কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

অতনু কারও কাছে ফেরেনি। বড় পিসি, মেজ পিসি কারও কাছে না। পিসতুতো ভাই-বোনেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। চুঁচুড়ার বাড়িতে ফেরেনি। ছোট পিসির কাছে হয়তো যেত, কিন্তু ছোট পিসি তো তখনও মানসিকভাবে সুস্থ নন। সন্তান হারানোর কথা অতনু আবছা আবছা জানে। ছোট পিসির কাছে সময়টা বদলায়নি। থেমে আছে। আত্মীয় বলতে একমাত্র ছোট পিসেমশাই। তিনি তাঁর কর্তব্য করেছিলেন। ঘন ঘন না হলেও চার্চে ফাদার স্যামুয়েলের কাছে অতনুর খোঁজ নিতে আসতেন।
আরও একটা কারণে ছোট পিসেমশাইকে চুঁচুড়া আসতে হত। অতনুদের বাড়ি। মানে যেটা অতনুর দাদু স্কুল শিক্ষক অমৃতলাল সেন অনেক কষ্ট করে একটু একটু করে গড়ে তুলেছিলেন। সেই বন্ধ বাড়ির তদারক করতেন ছোট পিসেমশাই। দুলালের সঙ্গে দেখা করে তার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে বড় বা মেজ শালিকার সঙ্গে কথা বলে বাড়ি বিক্রি করা টাকা সকলকে সমানভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন ছোট পিসেমশাই।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৪ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৩

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৬ : উত্তরায়ণ

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৬ : আলোচনার টেবিলে

দুলালের পরামর্শ মতো তার প্রাপ্য টাকাটা অতনুর দেখাশোনার জন্য ফাদার স্যামুয়েলকে দিয়ে দিয়েছিলেন ছোট পিসেমশাই। ফাদার স্যামুয়েল সেই টাকা পরিচিত একজনের পরামর্শে অতনুর নামে কোম্পানির শেয়ার কিনে রেখেছিলেন। মাঝে অনেকগুলো বছর কেটে গিয়েছে। ব্যাংক ইন্টারেস্টে টাকা বাড়ে। কিন্তু কোম্পানির শেয়ার যে এতগুণে বেড়ে যায় সেটা ফাদারের ধারণা ছিল না। ফাদার যখন অতনুকে সে টাকা কথা জানালেন, অতনু কিছু বলেনি। কিছুদিন বাদে অতনু এসে ফাদারকে জানাল, ওই টাকা দিয়ে অতনু চার্চের নামে একটা মেডিকেল ফান্ড খুলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা পর্ব-১৬৮: রামায়ণে পরস্ত্রীহরণের সিদ্ধান্তে বীরত্বের প্রকাশ নেই, আছে অনেক মৃত্যুর আবাহনবার্তা

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৩: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৩

ফাদার অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এতও কম বয়েসে কারও মধ্যে তিনি এই বৈরাগ্য এই পার্থিব নির্লিপ্ততা দেখেননি। চার্চে প্রভু যিশুর সামনে দাঁড়িয়ে সেই সর্বশক্তিমানকে বলেছিলেন,
—হে প্রভু, এই সমাজ ওর বাবার সঙ্গে অন্যায় করেছে। ওর মায়ের সঙ্গে অন্যায় করেছে। ওর সঙ্গে যেন কোনও অন্যায় না হয়। ওর কৈশোর ওর যৌবন স্নেহহীনভাবে কেটেছে। প্রভুর কৃপায় আমি, এই চার্চ ওর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছি। ওকে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু মা-বাবার স্নেহ ভালোবাসা তো দিতে পারিনি। আমি লক্ষ্য করেছি, ছোটবেলা থেকে অতনু কারও সঙ্গে মিশতে চায় না। বন্ধুত্ব নির্ভরতা পারস্পরিক বিশ্বাস এই শব্দগুলোকেই অতনু তাঁর জীবনে থেকে ছেঁটে ফেলেছে। হে প্রভু, ওকে তুমি একজন সত্যিকারের বন্ধু দিও! যে ওকে সম্পূর্ণ করবে।
আরও পড়ুন:

রথযাত্রা

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…

বাবা কলকাতার আলিপুর জেলে আসার পর সে বাবার কাছে আসে। আগে দুলাল সে হুগলি জেলা সংশোধনাগারে ছিল। সংশোধনাগার। কার সংশোধন করে? গরাদের মধ্যে থাকা অপরাধীর নাকি অন্ধকার সমাজের। সমাজের অন্ধকার যে অপরাধীর জন্ম দেয় সেই অন্ধকার সরিয়ে আলো আনবে কোন সংশোধন? অপরাধহীন সমাজব্যবস্থা শোষনহীন জীবনযাত্রা হয় না। সেই ভালো-মন্দ ঘুলিয়ে দেওয়া দার্শনিক কথাবার্তা। আলোর পর অন্ধকার। অন্ধকারের পর আলো। মিথ্যা আছে বলেই সত্য এত সুন্দর। গরলের বিষপান থেকেই অমৃতের সন্ধান। একটা নিশ্চিন্ত সুবিধাবাদী জায়গায় বসে অবিরল জ্ঞানদান।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

যে লোকটা সাংসারিক সামাজিক অর্থনৈতিক অসাম্যে জর্জরিত থেকেও সৎ থাকতে চেয়েছিল। তাকে যখন বুদ্ধিতে যুক্তিতে সাহসে হারাতে না পেরে ছলনার সাহসে তার চরিত্রহনন করা হয়। তাঁর স্ত্রী-পরিবার পরিজনের সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়। ঘুষ দিয়ে তার প্রাপ্য ন্যায্য আইনি লড়াইয়ের সুযোগটুকুও কেড়ে নেওয়া পর্যন্ত সেই মানুষটি প্রকৃতপক্ষে নির্দোষ। তা সত্ত্বেও তাঁর চরিত্রহনন করা হয়েছে মিথ্যে মামলায় প্রমাণ সাজিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি। সেই মানুষটার কি সংশোধন করেছে এই সংশোধনাগার! স্ত্রীর মৃত্যুর ভয়ংকর আঘাত সহ্য করার পরেও কিন্তু অপরাধ করতে চায়নি দুলাল সেন। আত্মঘাতী স্ত্রীর সৎকার সেরে নিঃশব্দে হয়ত ফিরে যেতো হুগলি জেলা সংশোধনাগারের প্রায়ান্ধকার সেলের ভিতরে। কিন্তু একজন অপরাধীর উৎসুক উপস্থিতি সব হিসেব বদলে দিল।

দু’জন প্রত্যক্ষ অপরাধীর মধ্যে একজনের হিসেব নিয়েছেন বাবা দুলাল সেন! আরেকজনের দায়িত্ব নিতে হবে ছেলে অতনুকে! কে সেই অমানুষ?—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content