কলকাতায় বৃষ্টি
অতনুর মনে কি চলছে সেটা জানে একমাত্র অতনু আর সম্ভবত ঈশ্বর। কিন্তু অতনু কি ঈশ্বর বিশ্বাসী? অতনু বোধহয় ঈশ্বরকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না আবার অস্বীকারও করে না। তার বয়সী কোনও ছেলে বা মেয়েকে এই ভয়ংকর যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি। অথচ ওকে যেতে হল। যেতে হচ্ছে। কেন? ঈশ্বর কবে সেই জবাব দেবেন? অনেকে বলবেন যে ঈশ্বর অতনুকে একটা ঈর্ষণীয় কেরিয়ার দিয়েছেন। অতনু জবাবে তাঁদের বলবে কে চেয়েছিল এমন একটা সার্থক কেরিয়ার যেটা সে উপভোগ করতে পারবে না। তার চেয়ে সে সাধারণ মেরিটের একটা ছেলে হতো। একজন মধ্যবিত্ত ভদ্র শিক্ষিত চটকল শ্রমিকের যেরকম সাধারণ পুত্রসন্তান হয় তেমন হতো। স্কুলে কলেজে মন দিয়ে লেখাপড়া করতো। চাকরির পরীক্ষা দিতো। চেষ্টা করতো জীবনে কিছু করার। সে কি দোষ করেছিল? ছোটবেলায় তাকে মাকে হারিয়ে কেন চার্চে গিয়ে থাকতে হয়েছিল।
একটা মিথ্যে মামলায় প্রশাসন আইনজীবীমহল তার বাবাকে ঠকিয়ে একজন মুনাফাখোর চটকল মিল মালিকের পক্ষ নিয়েছিল। কেন পাড়ারই পরিচিত একজন প্রতিবেশী মহিলা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তাদের সংসারটাকে এভাবে ছারখার করে দিয়েছিল? কেন তার মাকেও জীবনে এত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কেন তিন বছর বয়সে অতনুর মা তৃপ্তি তার মা-বাবাকে একসঙ্গে আতঙ্কবাদীদের হামলায় হারিয়েছিল। তখন তৃপ্তির ছোট ভাইয়ের বয়স মাত্র এক বছর। তৃপ্তির বাবা মানে অতনুর দাদামশাইয়ের অনেক চেষ্টার পর অসম থেকে শিলিগুড়িতে বদলি হয়েছিলেন। তৃপ্তির মা সঙ্গে গিয়েছিলেন। আসাম থেকে শিলিগুড়ি এসে তৃপ্তির বাবার নতুন কোয়ার্টার গুছিয়ে দিয়ে আসতে। একা মানুষের পক্ষে অত ব্যাগপত্র সামলানো মুশকিল। মানুষটা ঘরের কাছে ফিরে আসছে সবাই খুব খুশি।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৮৮ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

বিদ্যাসাগর

তিনসুকিয়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি। যাবার পথে ট্রেনটা অসমের ডিফু স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। আসামে তখন নাগাল্যান্ডের জাতিগত সংঘাত চলছে। সন্দেহভাজন নাগা বিদ্রোহীরা যাত্রীবোঝাই ট্রেনটাকে বোমা দিয়ে উড়িয়ে দিল। তৃপ্তির মা-বাবা-সহ সরকারিভাবে ৪১ জন মারা গিয়েছিলেন। সেই থেকে তৃপ্তি আর তার ভাই জ্যাঠামশাই জেঠিমার কাছেই মানুষ হয়েছে। তার অনেক পরে যখন তার মায়ের একমাত্র ছোটভাই ১৭ বছর বয়স দুই রাজনৈতিক দলের বোমা ছোঁড়াছুঁড়ির মধ্যে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারালো। অতনুর বাবা দুলাল সেনের খুব ইচ্ছে ছিল এম পাশ করার।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৭: শিশুপালের একশত অপরাধ ক্ষমার যোগ্য, কেন? এর কোন তাৎপর্য আছে কি?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

দুলাল সেনের বাবা শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অমৃতলাল সেন চুঁচুড়ায় টিউশনি ফেরত সন্ধে রাতে তার এক প্রাক্তন ছাত্রের সঙ্গে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলেন। সামনে দিয়ে একটা বড় লরি যাচ্ছিল। রাস্তার কাজের জন্য স্টোনচিপস পড়েছিল। টায়ারের কোনায় স্টোনচিপসের টুকরো চাপ লেগে বুলেটের মতো ছিটকে এসে অমৃতলাল সেনের গলার নলির ভিতর ঢুকে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই বোধহয় মারা গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

অমৃতলাল সেনের এক প্রাক্তনছাত্র সেদিন সামনে ছিলেন। তখন সে জুট টেকনোলজি পাস করে সবেমাত্র ওয়েলেসলি জুট মিলে সুপারভাইজার পদে চাকরি করছে। দুলালের এমএ পড়া মুলতুবি রেখে সেই প্রাক্তন ছাত্রের তদবিরে ওয়েলেসলি জুট মিলে চাকরি হল। গ্রাজুয়েট তাই টাইম অফিসের ক্লার্ক হিসেবে চাকরি পেয়েছিল। বাড়ির একতলায় থাকতেন বিধবা ঠাকুমা। ঠাকুমা রাতে বাথরুমে গিয়েছিলেন। শেওলায় পা পিছলে পড়ে মাথার পিছনে আঘাত লাগলো, তিনিও চলে গেলেন। বাবা ওয়েলেসলি জুট মিলের অবিসংবাদিত ইউনিয়ন লিডার। জুটমিলের মালিক কিছুতেই দুলাল সেনকে বাগে আনতে পারছিল না।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

কানাইলাল মহেশ্বরী এক ঘৃণ্যচক্রান্ত করল। পাড়ারই পরিচিত মেয়ে স্নিগ্ধা দুলালের প্রতি দূর্বল ছিল। সেটা একতরফা প্রেম। স্নিগ্ধার কল্যাণীতে বিয়ে হয়েছিল। সে বিয়ে সুখের হয়নি। স্নিগ্ধা পাকাপাকিভাবে চুঁচুড়াতে চলে আসে। তারপর বারবার দুলালের সুখের সংসারে আগুন জ্বালাতে চেয়েছে। পারেনি। শেষমেষ অনেক টাকাপয়সার লোভ সঙ্গে মাসে মাসে একটা চাকরির নামে কিছু রোজগার আর তীব্র হিংসে থেকে কানাইলাল মহেশ্বরীর ঘৃন্য চক্রান্তের একটা অংশ হল। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content