উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৯২ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৯২ : আকাশ এখনও মেঘলা

ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়েছে অচেনা পুরুষমানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখবে। মহিলাদের স্বাভাবিক ভয় আছে। শারীরিক কারণেই আতঙ্ক আছে। সেটাও অস্বাভাবিক নয়। একেবারে এই কারণেই রিসেপশনে মোটামুটি আকর্ষণীয় চেহারার মহিলাদের বসানো হয়। সেলস-এর চাকরিতে মহিলারা এগিয়ে। টেলিকলারস এর ক্ষেত্রেও মহিলারা অগ্রণী। ক্যাবিন ক্র্যু অবিবাহিতা সুন্দরী মহিলারাই হতেন। এখন সঙ্গে সুন্দর পুরুষরাও এয়ার ক্রু। আগে স্টুয়ার্ডস বা এয়ার হোস্টেস বলা হতো মহিলা আপ্যায়নকারী!

read more
পর্ব-৯১ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৯১ : আকাশ এখনও মেঘলা

বিতান বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী। প্রথম ধাক্কায় আচমকা একটু নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিল দিয়ার কথাটা না বলে সেটাকেই অন্যভাবে বলবে। কিন্তু পরক্ষণেই একটা গুড লেন্থের আউটস্যুইং করে অফ স্টাম্পের বাইরে যাচ্ছে দেখে ব্যাট তুলে বলটাকে যেতে দিল। এই জন্যই বলে যারা কম কথা বলেন তারা ভাবার অনেক স্পেস পান। অতনু নিজেই যখন একটা সম্ভাবনার কথা বললেন, বিতান সেখানে হ্যাঁ বা না কিছুই না বলে ব্যাপারটা থিতিয়ে দিতে চাইল।

read more
পর্ব-৯০ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৯০ : আকাশ এখনও মেঘলা

স্নিগ্ধার শ্লীলতাহানির মিথ্যে নাটকে আরও কিছু পাত্র-পাত্রী জড়ো করে দুলালকে দোষী সাব্যস্ত করা হল। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। যে উকিল দুলাল সেনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তাকে কানাইলাল মহেশ্বরী মোটা টাকা দিয়ে কিনে নেন। সেই উকিল আদালতে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। ধর্ষণের মামলায় দুলাল সেনের সাজা হল। তৃপ্তির একটা ক্ষীণ আশা ছিল দুলাল আদালতে ন্যায়বিচার পাবে। আগেই ছেলে অতনুকে চার্চে ফাদারের কাছে রেখে এসেছিল। কারণ এই এলাকার যে কোনও স্কুলে বাবার বিরুদ্ধে এই কুৎসা ছেলেটাকে শেষ করে দেবে। শেষ আশাটুকু এভাবে...

read more
পর্ব-৮৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

অতনুর মনে কি চলছে সেটা জানে একমাত্র অতনু আর সম্ভবত ঈশ্বর। কিন্তু অতনু কি ঈশ্বর বিশ্বাসী? অতনু বোধহয় ঈশ্বরকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না আবার অস্বীকারও করে না। তার বয়সী কোনও ছেলে বা মেয়েকে এই ভয়ংকর যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি। অথচ ওকে যেতে হল। যেতে হচ্ছে। কেন? ঈশ্বর কবে সেই জবাব দেবেন? অনেকে বলবেন যে ঈশ্বর অতনুকে একটা ঈর্ষণীয় কেরিয়ার দিয়েছেন। অতনু জবাবে তাঁদের বলবে কে চেয়েছিল এমন একটা সার্থক কেরিয়ার যেটা সে উপভোগ করতে পারবে না। তার চেয়ে সে সাধারণ মেরিটের একটা ছেলে হতো। একজন মধ্যবিত্ত ভদ্র শিক্ষিত চটকল...

read more
পর্ব-৮৮ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮৮ : আকাশ এখনও মেঘলা

টেক সলিউশন একটা রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাট থেকে করা অফিস। তাই দেখানে দুটো ছোট ছোট টয়লেট ভেঙে একটা বড় টয়লেট করা হয়েছিল। অতনু সিইও হলেও নিজের জন্যে আলাদা ব্যবস্থা রাখেনি। অতনু কী ভেবে উঠে টয়লেটে গিয়ে দেখল সেই ছেলেটি বেসিনে হাত রেখে হাউ হাউ করে কাঁদছে।

read more
পর্ব-৮৭ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮৭ : আকাশ এখনও মেঘলা

আমার এমন ছেলে চাই যে ঘণ্টার ঘণ্টার পর একটা জিনিস নিয়ে পড়ে থাকতে পারে, ভাবতে পারে। কিন্তু তাকে ফ্রিডম দিতে হবে। এই ফ্রিডমটা পায় না বলেই যথেষ্ট বুদ্ধিমান হওয়া সত্ত্বেও এরা কম্পিটিটিভ এক্সাম ক্র্যাক করতে পারে না। সে অকারণে বিদ্যে জাহির করে না কিন্তু ইয়েস ম্যানও নয়। নিজের টার্মসে কাজ করতে ভালোবাসে।

read more
পর্ব-৮৬ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮৬ : আকাশ এখনও মেঘলা

“এই অর্গানাইজেশনে কোনওদিনই কোনও রিশেপসনিস্ট থাকবেন না! ইনফ্যাক্ট আজ আ পলিসি আমরা কোনও লেডিকে রিক্রুট করবো না, নট ইন এনি পজিশন!
কথাটার মধ্যে এতটাই কনভিকশন ছিল সুবিমলের দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করতে হয়নি কেন? মহিলারা এই স্টার্ট-আপে কাজ পাবেন না! No means no.!”

read more
পর্ব-৮৫ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮৫ : আকাশ এখনও মেঘলা

অতনুবাবু, ঝুঁকি কোনওদিন নিতে পারিনি। আজকে আমি আর আমার স্ত্রী। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বোনেরা সংসার করছে। অনেকটা ঝাড়া হাত-পা। তাই এবার একটু ঝুঁকি নিতে চাই। আর একটা কথা। আপনার মতো যুবক আমি ছোটবেলা থেকে বড় হওয়ার মধ্যে দেখিনি কাউকে। তাই ঝুঁকিটা আপনার সঙ্গে নিতে চাই।

read more
পর্ব-৮৪ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮৪ : আকাশ এখনও মেঘলা

দরজা ঠেলতেই একটা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে আসে। চিকেন চাপ আর বিয়ারের রাতভোর জমে থাকা ককটেল। বাড়িতে ফ্রিজেরাখা কপির তরকারিতেও একই কাণ্ড ঘটে। আলো-আঁধারি। রেস্তঁরার মালিক বোধহয় সকালের বিদ্যুৎ বাঁচান। নো লাইট, নো ফ্যান! একটা মোটা থপথপে লোক। মাথায় রোঁয়াওঠা খাড়াখাড়া চুল। লালরঙের সানমাইকার কাউন্টারে বসে আছে। পাশে ঝুল কালি-নিন্দিত একটা টেবলফ্যান। ঘরঘর করে ঘুরছে। তবে লোকটার মোটা খসখসে চামড়া টপকে সে হাওয়া তাঁর শরীরে পৌঁছচ্ছে কিনা সন্দেহ।

read more
পর্ব-৮৩ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮৩ : আকাশ এখনও মেঘলা

অতনু জানেই না যে তার অজান্তে সিকিউরিটি এজেন্সির বিতান ঘোষ তার সম্বন্ধে খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রয়োজনটা তার নয়। প্রয়োজন অতনু সেনের রেকমেন্ডেশনে রবীন চ্যাটার্জির কোম্পানি অ্যাথেনা ইনফোটেকের কর্মরতা দিয়া সাহার। তবে দিয়ার কেন অতনুকে জানার প্রয়োজন সেটা সে বোধহয় নিজেও জানে না।

read more
পর্ব-৮২ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮২ : আকাশ এখনও মেঘলা

রাতে দিয়া ঘুমোতে পারে না! অতনু সেনের জন্যে খুব খারাপ লাগছিল। এতদিন দিয়া ভাবতো তার মতো কষ্ট কেউ পায়নি। তাকে পড়াশোনা করাতে এতকষ্ট করেছেন তার মা-বাবা। কিন্তু তার সাফল্য দেখার আগেই মারণ রোগে বাবা চলে গেলেন। মা এখনও গ্যাস এজেন্সিতে কাজ করেন। পরিশ্রম হয়। অসুস্থ হন। তবু কাজে যেতে হয়। গ্যাস এজেন্সিতে ছুটি নেই।

read more
পর্ব-৮১ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮১ : আকাশ এখনও মেঘলা

ছুটি হতেই দিয়া দ্রুত পায়ে রাস্তায়। কলেজ মোড়ে বাসযাত্রীদের চাকচাক ভিড়। বাসস্ট্যান্ড থেকে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়া আরও ঘরফিরতি মানুষজন। সেক্টর ফাইভের বহুতল থেকে দেখলে ঠিক যেন কৌটোতে মৌরী ঢালতে গিয়ে ছিটিয়ে থাকা বাড়তি মৌরীর মতো দেখাবে। রান্নাঘরে মৌরি নিতে গিয়ে দিয়া রোজ ফেলে আর মা রোজ চটে যান। দিয়া আরও খানিকটা তফাতে দাঁড়াল।

read more
পর্ব-৮০ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৮০ : আকাশ এখনও মেঘলা

ওয়েলেসলি জুটমিলের টাইম অফিসের কর্মী ছিল দুলাল সেন। মজদুর ইউনিয়নের সেই জুটমিলের মালিক কানাইলাল মহেশ্বরী। আরও আনুষাঙ্গিক ক'জন। সেই ভয়ংকর রাতে স্নিগ্ধার শ্লীলতাহানির মিথ্যে অভিযোগে দুলালকে দোষী সাজানোর কারিগর। হঠাৎ উপস্থিত হওয়া সেই দু’জন, বিয়েবাড়ির ভিডিওগ্রাফার আর তার শাকরেদ। ওয়েলেসলি জুট মিলের গাড়ির ড্রাইভার যে মিথ্যে সাক্ষী দিয়েছিল। থানার ওসি বীরেশ দও। সৎ স্বচ্ছ সাব-ইন্সপেক্টর হাসান আলি অনেক চেষ্টা করেও ওসির বিরোধিতার জন্য দুলাল বা তাঁর স্ত্রী তৃপ্তিকে কোনওভাবেই সাহায্য করতে পারেননি। আরও ছিলেন দুলালের মামলার...

read more
পর্ব-৭৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

…আরও একটা কারণে ছোট পিসেমশাইকে চুঁচুড়া আসতে হত। অতনুদের বাড়ি। মানে যেটা অতনুর দাদু স্কুল শিক্ষক অমৃতলাল সেন অনেক কষ্ট করে একটু একটু করে গড়ে তুলেছিলেন। সেই বন্ধ বাড়ির তদারক করতেন ছোট পিসেমশাই। দুলালের সঙ্গে দেখা করে তার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে বড় বা মেজ শালিকার সঙ্গে কথা বলে বাড়ি বিক্রি করা টাকা সকলকে সমানভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন ছোট পিসেমশাই।

read more
পর্ব-৭৮: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭৮: আকাশ এখনও মেঘলা

অতনু সপ্তাহে একবার আসে। বাবা খবরের কাগজ পড়েন না। ফলে রাজ্য রাজনীতি কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স আলোচনার মধ্যে আনা যায় না। তাই মাঝে মাঝে অতনুর অফিসের কথা এসে পড়ে। অতনু কথা বলে। বাড়ির কথা। চুঁচুড়ার কথা। সবেতে পাঁচিল দিয়ে রাখতে হয়। অতনু নিজেও চায় না পুরনো কথা মনে করতে। স্মৃতি এক অদ্ভুত অনুভূতি। জোর করে ভোলা যায় না! চুঁচুড়ার বাড়িটা বিক্রি হয়ে গিয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পর ও বাড়ি বন্ধ ছিল। অতনু তো ফিরে যায়নি সেখানে।

read more

Skip to content