এই দেশ এই মাটি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

শাঁখামুটি সাপ নিশাচর। সন্ধের পর এদের শিকারের সন্ধানে বেরোতে দেখা যায়। এদের প্রিয় খাদ্য হল সাপ। প্রায় সমস্ত রকমের নির্বিষ ও বিষধর সাপ এদের খাদ্য। এছাড়া এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে ইঁদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি, গিরগিটি ইত্যাদি। তবে এরা কিন্তু খাবারের ব্যাপারে বেশ খুঁতখুঁতে। সব জাতের ব্যাঙ বা সব জাতের ইঁদুর খায় না। শাঁখামুটি ছোট বড় সব রকমের সাপ খেতে পছন্দ করে।

read more
পর্ব-১১২ : ইতিহাস-ঐতিহ্যে উজ্জ্বল কৈলাসহর

পর্ব-১১২ : ইতিহাস-ঐতিহ্যে উজ্জ্বল কৈলাসহর

কৈলাসহর ত্রিপুরার এক প্রাচীন জনপদ। সুদূর অতীতে ত্রিপুরার রাজাদের রাজপাট ছিল এখানে। এই অঞ্চলের প্রাচীনত্বের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিক পীঠভূমি ঊনকোটি। সুদূর অতীতে কে কবে এই পাহাড়ের গায়ে পাথর কেটে তৈরি করেছিল আশ্চর্য সব বিগ্রহ তা আজও প্রায় অনাবিষ্কৃত। ঊনকোটি যেন সন্নিহিত অঞ্চলটিতে প্রাচীন এক সভ্যতার সাক্ষ্যই বহন করছে। জনপদের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে পুণ্য সলিলা মণু।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৫: শিয়রচাঁদা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৫: শিয়রচাঁদা

সুন্দরবন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা হল শিয়রচাঁদা সাপ মানুষের ঘাম খেতে রাত্রে বিছানার কাছে আসে। প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে ঘাম কখনওই সাপের খাদ্য নয়। তাছাড়া সাপের জিভ মাঝখানে চেরা। এইরকম জিভ দিয়ে চেটে খাওয়া কখনওই সম্ভব নয়। আবার চেটে খেতে গেলে ফুসফুসে জোর থাকা দরকার। সাপের ফুসফুস খুব দুর্বল, মাত্র একটি ফুসফুস থাকে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৪: গোখরো

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৪: গোখরো

সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে কেউটের মতো গোখরো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বিষাক্ত হওয়ায় এদের সম্বন্ধে আমাদের ভয় থাকা স্বাভাবিক কিন্তু আমরা যদি সতর্ক হয়ে চলাফেরা করি এবং দংশনের পর দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারি তাহলে আমরা বাঁচবো, গোখরও বাঁচবে।

read more
পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

বীরচন্দ্রের বহুমুখী প্রতিভা যেমন আমাদের মুগ্ধ করে,তেমনই তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও আমাদের বিস্ময়ের উদ্রেক করে। বৈষ্ণব ভক্ত কবি রাজা বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন করেন, পরিচারিকা মহিলাদের ফটো তোলেন, আবার তন্ময় হয়ে যান ঝুলন গীতিতে। তিনি রাজনীতিক, কূটনীতিকও। কিন্তু রাজার কঠোর সমালোচক ঐতিহাসিক কৈলাসচন্দ্রের মতে বীরচন্দ্র ছিলেন ‘পানাদি দোষে বর্জ্জিত’! সুরাপান, বাইজি নাচ-এ সব রাজাদের সহজাত প্রবৃত্তি হলেও বীরচন্দ্র ছিলেন ব্যতিক্রমী।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৩: কেউটে

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৩: কেউটে

সুন্দরবনের সাপকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়— এক, তীব্র বিষসম্পন্ন সাপ, দুই: ক্ষীণ বিষসম্পন্ন সাপ এবং তিন: বিষহীন সাপ। আবার প্রত্যেকটি শ্রেণিকে তাদের বাসস্থান অনুসারে স্থলের সাপ ও জলের সাপ হিসেবে ভাগ করা যায়। স্থলের সাপ আবার গর্তবাসী ও বৃক্ষবাসী হতে পারে। একইভাবে জলের সাপও স্বাদু জলের ও নোনা জলের হতে পারে।

read more
পর্ব-১১০ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৩

পর্ব-১১০ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৩

ফটোগ্রাফির চর্চা তখনও এ দেশে তেমন ব্যাপ্তি লাভ করেনি, কিন্তু বীরচন্দ্র ত্রিপুরার মতো প্রত্যন্ত রাজ্যে বসে চমকপ্রদ কাজ করেছেন এ ক্ষেত্রে। ভারতীয় রাজন্যবর্গের মধ্যে ফটোগ্রাফি চর্চায় তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। ফটোগ্রাফির কারিগরী বিষয়ে তাঁর জানার অদম্য আগ্রহ ছিল। নানা সময়ে তিনি এ সব ব্যাপারে চিঠি লিখেছেন ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার কাছে।নতুন নতুন পন্থা পদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গিয়েছেন রাজা।

read more
পর্ব-১০৯ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ২

পর্ব-১০৯ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ২

বীরচন্দ্র একজন চিত্রকর এবং এক অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফারও ছিলেন। এমনকি ভারতবর্ষে ফটোগ্রাফি চর্চার সূচনাপর্বের ইতিহাসে বীরচন্দ্রের নাম আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে। সব মিলিয়ে একজন মানুষের মধ্যে এত গুণের সমাহার সত্যিই বিরল। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সম্পর্কও বীরচন্দ্রকে ঔজ্জ্বল্য দান করেছে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো

রাত্রিবেলায় এদের ঘরের মধ্যে ঢুকতে দেখলেও এদের বাসা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘরের বাইরে বর্জ্য বা আবর্জনার স্তুপের ভিতরে, পরিত্যক্ত বাড়ি বা কক্ষের ভেতরে, কিংবা বাড়ির ফাটলের মধ্যে যেখানে সরাসরি দিনের আলো পৌঁছোয় না। অন্ধকার এদের খুব প্রিয়। তাই এরা খাবারের খোঁজে বেরোয় রাতে আর দিনের বেলায় বাসায় বিশ্রাম নেয়। সুন্দরবন অঞ্চলে এদের জঙ্গল এলাকায় পাওয়া যায় না। দেখা যায় কেবল জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কারণ ভেজা কাদামাটি এদের একেবারেই না-পসন্দ।

read more
পর্ব-১০৮ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ১

পর্ব-১০৮ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ১

ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাদের ইতিহাসে নানা বৈপরীত্যের মাঝেও উজ্জ্বল হয়ে আছেন বীরচন্দ্র। রাজ্যাধিকার থেকে রাজ্য পরিচালনা সর্ব ক্ষেত্রেই যেন বিতর্ক তাড়া করেছে তাঁকে। তারপরও বলতে হবে তিনি ছিলেন এক আশ্চর্য গুণসম্পন্ন নৃপতি। একাধারে বীরচন্দ্র কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর, ফটোগ্রাফার, প্রশাসক এবং নিশ্চিত ভাবে বিরাট কূটনীতিকও ছিলেন। ভাবতে অবাক লাগে, যিনি রাজপরিবারের পরিচারিকা মহিলাদের ফটো তোলা কিম্বা বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন অর্থাৎ 'নিষিদ্ধ ছবি' নিয়ে সময় ব্যয় করেন, তিনিই কি না সম্পূর্ণ নিরাসক্ত ছিলেন মদিরা সেবনে! যে রাজা...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬১: নেংটি ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬১: নেংটি ইঁদুর

বর্ষার পরে এবং শীতের সময় এদের প্রজননের হার সবথেকে বেড়ে যায়। কারণ এই সময় খাবারের জোগান থাকে সবচেয়ে বেশি, আর সেই সব খাবারের পুষ্টিগত মানও হয় ভালো। পুরুষ নেংটি ইঁদুর হয় বহুগামী, অর্থাৎ একাধিক স্ত্রী নেংটি ইঁদুরের সঙ্গে মিলিত হয়। বাচ্চার জন্ম দেওয়ার জন্য কাগজ বা খড়ের স্তুপ, দেওয়ালের মধ্যে থাকা কোনও ফাটল বা ফোকর, ড্রয়ার, বাক্স, অব্যবহৃত বালতি, কৌটো, হাঁড়ি, কলসি, খড়ের চাল, খড়ের গাদা ইত্যাদি ওদের পছন্দ।

read more
পর্ব-১০৭ : পূর্বোত্তরে বাড়ছে শিশু নিখোঁজের ঘটনা

পর্ব-১০৭ : পূর্বোত্তরে বাড়ছে শিশু নিখোঁজের ঘটনা

ভারতে ২০২৩ সালে প্রায় ৯১ হাজার ২৯৬ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা প্রায় ২৫০। নিখোঁজ শিশুদের ৭৫ ভাগ ছিল মেয়ে শিশু। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য সমূহের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও স্পর্শকাতর বলা যায়। ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য এই অঞ্চলে সমস্যাটি আরও গুরুতর আকার ধারণ করছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে ভূটান, মায়ানমার ও বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬০: ধাড়ি ইঁদুর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬০: ধাড়ি ইঁদুর

ধাড়ি ইঁদুর যেমন সুন্দরবনের জঙ্গল এলাকাতে থাকে তেমনই বসতি এলাকাতেও থাকে। আবার জঙ্গল ও বসতির সংলগ্ন অঞ্চলেও এদের উপস্থিতি রয়েছে। যেসব অঞ্চলে নিয়মিত জোয়ার-ভাঁটা খেলে অর্থাৎ মাটি ভেজা থাকে সেখানে এদের গর্ত বেশি পরিমাণে দেখা যায়। কারণ এরা ভেজা মাটিতে বেশি গর্ত করে বাসা বানায়। এই কারণেই আমাদের বাড়ির সামনে খালের দু’ধারে এদের প্রচুর গর্ত দেখেছি। মিষ্টি জলের পুকুরের পাড়ে কিন্তু এদের কখনও গর্ত করতে দেখিনি। মাটির ঘরের মেঝেতেও যেমন এরা গর্ত করে তেমনই ভেজা বাগানের মাটিতেও গর্ত করে।

read more
পর্ব-১০৬ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৫

পর্ব-১০৬ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৫

ত্রিপুরার সতীদাহ প্রথা এবং তা নিবারণের বিষয়ে ইংরেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রসঙ্গে আলোচনাকালে স্বাভাবিক ভাবে অপর এক দেশীয় রাজ্য কোচবিহারের কথাও উল্লেখ করা যায়। ইংরেজ সরকার কর্তৃক ব্রিটিশ ভারতে সতীদাহ নিষিদ্ধ করার দুই দশক পর কোচবিহারে তা নিষিদ্ধ হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইংরেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেখানকার রাজদরবারেরও চিঠি চালাচালি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে ত্রিপুরার অনেক আগেই অবশ্য কোচবিহারে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

read more
পর্ব-১০৫ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৪

পর্ব-১০৫ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৪

ভারতে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর আরও প্রায় ছয় দশক দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরাতে এই কুপ্রথা প্রচলিত ছিল। উল্লেখ করা যায় যে, মহারাজা বীরচন্দ্রের রাজত্বকালে ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরায় প্রথম ইংরেজ সরকার পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত করে। ইংরেজ সরকার এরপর থেকেই ত্রিপুরার রাজাকে নানা ভাবে চাপের মধ্যে রেখেছিল। ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকারের নির্দেশ মোতাবেক চট্টগ্রামের কমিশনার লায়াল সাহেব ত্রিপুরার সতীদাহ প্রথা রদ করতে উদ্যোগী হন।

read more

Skip to content