উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭৬: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭৬: আকাশ এখনও মেঘলা

ফাঁসি নিশ্চিত ছিল। দুলাল মানসিকভাবে তৈরি ছিল। কিন্তু প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট অবনী চৌধুরী বিনা পয়সায় প্রো-বোনো কেস লড়ে সাজা ফাঁসি থেকে যাবজ্জীবন করেছিলেন। ফাদার স্যামুয়েল বিশ্বাসের কাছে দুলাল ও তৃপ্তির একমাত্র সন্তান এই অতনু সেন। পিতৃমাতৃহীন অতনুকে পুত্রস্নেহে চার্চে রেখে মানুষ করেছেন ফাদার। অতনুর কাছে অতীতের সবকিছু বলেছেন।

read more
পর্ব-৭৫: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭৫: আকাশ এখনও মেঘলা

হঠাৎ ঘুম থেকে ডাকলেও ঘাবড়ে গিয়ে মায়ের বুক ধড়ফড় করে। কোনও কারণে ঝড়বৃষ্টিতে বা প্রতিবাদ প্রতিরোধের মিছিল মিটিঙের ভিড়ে একটু দেরি হলেই মা আতঙ্কিত হয়ে ফোন করতে থাকেন। মায়ের কথা ভেবেই দামি ব্লু-ট্যুথ কিনতে হয়েছে দিয়াকে। যাতে চটপট উত্তর দিয়ে মাকে শান্ত করতে পারে। শরীরের পক্ষে অতিরিক্ত রেডিয়েশনের জন্যেই ব্লু-ট্যুথ ভাল নয় এটা জেনেও ব্যবহার করতে হয়। সাধারণ তারওয়ালা ইয়ারফোন নিয়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করা যায় না।

read more
পর্ব-৭৪: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭৪: আকাশ এখনও মেঘলা

বিতান গাড়ি চালাচ্ছে। শরীর থেকে কোলনের গন্ধ নাকে আসছে। বিনিকে দিয়ার কথা বিতান ঠিক কী বলেছে? কতটা বলেছে? মানে বন্ধু বলেছে। আর কী? সরস্বতী পুজোর অঞ্জলির ফুলে দিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব লেখা কাগজ গুঁজে দেওয়ার কথাটা কি বলেছে? এতটা সৎসাহস দেখিয়ে কারও মনের সাঁকো নাড়ানো বোধহয় ঠিক নয়! সিকিউরিটি সার্ভিস চালানো বিতান সেটা বোঝে।

read more
পর্ব-৭৩: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭৩: আকাশ এখনও মেঘলা

বিনি কি দিয়াকে দেখতে চেয়েছিল? তার মানে বিতানকে বিনির কাছে দিয়ার কথা বলতে হয়েছে। বিতান সব বলেছে ? না সব মানে, দিয়া ও বিতানের মধ্যে যে প্রেম ছিল এমনটা তো নয়! বিতানের দিক থেকে যে দূর্বলতা ছিল, সেটা দিয়ার ছিল না! সত্যিই কি ছিল না? নিজেক জিজ্ঞেস করেছে? একা বন্ধ ঘরে। বন্ধ চানের ঘরে। কিংবা চোখ বুজে আশপাশ ভুলে গিয়ে! বিছানায় শুয়ে। বয়ে যাওয়া কোনও নদীর সামনে। একা একা। নিজের মুখোমুখি। যখন মানুষ মিথ্যে বলতে পারে না!

read more
পর্ব-৭২: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭২: আকাশ এখনও মেঘলা

সামাজিক বৈবাহিকতায় দ্বন্দ্ব আছে দূরত্ব আছে রাগ অভিমানের ভাঙ্গাগড়া আছে, কিন্তু সন্তানের সামাজিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোথায় যেন জীবনের শেষপর্যন্ত একটা দায়িত্ববোধের বন্ধন আছে। একসময় যারা বিবাহ সম্পর্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে একা থাকতে চেয়েছেন তেমন অনেককেই শেষ জীবনে গিয়ে আক্ষেপ করতে দেখেছে দিয়া। পশুদের মতো মানুষও যূথবদ্ধ জীব। একা বাঁচতে পারে না। তাই মানুষ বন্ধু খোঁজে। সঙ্গী খোঁজে।

read more
পর্ব-৭১: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭১: আকাশ এখনও মেঘলা

ফেরার সময়টা ইচ্ছে করেই একটু বদলে নিয়েছিল দিয়া। তার মূলত দুটো কারণ ছিল। রবীন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিতানের ব্যবসা নিয়ে কী কথা হয়েছে সে জানে না। জানতে চায়ও না। আর দ্বিতীয়টা ব্যক্তিগত। দু’জনে একসঙ্গে পড়ত। বিতান এখন বিবাহিত! সন্তানের বাবা! দিয়া অবিবাহিতা! সে আর তার মা! আর কেউ নেই! দিয়া কোনওভাবেই নতুন করে কোনও সমস্যায় যেতে চায় না। দু’জনেই দু’ভাবে দায়বদ্ধ! বিতানের বিবাহবন্ধন। দিয়ার অবিবাহিতের গণ্ডী!

read more
পর্ব-৭০: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৭০: আকাশ এখনও মেঘলা

হেডমিস্ট্রেস দু’জনকেই টিফিনের সময় অফিসরুমের বাইরে কান ধরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাই দেখে মিথ্যেবাদী সেই মেয়েটির মনে যেন অদ্ভুত একটা শান্তি হয়েছিল। সে আড়চোখে দিয়াকে দেখতে দেখতে ফিক ফিক করে হাসছিল। এই সমস্ত নির্লজ্জ বেহায়াদের এরকমই স্বভাব। নিজের মানঅপমান জ্ঞান নেই। কিন্তু অপরের বিপদে-অপমানে এরা চরম শান্তি উপভোগ করে।

read more
পর্ব-৬৯: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৬৯: আকাশ এখনও মেঘলা

সব অফিসেই যেমন দুষ্টু লোকের গুপ্তচর থাকে বিশুপালের গ্যাস এজেন্সিতেও বিশুপালের জামাইয়ের তেমনি এক পেটোয়া শাকরেদ ছুটে গিয়ে খবর দিয়ে দেয় খোদ মালিক এসে উপস্থিত হয়েছেন, সঙ্গে ফিরে এসেছেন ওই মেয়েটি আর তার মা। ব্যাস! ধুরন্ধর জামাই তড়াক করে বিশুবাবুর চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে উঠেই, চোখ বুজে ভেবে নেয় তাকে ঠিক কী কী মিথ্যা কথা বলতে হবে।

read more
পর্ব-৬৮: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৬৮: আকাশ এখনও মেঘলা

দিয়া উত্তর না দিয়ে শুধু একবার তাকাল। দিয়ার মা ভাবছেন যেখানে তাঁকে কাজ করতে হবে, সেখানে তাঁর মেয়ের এতটা কাঠিন্য কি ঠিক। মায়ের হাতটা ধরে তাঁকে নিয়ে ঠান্ডাঘর থেকে বাইরের গরমে বেরিয়ে এল দিয়া! সেখানে অনেক মানুষের ভিড়! তারা বুকিং করাচ্ছেন। সেই ভিড় ঠেলে যেতে যেতে দিয়া ভাবার চেষ্টা করছে, সামনে বেরিয়ে বাঁদিকেনা ডানদিকে গেলে কাছাকাছি জেরক্সের দোকান পাওয়া যাবে।

read more
পর্ব-৬৭: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৬৭: আকাশ এখনও মেঘলা

দিয়া প্রথম দিন এসেছিল। বিশু পাল সেদিন ছিলেন না। গ্যাস কোম্পানিতে কোনও মিটিং ছিল। সেখানে গিয়েছিলেন । বাইরে যেখানে বসে মাকে কাজ করতে হবে, সেখানে বেশ গরম । দেওয়ালে লাগানো টেবিল ফ্যান ঘুরছে। এই টেবিল ফ্যানগুলো দেখলেই দিয়ার মনে হয় – টেনে টেনে না বলছে ফ্যানটা। না, না, না— কিন্তু কেউই তার কথা শুনছে না।

read more
পর্ব-৬৬: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৬৬: আকাশ এখনও মেঘলা

মায়েরটা অন্যরকম। একটা মানুষকে ঘিরে এত বছরের যৌথজীবনে একটা ছেদ। হঠাৎ যেন একটা ভয়ঙ্কর শূণ্যতা। দিয়া বোঝার চেষ্টা করেও যেন মায়ের একাকীত্ব বুঝতে পারে না। অপরের মনকে বোঝা খুব কঠিন। স্বামী-স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে সকলেই হয়তো তাদের মতো চেষ্টা করে। কিন্তু বুঝতে পারে ? দিয়া তো চেষ্টা করেও পারে না।

read more
পর্ব-৬৫: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৬৫: আকাশ এখনও মেঘলা

মা ঠিক হয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন দিয়াই শবদাহের কাজ করবে। শববাহী গাড়িতে সামনের ড্রাইভারের সঙ্গে একজন আর পিছনে তিনজনের বসার জায়গা ছিল। দিয়া আর তার মা শান্তি পিছনে বসেছিল। সবটুকুই জীবনে প্রথমবার। মাকে নিয়ে এর আগে অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে বাবাকে হাসপাতাল থেকে থেকে নিয়ে আসা বা আজ বাবার মৃতশরীর পিছনে নিয়ে এই শববাহী গাড়িতে শ্মশানে যাওয়া।

read more
পর্ব-৬৪: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৬৪: আকাশ এখনও মেঘলা

চিনিছাড়া চা! সেদিন বাবার ঘুম ভাঙছে না। দু’ চারবার স্বাভাবিকভাবে ডাকার পর দিয়া ভয় পেয়ে গেল। ডাকাডাকিতে মার ঘুম ভেঙে গেছে। আচমকা ঘুম থেকে উঠেই নিজের সব থেকে প্রিয় মানুষকে নিথর হয়ে থাকতে দেখে মায়ের কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ মুখ থেকে একটা গোঁগোঁ শব্দ করতে করতে মা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন।

read more
পর্ব-৬৩: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৬৩: আকাশ এখনও মেঘলা

শুধু নম্বর নয়! দিয়া মনোবিজ্ঞানকে ভালোবেসে পড়েছে। তখনই জানতে পেরেছে ফ্রয়েডের মতে, বহুদিন ধরে জমে থাকা কোনও তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা জৈবিক চাহিদা যখন হঠাৎ পূরণ হয়, তখন আমরা সুখ অনুভব করি। অভাব থেকে প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে, তাই চাহিদা মেটানোর পর আর এই অনুভূতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না।

read more
পর্ব-৬২: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্ব-৬২: আকাশ এখনও মেঘলা

দিয়া একবছর বাদে পার্মানেন্ট হবে। ছুটিছাটা একটু বাড়বে। পিএফটা কাটবে। কিন্তু শেষমেশ সেও-তো ভাড়ারই কর্মী। বিদেশের কোম্পানিদের জন্য ভাড়ায় কাজ করে। ক্লায়েন্ট। তারা ডলারের হিসেবে ‘অ্যাথেনা ইনফোটেক’-এর সার্ভিস ভাড়া নেয়। ভাড়ায় এখন সবকিছু। বাড়ি-গাড়ি সাজপোশাক আসবাবপত্র ঠাটবাট লোকলস্কর। উকিল মোক্তার ডাক্তার। স্যাটেলাইট। এমনকি গোপনে, ভাড়ার বর ভাড়ার বৌ।

read more

Skip to content