
বিতান দিয়াকে নামিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গিয়েছে। পাশের শ্রীমা স্টেশনার্স-এর দোকানের তেরছা আলোয় কার্ডটা দেখলো দিয়া। বিবি এন্টারপ্রাইস। সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি, ওপরের এককোণে লেখা বিতান ঘোষ। চিফ এক্সিকিউটিভ। বিতানের পদবী যে ঘোষ সেটা তখন বলেছিল বটে কিন্তু এতক্ষণে যেন মনে করতে পারলো। তার মানে এই কাজেই সে তার অফিসে আসতে চায়। হ্যাঁ, খেয়াল পড়ছে অফিসে সিকিউরিটি গার্ড একজন আছে বটে। কিন্তু সে গোটা বিল্ডিং-এর সিকিউরিটি? নাকি দিয়ার অফিস ‘অ্যাথেনা ইনফোটেক’-এর নিজস্বকর্মী? সেটা দিয়া জানে না! রবীন চ্যাটার্জি কি সিকিউরিটি রাখার জন্য এত খরচাপাতি করবেন?
অবশ্য ‘নিজস্ব কর্মী’ কথাটা ভেবে এখন হাসি পাচ্ছে দিয়ার। ফিক্সড কস্ট বা বাঁধা খরচ কমানো এখন একটা চ্যালেঞ্জ। তার জন্যই ড্রাইভার সিকিউরিটি ক্লিনিং স্টাফ অফিসের হার্ডওয়ার মেনটেনেন্স সবই তো এখন ভাড়ার। কাউকে মাইনে বোনাস দিয়ে আজীবন পুষতে হবে না। কাজের সময় কাজী কাজ ফুরোলেই পাজি। গোটা দুনিয়াটাই এখন ভাড়াতে চলছে। এমনকি দিয়া যে কিনা অ্যাথেনা ইনফোটেকে চাকরি করে। এখন প্রবেশনে আছে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা : দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৬১: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৬ : অগ্নি সংস্কার

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫২: রামের জীবনে জটিলতা ও অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে—নারী
দিয়া একবছর বাদে পার্মানেন্ট হবে। ছুটিছাটা একটু বাড়বে। পিএফটা কাটবে। কিন্তু শেষমেশ সেও-তো ভাড়ারই কর্মী। বিদেশের কোম্পানিদের জন্য ভাড়ায় কাজ করে। ক্লায়েন্ট। তারা ডলারের হিসেবে ‘অ্যাথেনা ইনফোটেক’-এর সার্ভিস ভাড়া নেয়। ভাড়ায় এখন সবকিছু। বাড়ি-গাড়ি সাজপোশাক আসবাবপত্র ঠাটবাট লোকলস্কর। উকিল মোক্তার ডাক্তার। স্যাটেলাইট। এমনকি গোপনে, ভাড়ার বর ভাড়ার বৌ।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৬ : ‘বসন্তবায় মোরে জাগায় পল্লব কল্লোলে’

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৪ : দেবী — ব্যথার পূজা হয়নি সমাপন
তবে বিতানকে দেখে মনে হল, বউ মেয়েকে নিয়ে সে বেশ সুখে আছে। সে সরাসরি দিয়ার ফোন নম্বর চায়নি। ব্যবসার জন্য অফিসের ঠিকানা চেয়েছে। কার্ড দিয়েছে। তাতে তার ফোন নম্বর আছে। হোয়াটসঅ্যাপ করলে দিয়ার নম্বর পেয়ে যাবে। গাড়িতে করে বাড়ি বয়ে দিয়াকে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছে। হঠাৎ দেখা। আচমকা। এত বছর পর। দেখে তো না দাঁড়াতেও পারতো। কোন দরকার ছিল না। ঘরে সুন্দরী বৌ। মিষ্টি একটা বাচ্চা। পয়সাওয়ালা প্রোমোটার শ্বশুরমশাই। এতবছর বাদে বিতান নিশ্চয়ই দিয়ার সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক বানাতে গাড়ি দাঁড় করায়নি। নিছকই ভদ্রতা। সেই সরস্বতী পুজোতে পুষ্পাঞ্জলির ফুলের সঙ্গে এক চিলতে প্রেম নিবেদন ছাড়া আর কখনও কোনও অসভ্যতা করেনি বিতান। দিয়াই অনেকের মতো বিতানের সঙ্গেও তার বন্ধুত্বকে গড়াতে দেয়নি। একটা বাধা। কোথাও একটা সংকোচ ছিল। এখন সমস্যা কী? বিতানকে অফিসের ঠিকানাটা হোয়াটসঅ্যাপ করে পাঠিয়েই দেবে। ওর নাম্বারটা সেভ করে রাখবে। বলা তো যায় না। মাকে নিয়ে একা থাকে। কখন কোন বিপদের মুখে পড়ে। কাছাকাছি থাকে। স্কুল জীবনের বন্ধু। হঠাৎ করে কাজে লাগতে পারে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৭: রাজতন্ত্রের শাসন হলেও ত্রিপুরায় তখন ধীরে ধীরে গণচেতনার উন্মেষ ঘটছে

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৯ : দুই সাপের বিবাদ ও রাজকন্যার গুপ্তধন লাভ! প্রাকারকর্ণের চাণক্য-নীতিতে মুগ্ধ উলূকরাজ
— কিরে আজ হঠাৎ এতো তাড়াতাড়ি? রকেট চেপে এলি নাকি!
— হ্যাঁ মাঝে মাঝে এমন হলে মন্দ কী?
প্লাস-ট্যুর বন্ধু বিতানের ঠান্ডা স্যান্ট্রো গাড়িতে চেপে দিয়া আজ বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছেচে এটা কেন উল্লেখ করলো না সে! খুব সোজা। জিনিসটার আগা-পাশতলা না বুঝে মা তিল থেকে তাল ভেবে নিতে পারেন। এই কথাটাকে ঘেঁটে দেখার জন্য দিয়া একবার গুগল করেছিল। আসল কথাটা হলো আগা-পাছতলা। মানে আগুপিছু। আদ্যোপান্ত।
— হ্যাঁ মাঝে মাঝে এমন হলে মন্দ কী?
প্লাস-ট্যুর বন্ধু বিতানের ঠান্ডা স্যান্ট্রো গাড়িতে চেপে দিয়া আজ বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছেচে এটা কেন উল্লেখ করলো না সে! খুব সোজা। জিনিসটার আগা-পাশতলা না বুঝে মা তিল থেকে তাল ভেবে নিতে পারেন। এই কথাটাকে ঘেঁটে দেখার জন্য দিয়া একবার গুগল করেছিল। আসল কথাটা হলো আগা-পাছতলা। মানে আগুপিছু। আদ্যোপান্ত।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪২: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গঙ্গার শুশুক

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
আচ্ছা দোষ তো একা দিয়ার নয়। বিতানও তো ওর বউ ফোনে বলল না—যে ও বাগুইআটি থেকে দমদম নাগেরবাজারে, ওর এগারো-বারো ক্লাসের বান্ধবী দিয়াকে ড্রপ করতে যাচ্ছে। জানি এটা অপ্রাসঙ্গিক অপ্রয়োজনীয় একটা তথ্য। যেটাতে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। কারণ বিনি খুব ভালো করে জানে বিতান গাড়ি একাই চালাচ্ছে। দুম করে এরকম একটা চার দেওয়ালের ভিতরের কথা বাইরে বলে ফেলেছে। আর বিতান রোজ একাই ফেরে হয়তো। রিফ্লেক্সে গাড়িতে চালাতে চালাতে স্পিকার অন করে দিয়েছিল। খেয়ালই ছিল না পাশে দিয়া বসে আছে।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















