শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
পুলিশ এলো। লোকাল থানা মারফৎ জেলে দুলালের কাছে খবর পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে এই প্রথম ফাদার স্যামুয়েল জেলে গিয়ে দুলালের সঙ্গে দেখা করলেন। কথা কিছু বলতেই পারলেন না। শুধু গরাদ আর জালের ফাঁক দিয়ে নির্বাক নিশ্চুপ শোকে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া দুলালের আঙুলগুলো ছুঁয়েছিলেন।
—আর কত অন্যায় সহ্য করবো ফাদার?
— আমার কাছে সত্যিই দেবার মতো কোনও জবাব নেই দুলালবাবু! তিনটি বছর আপনাকে যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে তারপর আপনি সসম্মানে ফিরে আসবেন।
—আর কোনদিন আমার সম্মান ফেরত চাই না ফাদার! আমার সব শেষ হয়ে গিয়েছে।
— কিন্তু আমি একটা ব্যাপারে আপনাকে নিশ্চিন্ত করতে পারি অতনুকে আমি সমস্ত দূর্যোগ থেকে আগলে রাখবো! আমি অতনুর মাকেও বলেছিলাম।
—তাই বোধহয় সে সব ছেড়ে চলে যেতে পেরেছে! একটা কথা ফাদার, আমাকে তৃপ্তির দাহকার্য করার জন্য প্যারোলে নিশ্চয়ই ছাড়বে!
—আমাদের দেশের আইন তো সে কথাই বলে কিন্তু আপনি যদি সত্যি আমায় জিজ্ঞেস করেন তাহলে আমি বলব, আমার আর কোনও ভরসা নেই!
— ঠিক আছে সেটা নয় আইন ব্যবস্থা বুঝবে, কিন্তু আপনাকে কথা দিতে হবে যে আপনি কোনও অবস্থাতেই অতনুকে ওখানে নিয়ে আসবেন না আপনিও আসবেন না।
—অতনুর মা ! সারা জীবনের মতো চলে যাবেন। সেকি একবার!
—না, ওই কাপড়ের বস্তামোড়া মায়ের চেহারাটা দেখানোর জন্যে ওকে নিয়ে আসার কোন দরকার নেই। আপনিও আসবেন না! আপনি এলে ওর মন খারাপ হবে। ওকে বলবেন কী ঘটেছে এবং ওকে একটা দিন আপনি সময় দেবেন সারাদিন ওর সঙ্গে কাটাবেন। রায় বেরোনোর আগে, তৃপ্তি যেদিন প্রথম আর সেটাই শেষবার আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল, ওকে বলেছিলাম বাড়ি টাকা-পয়সা সবকিছু ওর আর অতনুর নামে করে নিতে। আমি জানিনা ও সেসব করার সময় পেয়েছে কিনা, বা আদৌ করেছে কিনা। আমার ছোটবোনের নাম ফোন নাম্বার ঠিকানা আপনাকে দিচ্ছি আপনি দয়া করে ওর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমার বোন অসুস্থ সে কিন্তু কিছু জানে না।
— দুলালবাবু আপনি এখনই এতসব ভাবছেন কেন অতনু আমার কাছে বড় হচ্ছে, সে আমার কাছেই বড় হবে কিন্তু আপনি তো ফিরে আসবেন!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৮: আকাশ এখনও মেঘলা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৩: ডায়মন্ড হারবার, গৌরীর হারিয়ে যাবার দিন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪১: যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞানুষ্ঠানের সিদ্ধান্তে কেন কৃষ্ণের অনুমোদন প্রয়োজন?

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৬: বক্সনগরে আবিষ্কৃত হয়েছে বৌদ্ধ স্তুপ, চৈত্যগৃহ ও একটি মঠ

দুলাল সেদিন কোন উত্তর দেয়নি। দুলালের অনুরোধে ফাদার সামুয়েল তৃপ্তির শেষকৃত্যে অতনুকে নিয়ে আসেননি, নিজেও উপস্থিত হননি। সেদিন জেল থেকে ফেরার পরই চার্চ থেকে টেলিফোন করেছিলেন দুলালের ছোটবোন মণির স্বামীকে। এবং আশ্চর্য হয়ে শুনেছেন তৃপ্তি নিজে বাড়ি টাকা-পয়সা গয়নাগাটি যা কিছু আছে সব অতনুর নামে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন এবং দলিলও অতনুর নামেই করে দেওয়া হয়েছে। দুলালবাবুর ছোটবোন মনির স্বামী দুলালবাবুর স্ত্রী তৃপ্তিকে বোঝাবার চেষ্টা করেছিলেন যে অতনু এখনও নাবালক। তাই বাড়ির মালিকানা, গয়নাগাটি, টাকাকড়ি যতটুকু আছে, সবই দুজনের নামে রাখা উচিত। তৃপ্তি জানিয়েছিল অতনুর নামে থাকা মানে তার কাছেই থাকা আলাদা করে নাম দেবার দরকার নেই।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩১: সুন্দরবনের এক অনন্য প্রাণীসম্পদ গাড়োল

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৬: সেফ শেলটার

তারমানে তৃপ্তি কি অনেক আগে থেকে মনে মনে এরকম একটা চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আসলে বারবার আদালতে ঠকে যেতে যেতে দুলালবাবুর মতই তার স্ত্রী তৃপ্তির মনেও কোথাও আদালতে প্রকৃতপক্ষে মিথ্যার পরাজয়, সত্যের জয় নিয়ে খুব বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছিল।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৭ : রাজা সাজা

দশভুজা, সরস্বতীর লীলাকমল, পর্ব-৪৬: ঠাকুরবাড়ির লক্ষ্মী মেয়ে

দুলালকে প্যারোলে দু-দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছিল। দুলাল সেই ছুটি নিতে অস্বীকার করে। সে জানায় তার কোনও পরিবার-পরিজন আর নেই। তার নিজের বাড়িটাও এখন মৃত্যুপুরী। তাই প্যারোলে ছুটিতে ফিরে রাত কাটাবার জায়গা নেই তার। স্ত্রীর পারলৌকিক কাজকর্ম করার জন্য সে তার ছোটবোনের স্বামীকে অনুরোধ করেছে। কলকাতায় এমন মিশন আছে যেখানে তারা পারলৌকিক কাজকর্মাদি সুষ্ঠুভাবে করিয়ে দেন। আত্মীয় না থাকলে সাধু মহারাজরাই করণীয় সবকিছু করেন। সে শুধু দাহকার্য্যটুকু করে স্ত্রীকে পরপারে পাঠিয়ে তার সরকারী আশ্রয়ে ফিরে আসবে।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৭ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: দেখা হবে চন্দনের বনে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৪: কবি-কন্যার প্রিয় বান্ধবী

কড়া পুলিশ পাহারায় দুলাল সেনকে শ্মশানে নিয়ে আসা হলো। পুলিশ, মর্গ থেকে ফেরত আসা তৃপ্তির মৃতদেহ দুলালকে তুলে দিলেন। তখনও ইলেকট্রিক চুল্লি হয়নি এখানে। সাজানো হলো কাঠের চিতা, তৃপ্তির মৃতদেহ শোয়ানো হলো সেই চিতায়!—চলবে।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content