
ফোর্সড অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে নাগেরবাজারের দিয়া সাহা সেক্টর ফাইভে ‘টেকনোসলিউশন কলকাতা’-তে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে শুনলেন এক অদ্ভুত কথা। সংস্থার সিইও অতনু সেন জানিয়ে দিলেন, তাঁরা মহিলাদের নিযুক্ত করেন না! দিয়া কোনও প্রশ্ন করার আগেই অতনু জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর কোম্পানির পলিসি। দিয়া চলে আসার আগে আরও জানিয়েছিলেন, দিয়ার চাইলে অতনু সেন তাকে পরিচিত একটি আইটি কোম্পানিতে সুপারিশ করতে পারেন। দিয়া তার জীবনে এরকম সিইও দেখেনি। সেক্টর ফাইভেই ‘এথেনা ইনফোটেক’-এর সিইও রবীন চট্টোপাধ্যায় অ্যাডমিন দেখার জন্য উপযুক্ত কর্মী খুঁজছিলেন। ‘টেকনোসলিউশন কলকাতা’-এর সিইও পাঠিয়েছেন শুনে এককথায় নিয়ে নিলেন দিয়াকে। রবীন চট্টোপাধ্যায় জানালেন, দিয়া অত্যন্ত লাকি। অতনু সেন কখনও কাউকে রেকমেন্ড করেন না।
বাড়িতে আবার খুশি ফিরে এল। কিন্তু এই খুশিতে যিনি সব থেকে আনন্দ পেতেন তিনি আজ আর এ পৃথিবীতে নেই। প্রথম মাইনে পেয়ে বাবার জন্য একটা সুন্দর সিল্কের উত্তরীয় নিয়ে এসেছিল দিয়া। কাঁদতে কাঁদতে বাবার ছবিতে দেওয়া সেই উত্তরীয় এখনও লাগানো আছে।
এতদিন হয়ে গেল কিন্তু এই অতনু সেনের মতো এক অদ্ভুত চরিত্র দিয়াকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। মানুষটা কে? কী তাঁর অতীত? দিয়া জানার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সমাজমাধ্যমের এই রমরমার যুগে দিয়া কোথাও অতনু সেনের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি।
এতদিন হয়ে গেল কিন্তু এই অতনু সেনের মতো এক অদ্ভুত চরিত্র দিয়াকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। মানুষটা কে? কী তাঁর অতীত? দিয়া জানার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সমাজমাধ্যমের এই রমরমার যুগে দিয়া কোথাও অতনু সেনের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৭০: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৭: বীতেচ্ছ-জাতক — তুই যাহারে দিলি ফাঁকি
দিয়া ভেবেছিল ‘টেকনোসলিউশন কলকাতা’ -এর অফিসে একবার যাবে। গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসবে। কিন্তু লোকটিকে যেরকম দেখেছে তাতে মনে হয়েছে কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। অপেক্ষা করেছে যদি কখনও দেখা হয় সেক্টর ফাইভের রাস্তায় তখন কৃতজ্ঞতা জানাবে। যাওয়া আসার পথে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির জ্যামে কখনওই অতনু সেনকে খুঁজে পায়নি দিয়া। দিয়া অতনু সেনকে নিয়ে ভাববে না এটা বারবার ভেবেছে। কিন্তু মাথা থেকে ভাবনাটা সরিয়ে ফেলতে পারেনি। একা একা রাতে বিছানায় শুয়ে, আয়নার সামনে নিজের প্রতিবিম্বকে বা নাগেরবাজার থেকে রোজ সেক্টর ফাইভে অফিস যাওয়া বা আসার পথে একা একা নিজের মনকে প্রশ্ন করেছে দিয়া। কেন অতনু সেন? কেন অতনু সেনের অতীত তাকে টানছে? নিজের কাছে দেবার মতো উত্তর খুঁজে পায়নি দিয়া।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯০ : দুই ভাই

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন
বিতান ঘোষ। চিফ এক্সিকিউটিভ। বিবি এন্টারপ্রাইস। সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি। দিয়ার ১১-১২ ক্লাসের বন্ধু। দমদম শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরের পল্টু। যে দিয়াকে সরস্বতী পুজোর অঞ্জলির ফুলের সঙ্গে একটুকরো কাগজে প্রেম প্রস্তাব করেছিল। তবে বলেছিল দিয়া না চাইলে সে শুধু দিয়ার বন্ধু হয়েই থাকতে চায়। দিয়া এই সম্পর্ককে হালকা করে দিয়েছিল। দুটো বছর কাটিয়ে দিয়ে আর যোগাযোগ রাখেনি। এত বছর পর সেক্টর ফাইভের কলেজ মোড়ের বাসস্ট্যান্ডে দেখা হল বিতানের সঙ্গে। সেই রোগাটে কানঢাকা চুলের স্কুলের পল্টু এখন অনেকটা বদলে গিয়েছে। তার এখন স্যান্ট্রো গাড়ি আছে। মোটা হয়ে গিয়েছে। গালে চাপদাড়ি। চোখে হালকা হলুদ কাচের একটা দামি চশমা। তবে হাতে কোনও বালা বা গলায় সোনা বা প্ল্যাটিনামের গরুবাঁধা চেন নেই। মুখে পান নেই। হ্যাঁ, বাঁহাতের কব্জিতে একটা ঢাউস ঘড়ি আছে!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: রাক্ষস খর ও রামের সংঘাতে, যুদ্ধের বিবিধবার্তা

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
কার্ড দিয়ে ফোন নম্বর চেয়েছিল। দিয়ার কোম্পানিতে সিকিউরিটির কাজের বিষয়ে বিতান যোগাযোগ করতে চায়। দিয়া নম্বরটা বিতানকে হোয়াট্সঅ্যাপ করে দিয়েছিল। মাকে নিয়ে সে একা থাকে। বিতান ব্যবসা করে। বাগুইআটিতে থাকে। বাড়ির কাছাকাছি। তাই যতই হোক বিপদে-আপদে কাজে লাগতে পারে। বিতান এসেছিল একদিন। কোনও সমস্যার মধ্যে না থাকার জন্যই দিয়া সরাসরি গিয়ে ‘এথেনা ইনফোটেক’-এর সিইও রবীন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে জানিয়েছিল, স্যর বিতান আর আমি দমদম শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরে ইলেভেন-টুয়েল্ভ পড়তাম! মাঝে যোগাযোগ ছিলো না। এই যেদিন ফেরার পথে কলেজ মোড়ে দেখা! ওর একটা সিকিউরিটি এজেন্সি আছে। সেক্টর ফাইভে অনেক আইটি কোম্পানিতে ও সিকিউরিটি সার্ভিস দেয়। সেই ব্যাপারেই আপনার কাছে আসতে চেয়েছিল।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
এরপর ফেরার সময়টা ইচ্ছে করেই একটু বদলে নিয়েছিল দিয়া। তার মূলত দুটো কারণ ছিল। রবীন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিতানের ব্যবসা নিয়ে কী কথা হয়েছে সে জানে না। জানতে চায়ও না। আর দ্বিতীয়টা ব্যক্তিগত। দু’জনে একসঙ্গে পড়ত। বিতান এখন বিবাহিত! সন্তানের বাবা! দিয়া অবিবাহিতা! সে আর তার মা! আর কেউ নেই! দিয়া কোনওভাবেই নতুন করে কোনও সমস্যায় যেতে চায় না। দু’জনেই দু’ভাবে দায়বদ্ধ! বিতানের বিবাহবন্ধন। দিয়ার অবিবাহিতের গণ্ডী! —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















