বুধবার ১০ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

 

|| ৬ ||

এমন নয় যে দিয়া অতনু সেনকে মনে মনে … নাঃ! এখনও সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই। অতনুর মতো দিয়ার জীবনটাও সরলরেখায় চলা নয়। বাবা-মার আওতায় বড় হওয়া! ঘটা করে জন্মদিনের অনুষ্ঠান। কেক পায়েস। বন্ধুদের নিয়ে মশগুল আনন্দ। কোনওটাই হয়নি। সরস্বতীপুজোতে প্রথমবার মায়ের শাড়ি পরে পুষ্পাঞ্জলি দিতে যাবার সময় থেকে আজ পর্যন্ত মনে গেঁথে যাবার মতো মতো কোনও স্মৃতি নেই দিয়ার। কিছু কিছু মানুষের মুখে তার পারিপার্শ্বিক লড়াইয়ের রয়ে যাওয়া, ক্ষয়ে যাওয়া মানসিক ক্ষত, চেহারায় একটা রুক্ষতা এনে দেয়। যা তার কাছাকাছি অন্যদের সহজে পৌঁছতে দেয় না! বাধাটা দেখা যায় না। আন্দাজ করা যায়। স্পষ্ট বোঝা যায়।

এরকম মেয়েদের ফট করে কফিশপে কফি খেতে নিয়ে যাওয়া যায় না। চট করে ফোন নম্বর চাওয়া যায় না। দিয়া তার এই বিনা মাইনের সুরক্ষাবলয়কে খুব উপভোগ করে। কিন্তু অতনু সেন কে? কী তার অতীত? এসব জানার জন্য দিয়ার মনের ভেতরে বয়ে যাওয়া সাইক্লোনটা সে থামাতে পারছে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে ঘটে যাওয়া সাইক্লোনের গতি কমে আসে। অশান্ত ঝড় শান্ত হয়। মনের ভিতরে ঠিক উল্টো। সেই ঝড় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৫৭: আকাশ এখনও মেঘলা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস : এই ভাষাতেই করি গান

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৫ : অতর্কিতে হামলা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৮: শূন্যতা ও পূর্ণতার প্রতীক, রামের প্রিয় অপরূপ হেমন্ত

আর মেঘ না চাইতেই জল! সেদিন অফিস থেকে বেরিয়ে কলেজ মোড়ে বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিল। বাসস্টপে অনেক মানুষের ভিড়। দিয়া বেশ কয়েক পা তফাতে দাঁড়িয়েছিল। সেখানেও অবশ্য অনেক লোক। তারা চার্টার্ড বাসের যাত্রী। এই বাসগুলো বাসস্টপ থেকে খানিকটা এগিয়ে এসে দাঁড়ায়। হঠাৎ একটা স্যান্ট্রো গাড়ি দাঁড়ালো। বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠলো। অতনু সেন?
—এই দিয়া! এদিকে দ্যাখ! এই যে!
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২২ : জনঅরণ্য ও পরশপাথর— যে জন থাকে মাঝখানে

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২২: সঞ্চারিত অনুরাগের রেশ

মোটা মতো, গালে দাড়ি। চোখে একটা চশমা। চশমার হাল্কা হলুদ কাচ। হিন্দি সিনেমার বসদের মতো। অথচ চেহারাটা ভদ্র। হাতে কোনও বালা বা গলায় সোনা বা প্ল্যাটিনামের চেন নেই। মুখে পান নেই। হ্যাঁ, বাঁ হাতের কব্জিতে একটা ঢাউস ঘড়ি আছে!
পিছনে একটা চাটার্ড বাস এসে হর্ন দিচ্ছে।
—একটু এগিয়ে জানাচ্ছি। আমি পল্টু রে! বিতান ঘোষ!
সানট্রো গাড়িটা একটু এগিয়ে গেল। মাথার মধ্যে নামটা ধাক্কা দিচ্ছে। বিতান ঘোষ। পল্টু। ইলেভেন-টুয়েলভ?
—হ্যাঁ! ডিডিএস এভিএম!
মনে পড়ে গিয়েছে। দমদম শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দির।
—তুই পল্টু! এত মোটা হয়ে গেছিস কেন?
—মোটা বলে চিনতে পাচ্ছিলি না? উঠে আয়!
—তুই কোথায় যাবি?
—আরে ওঠ না! তুই যেখানে যাবি সেখানে গিয়ে নামিয়ে দিয়ে আসবো।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪০: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বুনো শুয়োর

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৪ : শুন বরনারী

দোনোমনা কাটিয়ে দিয়া গাড়িতে ওঠে।
—বুঝতে পারছি। অচেনা পুরুষ মানুষ। দাড়িওলা। মোটাসোটা! হঠাৎ অচেনা পুরুষ মানুষ গাড়ি দাঁড় করিয়ে ডাকছে। ভয় পাওয়া স্বাভাবিক।
—না, ভয় নয়।
—সন্দেহ! আশঙ্কা! না কারেক্ট আছে!
—এই এটা কি বাংলা রে! আজকাল খুব শুনতে পাই! নয় ঠিক বলেছিস বল, নয় ইউ আর কারেক্ট, বলবি।
—তুই এখনও তেমন দিদিমণি মার্কা থেকে গিয়েছিস।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৬ : ‘চণ্ডাল-কূপ’ ও অস্পৃশ্যতা: পঞ্চতন্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন ভারতের এক দগদগে ইতিহাস

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

এবার দিয়ার সব মনে পড়ে গিয়েছে। ইলেভেন টুয়েলভে গার্লস স্কুল থেকে গিয়ে প্রথম কো-এডুকেশন। দিয়া গম্ভীর থাকতো। নিজেকে গুটিয়ে রাখতো। ক্লাসের ছেলেরা খুব একটা কথাবার্তা বলত না। হঠাৎ একবার সরস্বতী পুজোয় অঞ্জলির ফুলের সঙ্গে এই বিতান তার হাতে একটা চিরকুট গুঁজে দিয়েছিল। ভিড় বেশি হলে ফুল একবার। একই ফুলে তিনবার অঞ্জলি। অঞ্জলি শেষে প্রণাম এর আগে মায়ের দিকে ফুল ছুঁড়তে হয়। দুর্গা কালী সরস্বতী লক্ষ্মী সবাইকে ফুল দু’ হাতে মায়ের পায়ের দিকে অর্পণ করতে হয়। হাতে কাগজ থাকায় সেটাকে মুচড়ে ছোট্ট করে বাম হাতের ভেতরে নিয়ে একহাতে এই প্রথম মাকে ফুল দিয়েছিল দিয়া। কানমাথা গরম। স্কুলের টয়লেটে গিয়ে দরজা বন্ধ করে চিরকুটটা খুলে কিন্তু ফিক করে হেসে ফেলেছিল। গোটা গোটা অক্ষরে লেখা—

“দিয়া তোকে আমার খুব লাগে কিন্তু তুই যদি না চাস তাহলে আমরা শুধুই বন্ধু হতে পারি! কেউ জানে না! জানবেও না। কাগজটা ফেলে দিস।”

দিয়া কী চাইবে না! প্রেম? একা একা নিঃশব্দে খানিক হেসে কাগজটা কুচিয়ে ফেলে জলের ফ্ল্যাশ টেনে দিলো। গাড়িটা চলছে। বিতান জিজ্ঞেস করেনি দিয়া কোথায় যাবে! বিতান জানে দিয়া কোথায় থাকে। সেদিন ভোগপ্রসাদ পরিবেশনের দলে বিতান ছিল! দিয়া ব্যাপারটায় সেদিনই নির্ভেজাল বন্ধুত্বের শিলমোহর দিতে চেয়েছিল। তাই সে চেঁচিয়ে বলল—
—এই পল্টু একটা বেগুনি দে না! —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content