে লম্বা হয়, আর সামনের ফ্লিপারের নখর বড় হয়।

read more
পর্ব-১০০ : স্থানীয়রা দিনে কৃষি কাজ করতেন, আর রাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতেন বিপ্লবীরা

পর্ব-১০০ : স্থানীয়রা দিনে কৃষি কাজ করতেন, আর রাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতেন বিপ্লবীরা

অগ্নিযুগে অনুশীলন সমিতির সদস্যদের অনেকেই কুমিল্লা ও সন্নিহিত অঞ্চল থেকে উদয়পুরে এসে আত্মগোপন করতেন বলে জানা যায়। প্রখ্যাত বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী উদয়পুর এসে আত্মগোপন করে স্বদেশীদের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিতেন। অনুশীলন সমিতির সদস্যরা উদয়পুরের পুরান রাজবাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতেন। এলাকাটি তখন গভীর জঙ্গলে ঢাকা ছিল। বাংলার বিপ্লবীরা বিলোনীয়ার বোকাফা ও মাইছড়াতে কৃষি খামার কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন কার্যত যা ছিল বিপ্লবীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এ রকম কৃষি খামার উদয়পুরের মাতাবাড়ির কাছে...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— বালিকাঠা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— বালিকাঠা

বালিকাঠা হল সুন্দরবন অঞ্চলের একমাত্র স্থায়ী কচ্ছপ অর্থাৎ টার্টল। এরা অলিভ রিডলে কচ্ছপের মতো পরিযায়ী নয়। এরা সমুদ্রে থাকে না। বেশিরভাগ সময় থাকতে পছন্দ করে সুন্দরবনের নদীনালায় যেখানে লবণাক্ততা অনেক কম অর্থাৎ মিষ্টি জলের প্রবাহ বেশি। কেবল ডিম পাড়ার সময় এরা খাঁড়ি বা উপকূলের দিকে এগিয়ে যায় এবং বালিযুক্ত তটভূমিতে ডিম পাড়ে। এরা হল এশিয়ায় মিষ্টি বা আধানোনা জলের কচ্ছপদের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম কচ্ছপ।

read more

Skip to content