কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

অফিসেও সকলের সামনে লাঞ্চের আগেই সেটার সদ্ব্যবহারও করতে পারেনি। একবার বাড়ির লাঞ্চ খেয়ে আবার লাঞ্চ করতে বাইরে যাচ্ছি, এটা কিরকম শোনাতো। অফিসের উল্টো ফুটপাতে একজন বুড়ি মানুষ বসে থাকেন। ভিক্ষা করেন। তার অ্যালুমিনিয়ামের থালাটা নোংরা। আশেপাশে কাগজের ডিসের দোকান নেই। তাই একটু দূরে বসা লুচি তরকারির দাদার থেকে একটা কাগজের প্লেট চেয়ে আনল। পয়সা দিতে চেয়েছিল।
— শুধু প্লেট কেন চাইছেন?
— না আসলে অফিসে আজ দুপুরে একটু খাওয়াদাওয়া ছিল। মায়ের পাঠানো টিফিনটা খাওয়া হয়নি। ওই বুড়িমানুষ রোজ বসেন ওঁকে দিতে গিয়ে দেখলাম, ওঁর থালাটা বড্ড নোংরা। তাই আপনার থেকে চাইলাম।
লাঞ্চটাইমে ব্যস্ত বিক্রেতা হাত দেখালেন, জমে থাকা খরিদ্দার সামলে বললেন
— এই নিন, আপনার মতো সামান্য ক’জন থাকলে জগতটা বদলে যেতো দিদি। আর এতে আজ আমি দুটো লুচি আর তরকারি দিয়ে দিলুম! সারাদিন অনেক পাপ করি তো একটু পুণ্য কামানোর সুযোগ কি ছাড়া যায়? বলুন! এতদিন এখানে বসি কেউ এমনভাবে আমার কাছে প্লেটও চায়নি আর আমি ওই বুড়িকে কোনওদিন কিছু দিইওনি।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৮০ : আকাশ এখনও মেঘলা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

দিয়া অবাক হয়ে সেই লুচি-তরকারির দাদার দিকে তাকিয়েছিল। কত মানুষ আমাদের চারদিকে। কত কত বিচিত্র তাদের জীবন। বুড়ি অবাক হয়েছিল খুব। কাগজের প্লেটে সেই দাদার লুচি-তরকারি আর মায়ের পাঠানো পরোটা আলুরদম আর একটা দানাদার। মা গলির মুখে বড়রাস্তার ওপরেই মাকালী সুইটস থেকে রোজ নিয়ে আসে। ছোটবেলা থেকে দিয়া এই দানাদার খেয়ে বড় হয়েছে। স্বাদে কোনও বদল নেই। পুরনো রসগোল্লা থেকে চিনির রস ফুটিয়ে তৈরি হওয়া দানাদার কিন্তু স্বাদে বা স্বাস্থ্যে কোনও প্রভাব পড়ে না। লুচি তরকারির দিকে দেখিয়ে দিয়া দূরে সেই লুচি-তরকারির দাদার দিকে দেখায়। বুড়ি মাথা নাড়ে। হয়তো কখনও কিনে খেয়েছেন। রোজই তো বিক্রি হতে দেখেন।
আরও পড়ুন:

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

মহাকাব্যের কথকতা পর্ব-১৭০: রাবণ কে? রামায়ণের রাবণ কী আজও নেই?

ছুটি হতেই দিয়া দ্রুত পায়ে রাস্তায়। কলেজ মোড়ে বাসযাত্রীদের চাকচাক ভিড়। বাসস্ট্যান্ড থেকে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়া আরও ঘরফিরতি মানুষজন। সেক্টর ফাইভের বহুতল থেকে দেখলে ঠিক যেন কৌটোতে মৌরী ঢালতে গিয়ে ছিটিয়ে থাকা বাড়তি মৌরীর মতো দেখাবে। রান্নাঘরে মৌরি নিতে গিয়ে দিয়া রোজ ফেলে আর মা রোজ চটে যান। দিয়া আরও খানিকটা তফাতে দাঁড়াল। চ্যাটার্ড বাসগুলো বাসস্ট্যান্ড থেকে একটু তফাতে দাঁড়ায়। বিতান জায়গাটা আন্দাজ করতে পারবে। তার মানে অতনু পড়াশোনায় সাংঘাতিক ভালো। বি ই কলেজে পড়ার সুযোগ পেতে জেইই (মেন্স)-এ ভীষণ ভালো র্যা ঙ্ক করতে হয়। তারপর এমআইটি (MIT) থেকে মাস্টার্স! বিদেশে চাকরি পেয়ে ছেড়ে চলে এলো?
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…

বিতান অনেকক্ষণ হর্ন বাজাচ্ছে। পাশে দাঁড়ানো এক বৌদি দেখালেন!
— ভাই আপনাকে গাড়ি থেকে ভদ্রলোক ডাকছেন।
সম্বিত ফিরে হেসে পাশেরজনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দিয়া গিয়ে বিতানের গাড়িতে উঠল!
— কিরে? শুনতে পাসনি?
— না, একটু অন্যমনস্ক ছিলাম!
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৭: চাটুকারদের স্তুতিবাক্যই রাজ্যের পতন ডেকে আনে! পেঁচাদের ট্র্যাজেডি আর ‘কথা বলা গুহার’ এক কালজয়ী রাজনৈতিক পাঠ

বিতানের একটা বড় গুণ ও অকারণ কৌতূহল প্রকাশ করে না। কৌতূহল তো মানুষের স্বাভাবিক স্বভাব। কিন্তু কৌতূহল প্রকাশ না করাটা ভদ্রতা পরিমিতিবোধ ও বুদ্ধিমত্তা। বিতানের সেটা যথেষ্ঠ মাত্রায় আছে। সেই কবে ক্লাস ইলেভেনের সরস্বতীপুজোর দিন পুষ্পাঞ্জলির ফুলের মধ্যে গুঁজে দিয়েছিল প্রেমের চিরকুট। সেই প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গে সদ্য কৈশোর পেরোনো বিতান কিন্তু অত্যন্ত সাবধানী ছিল। তাই সে লিখেছিল দিয়ার আপত্তি থাকলে তারা দু’জনে বন্ধুই থাকবে।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content