দুর্দমনীয় দশভাই দশভেয়েদের ত্রাসে তখন চারিদিকে একটাই রব—ত্রাহি ত্রাহি। এ এক আশ্চর্য ব্যাপার বটে! ভবিষ্যতে যিনি হবেন সকলের ইহকাল পরকালের ত্রাতা, তাঁর থেকেই তখন পরিত্রাণ চাইছে সকলে! মানুষই দেবতা গড়ে, তাহারই কৃপার ‘পরে করে দেব মহিমা নির্ভর!
দুর্দমনীয় দশভাই দশভেয়েদের ত্রাসে তখন চারিদিকে একটাই রব—ত্রাহি ত্রাহি। এ এক আশ্চর্য ব্যাপার বটে! ভবিষ্যতে যিনি হবেন সকলের ইহকাল পরকালের ত্রাতা, তাঁর থেকেই তখন পরিত্রাণ চাইছে সকলে! মানুষই দেবতা গড়ে, তাহারই কৃপার ‘পরে করে দেব মহিমা নির্ভর!
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।” এই কথার গভীর তাৎপর্য আজ নতুন করে উপলব্ধি করা দরকার। কারণ সম্পর্কের সংকটের মূলে শুধু প্রযুক্তি নয়; রয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাস, ধৈর্য ও সহমর্মিতার ক্রমশ অবক্ষয়।
আমার এমন ছেলে চাই যে ঘণ্টার ঘণ্টার পর একটা জিনিস নিয়ে পড়ে থাকতে পারে, ভাবতে পারে। কিন্তু তাকে ফ্রিডম দিতে হবে। এই ফ্রিডমটা পায় না বলেই যথেষ্ট বুদ্ধিমান হওয়া সত্ত্বেও এরা কম্পিটিটিভ এক্সাম ক্র্যাক করতে পারে না। সে অকারণে বিদ্যে জাহির করে না কিন্তু ইয়েস ম্যানও নয়। নিজের টার্মসে কাজ করতে ভালোবাসে।
নকল ফাদার আন্তোনিও ওরফে আনাতোলের দিকে তাকিয়ে মুহূর্তে উপস্থিত সবাই যেন ফ্রিজ হয়ে গেল। কী করবে, বুঝে উঠতে পারছিল না কেউ। আকস্মিক এমন ঘটনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি ছিল না কারও-ই। যে দিকে ঘটনাপ্রবাহ এগোচ্ছিল, তাতে সকলেই ভেবেছিল, খেলা একেবারে শেষের পথে। স্বরূপ উদ্ঘাটনের পরে নকল ফাদার আন্তোনিও ভেঙে পড়ে সারেন্ডার করবে। কিন্তু সে যে পকেট থেকে রিভলভার বার করে খেলা ঘুরিয়ে দিতে চাইবে, এমনটা কেউ ভাবেনি। মিস্টার শর্মা শাক্য এবং সুদীপ্তর মুখের দিকে তাকালেন।
কৈলাসহর ত্রিপুরার এক প্রাচীন জনপদ। সুদূর অতীতে ত্রিপুরার রাজাদের রাজপাট ছিল এখানে। এই অঞ্চলের প্রাচীনত্বের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিক পীঠভূমি ঊনকোটি। সুদূর অতীতে কে কবে এই পাহাড়ের গায়ে পাথর কেটে তৈরি করেছিল আশ্চর্য সব বিগ্রহ তা আজও প্রায় অনাবিষ্কৃত। ঊনকোটি যেন সন্নিহিত অঞ্চলটিতে প্রাচীন এক সভ্যতার সাক্ষ্যই বহন করছে। জনপদের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে পুণ্য সলিলা মণু।
নন্দগোপা-ই ভবিষ্যতের যশোদা, দেবগর্ভা দেবকী। ক্রমে ক্রমে তাঁদের দশটি করে কন্যা ও পুত্র জন্ম নিল। দেবগর্ভার পুত্রদের পালন করতে লাগলেন নন্দগোপা। নন্দগোপার কন্যারা লালিত হতে থাকল দেবগর্ভার কাছে। এই অতি গোপনীয় সত্য দুই মাতা ও দুই পিতা-ই জানলেন কেবল। আর কেউ এই রহস্যের বিন্দুমাত্র জানতেন না। ক্রমে কাল অতিবাহিত হতে থাকল তার নিজের বেগে। শিশুগুলি এখন পরিণত যুবক, যুবতী।
ব্যাগের মধ্যে থেকে ফোনের ভাইব্রেশনের চাপা গোঁ গোঁ শব্দ! পুলকের স্নানে অনেক সময় লাগে! নানা রকমের বডিলোশন মাখা। এটা সেটা। তার এসব আছে। তাই ফোন নিয়েই চানে যায়।কিন্তু এটা কী সেই পারসোন্যাল নম্বরের ফোন!? হতে পারে খুব কনফিডেন্সিয়াল ফোন! সিএম হতে পারেন?
জ্যেষ্ঠপাণ্ডব যুধিষ্ঠিরায়োজিত রাজসূয়যজ্ঞে প্রবীণতম কুরুপ্রধান ভীষ্মের নির্দেশে, কৃষ্ণকে অর্ঘ্য দান করা হল।চেদিরাজ শিশুপালের সেই পূজা অসহনীয় মনে হল। শিশুপালস্তু তাং পূজাং বাসুদেবে ন চক্ষমে। তাঁর তিরস্কারের লক্ষ্য হলেন ভীষ্ম ও যুধিষ্ঠির। অন্যান্য সম্মানীয় যোগ্য ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিতান্তই অপাত্র কৃষ্ণের কেন এত সমাদর? কেন এত শ্রদ্ধাপ্রদর্শন?
সুন্দরবন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা হল শিয়রচাঁদা সাপ মানুষের ঘাম খেতে রাত্রে বিছানার কাছে আসে। প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে ঘাম কখনওই সাপের খাদ্য নয়। তাছাড়া সাপের জিভ মাঝখানে চেরা। এইরকম জিভ দিয়ে চেটে খাওয়া কখনওই সম্ভব নয়। আবার চেটে খেতে গেলে ফুসফুসে জোর থাকা দরকার। সাপের ফুসফুস খুব দুর্বল, মাত্র একটি ফুসফুস থাকে।
“এই অর্গানাইজেশনে কোনওদিনই কোনও রিশেপসনিস্ট থাকবেন না! ইনফ্যাক্ট আজ আ পলিসি আমরা কোনও লেডিকে রিক্রুট করবো না, নট ইন এনি পজিশন!
কথাটার মধ্যে এতটাই কনভিকশন ছিল সুবিমলের দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করতে হয়নি কেন? মহিলারা এই স্টার্ট-আপে কাজ পাবেন না! No means no.!”
জীবনের থেকে বড় শিক্ষক বুঝি আর নেই। জীবন যখন “শুকায়ে যায়”, তিনি করুণাধারা হয়ে আসেন। ঝকঝকে বীর, নিখুঁত পরিকল্পক, সর্বত্র সফল, শ্রেষ্ঠ চিরবন্দিত নায়ক-ও কোথাও, কোনওদিন, অকস্মাৎ ভেঙে পড়েন। অথবা, তাঁর নিভৃত ভাঙনটুকু চোখে পড়ে না তেমন এই মর্ত্যলোকের। সেই দ্রষ্টা কিন্তু ঠিকই লক্ষ্য রাখেন। পাখির চোখে স্থিরনিশ্চল হয়ে দেখে যান কর্মফলভোক্তাকে, তারপর অজ্ঞানমোহ দূর করার সুতীব্র প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেন।
শাক্য একদৃষ্টিতে পেশেন্টের স্ট্রেচারে শায়িত আন্তোনিওর মুখের দিকে তাকিয়েছিল। সেই অবস্থাতেই সে বলল, “ভূতেরা যে কেবল রাতের বেলা বেরোয়, এ কিন্তু আপনার ভুল ধারণা মিঃ শর্মা। আপনি ভূতেদের আন্ডার-এস্টিমেট করছেন। মানহানির মোকদ্দমা হতে পারে ভৌতিক আদালতে। আমাদের বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ঠিক দুক্কুর বেলা, ভূতে মারে ঢেলা! তা ভূতেরা যদি দুপুরবেলা না-ই বেরোয়, তাহলে ঢেলা মারবে কী করে শুনি? তাই তো ফাদার?”
একশো বছরে অনেক খ্যাতকীর্তি মানুষ-ই বিস্মৃত হন। আলোকবৃত্তে থাকা হয়ে ওঠে না অনেকের। উত্তমকুমার কী ছিলেন, কী ছিলেন না তা ফিল্মের আলোচকরা বলবেন। তবে তিনি নিজেই যেন এক আলোকবৃত্ত ছিলেন, হয়ে আছেন এ নিয়ে খুব বেশি মতভেদ হয়তো থাকবে না। সিনেমার ফ্রেমে তিনি এলেই সেই আলো জ্বলে ওঠে। তাই তিনি ভাস্বর হয়ে আছেন। তাঁর জীবন, তাঁর নায়কসত্তা, তাঁর আসা কিংবা যাওয়ার অধ্যায়গুলি তো সিরিয়াস বিদগ্ধ নানা আলোচনায় উঠে আসে।
উত্তম কুমার সারা জীবনে যতগুলো ছবিতে নিজেকে স্বমহিমায় প্রকাশ করেছেন প্রত্যেকটি ছবিরই চরিত্র কোনও না কোনও ভাবে আর পাঁচটার থেকে আলাদা হয়ে উঠেছে। আমাদের অনুসন্ধান চলবে ছবির চরিত্র কেন্দ্রিক উত্তরণ অবতরণ এই মাপকাঠিতে। আমরা তার সমগ্র অভিনয় জীবন যদি ভালোভাবে বিচার করি সেখানে দেখব একই পেশা গত ভাবে মিল আছে এরকম ছবির সংখ্যা বেশ ভালো রকমই। তাছাড়া উত্তম কেন্দ্রিক ছবিগুলোর তুল্যমূল্য বিচারের ক্ষমতা শুধুই তর্কের বিষয়। তর্কশাস্ত্রের মানচিত্রকে হিমঘরে পাঠিয়ে শুধু বৌদ্ধিক উৎকর্ষকে মায় মনের একরাশ মন্দলাগা-কে তালাচাবি দিয়ে ভালোলাগায় খানিকটা ঝালিয়ে নেবার জন্য আমরা বাছাই করেছি শতবর্ষে শত ছবি।
ডিজিটাল লক লাগানো হল, যা যা বলা হয়েছিল সবই করা হল। কিন্তু যেদিন পুলকের ফোন বন্ধ থাকায় বিরূপাক্ষকে ঈপ্সিতা ফোন করেছিল সেদিন প্রথম পুলক বাড়ি ফিরে উদ্ধত ব্যবহার করল। যেদিন সম্পূর্ণ এক অন্য চেহারার পুলককে দেখল ঈপ্সিতা। রুক্ষ সাংঘাতিক উত্তেজিত কিছুটা উন্মত্ত পুলক আজকাল মদ্যপ হয়ে ফেরে। এত সাফল্যের পরেও কী চায় পুলক? মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার? সেদিন সে আরও অস্বাভাবিক ছিল।