
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
কিছু কিছু সত্যি এখন এতদিন বাদে নিজের কাছে বলা যায়। সরস্বতী পুজোর দিন অঞ্জলির ফুলের মধ্যে কাগজগুলো পেয়ে অবাক হয়েছিল। রাগ হয়েছিল। ভয় লেগেছিল। কলঙ্কের ভয়। বাথরুমের দেওয়ালে ইটের টুকরো বা সবুজপাতা ঘষে লেখা “বিতান + দিয়া” দেখার ভয়। অঞ্জলি সেরে বাথরুমে গিয়ে সাদা দেওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে বিতানের যত্ন করে লেখা প্রেমের প্রস্তাব পড়বার সময় যে একটা চিনেচিনে ভালোলাগা সদ্য যুবতীর মনে কি অদ্ভুত তৃপ্তি নিয়ে আসেনি? নিজের মুখোমুখি সেই সত্যিটা আজ আর দিয়া অস্বীকার করতে পারে না। নিজেকে লজ্জা করে কি বাঁচা যায়?
আমাদের সমাজে মেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠলেও জীবনসঙ্গী বাছার ক্ষেত্রে এখনও একটা বড় অংশ পুরুষমানুষের সাফল্যকেই বিচার করে। সেই কল্পনা থেকেই সুরকার সুধীন দাশগুপ্তের ঘনিষ্ঠ গীতিকার, পথের পাঁচালি ও অপরাজিত ছবিতে সত্যজিত রায়ের সহকারী এবং উত্তমকুমারের ছদ্মবেশী ছবির চিত্রনাট্যকার সুবীর হাজরা ১৯৮৭তে আমাদের সকলের বারবার শোনা বিখ্যাত একুশ বছর গানে লিখেছিলেন—
গোপনের প্রেম গোপনে গিয়েছে ঝরে
আমরা দু’জনে কখন গিয়েছি সরে
ফুলঝুরি থেকে ফুল ঝরে গেলে
মালা কিসে গাঁথা হয়
তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়
আমি তখন অষ্টাদশীর ছোঁয়ায়
তোমার পথের কাঁটায় ভেবেছ মোরে
বলতে পারি নি তোমার মত করে
জলছবি ভেবে ভুল করেছিলে
ভালোবাসা সে তো নয়…
আমরা দু’জনে কখন গিয়েছি সরে
ফুলঝুরি থেকে ফুল ঝরে গেলে
মালা কিসে গাঁথা হয়
তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়
আমি তখন অষ্টাদশীর ছোঁয়ায়
তোমার পথের কাঁটায় ভেবেছ মোরে
বলতে পারি নি তোমার মত করে
জলছবি ভেবে ভুল করেছিলে
ভালোবাসা সে তো নয়…
আরও পড়ুন:

আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৭৩: আকাশ এখনও মেঘলা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৩: রাজসূয় মহাযজ্ঞের প্রস্তুতিপর্বে পাণ্ডবদের দিগ্বিজয় যেন রাজনীতির আনুগত্য-আদায়ের পাঠ

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯২ : শিউলি বাড়ি
তাই ভালবাসা বার বার ভেঙে যায়। সেদিন বিতানকে দিয়ার ভালোবাসার যোগ্য মনে হয়নি। অথচ আজ মনে হচ্ছে।
গল্পটা সেদিন শুরু হলে সে তো আজ বাগুইআটির এই সাজানো গোছানো ফ্ল্যাটের অধীশ্বরী হতে পারতো। নিনির মা হত! হঠাৎ মনে দিয়া এসব কি আজেবাজে অসম্ভব কথা ভাবছে। বিতান “দু’ মিনিট বোস” বলে স্নান সেরে এসেছে। ফুরফুরে সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পরেছে। শরীরে হালকা কোলনের গন্ধ। বিতান কি রোজই অফিস থেকে ফিরে এমন ফুরফুরে থাকে? বিনি পরেছে একটা দামি বেইজ কালারের ঢিলে সালোয়ার স্যুট! বিতান কি বিনিকে মেসেজ করেছিল? দিয়াকে নিয়ে আসছে বলে?
গল্পটা সেদিন শুরু হলে সে তো আজ বাগুইআটির এই সাজানো গোছানো ফ্ল্যাটের অধীশ্বরী হতে পারতো। নিনির মা হত! হঠাৎ মনে দিয়া এসব কি আজেবাজে অসম্ভব কথা ভাবছে। বিতান “দু’ মিনিট বোস” বলে স্নান সেরে এসেছে। ফুরফুরে সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পরেছে। শরীরে হালকা কোলনের গন্ধ। বিতান কি রোজই অফিস থেকে ফিরে এমন ফুরফুরে থাকে? বিনি পরেছে একটা দামি বেইজ কালারের ঢিলে সালোয়ার স্যুট! বিতান কি বিনিকে মেসেজ করেছিল? দিয়াকে নিয়ে আসছে বলে?
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা
নিশ্চয়ই করেছিল! না হলে ফিশফ্রাই তো তৈরিই ছিল। বিনিও ফিটফাট। মানে দিয়া যখন খেলনা কিনতে নামল, ফোনটা বিতান নিশ্চয়ই তখনই করেছিল। এবার বিনি কফি নিয়ে এলো।
— তুমি তো কিছুই খাওনি!
— আর খেতে পারব না।
— একটা ছুটির দিন মাসিমাকে নিয়ে চলে এসো। এখানে খাওয়াদাওয়া করবে।
মা যে বিশু পালের গ্যাস এজেন্সিতে কাজ করে দিয়া কি বিতানকে বলেছে? মনে পড়ছে না! দরকারের সময় একটা কাজের কথা মনে পড়ে না!
— বেশ আসব।
এই বলে দিয়া সেদিন খানিক পরে ফিরে এসেছিল।
— তুমি তো কিছুই খাওনি!
— আর খেতে পারব না।
— একটা ছুটির দিন মাসিমাকে নিয়ে চলে এসো। এখানে খাওয়াদাওয়া করবে।
মা যে বিশু পালের গ্যাস এজেন্সিতে কাজ করে দিয়া কি বিতানকে বলেছে? মনে পড়ছে না! দরকারের সময় একটা কাজের কথা মনে পড়ে না!
— বেশ আসব।
এই বলে দিয়া সেদিন খানিক পরে ফিরে এসেছিল।
আরও পড়ুন:

সাগর উঠে তরঙ্গিয়া

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
বিতান গাড়ি চালাচ্ছে। শরীর থেকে কোলনের গন্ধ নাকে আসছে। বিনিকে দিয়ার কথা বিতান ঠিক কী বলেছে? কতটা বলেছে? মানে বন্ধু বলেছে। আর কী? সরস্বতী পুজোর অঞ্জলির ফুলে দিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব লেখা কাগজ গুঁজে দেওয়ার কথাটা কি বলেছে? এতটা সৎসাহস দেখিয়ে কারও মনের সাঁকো নাড়ানো বোধহয় ঠিক নয়! সিকিউরিটি সার্ভিস চালানো বিতান সেটা বোঝে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৩: স্মৃতিশাস্ত্রের রক্তচক্ষু বনাম এক স্নেহশীল পিতা: মূষিক-কন্যার বিবাহ-উপাখ্যান
আচ্ছা কাল দিয়ার সঙ্গে যার বিয়ে হবে, মানে বিয়ে তো হবেই। শাঁখ বাজিয়ে, উলু দিয়ে সাতপাকের পর লোকজনের সামনে নাপিতের আদিরসাত্মক ছড়াকাটার মধ্যে ভাবী স্বামীর চোখে চোখ রাখার রোম্যান্টিকতা। মালা বদলের অমোঘ মূহুর্ত। ঘটের ওপর অন্যহাতের ওম স্পর্শ করা। সিঁদুরে রাঙানো সিঁথির থেকে নাকে ঝরে পড়া গুঁড়ো-গুঁড়ো প্রেম। সকলের সামনে একে ওপরকে নির্দ্বিধায় প্রায় আলিঙ্গন করেই আগুনে খই পোড়ানোর উত্তেজক ভালোলাগা, অবাঙালি বিয়ের অগ্নিকুণ্ড ঘিরে হেঁটে যাওয়ার মধ্যে যার ছিটেফোঁটাও নেই। এটা দিয়ার মতামত। তাই এভাবে বিয়ে করার ইচ্ছে সেই ক্লাস নাইন থেকে। তারপর থেকে যতবার বিয়েবাড়ি গিয়েছে, ততবারই কনের সাজে নিজেকে আবিষ্কার করেছে দিয়া! কিন্তু বরের জায়গায় কাউকে খুঁজে পায়নি। সেইসব বিয়েবাড়িতে টাকমাথা, গালে দাড়ি, চশমায় আড়চোখে দেখা বরগুলোকে দিয়ার পছন্দ হয়নি। আবার চেনা ক্রিকেটার বা ফিল্মস্টারদের বসাতে ভরসা হয়নি। তাদের বান্ধবী বেল্লেলাপনা বা মাতলামোর অনেক লম্বা ইতিহাস।
—চলবে।
—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















