সোমবার ৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
কিন্তু বিতানকে বলতেই হতো। বিতানের কোম্পানির নাম বিবি এন্টারপ্রাইজ। বিতান ঘোষ। কিন্তু কোম্পানির নাম বিজি এন্টারপ্রাইজ নয়। বিতান বলেছিল ওর বাবার নাম বিভাস ঘোষ। পশ্চিমবাংলায় কস্মিনকালেও বাবার নাম নিজের নামের সঙ্গে লেখা হতো না। মহারাষ্ট্রে হতো। আমরা জানতাম সচিন রমেশ তেন্ডুলকর। ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। হঠাৎই হয়ে গেলেন সৌরভ চণ্ডীদাস গঙ্গোপাধ্যায়। বিতান নাম লেখার সময় বাবার নাম লেখে না। কিন্তু কোম্পানির নাম রাখার সময় কি বাবাকে স্মরণ করেছিল বিতান? নাকি বউয়ের নাম বিনিকে নিয়ে বিবি এন্টারপ্রাইজ? দিয়া জানতে চায়নি।
বিতানকে মেসেজ করেছিল দিয়া: “যদি সেক্টর ফাইভে কাজে আসিস, ফোন করিস। একটা হেল্প চাই।”
বিতান ফোন করেছিল। বিতানের গাড়িতে ফেরার পথে দিয়া ভাবছিল ঠিক কীভাবে শুরু করবে ? শুরু বিতানই করলো।
— বল কী করতে হবে?
— একজনের একটু খোঁজখবর নিতে হবে?
— Doxxing?
— সেটা কী? Stalking?!
— হ্যাঁ ওই আর কী! তা কে তিনি পুরুষ না মহিলা!
— পুরুষ!
— ম্যাট্রিমনি? বিয়ের সম্বন্ধ?
— হ্যাঁ কিন্তু আমার নয়! আমার খুব ক্লোজ!
— এসব কাজ করি না। কিন্তু তোর ব্যাপারে তো কন্ডিশন চলে না। ছবি নাম অ্যাড্রেস হোয়াটস অ্যাপ করে দিস
— ছবি নেই!
— সে কিরে?
— না মানে আমার কাছে নেই, নাম আর অফিস অ্যাড্রেস আছে।
— অফিস কোথায়?
— সেক্টর ফাইভ!
— সেকি রে! তাহলে তো তুই-ই খোঁজখবর নিতে পারিস!
— না আমি ওসব পারব না! তোর লোকজন করলে সেটা….
— ঠিক হ্যায়! একদিন খাওয়াতে হবে কিন্তু!
— বেশ! বৌকে নিয়ে বাড়িতে আয় একদিন! তবে আমাদের বাড়ি খুব ছোট্ট!
নেহাত ভদ্রতা করেই দিয়া কথাটা বলেছিল। কিন্তু পরে বিতানের প্রস্তাবে দিয়া মুশকিলে পড়ে গেল
— যাবো কিন্তু তার আগে তো বিনির সঙ্গে তোর আলাপটা হওয়া দরকার।
— আরে না না, আজ না! অন্য একদিন যাবো। দেরি হলে মা চিন্তা করবে।
— মাসিমাকে ফোন করে দে।
আরও পড়ুন:

আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৭২: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৯ : আড়ালে আছে আততায়ী

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০২ : ‘স্বজাতির্দূরতিক্রমা’—জন্মগত স্বভাব কি কখনও বদলায়? পঞ্চতন্ত্রের পাতায় এক অমোঘ রাজনৈতিক সত্যের

কথাটা বলেই বিতান ষাটগাছির দিকে না ঘুরে সোজা বাগুইআটির ফ্লাই ওভারে উঠে গেল। বিতানের দু’কামরার সাজানো ছোট্ট ফ্ল্যাট। রাস্তায় আসবার পথে ভাগ্যিস একটা খেলনার দোকান ছিল! বিতানের দু’বছরের মেয়ে প্রজ্ঞা বা নিনির জন্য তো আর ক্যাডবেরি নেওয়া যায় না। বউ বিনি খুব মিষ্টি মেয়ে। একটু গাবলু-গুবলু আদুরে সুখী চেহারা। কথা বলতে বলতে খালি হাসে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯১ : বিপাশা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৪: কুকুরমুখো ফল বাদুড়

বিতানের ছোট্ট মেয়ে নিনিও খুব মিষ্টি। তার নরম চুলে আবার ঝুঁটিবাঁধা। কাজের দিদি তাকে সামলাচ্ছিল। কোল্ড ড্রিঙ্কস আর ফিশফ্রাই খাওয়ালো। বাড়ির নিচে দোকান। আচ্ছা বিনির রাগ হচ্ছে না? সন্দেহ? বরের ইলেভেন-টুয়েল্ভের বান্ধবী! এতবছর বাদে দেখা! সে আবার সেক্টর ফাইভে চাকরী করে! বিতানও প্রায়ই সেক্টর ফাইভে যায়। সেটা ওর বৌ বিনি জানে। নতুন করে যোগাযোগ! বিতানের সঙ্গে তাঁর স্কুলের বান্ধবীর কতটা ঘনিষ্ঠতা হয়েছে? ভাববে না এসব?
আরও পড়ুন:

সাগর উঠে তরঙ্গিয়া

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

দিয়া কি ভাবতো? কিন্তু ভাবলেও কি অতিথির সামনে সেটা প্রকাশ করতো? নাকি মনের রাগ সন্দেহ সবকিছুই এমনই হাসিখুশি চেহারায় ঢাকা দিয়ে রাখতো! আমরা রাস্তায় ঘাটে ট্রেনে বাসে বিয়েবাড়িতে মানুষের যে চেহারা দেখতে পাই তার কতটুকু খাঁটি! রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের অভিনেতা বলি, আমজনতা কতটা আসল?
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬২: যুদ্ধের নৃশংসতা নয়, জনমানসে ঠাঁই পায় শুধু যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য

বিনি কি দিয়াকে দেখতে চেয়েছিল? তার মানে বিতানকে বিনির কাছে দিয়ার কথা বলতে হয়েছে। বিতান সব বলেছে ? না সব মানে, দিয়া ও বিতানের মধ্যে যে প্রেম ছিল এমনটা তো নয়! বিতানের দিক থেকে যে দূর্বলতা ছিল, সেটা দিয়ার ছিল না! সত্যিই কি ছিল না? নিজেক জিজ্ঞেস করেছে? একা বন্ধ ঘরে। বন্ধ চানের ঘরে। কিংবা চোখ বুজে আশপাশ ভুলে গিয়ে! বিছানায় শুয়ে। বয়ে যাওয়া কোনও নদীর সামনে। একা একা। নিজের মুখোমুখি। যখন মানুষ মিথ্যে বলতে পারে না! —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content