
সেখানেও পরিমিতি ও ভদ্রতা সীমা ছাড়ায়নি। সেইদিনও বিতান চায়নি সম্পর্ক প্রেম না ছুঁলেও বিতান বা দিয়া কারোর যেন সম্মানহানি না হয়।
— তুই বলছিলি অতনু সেনের বাবার সমস্যার কথা!
— হ্যাঁ!
স্টিয়ারিং ছুঁয়ে বিতানের চোখ টেকনোপলিস ছাড়িয়ে বিশ্ববাংলা সরণির বেপরোয়া প্রাইভেট বাসের দিকে।
— মা সুইসাইড করেছিলেন বললি!
— লোক্যালি অনেক খোঁজখবর পেলাম!
— চুঁচড়ায়?
— হুঁ!
— তুই বলছিলি অতনু সেনের বাবার সমস্যার কথা!
— হ্যাঁ!
স্টিয়ারিং ছুঁয়ে বিতানের চোখ টেকনোপলিস ছাড়িয়ে বিশ্ববাংলা সরণির বেপরোয়া প্রাইভেট বাসের দিকে।
— মা সুইসাইড করেছিলেন বললি!
— লোক্যালি অনেক খোঁজখবর পেলাম!
— চুঁচড়ায়?
— হুঁ!
এবার অতনুর জীবনের ভয়ঙ্কর জটিল জীবনকথা বলে গেল বিতান। একেবারে ঘটনাবহুল শৈশব। একজন মানুষের জীবনে এতসব উথালপাথাল ঘটে গেলে সে স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এই জন্যই অতনু সেন মহিলাদের বিশ্বাস করেন না তাঁর সংস্থায় মহিলাদের নিযুক্তির কোনও সুযোগ রাখেননি। এরকম এক মানুষকে তাঁর অস্থির শৈশব তাঁর উদভ্রান্ত যৌবন তাড়া করে বেড়ায়। তাই মন দিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতাটুকু অর্জন করার পর অতনুকে দেশে ফিরতে হয়েছে। বাবা যে আছেন দেশে। যাবজ্জীবন কারাবাস ভোগ করছেন আলিপুর সংশোধনাগারে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৮১ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৯ : নুনিয়ার টান

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭১: কৃষ্ণের প্রতি ভীষ্মের শ্রদ্ধার্ঘ্য, শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে মানুষ ও দেবতার সমন্বয়

শ্রদ্ধাঞ্জলি : বাইশে শ্রাবণ
রাতে দিয়া ঘুমোতে পারে না! অতনু সেনের জন্যে খুব খারাপ লাগছিল। এতদিন দিয়া ভাবতো তার মতো কষ্ট কেউ পায়নি। তাকে পড়াশোনা করাতে এতকষ্ট করেছেন তার মা-বাবা। কিন্তু তার সাফল্য দেখার আগেই মারণ রোগে বাবা চলে গেলেন। মা এখনও গ্যাস এজেন্সিতে কাজ করেন। পরিশ্রম হয়। অসুস্থ হন। তবু কাজে যেতে হয়। গ্যাস এজেন্সিতে ছুটি নেই। দিয়া বলেছিল
— এবার তো চাকরিটা ছেড়ে দিতে পারো!
— না! তাহলে ঘরে বসে যাবো মা! নিজে কাজ তো আগেই করেছি। সেলাই করতে করতে পিঠ কব্জি সব ব্যথা হয়ে যেত। এখন কষ্ট নেই। বিশুবাবু আমাদের অফিসঘরে এসি লাগিয়ে দেবেন বলেছেন, কম্পিউটার শিখে গিয়েছি! এখন কষ্ট কি? দুপুরে একা একা বাড়িতে থাকলে দশটা দুশ্চিন্তা মাথায় চেপে বসে।
— এবার তো চাকরিটা ছেড়ে দিতে পারো!
— না! তাহলে ঘরে বসে যাবো মা! নিজে কাজ তো আগেই করেছি। সেলাই করতে করতে পিঠ কব্জি সব ব্যথা হয়ে যেত। এখন কষ্ট নেই। বিশুবাবু আমাদের অফিসঘরে এসি লাগিয়ে দেবেন বলেছেন, কম্পিউটার শিখে গিয়েছি! এখন কষ্ট কি? দুপুরে একা একা বাড়িতে থাকলে দশটা দুশ্চিন্তা মাথায় চেপে বসে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৮ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ১

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
দিয়া কথা বাড়ায়নি। সংসারে স্পেস দিতে হয়। তাই চুপ করে গিয়েছিল। দিয়া জানে মা কেন কাজটা ছাড়তে চান না। মা চান দিয়ার বিয়ে হোক! দিয়া জীবনে সুখী হোক। দিয়ার মা চান না কোনওভাবেই মেয়ের সংসারে দায় হয়ে থাকতে। তাই যখন স্বাবলম্বী হবার সুযোগ পেয়েছেন সেই সুযোগ হারাতে চান না দিয়ার মা, শান্তি। এই ছোটো ছোটো কষ্ট ছাড়া দিয়ার একমাত্র যন্ত্রণা বাবাকে হারিয়ে ফেলা।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা
অতনু সারা সপ্তাহ মন দিয়ে অফিস সামলায়। কোনও এক অদ্ভুতটানে কেউ অতনুর কোম্পানি টেকসলিউশন ছেড়ে যাননি। রিশেপশনে যিনি বসে থাকেন সেই মধ্যবয়স্ক মানুষটি। সুবিমল দে। থেকে গিয়েছেন টেক সলিউশনের শুরুর দিন থেকে। অতনু পড়াশুনো করেছে প্রায় নিখরচায়। বিদেশের ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় লাইব্রেরি খোলা থাকতো রাতেও। সেখানে পড়ার স্লট আগে থেকে বুক করতে হতো। কোনও পয়সা লাগতো না। তাই অনেক সময় অনেক ছাত্রছাত্রী প্রি-বুক করতো কিন্তু কেউ কেউ আসতো না। স্লট খালি পড়ে থাকতো অথচ কেউ হয়তো স্লট না পেয়ে আসতে পারেনি। সবাই যে হস্টেলে থাকার সুবিধে পায় এমন নয়। এই সমস্যার কারণ ও সমাধান ভাবতে ভাবতে অতনু একটা নিজে নিজেই একটা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে ফেলল। তবে পুরোপুরি এই অ্যাপকে ব্যবহারযোগ্য করতে ইউনিভার্সিটির সাহায্য চাই। লাইব্রেরিতে স্লট বুকিং আর কতজন সেই সময়ে বুকিং ব্যবহার কোরে লাইব্রেরিতে উপস্থিত রয়েছেন সেই ডেটার সঙ্গে অ্যাপকে জুড়তে হবে। নামধাম কিছুই লাগবে না! শুধু সংখ্যা!
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে
‘Suffering is the essence of success’ —ড. এপিজে আব্দুল কালাম বলেছিলেন। বিশেষ ঘনিষ্ঠ প্রণব মুখোপাধ্যায় বা একসময়ের শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় কুমার রায় ছাড়াও ড. কালামের চেনা বাঙ্গালি নিশ্চয়ই অনেকে ছিলেন। কারও কাছে হয়তো সেই আদি অকৃত্রিম বঙ্গপ্রবাদ শুনে থাকবেন—“কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে”! অতনুর সাকসেস বা কেষ্ট হাতে হাতে এসেছিল। ইউনিভার্সিটিতে ওপেন টেক ফেস্ট হতো যে কোনও টেকনিক্যাল ইনোভেশন যা ইউনিভার্সিটির কাজে লাগবে। এটা অতনু জানতো না। তাঁর ক্লাসে যেদিন এটা শুনলো সেদিনই এই অ্যাপের কথা ডিপার্টমেন্টাল ইনচার্জকে বলেছিল। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















