শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

ডাক্তারবাবু দিয়াকে বুঝিয়ে বলেন—
— Neurally Mediated Hypotension! উনি একটু শুয়ে বিশ্রাম করুন! গরম দুধ থাকলে একটু খাইয়ে দিন। দুধে অসুবিধে থাকলে আদা দিয়ে একটু গরম র’ চা হলেও চলবে। টেম্পোরারি ফেজ! কোনও কিস্যু ওষুধ দরকার নেই। এমনিতে ঠিক হয়ে যাবেন। তবে তোমাকে খুব শক্ত থাকতে হবে। কান্নাকাটি করলে চলবে না। তোমাকে দেখেই উনি ভরসা পাবেন।
মা ঠিক হয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন দিয়াই শবদাহের কাজ করবে। শববাহী গাড়িতে সামনের ড্রাইভারের সঙ্গে একজন আর পিছনে তিনজনের বসার জায়গা ছিল। দিয়া আর তার মা শান্তি পিছনে বসেছিল। সবটুকুই জীবনে প্রথমবার। মাকে নিয়ে এর আগে অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে বাবাকে হাসপাতাল থেকে থেকে নিয়ে আসা বা আজ বাবার মৃতশরীর পিছনে নিয়ে এই শববাহী গাড়িতে শ্মশানে যাওয়া।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৬৪: আকাশ এখনও মেঘলা

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম

ইলেকট্রিক চুল্লির সামনে লাইন দিয়ে রাখা মৃতদেহের মধ্যে দিয়ার বাবা একজন। শ্মশানে যিনি পুজো করার ঠাকুরমশাই ছিলেন তিনি দিয়াকে বললেন—
— মৃতদেহকে একা রেখো না মা। শরীরটা ছুঁয়ে তুমি বসো!
কেন তাতে কি হয় ? সেদিন জিজ্ঞেস করা হয়নি। পরে গুগল করে জেনেছে।
এটি হিন্দুধর্মের লৌকিক আচার। সম্ভবত বাস্তবসম্মত কারণটা একরকম। মৃতদেহকে পিঁপড়ে বা পোকামাকড়ের আসা থেকে দূরে রাখা বা অসুস্থতার কারণে মৃতদেহের দ্রুতপচনের বিষয়ে সজাগ থাকা। কিন্তু প্রচলিত বিশ্বাসটা আরেকরকম। গরুড়পুরানে বলা আছে শরীর থেকে আত্মার মুক্তি ঘটার পর শরীরকে অন্য জীবিত শরীর ও আত্মা ছুঁয়ে থাকলে কোনও অশুভ দুরাত্মা প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শবদাহের সবরকমের আচার-অনুষঙ্গ পালনের পর লোহার দরজা নেমে এলো সাদা চাদরে ঢাকা বাবার মৃতদেহকে গিলে নিল টকটকে লাল আগুন। যেন লক্ষ সাপের লকলকে জিভ বের হওয়া নাচতে থাকা ফণার ছোবল আছড়ে পড়ল চিরকালের মতো হারিয়ে যাওয়া বাবার পার্থিব শরীরে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০০ : স্থানীয়রা দিনে কৃষি কাজ করতেন, আর রাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতেন বিপ্লবীরা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৫: নৈতিকতার নিরিখে, মল্লযুদ্ধে জরাসন্ধবধ, আজও প্রাসঙ্গিক কেন?

দশ-বারো দিন সব থমকে ছিল। কিন্তু বেঁচে থাকতে গেলে থামলে চলবে না। সেলাই স্কুলে মায়ের কাজের চাপ ভীষণ বেশি। তার উপর এই দশ দিন কোন কাজ করেননি। নববর্ষ আসছে। মাকে কাজে ফিরতে হলো। দিয়াও ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করছিল, যাতে মা কাজের চাপে একা একা ভাবনা-চিন্তার সুযোগ না পান। কাজ থেকে ফিরে তো কান্নাকাটি করবেই তখন তো দিয়া আছে সে সামলাতে পারবে। সকালের সময়গুলো তো দিয়াকে নানা জায়গায় ইন্টারভিউতে যেতে হয়। সত্যি সত্যি মা দম নেবার সুযোগটুকুও পাননি ।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— বালিকাঠা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

এখন অলিতে গলিতে ব্যুটিক! এই ফরাসি শব্দের সঙ্গে এখন আমরা খুব পরিচিত। তাদের অর্ডারি মাল সাপ্লাই করতে হয়, মায়ের সেলাই স্কুলকে। নতুন শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজের চল তো কবে থেকেই ছিল। হালফ্যাশানের হুজুগে এখন কমবয়েসী থেকে প্রৌঢ় দম্পতি সকলেই রংমিলান্তি। মনের মধ্যে রং থাক না থাক। এক মন থেকে অন্য মনের দূরত্ব কয়েকযোজন হলেও পোশাকের রঙেরঙে মিল থাকা চাই । স্ত্রীর ব্লাঊজের রঙে স্বামীর ধুতির রং। পাঞ্জাবির হাতার সঙ্গে শাড়ির পাড়ের মিল। আর সেসব আজকাল শুধু পুজো বা নববর্ষে নয়। জন্মদিন বিবাহবার্ষিকী দোল ‘Valentines day’ ছুতো একটা পেলেই হল। কনজিউমারেসিম বা ভোগবাদে মূলতথ্যই হল মানুষের সঞ্চয়কে ‘ভোগে’ পাঠানো বা মানুষকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্যব্যবহারে বাধ্য করে তোলা।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক পর্ব-১৬২ : আঁধারে আলো

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

কিন্তু শুধু সেলাইস্কুলের ওপর টিকে থাকা যাবে না এটা দিয়ার মা শান্তি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি নিজেই বাবার পুরনো বন্ধু গ্যাস এজেন্সির মালিক বিশু পালের কাছে দিয়ার একটা চাকরির জন্য তদবির করেছিলেন। সব মানুষের ভিতরে কোথাও যেন একটা সৎ স্নেহশীল মানুষ লুকিয়ে থাকে। বিশু পাল লোকটা খুব হিসেবে ব্যবসায়ী। কিন্তু মানা করেছিলেন।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content