বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

কিন্তু একবার বিতানের সঙ্গে দেখা হওয়াটা খুব জরুরি। বিতানের সিকিউরিটি এজেন্সি। অতনু সেনের ব্যাপারে খোঁজখবর দিতে বিতান সাহায্য করতে পারে। কিন্তু কী বলবে বিতানকে? কোনসূত্রে অতনু সেনের খোঁজ করছে দিয়া ? তাকে তো বলতে হবে যে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে মানুষটাকে দেখেছিল। সেখানে ওর চাকরিটা হয়নি। অতনু সেনের সুপারিশেই যে অ্যাথেনা ইনফোটেক চাকরিটা হয়েছে সে ব্যাপারে কি বলবে? সত্যি কথা বলবে নাকি এই সত্যিটা সে এড়িয়ে যাবে। অকারণ ইনফরমেশন শেয়ার করা অনুচিত। অ্যাথেনা ইনফোটেক-এ দিয়া চাকরিটা ইন্টারভিউ দিয়েই পেয়েছে। এর বাইরে বিতানের কিছু জানার প্রয়োজন নেই। এই সমাজে বেঁচে থাকতে গেলে সৎ থাকতে হবে – কিন্তু কৌশলী হওয়াটা কোন দোষের নয়।
দিয়ার বাবা সনৎ সাহা ছিলেন সদাগরী অফিসের বড়বাবু। নাগেরবাজার থেকে নিয়ম করে অফিসে যাওয়া নিয়ম করে ফেরা। এর বাইরে মানুষটার অস্তিত্ব আর ছিল না। সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস শনিবার-রবিবার ছুটি থাকতো। দিয়া যখন একটু বড় হয়ে গেছে। লেখাপড়ার খরচ বাড়ছে। তখন সনৎবাবু ভেবেছিলেন শনি রবি-দু’দিন খাতা লেখার কাজ করবেন। তখন কম্পিউটার সেভাবে আসেনি। তখনও পাকাখাতায় হিসেব লেখার কাজের একটা গুরুত্ব ছিল। সনৎবাবুর হাতের লেখা ছিল মুক্তোর মত ঝকঝকে। কিন্তু করবো করবো করেও কাজ শুরু করতে পারছিলেন না।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৭১: আকাশ এখনও মেঘলা

হয়তো আগামী ছবির নাম রাখতেন ‘হাওয়া-মোরগ’

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬১: আধুনিক ক্ষমতাদখলের লড়াই ও রাজসূয়যজ্ঞের প্রেক্ষিতে যুদ্ধজয় ও অধিকারপ্রতিষ্ঠার মধ্যে সাযুজ্য কোথায়?

আসলে সপ্তাহে দুটো দিনের ছুটিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। নিয়মিত পড়াশোনা করতেন। রামায়ণ মহাভারত পুরাণের কথা। চাণক্যের বই। কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাথ থেকে অনেক সস্তায় সব পুরনো বই কিনে নিয়ে আসতেন কোনও কোনও শনিবার। শনি রবি বসে বসে বই পড়তেন সনৎবাবু। কৃত্তিবাসী রামায়ণ রাজশেখর বসুর মহাভারত বা চাণক্যের নীতি। বাবা ছোটোবেলা থেকে রাতে শুতে যাওয়ার দিয়াকে শোনাতেন নানান শিক্ষণীয় নীতিবাক্য যা মূল্যবোধ তৈরি করে। বলতেন—
—মা সকালে ঘুম ভাঙলে কথাগুলো মনে করবি! তারপর দিন শুরু করবি!
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯০ : দুই ভাই

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন

আজ বাবা চলে গিয়েছেন কিন্তু দিয়া এখনও সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবার কাছে শোনা চাণক্যের উক্তি মনে করে।
মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সৎ হতে নেই। কারণ সোজা গাছই সবার আগে কাটা হয়, আর অতিরিক্ত সৎ ব্যক্তিকেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতে হয়। সাপ বিষাক্ত না হলেও, তাকে বিষধর হওয়ার ভান করতে হয়। তেমনি দুর্বলতা গোপন রেখে নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে উপস্থাপন করতে হয়। কখনও নিজের গোপনকথা কাউকে বলতে নেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তা নিজের কাছেই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লুকিয়ে রাখতে হয়। সবার সাথে সমান ব্যবহার করা যায় না। অহংকারীকে সম্মান দিয়ে, মূর্খকে মিষ্টি কথায় এবং পণ্ডিতকে সত্য দিয়ে পরিচালনা করতে হয়।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৮: শ্যালক-জাতক—অচিনপাখি

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

মনের কতটা উন্নতি হয়েছে দিয়া জানে না কিন্তু অন্যায়কে সে বহুদূর থেকে বুঝতে পারে। নিজেকে ভুল করা থেকে সতর্ক রাখতে পারে। মা মাঝে মাঝে বিয়ের কথা তোলেন। দিয়া বুঝতে পারে এটা মায়ের সন্তানের প্রতি দায়। কর্তব্য। স্বামী চলে গেছেন । তাই মা ভাবেন মেয়েটার ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারছেন না। মা-বাবা ভাবেন বিয়ে দিয়ে ছেলে বা মেয়ের জীবন গড়ে দেওয়া যায়। আধুনিক যুগের ছেলেমেয়েরা এটাকে অত্যন্ত সেকেলে ভাবনা বলে ধরে নেয়। অনেকে আবার বিয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞাকেই অস্বীকার করতে চায়। তারা হয়ত বন্ধুত্বের প্রয়োজনে, অথবা শারীরিক চাহিদা মেটাতে একত্রবাস করে। সে ঠুনকো সম্পর্কের মধ্যে কোন দায়িত্বের গ্রন্থি নেই, দায় নেই, সামাজিকতা নেই। সংসার গড়ে তোলার মধ্যে যে অনিশ্চয়তা আছে, যে আশা-আকাঙ্ক্ষা, যে ক্ষোভ-আক্ষেপ আছে উন্মুক্ত সম্পর্কের মধ্যে এসব নেই।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

সামাজিক বৈবাহিকতায় দ্বন্দ্ব আছে দূরত্ব আছে রাগ অভিমানের ভাঙ্গাগড়া আছে, কিন্তু সন্তানের সামাজিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোথায় যেন জীবনের শেষপর্যন্ত একটা দায়িত্ববোধের বন্ধন আছে। একসময় যারা বিবাহ সম্পর্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে একা থাকতে চেয়েছেন তেমন অনেককেই শেষ জীবনে গিয়ে আক্ষেপ করতে দেখেছে দিয়া। পশুদের মতো মানুষও যূথবদ্ধ জীব। একা বাঁচতে পারে না। তাই মানুষ বন্ধু খোঁজে। সঙ্গী খোঁজে। কমবয়সে ঘিরে থাকা মানুষজন বেশিবয়সে দূরে চলে যায়, একে একে হারিয়ে যেতে থাকে, তখন একজন একান্ত নিজস্বসঙ্গীর বড় দরকার হয়। মা আজ দিয়ার বন্ধুর মতো। কিন্তু তবুও কি সব কথা বলা যায়? বলা হয় ? দিয়া মাঝে মাঝে ভাবে মা হঠাৎ চলে গেলে সে কী নিয়ে থাকবে?—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content