সুন্দরবন অঞ্চলে অত্যন্ত সহজলভ্য এই সাপ তেমন কোনও বিপদে রয়েছে বলে জানা নেই। প্রকৃতির সুন্দর এই প্রাণীটিকে তার স্বাভাবিক বাসস্থান ও খাদ্যের জোগান অটুট রেখে প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব।
সুন্দরবন অঞ্চলে অত্যন্ত সহজলভ্য এই সাপ তেমন কোনও বিপদে রয়েছে বলে জানা নেই। প্রকৃতির সুন্দর এই প্রাণীটিকে তার স্বাভাবিক বাসস্থান ও খাদ্যের জোগান অটুট রেখে প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব।
ইরাবতীর ডায়েরিতে এরপর আছে গ্রুপের মহিলা সদস্যদের সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট। প্রথমেই তৃধার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। শাক্য দেখল লেখা আছে—তৃধা। বয়স—৩৩ বছর। দক্ষিণ কলকাতার নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট। বছর সাতেক বিবাহ হয়েছে। স্বামী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। যোধপুর পার্কে পেল্লায় সাইজের ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন। জীবনযাত্রা, বোহেমিয়ান টাইপ। এমনিতে স্বামীকে নিয়ে সুখী সংসার।
মা জানতেও পারলো না এই উত্তরাই সেদিন সুকৌশলে পুলক আর ঈপ্সিতার মধ্যে তার উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্যে সম্ভবত পুলকের অজান্তেই তাঁর ল্যাপটপ ব্যাগে চাবির সঙ্গে তাঁর বেআব্রু অস্তিত্বও পাঠিয়ে দিয়েছিল। ঈপ্সিতা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেই আক্রমণ এড়িয়ে গিয়েছে। বরং সেই আঘাতকে নিজের সুযোগে বদলে নিয়েছে। তারপর হয়তো ঈশ্বরের ইচ্ছেতেই পুলকের একটা মারাত্মক ভুলে সে কালো হুডির আড়ালে কে ছিলো তাকে চিনে নিতে পেরেছে।
ঢাকের বাজনা এখন মিশে যাচ্ছে মাইকের ঘোষণায়, সিন্থেসাইজারের সুর হারিয়ে যাচ্ছে তাসার গর্জনে। বর্ণময় শোভাযাত্রায় আলোর সমুদ্রে ভেসে মা কৈলাশে ফিরে যাচ্ছেন। প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা এখন পাড়ার রাস্তা বেয়ে ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে বড় রাস্তার দিকে, পিছনে যেন রেখে যাচ্ছে একরাশ অন্ধকার।
রাজীব গান্ধী হত্যা রহস্যের উন্মোচন করেছিল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। কিন্তু সেই ঘটনার প্রায় তিরিশ বছর পরেও এই হত্যা রহস্য নিয়ে মানুষের কৌতুহলের নিরসন যে এখনও হয়নি তার অন্যতম প্রধান কারণ এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষের আচরণ, যার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
মা : এই কী হয়েছে রে? পুজোপাব্বনের দিনে কান্নাকাটি কীসের? হ্যাঁরে বাবিল,নিজে তো পড়তে বসিসনি, বোন পড়ছে,ওকেও পড়তে দিচ্ছিস না। পুজোর পরেই পরীক্ষা। বোন পাশ করে যাবে, আর তুই ওই ক্লাসেই পড়ে থাকবি। তখন বোন আর তুই একই ক্লাসে পড়বি। সেটা ভালোলাগবে তো? বাবলি : দেখো না মা, দাদা বলছে, তুমি নাকি আমাকে হাসপাতাল থেকে চেয়ে এনেছ?
আসামে শত শত বছর আগে থেকেই দুর্গা পূজা চলে আসছে। আসামের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ষোড়শ শতকে মূলত কোচদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রেই আসামে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়। দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী প্রতিমা গড়ার প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য আহোম রাজা তাঁর রাজ্যের শিল্পীদের কোচ রাজ্যে পাঠিয়েছিলেন বলে আসামের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
বৈজুর মা’র চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে থাকে। বলে, ‘ছেলেটা আমার খুব চাপা স্বভাবের। আমার অসুখ ,সংসারের নিত্যি অভাব ওকে ছোটো থাকতে দিলে না, এ বয়সের বাচ্চা কোথায় হেসে-খেলে বেড়াবে তা নয়, সারাক্ষণ টাকা রোজগারের জন্য খেটে চলেছে। নিজের ইচ্ছে, পছন্দের কথা কখনও মুখ ফুটে বলে না।’
ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়েছে অচেনা পুরুষমানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখবে। মহিলাদের স্বাভাবিক ভয় আছে। শারীরিক কারণেই আতঙ্ক আছে। সেটাও অস্বাভাবিক নয়। একেবারে এই কারণেই রিসেপশনে মোটামুটি আকর্ষণীয় চেহারার মহিলাদের বসানো হয়। সেলস-এর চাকরিতে মহিলারা এগিয়ে। টেলিকলারস এর ক্ষেত্রেও মহিলারা অগ্রণী। ক্যাবিন ক্র্যু অবিবাহিতা সুন্দরী মহিলারাই হতেন। এখন সঙ্গে সুন্দর পুরুষরাও এয়ার ক্রু। আগে স্টুয়ার্ডস বা এয়ার হোস্টেস বলা হতো মহিলা আপ্যায়নকারী!
অনিল সম্পর্কে পড়ার পর শাক্য নিজের মনে প্রশ্ন সাজালো। এই রিপোর্টে অনিলের ফ্যামিলির কোন ডিটেইলস্ নেই। কেন? তার বাবা মা, দাদা ভাই বোন ইত্যাদি কেউ নেই? না কি থাকলেও তাঁদের সঙ্গে অনিলের কোনও সম্পর্ক ছিল না। না থাকলেও ইরাবতীর অন্তত উল্লেখ করা উচিত ছিল। যে মানুষটি নেই, তার সম্পর্কে জানতে হলে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব এঁদের দরকার। অনিলের ক্ষেত্রে তাহলে কার কাছে যাবে সে?
ঘরচিতি সাপ নির্বিষ সাপ, তবে ভীষণ বদমেজাজি। সামান্য আঘাত পেলেই ভয়ঙ্কর রেগে যায় এবং ভীষণ ক্ষিপ্রতার সঙ্গে দংশন করে দ্রুত লুকিয়ে পড়ে। দংশন করার সময়ে যেভাবে লাফ দেয় তাতে দেখে মনে হতে পারে ভয়ংকর বিষাক্ত সাপ। নির্বিষ সাপ কামড়ালে যেমন অনেকগুলো দাঁতের দাগ পড়ে এদের ক্ষেত্রেও তেমনটা হয়। দাগগুলো অর্ধচন্দ্রাকারে বিন্যস্ত থাকে। অনেক সময় আঁচড়ের মতো দাগও হয়। তবে বেশ জোরে দংশন করে বলে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে। ক্ষতস্থান ফুলেও যায়। তবে তাতে বিপদের কোনও সম্ভাবনা নেই।
স্যারের গানের পোস্টটা এসবের মধ্যে আর শেয়ার করা হয়নি। নতুন নতুন ক্যাচলাইন ভাবতে ভাবতে এ’দুদিন সুমনদার কথাও মনে পড়েনি পত্রালির। বুকের ভিতর চিনচিনে ব্যথাটাও উধাও হয়ে গিয়েছে কী করে যেন! কবি বলেছিলেন বটে— প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে! কথাটা মিথ্যে নয়। সমাজমাধ্যমের দিব্যি, ভুবনজুড়েই প্রেমের রিচ। আর কন্টেন্ট হিসেবে ট্রু লাভের চেয়ে ভাঙা হৃদয়ের দাম বেশি, এই মুহূর্তে পত্রালির চেয়ে ভাল সেকথা আর কে-ই বা জানে!
বারো বছর আগের সেই নরম কোমল পল্লবী নয়— এই পল্লবীর যেন চোখের কোণে বয়সের সামান্য ছাপ পড়েছে, মুখে এসেছে পরিণত শান্তি। কিন্তু একই রকম রয়েছে সেই উজ্জ্বল চোখ দুটো! অনির্বাণ মনে মনে বলল— এই চোখ দুটোকে কী এত সহজে ভুলে থাকা যায়, প্রিয়ে? কয়েক মুহূর্ত অনির্বাণ পল্লবীর সঙ্গে কোনও কথা বলতে পারল না। নির্বাক দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল।
একটু আগে পুলকের ফোনটা পেয়ে মনটা আচমকা ভিজে গেল ঈপ্সিতার। হঠাৎ করে মনে হল একটু আগে ফোনে তার সঙ্গে সেই চন্দননগরের পুলক কথা বলছিল। মাঝখানের এতগুলো বছরের সাফল্য। বৈভব। আদর্শচ্যুতি। একটু একটু করে সম্পর্কের দেওয়ালে আঁচড় কেটেছে। সম্পর্কের মেরামতি না হলে সেখানে ফাটল ধরে। সেই ফাটল দিয়ে সময়ের জল ঢুকে দেয়ালের সিমেন্ট বালি ইটের গায়ে ক্ষয় ধরিয়ে দেয়। নিজেদের অজান্তে দেওয়া সম্পর্কের গাঁথুনি, ভিত সবই একদিন অজান্তেই আলগা হয়ে যায়।
এবার দশভেয়দের লক্ষ্য দ্বারাবতী। দ্বারকানগরীর একদিকে সমুদ্র, আরেকদিকে পর্বত। ভৌগোলিক অবস্থান রণনীতিতে বিশেষ গুরুত্ববাহী, তাছাড়াও আরেকটা সমস্যা ছিল। দ্বারাবতী নগরের রক্ষক ছিল একটি যক্ষ। মল্লযোদ্ধা মুষ্টিক বলদেবের আঘাতে মৃত্যুকালে সঙ্কল্প করেছিল যে, যক্ষরূপে জন্ম নিয়ে সে তার নিধনকারীকে হত্যা করে তার মাংসভক্ষণ করবে!