কলকাতায় বৃষ্টি
অতনু জানতে চেয়েছিল কেন অবনী চৌধুরী তাঁর বাবা দুলাল সেনের শাস্তি ফাঁসি থেকে যাবজ্জীবন করেছিলেন? ফাদার শুনিয়েছিলেন তাঁদের কথোপকথন। স্বয়ং দুলাল ফাদারকে সব জানিয়েছিলেন।

দুলালেরও ভীষণ কৌতূহল হয়েছিল। বিখ্যাত অ্যাডভোকেট। নিখরচায় কেস তিনি করতেই পারেন। কিন্তু যে কেসে পুলিশ চোখের সামনে খুনটা হতে দেখেছে এবং খুনি নিজে ভরা আদালতে বিচারকের সামনে যে খুনের কথা স্বীকার করেছেন। সেখানে সাজা তো হবেই! তবু তিনি দুলাল সেনের কেসটা হাতে নিয়ে তিনি তাঁর মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন কেন?
অবনী চৌধুরী বলেছিলেন, দু’ তিনটে কারণ আছে। তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের কারণে দেশের আইনব্যবস্থা সম্বন্ধে এবং কয়েকজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট-এর সম্বন্ধে তাঁর যে ধারণা হয়েছে,—যে বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ ভুল এ কথা তিনি বলছেন না। কিন্তু অভিযুক্ত দুলাল যেরকম ভাবছেন সবটুকু সেরকম নয়। যে বা যারা তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ দিয়ে উকিলদের মেরুদণ্ড কিনে নিয়েছেন — আইনব্যবসায়যুক্ত সমস্ত উকিল সেরকম দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। এই বিশ্বাসটা একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তাঁর এবং জনসাধারণ মনে ফিরিয়ে দেবার জন্যই তিনি এই কেসটা নিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৭৬: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৪ :কালাদেও নয়?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৪ : শেষ অঙ্ক

অবনী চৌধুরী বহুদিন কেস লড়েছেন। প্রতিদিন নতুন নতুন শিক্ষা হয়। আইনপ্রণয়ন এবং তার ব্যবহারে দুর্বলতার জন্য একজন সৎ সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ কিভাবে অপরাধের অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছেন সেটা দেখেই তিনি তাঁর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন। এই কেস থেকে আইন ব্যবহারকে তিনি নতুন করে শেখবার চেষ্টা করবেন। যদিও দুলাল সেন ঠান্ডা মাথায় প্যারোলে গিয়ে একটি খুন করেছেন। তার মানে আইনি ব্যবস্থার একটা সুবিধাকে তিনি বদ উদ্দেশ্যে খারাপভাবে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং খুব স্বাভাবিকভাবে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। কিন্তু অ্যাডভোকেট অবনী চৌধুরী মনে করেন দুলালের মতো মানুষকে বেঁচে থাকতে হবে, তাঁর মতো মানুষকে গরাদের মধ্যে হলেও টিকে থাকতে হবে।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৯ : জলসাঘর—অস্তশিখর

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৬: রাক্ষস খরের নিধনের নিরিখে রামচন্দ্রের মূল্যায়ন

দুলালের জীবন শেষ হয়ে গেলে কাল মানুষ সব ভুলে যাবেন, কিন্তু তিনি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে জীবিত থাকেন। তাহলেই এটা দৃষ্টান্ত হবে আইনের ব্যবহারে সে দৃষ্টান্ত ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ! দুলাল সেন আপত্তি না করলেও একটা বিতৃষ্ণা নিয়ে বেঁচেছিলেন। কিন্তু ছেলে অতনুর একটু একটু করে সফল হয়ে ওঠার পর, সেই বৈরাগ্য নিয়ে জীবনেও বেঁচে থাকার একটা ইচ্ছে হয়েছিল।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৩ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /২

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

অতনু মিশনারি স্কুলে আইসিএসসি , আইএসসি পাস করে জয়েন্ট এন্ট্রান্স মেইন পরীক্ষায় ঝকঝকে রেজাল্ট। ২০১২ সালে অতনু কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিল বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে (বেসু)। আর ২০১৬তে পাশ করে বের হল। তখন নাম বদলে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে। চার বছরের বিটেক-এর বদলে পাঁচ বছরে এমটেক হওয়া যেতো। অতনুর ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু সে ফাদার স্যাম্যুয়েলকে কিছু বলেনি। ফাদার নিজে আইআইইএসটি-র (IIEST) প্রিন্সিপ্যালের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছিলেন অতনুর ইচ্ছে সুযোগ পেলে বিদেশ থেকে মাস্টার্স করার। ফাদার স্যাম্যুয়েল বিশ্বাস নিজে চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার সদর দপ্তর দিল্লিতে গিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। অতনুর পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে তার উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে যদি কোনও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। এগিয়ে এসেছিল এক আমেরিকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-তে অতনু দু’বছরের মাস্টার অফ সায়েন্স ইন কম্প্যুটেশন সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করল। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার আমেরিকান ডলারে বিপুল টাকার চাকরির সুযোগ পেয়েও অতনু দেশে ফিরে আসে। ফাদার স্যামুয়েল খুব অবাক হননি।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৭: ধেড়ে ইঁদুর

তবু ফাদার অতনুর কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলেন, সে কেন দেশে ফিরে এলো? শান্ত অতনুর জবাব ছিল—
—বিদেশে নয় ফাদার। দেশে আমার অনেক কাজ বাকি? কী কাজ সেদিন জানতে চাননি ফাদার। বুঝলেন কিছুদিন বাদে। আইবিএম-এর কলকাতা শাখার অফিস নিউটাউনের ডিএলএফ আইটি পার্কে দেশের তুলনায় বেশ মোটা মাইনের চাকরি। প্রথম মাস থেকেই প্রতি সপ্তাহের শনিবার করে অতনু আসতো চুঁচুড়ার চার্চে। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content