
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
আবার প্রথম দিনের মতো বিতান নাগেরবাজারে বাড়ির কাছে এসে দিয়াকে নামিয়ে দিয়ে গেল। বাড়ি পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যেতে চায় না দিয়া। বহুদিন এখানে আছে। ফ্ল্যাট নয় এটা পাড়া কালচার। বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো এসব নিয়ে এতো ভাবতে হতো না। এখন সে আর মা। বাবা চলে যাবার পর মা আর আগের মতো শক্ত নেই। অনেক দূর্বল হয়ে গিয়েছেন।
হঠাৎ ঘুম থেকে ডাকলেও ঘাবড়ে গিয়ে মায়ের বুক ধড়ফড় করে। কোনও কারণে ঝড়বৃষ্টিতে বা প্রতিবাদ প্রতিরোধের মিছিল মিটিঙের ভিড়ে একটু দেরি হলেই মা আতঙ্কিত হয়ে ফোন করতে থাকেন। মায়ের কথা ভেবেই দামি ব্লু-ট্যুথ কিনতে হয়েছে দিয়াকে। যাতে চটপট উত্তর দিয়ে মাকে শান্ত করতে পারে। শরীরের পক্ষে অতিরিক্ত রেডিয়েশনের জন্যেই ব্লু-ট্যুথ ভাল নয় এটা জেনেও ব্যবহার করতে হয়। সাধারণ তারওয়ালা ইয়ারফোন নিয়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করা যায় না।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৩: রাজসূয় মহাযজ্ঞের প্রস্তুতিপর্বে পাণ্ডবদের দিগ্বিজয় যেন রাজনীতির আনুগত্য-আদায়ের পাঠ

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯২ : শিউলি বাড়ি

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৯: বিড়ালীকৌশিক-জাতক —অতি ইচ্ছার সঙ্কট
এমনিই মেয়েদের অহরহ রাস্তার নানাবয়সের অসভ্য ম্যানিয়্যাকদের সামলে চলতে ফিরতে হয়। ‘অসভ্যতার কোনও বয়সসীমা নাই’। সববয়সের মেয়েরাই এই নীতিবাক্য মেনে চলাফেরা করেন। কৈশোর-ছোঁয়া স্কুলপড়ুয়া থেকে ব-কারান্ত যুবক, ঝকঝকে চাকুরিজীবী, টাকমাথা পিসেমশাই, পেনশনভোগী নখদন্তহীন সত্তরোর্ধ সিনিয়র সিটিজেন, এমনকি গোঁফ-দাড়ি কামানো কাজল লিপস্টিক ও নকল অন্তর্বাসের আড়ালে তৃতীয়লিঙ্গের ছদ্মবেশী নোংরা পুরুষ। সকলে সুযোগসন্ধানী। মোবাইল পার্স আইডি কার্ড দরকারি কাগজপত্র ভরা শোল্ডার ব্যাগের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। তারসঙ্গে ব্যাগ থেকে কানে গোঁজা তার থাকলে তো আর একটা নতুন ঝামেলা। অন্যের শার্টের বোতামে বা সাইডব্যাগের চেনের কোণায় তার জড়িয়ে এক অপ্রস্তুত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বেশ কয়েকবার।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩৯: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২০

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৬: কাঠবিড়ালি
তাই আর মাকে নতুন উপদ্রবের মুখোমুখি করতে চায় না দিয়া – সেবারের মতো আজও বিতানকে বলল—
— আরে সরু গলি। গাড়ি ঘোরানোর স্পেস নেই। হেঁটে একটু খানি।
— ওকে। নাম অ্যাড্রেসটা পাঠিয়ে দিস!
— কার?
— ওই যার খোঁজ নিতে হবে।
— হ্যাঁ, হ্যাঁ! বিনিকে নিয়ে একদিন আসিস। তবে গাড়িটা মেন রোডে রাখতে হবে।
— আসবো!
বিতান চলে গেল। এখনও নাকে বিতানের শরীরে ছড়ানো কোলোনের গন্ধ নাকে লেগে আছে। গন্ধ সংক্রামক। নাকে লেগে থাকে।
দিয়া একবার এটা জানতে গুগুল করেছিল। বাবার দাহকার্যের পর শ্মশানে মানুষের মাংসপোড়া ওই তীব্রগন্ধ তাকে বহুদিন আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। মাকে বলতে পারেনি। ভেবেছিল এটা বুঝি দিয়ার কোনও মানসিক দূর্বলতা। তাই খুঁজতে খুঁজতে জানতে পারলো আমাদের দৃষ্টি স্পর্শ শব্দ স্বাদের অনুভূতি যেমন প্রথমে মস্তিষ্কের লজিকসেন্টার গিয়ে সেখান থেকে আমাদের মস্তিষ্কের আবেগ ও স্মৃতিকেন্দ্রে পৌঁছোয় ঘ্রাণ বা গন্ধের অনুভূতি তেমন নয়। ঘ্রাণের অনুভূতি লজিকসেন্টার বাইপাস করে সরাসরি মস্তিষ্কের ইমোশন ও মেমোরি সেন্টারে পৌঁছে যায়। তাই তার অস্তিত্ব আবেগে বহুদিন থেকে যায়। সুখের বা যন্ত্রণার আবেগের সঙ্গে ঘ্রাণের অস্তিত্ব মিলেমিশে থাকে।
— আরে সরু গলি। গাড়ি ঘোরানোর স্পেস নেই। হেঁটে একটু খানি।
— ওকে। নাম অ্যাড্রেসটা পাঠিয়ে দিস!
— কার?
— ওই যার খোঁজ নিতে হবে।
— হ্যাঁ, হ্যাঁ! বিনিকে নিয়ে একদিন আসিস। তবে গাড়িটা মেন রোডে রাখতে হবে।
— আসবো!
বিতান চলে গেল। এখনও নাকে বিতানের শরীরে ছড়ানো কোলোনের গন্ধ নাকে লেগে আছে। গন্ধ সংক্রামক। নাকে লেগে থাকে।
দিয়া একবার এটা জানতে গুগুল করেছিল। বাবার দাহকার্যের পর শ্মশানে মানুষের মাংসপোড়া ওই তীব্রগন্ধ তাকে বহুদিন আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। মাকে বলতে পারেনি। ভেবেছিল এটা বুঝি দিয়ার কোনও মানসিক দূর্বলতা। তাই খুঁজতে খুঁজতে জানতে পারলো আমাদের দৃষ্টি স্পর্শ শব্দ স্বাদের অনুভূতি যেমন প্রথমে মস্তিষ্কের লজিকসেন্টার গিয়ে সেখান থেকে আমাদের মস্তিষ্কের আবেগ ও স্মৃতিকেন্দ্রে পৌঁছোয় ঘ্রাণ বা গন্ধের অনুভূতি তেমন নয়। ঘ্রাণের অনুভূতি লজিকসেন্টার বাইপাস করে সরাসরি মস্তিষ্কের ইমোশন ও মেমোরি সেন্টারে পৌঁছে যায়। তাই তার অস্তিত্ব আবেগে বহুদিন থেকে যায়। সুখের বা যন্ত্রণার আবেগের সঙ্গে ঘ্রাণের অস্তিত্ব মিলেমিশে থাকে।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
গন্ধে স্মৃতি আচমকা ফিরে আসে। যেভাবে বাবার মৃত্যুর ভয়ংকর স্মৃতির সঙ্গে শ্মশানের শবদাহের পোড়াগন্ধ দিয়ার মাথার মধ্যে থেকে গিয়েছিল। বহুদিন লেগেছিল সেই পোড়াগন্ধ থেকে মুক্তি পেতে। কিন্তু আজ কী হল? এখনও নাকে সেই একই কোলোনের গন্ধ। আসলে দিয়া এভাবে কোনও পুরুষের কোলোনের গন্ধের আওতায় আসেনি। আসতে হয়নি। অফিস ফ্লোরে যেখানে বসে প্রতিদিন কাজ করে সেখানে অফিস ফার্নিচারের গন্ধ। মাঝে মাঝে অফিসবেয়ারা রুম স্প্রে ছড়িয়ে দেয়। খানিকসময় পরে সে গন্ধ চলে যায়। ইন্টারভিউর পরে আর কখনও দিয়াকে রবীন চ্যাটার্জি তাঁর ক্যাবিনে ডাকেননি। কাউকেই ডাকেন না। ছোট্ট অফিস। ছোট্ট তাঁর ক্যাবিন। অফিসফ্লোরেই একদিকে হোয়াইট বোর্ড। বোর্ডে লাগানো ম্যাগনেটিক বোর্ড-ওয়াইপার। তাতেই লাগানো কালারড বোর্ড পেন। টিম মিটিং সেখানেই হয়।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৩: স্মৃতিশাস্ত্রের রক্তচক্ষু বনাম এক স্নেহশীল পিতা: মূষিক-কন্যার বিবাহ-উপাখ্যান
স্নানের পর মায়ের গোপালের সামনে একটা ধূপ জ্বালিয়ে দিয়া মনের দূর্বলতার জন্যে ক্ষমা চাইল।
— মায়ের মতো আমি তোমার পূজো রোজ করি না গোপাল। পরীক্ষার সময়, ইন্টারভিউ দিতে যাবার আগে তোমার কথা মনে পড়ে। আজ একটা বিপদে পড়েই তোমার সামনে দাঁড়িয়েছি।—চলবে।
— মায়ের মতো আমি তোমার পূজো রোজ করি না গোপাল। পরীক্ষার সময়, ইন্টারভিউ দিতে যাবার আগে তোমার কথা মনে পড়ে। আজ একটা বিপদে পড়েই তোমার সামনে দাঁড়িয়েছি।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















