শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
একটু সময় নিয়ে ডাক্তারবাবু টেবিলে ওষুধ কোম্পানির দেওয়া পেনস্ট্যান্ড নাড়াচাড়া করতে করতে বললেন, বলুন মা আমি শুনছি! মা যেন কথা বলার জোর ফিরে পেয়েছিলেন।
—ডাক্তারবাবু এই কেমো আর রে দেওয়ার ফলে আমার স্বামী নীলকণ্ঠ হয়ে গিয়েছেন। খরচের জন্য বলছি না। একজন চিকিৎসক নয়। একজন পারিবারিক বন্ধু হিসেবে বলুন, ওঁর জীবন ফিরে পাবার যদি এককণাও সম্ভাবনা থাকে তাহলে আমাদের শেষ সম্বল বাড়িটুকুও আমরা বেচে দেব। কিন্তু সেই সম্ভাবনা যদি খুবই কম হয় তাহলে আর আমি ওষুধ দিয়েও কষ্ট বাড়াতে চাই না। উনি আমাকে ইশারায় বলেছেন, উনি আর ওষুধ খেতে পারছেন না। দয়া করে আপনি এমন ওষুধ দিন যাতে জ্বালা যন্ত্রণা ব্যথাটুকু কমে যে ক’দিন থাকবেন অন্তত যেন একটু ঘুমোতে পারেন।
কথাগুলো বলার পর শান্তি নিজেকে সামলাতে পারেনি। মুখের মধ্যে কাপড় গুঁজে দিয়েও তার ককিয়ে ওঠা আওয়াজ বন্ধ করতে পারেনি। প্রতিদিন যিনি মৃত্যুকে তার চোখের সামনে দেখছেন সেই কঠিন হৃদয়ের অভিজ্ঞ ডাক্তারবাবু নিজের আবেগ সামলাতে না পেরে চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়েছিলেন। তবে প্রেসক্রিপশনে তিনি শুধু ব্যথা ও শরীরের জ্বালা কমাবার আর ভালো ঘুমের ওষুধ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই, যা মন চায় তাই খেতে পারেন। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর স্ত্রীর পরিস্থিতি সামলাবার দুর্দম সাহস দেখেই হয়তো অভিজ্ঞ ডাক্তারবাবু এ সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা : দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৬৩: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬১ : গোবিন্দ সোরেন দ্য গ্রেট

উত্তম কথাচিত্র পর্ব-৮৮ : নেকলেস

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৪: শূর্পনখার কাহিনিতে, ষড়রিপুর প্রভাব, এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত নয় কী?

বাড়িতে ফেরার পর বাবা আরও দু-বছর বেঁচে ছিলেন। প্রথমে দিয়া আর তার মা ধরে নিয়েছিল যে আয়ু বোধহয় মাত্র কয়েকদিন। এক দুই সপ্তাহ এক দু’ মাস। বড়জোর ছটা মাস। কিন্তু ছটা মাস কেটে যখন আরও ছটা মাস কেটে গেল গোটা একটা বছর ঘুরে গেল। এক দুর্গাপুজো থেকে আরেক দুর্গাপুজো। তারপর সব যেন অভ্যস্ত হয়ে আসছিল। মনের কোন অজানা কোণে যেন এক চিলতে আশার রোদঝলক। ঝমঝমে বৃষ্টির পর কালো মেঘ কেটে গিয়ে যেরকম ফর্সা আলো বেরিয়ে আসে। ঠিক তেমন।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৯ : শুধু মনুভ্যালি নয়, কৈলাসহরের চা বাগান কালীশাসনও বিপ্লবী তৎপরতার সাক্ষী

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৭ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (২)

যখন মনে মনে বিশ্বাস হতে শুরু হয়েছিল যে বাবা হয়তো এভাবেই আরো কিছুদিন, তখনই আচমকা সব ভেঙেচুরে গেল। একদিন ভোরবেলায় বাবার ঘুম ভাঙলো না। মায়ের সেলাইয়ের স্কুলে ক’দিন খুব চাপ। মা’র ঘুম ভাঙ্গতে কদিন দেরি হচ্ছে। সকালের চাটা এখন দিয়াই বানায়। চা হয়ে গেলে ফ্লাস্কে ঢেলে রেখে মাকে ডাকে। আর বাবার মাথার পিছনে আর একটা বালিশ দিয়ে মাথাটাকে একটু উঁচু করে দেয়। একটা চামচ দিয়ে বাবাকে একটু একটু করে ফুঁ দিয়ে সকালবেলা রোজ চা খাইয়ে দেয়।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫২: কূটবণিক্-জাতক — ভাণ্ডার তোর পণ্ড যে হয়

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

চিনিছাড়া চা! সেদিন বাবার ঘুম ভাঙছে না। দু’ চারবার স্বাভাবিকভাবে ডাকার পর দিয়া ভয় পেয়ে গেল। ডাকাডাকিতে মার ঘুম ভেঙে গেছে। আচমকা ঘুম থেকে উঠেই নিজের সব থেকে প্রিয় মানুষকে নিথর হয়ে থাকতে দেখে মায়ের কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ মুখ থেকে একটা গোঁগোঁ শব্দ করতে করতে মা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— বালিকাঠা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

—নেই রে মানা! নেই! তোর বাবা আমাকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেল।
দিয়া সেদিন একলাফে বছর টপকে গেলো! অনেকটা দায়িত্ব। অনেকটা কঠিন কাজ। তাকে সবই একা সামলাতে হলো। পাড়ার ছেলেরা, কাকুরা। তাদের চেনা কাউন্সিলার। এলাকার রাজনৈতিক দাদা। সকলে অল্পবিস্তর এসে দাঁড়িয়েছিল। শ্মশানের গাড়ির ব্যবস্থা। ডাক্তারের সার্টিফিকেট। মায়ের প্রেশার ফল করছিল। পাড়ার ডাক্তার এসে দেখে গেলেন। বললেন—
— মায়ের তো লো প্রেশারের এমনি কোনও হিস্ট্রি নেই!
— না সেরকম তো।
— হুঁ! সাডেন মেন্টাল শক থেকে হয়েছে। আসলে আচমকা নার্ভাস সিস্টেম ব্রেকডাউন করেছে। আচমকা হাট রেট কমে গেছে। টাইপ প্রেসার ফল করছে।
—না মানে ডাক্তারবাবু ভয়ের কিছু?
— না মায়ের তো আচমকা ভয় থেকেই হয়েছে! কিন্তু তুমি আবার ভয় পেয়ো না! আমাদের ভাষায় এন এম এইচ বলি!—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content