
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
সতীদাহ নিবারণ বিষয়ে চট্টগ্রামের কমিশনার ডিআর লায়াল সাহেবের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপুরার সহকারী পলিটিক্যাল এজেন্ট উমাকান্ত দাস এ বিষয়ে ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দের ১১ জুন ত্রিপুরা রাজ্যের পররাষ্ট্র বিভাগে একটি পত্র প্রেরণ করেন। সতীদাহ নিবারণ বিষয়ে ত্রিপুরার রাজ সরকারকে এটাই ছিল ইংরেজ সরকারের প্রথম পত্র। উমাকান্তবাবু তাঁর এই পত্রে লিখেন—”গত মার্চ মাসে আমি যখন সোনামুড়া অঞ্চলে গিয়েছিলাম, তখন শুনতে পেয়েছিলাম যে, জমাতিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ২/৩ বছর আগে এ রূপ তিনটি সতীদাহের ঘটনা ঘটেছিল।…যদি ৪/৫ বছরের মধ্যে এ রাজ্যে আরও এ রকম ঘটনা ঘটে থাকে তা হলে তার একটি তালিকা এ অফিসে পাঠানো বাঞ্ছনীয়।” সহকারী পলিটিক্যাল এজেন্ট তাঁর পত্রে সংশ্লিষ্ট নামধামও উল্লেখ করেছিলেন। তা হচ্ছে:
১) প্রায় তিন বছর আগে বার্মাছড়ার চরণ সেনাপতির স্ত্রী সহমৃতা হয়েছিলেন পতির সঙ্গে।
২) গত বৈশাখের আগে ফালিলংছড়ায় গঙ্গামোহন সেনাপতির স্ত্রী বেনী লক্ষ্মী।
৩) গত মাঘ মাস নাগাদ তুইরূপা ছড়ার হান্তারাই চৌধুরী পাড়ার মিলারাম বার্মার স্ত্রী।
ইংরেজ সরকার যে ত্রিপুরাতে কার্যকরী ভাবে সতীদাহের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করতে সচেষ্ট ছিল তা এই পত্র থেকেই স্পষ্ট। কারণ চার-পাঁচ বছরের মধ্যে রাজ্যে এ রকম ঘটনা ঘটে থাকলে তার একটি তালিকা সহকারী পলিটিক্যাল এজেন্টের অফিসে পাঠাতে বলা হয়েছিল। সতীদাহের যে সব তথ্য সহ-পলিটিক্যাল এজেন্টের নজরে এসেছিল তার বাইরেও যে এ রকম আরও ঘটনা ঘটেছিল তা অনুমান করতে অসুবিধা হয় না। সে যুগে ত্রিপুরার যোগাযোগ দুর্বলতার জন্য অনেক খবরই রাজ প্রশাসনের কাছে সময় মতো পৌঁছতে পারত না। ইংরেজ সরকার এরপর থেকে সতীদাহ নিবারণে রাজাকে চাপ দিয়ে যেতে থাকে।
১) প্রায় তিন বছর আগে বার্মাছড়ার চরণ সেনাপতির স্ত্রী সহমৃতা হয়েছিলেন পতির সঙ্গে।
২) গত বৈশাখের আগে ফালিলংছড়ায় গঙ্গামোহন সেনাপতির স্ত্রী বেনী লক্ষ্মী।
৩) গত মাঘ মাস নাগাদ তুইরূপা ছড়ার হান্তারাই চৌধুরী পাড়ার মিলারাম বার্মার স্ত্রী।
ইংরেজ সরকার যে ত্রিপুরাতে কার্যকরী ভাবে সতীদাহের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করতে সচেষ্ট ছিল তা এই পত্র থেকেই স্পষ্ট। কারণ চার-পাঁচ বছরের মধ্যে রাজ্যে এ রকম ঘটনা ঘটে থাকলে তার একটি তালিকা সহকারী পলিটিক্যাল এজেন্টের অফিসে পাঠাতে বলা হয়েছিল। সতীদাহের যে সব তথ্য সহ-পলিটিক্যাল এজেন্টের নজরে এসেছিল তার বাইরেও যে এ রকম আরও ঘটনা ঘটেছিল তা অনুমান করতে অসুবিধা হয় না। সে যুগে ত্রিপুরার যোগাযোগ দুর্বলতার জন্য অনেক খবরই রাজ প্রশাসনের কাছে সময় মতো পৌঁছতে পারত না। ইংরেজ সরকার এরপর থেকে সতীদাহ নিবারণে রাজাকে চাপ দিয়ে যেতে থাকে।
চট্টগ্রামের কমিশনার ত্রিপুরার সহ-পলিটিক্যাল এজেন্টকে পত্র লেখেন। ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দের ৩রা সেপ্টেম্বর ত্রিপুরার রাজদরবার থেকে ইংরেজ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে লেখা হয়-“সতীদাহ এ রাজ্যের বহু প্রাচীনকালের প্রচলিত প্রথা এবং প্রজা সাধারণ এই প্রথাকে অতি পবিত্র বলিয়া মনে করিয়া থাকে। যে সকল পার্ব্বত্য জাতির মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত, তাহারা এখনও অশিক্ষিত, সুতরাং রাজদরবার হইতে এই প্রথার প্রতিকূলে হস্তক্ষেপ হইলে রাজ্যে অসন্তোষ ভাব এবং তজ্জনিত অশান্তি উপস্থিত হইতে পারে। বিশেষত গত ১০ বৎসর হইতে এই প্রথা স্বতঃই উত্তরোত্তর হ্রাস হইয়া আসিতেছে। এ স্থলে বিশেষ উল্লেখযোগ্য এই যে ব্রিটিশ রাজ্যে যে রূপ উৎপীড়ন বা প্ররোচনা প্রভৃতি দ্বারা সতীকে দগ্ধ করা হইত,এ রাজ্যে তাহা হয় না। সতী স্বেচ্ছায় অনুগমন করিয়া থাকে। এই সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করিয়া দরবার এতদ্বিষয়ে কোনরূপ নিষেধাজ্ঞা প্রচারের আবশ্যকতা অনুভব করে না। কিন্তু যাহাতে কেহ উৎপীড়ন বা প্ররোচনা দ্বারা সতীদাহ না করে এবং ক্রমশ আপনা হইতে যাহাতে এই প্রথা উঠিয়া যায়,দরবার সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখিবেন।”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, পর্ব-১০৫ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৪

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৪

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৬ : আলোচনার টেবিলে
রাজদরবারের এই পত্র থেকে স্বাভাবিকভাবেই এটা ধারণা করা যায় যে,রাজা আইন করে সতীদাহ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী ছিলেন না।পত্রে উল্লেখ করা হয় যে, ত্রিপুরাতে অতি প্রাচীনকাল থেকেই তা চলে আসছিল এবং প্রজাবর্গ এই প্রথাকে পবিত্র বলেই মনে করতেন। সতীদাহ প্রথা নিবারণে রাজ্যে ধীরে চলার নীতি অনুসরণের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল রাজদরবারের পত্রে।আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘রাজমালা’য় প্রথমে ষোড়শ শতকে রাজপরিবারের মধ্যে সতীদাহ প্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়।ধন্য মাণিক্য ও পরবর্তী রাজাদের সময়কালে রানিদের সহগামী হবার উল্লেখ রয়েছে। সেই সময়কালে অবশ্য ত্রিপুরার সাধারণ প্রজাদের মধ্যে সতীদাহ প্রথার কোনও তথ্যাদি পাওয়া যায় না।কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন রাজদরবার থেকে ইংরেজ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে এই পত্রটি লেখা হয়েছিল তখন ত্রিপুরার পার্বত্য জাতির মধ্যে এই প্রথার প্রচলনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। আরও বলা হয়েছিল যে সতীদাহ এই রাজ্যের বহু প্রাচীন প্রথা। রাজ্যে আইন করে তা নিষিদ্ধ করলে অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছিল রাজদরবার থেকে। এই পত্র থেকে এমনটাও ধারণা করা যায় যে,ঊনবিংশ শতাব্দীর আগেই রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথার বিলুপ্তি ঘটেছিল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৯: যুধিষ্ঠির-আয়োজিত রাজসূয়যজ্ঞের মহাসম্মেলন ও চেদিরাজ শিশুপালের ভূমিকা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৬ : উত্তরায়ণ
যাইহোক, সতীদাহ নিবারণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজদরবারের উল্লিখিত পত্রে ইংরেজ কর্তৃপক্ষ মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এই পত্রের উত্তরে চট্টগ্রামের কমিশনার ২ অক্টোবর, ১৮৮৮ ইংরেজ রাজদরবার তথা রাজার উদ্দেশ্যে পলিটিক্যাল এজেন্টকে রীতিমত কড়া ভাষায় লিখলেন—”রাজদরবারের লিখিত উত্তর সন্তোষজনক নয়। মহারাজার ন্যায় সুশিক্ষিত ব্যক্তির নিকট হইতে আমি এইরূপ উত্তর পাইব বলিয়া প্রত্যাশা করি নাই। ওই পত্রে যাহা লিখিত হইয়াছে তাহা প্রকৃত বলিয়াও স্বীকার করিতে পারি না। সতীদাহ পার্বত্য ত্রিপুরার আদিম প্রথা নহে,আমার বিশ্বাস পার্বত্য জাতির মধ্যে এই প্রথা নূতন প্রবর্তিত। যে সকল পার্বত্য লোক হিন্দু ধর্মোচিত আচার অবলম্বন করে তাহারা সতীদাহ প্রথার অনুসরণ করে।এই সমস্ত ব্যক্তি অসন্তোষ প্রকাশ করিবার লোক নহে এবং ইহাদের অসন্তুষ্টি আশঙ্কাজনকও নহে।
এই প্রথা নিষিদ্ধ বলিয়াই সম্প্রতি হ্রাস প্রাপ্ত হইতেছে। কৈলাসহরের গত ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনাই তৎপক্ষে প্রকৃষ্ট প্রমাণ। যদি মহারাজার এরূপ অভিপ্রায় প্রকাশ পায় যে, এ বিষয়ে কোনরূপ রাজকীয় নিষেধাজ্ঞা নাই,তবে এই প্রথা পুনর্বার প্রবল হইবে। কারণ, ইহা সহজেই উপলব্ধ হয় যে, যাহা নিষিদ্ধ নহে তাহাই অনুমোদিত। সুতরাং ইহাতে এই প্রথায় উৎসাহ প্রদান করা হইবে।
আমি অনুরোধ করিতেছি যে, আপনি এই বিষয় পুনর্বার মহারাজ সমীপে উপস্থিত করিবেন এবং যাহাতে ১৮২৯ সনের ১৭নং রেগুলেশনের ন্যায় একটি আইন জারি হয় ও তদানুসারে কার্য হয়,তদ্বিষয়ে বিশেষ ভাবে পরামর্শ দেবেন।আমি বিশেষ রূপে মহারাজের গোচর করিতে চাই যে,যে প্রথা ৬০ বৎসর হইল আইনবিরুদ্ধ বলিয়া ভারতবর্ষে প্রচার করা হইয়াছে এবং যাহা সমস্ত সুসভ্য জাতি অসভ্য ব্যবহার বলিয়া মনে করেন, মহারাজার বর্তমান কার্য দ্বারা সেই প্রথায় উৎসাহ বর্দ্ধন করা হইতেছে। বিষয়টি বিস্তৃত রূপে গবর্ণমেন্টে উপস্থিত করা আমার অভিপ্রেত নহে। ভরসা করি, মহারাজ এরূপ বন্দোবস্ত করিবেন, যাহাতে আমাকে এ বিষয়ে আর অধিক কিছু করিতে না হয়।”
এই প্রথা নিষিদ্ধ বলিয়াই সম্প্রতি হ্রাস প্রাপ্ত হইতেছে। কৈলাসহরের গত ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনাই তৎপক্ষে প্রকৃষ্ট প্রমাণ। যদি মহারাজার এরূপ অভিপ্রায় প্রকাশ পায় যে, এ বিষয়ে কোনরূপ রাজকীয় নিষেধাজ্ঞা নাই,তবে এই প্রথা পুনর্বার প্রবল হইবে। কারণ, ইহা সহজেই উপলব্ধ হয় যে, যাহা নিষিদ্ধ নহে তাহাই অনুমোদিত। সুতরাং ইহাতে এই প্রথায় উৎসাহ প্রদান করা হইবে।
আমি অনুরোধ করিতেছি যে, আপনি এই বিষয় পুনর্বার মহারাজ সমীপে উপস্থিত করিবেন এবং যাহাতে ১৮২৯ সনের ১৭নং রেগুলেশনের ন্যায় একটি আইন জারি হয় ও তদানুসারে কার্য হয়,তদ্বিষয়ে বিশেষ ভাবে পরামর্শ দেবেন।আমি বিশেষ রূপে মহারাজের গোচর করিতে চাই যে,যে প্রথা ৬০ বৎসর হইল আইনবিরুদ্ধ বলিয়া ভারতবর্ষে প্রচার করা হইয়াছে এবং যাহা সমস্ত সুসভ্য জাতি অসভ্য ব্যবহার বলিয়া মনে করেন, মহারাজার বর্তমান কার্য দ্বারা সেই প্রথায় উৎসাহ বর্দ্ধন করা হইতেছে। বিষয়টি বিস্তৃত রূপে গবর্ণমেন্টে উপস্থিত করা আমার অভিপ্রেত নহে। ভরসা করি, মহারাজ এরূপ বন্দোবস্ত করিবেন, যাহাতে আমাকে এ বিষয়ে আর অধিক কিছু করিতে না হয়।”
আরও পড়ুন:

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…
ইংরেজ কর্তৃপক্ষের এই চিঠি থেকে দেখা যাচ্ছে যে,তারা সতীদাহ প্রথাকে ত্রিপুরার আদিম প্রথা হিসেবে মেনে নেয়নি। হিন্দু পার্বত্য প্রজাগণই সতীদাহ প্রথার অনুসরণকারী বলে তাদের অভিমত ছিল। মহারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুরে চট্টগ্রামের কমিশনার লিখেছিলেন যে, মহারাজার কাজে সতীদাহে উৎসাহ বাড়ছে। বস্তুত চট্টগ্রামের কমিশনার লায়াল সাহেবের উপরোক্ত চিঠি থেকে বুঝতে মোটেই অসুবিধা হয় না যে, ব্রিটিশ ভারতে ৬০ বছর আগে নিষিদ্ধ সতীদাহ প্রথা ত্রিপুরাতেও কার্যকর ভাবে নিবারণ করার জন্য তদানীন্তন ইংরেজ কর্তৃপক্ষ রাজার উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু ত্রিপুরায় আইন করে তা নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী ছিল না রাজদরবার। তাদের অভিমত ছিল এমনিতেই এই প্রথা উঠে যাবে।কিন্তু ইংরেজ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবর্তিত আইন কঠোর ভাবে ত্রিপুরায় কার্যকর করতে রাজার উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। যাইহোক, সতীদাহ নিয়ে চট্টগ্রামের কমিশনার, ত্রিপুরার পলিটিক্যাল এজেন্ট এবং রাজদরবারের মধ্যে এইসব চিঠি চালাচালির পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরাতে সতীদাহ নিষিদ্ধ করে মহারাজা বীরচন্দ্র রাজাদেশ জারি করেন। ১২৯৯ ত্রিপুরাব্দের (১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ) ৮ জৈষ্ঠ এই বিষয়ে ‘রোবকারি’ (রাজাদেশ) প্রচারিত হয়। সংশ্লিষ্ট ‘রোবকারি’টি হল—
“যেহেতু জানা যায়, এ রাজ্যের পার্ব্বতীয় প্রদেশের কোনো কোনো স্হানে সতীদাহ অদ্যাপি সম্পূর্ণ রূপে লয়প্রাপ্ত হয় নাই । অতএব তাহা রহিত করা আবশ্যক। সে মতে হুকুম হইল যে-এতদ্দ্বারা উল্লেখিত সতীদাহ প্রথা রহিত করা যায় ও এই আদেশ প্রচারের তারিখের পর হইতে এই আদেশ লঙ্ঘনক্রমে কোনও স্থানে উক্ত ক্রিয়া সম্পাদিত হইলে, কি তাহার উদ্যোগ করা হইলে সংসৃষ্ট ব্যক্তিগণ দণ্ডনীয় হইবে। কার্য্যে পরিণত হওয়ার আদেশে এই রোবকারী রাজস্ব বিভাগে পাঠান যায়।”
“যেহেতু জানা যায়, এ রাজ্যের পার্ব্বতীয় প্রদেশের কোনো কোনো স্হানে সতীদাহ অদ্যাপি সম্পূর্ণ রূপে লয়প্রাপ্ত হয় নাই । অতএব তাহা রহিত করা আবশ্যক। সে মতে হুকুম হইল যে-এতদ্দ্বারা উল্লেখিত সতীদাহ প্রথা রহিত করা যায় ও এই আদেশ প্রচারের তারিখের পর হইতে এই আদেশ লঙ্ঘনক্রমে কোনও স্থানে উক্ত ক্রিয়া সম্পাদিত হইলে, কি তাহার উদ্যোগ করা হইলে সংসৃষ্ট ব্যক্তিগণ দণ্ডনীয় হইবে। কার্য্যে পরিণত হওয়ার আদেশে এই রোবকারী রাজস্ব বিভাগে পাঠান যায়।”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা
ত্রিপুরার সতীদাহ প্রথা এবং তা নিবারণের বিষয়ে ইংরেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রসঙ্গে আলোচনাকালে স্বাভাবিক ভাবে অপর এক দেশীয় রাজ্য কোচবিহারের কথাও উল্লেখ করা যায়। ইংরেজ সরকার কর্তৃক ব্রিটিশ ভারতে সতীদাহ নিষিদ্ধ করার দুই দশক পর কোচবিহারে তা নিষিদ্ধ হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইংরেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেখানকার রাজদরবারেরও চিঠি চালাচালি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে ত্রিপুরার অনেক আগেই অবশ্য কোচবিহারে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে কোচবিহারে সতীদাহ প্রথা বন্ধ হয়। ত্রিপুরাতে সতীদাহ নিষিদ্ধ করে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে রাজাদেশ জারি হয়।দুটি দেশীয় রাজ্যের ক্ষেত্রেই ইংরেজ কর্তৃপক্ষ এ জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল। যাইহোক, সুপ্রাচীন কাল থেকেই যে কুপ্রথা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ত্রিপুরা ও কোচবিহারে চলে আসছিল ইংরেজ কর্তৃপক্ষের প্রবল চাপের মুখে শেষপর্যন্ত ঊনবিংশ শতাব্দীতে তার অবসান ঘটে।—চলবে।
* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।


















