শনিবার ১৩ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

জাগো মৃন্ময়ী চিন্ময়ী রূপে জাগো।

দুর্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা। তাই দুর্গাপূজার সঙ্গে যেন একটা যুদ্ধ যুদ্ধ আবহ তৈরি হয়ে আছে সূচনা লগ্ন থেকেই। পুরাণ, কিংবদন্তী কিংবা ইতিহাসও তারই স্বাক্ষ্য দেয়। রাজ্যভ্রষ্ট রাজা সুরথ দেবীর পূজা করেছিলেন তাঁর রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য। আবার সীতাকে ফিরে পাবার জন্য রামচন্দ্র করেছিলেন দেবীর অকাল বোধন।

সুদূর অতীতে রাজা-মহারাজা আর সম্পন্ন জমিদাররাই দুর্গাপূজা করতেন। কখনও যুদ্ধ জয়ের জন্য, কখনও রাজ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য কিংবা জমিদারী পরিচালনা নিষ্কন্টক রাখার জন্য দেবী দুর্গার আরাধনা হতো। কালক্রমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও দুর্গাপূজার প্রচলন শুরু হয়। গ্রাম-জনপদ, গঞ্জের হাট, বন্দর-শহর সর্বত্র চাঁদা তুলে দেবীর পূজা হতে থাকে।এই ভাবেই বিস্তার লাভ করে বারোয়ারি দুর্গোৎসব।

কোচবিহার, অসম, ত্রিপুরা, কাছাড়, জয়ন্তিয়া-বাংলার এইসব প্রান্তীয় রাজ্যেও দুর্গাপূজার ইতিহাস অনেক পুরনো। ত্রিপুরায় পঞ্চদশ শতকে,মাণিক্য রাজবংশের সূচনা লগ্ন থেকেই দেবী দুর্গার রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ পাওয়া যায়।পঞ্চদশ শতকে ত্রিপুরার রাজা ছিলেন রত্ন মাণিক্য। তাঁর রাজত্বকাল ১৪৬৪-৮৮ খ্রিস্টাব্দ। এ যাবৎ আবিষ্কৃত মুদ্রা অনুসারে বলা যায় ত্রিপুরার রাজা রত্ন মাণিক্যই প্রথম মুদ্রা প্রস্তুত ও প্রচার করেছিলেন। সেই মুদ্রাতে শ্রীদুর্গার উল্লেখ ছিল। কোনও মুদ্রায় সিংহের নিচে ‘শ্রী দুর্গা’ লেখা, আবার কোনওটিতে ‘শ্রীদুর্গারাধনাপ্ত বিজয়ঃরত্নপুর শক ১৩৮৬’ উল্লেখ পাওয়া যায়।
পঞ্চদশ শতকের মুদ্রার স্বাক্ষ্য থেকে সঙ্গত ভাবেই ধারণা করা যায় যে, তদানীন্তন সময়ে দেবী দুর্গা ত্রিপুরার রাজাদের আরাধ্য দেবী ছিলেন এবং দুর্গার আরাধনা রাজার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিল। ত্রিপুরার রাজবংশের কীর্তি কাহিনি নির্ভর কাব্যগাঁথা ‘রাজমালা’ অনুসারে ত্রিপুরার নৃপতি রত্ন ফা প্রথম ‘মাণিক্য’ উপাধি ধারণ করেছিলেন। গৌড় শাসকের সহায়তায় ভাইদের পরাস্ত করে ত্রিপুরার সিংহাসনে বসেছিলেন তিনি।কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে গৌড় শাসককে একটি মহা মূল্যবান মণি ও অনেক হাতি উপহার দিয়েছিলেন তিনি।মণি উপহার পেয়ে গৌড়ের শাসক রত্ন ফা-কে ‘মাণিক্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।সেই থেকে রত্ন ফা হলেন রত্ন মাণিক্য।

এ ভাবেই শুরু হল ত্রিপুরার রাজাদের ‘মাণিক্য’ উপাধি ধারণ। কিন্তু আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে ত্রিপুরার প্রথম ‘মাণিক্য’ উপাধি ধারী রাজা হলেন মহা মাণিক্য (১৪০০-৩০ খ্রিস্টাব্দ)। সে যাইহোক, রত্ন মাণিক্যের মুদ্রায় দেবী দুর্গার উল্লেখ থাকায় এটা জোর দিয়ে বলা যায় যে, ত্রিপুরায় মাণিক্য যুগের সূচনা পর্ব থেকেই দেবী দুর্গার আরাধনা রাজন্য পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে আসছে।
আরও পড়ুন:

অন্য পুজো: ভি বালসারা আমাকে প্রথম হিন্দুস্থান রেকর্ডসে নিয়ে গিয়েছিলেন : সরোজ বড়ুয়া

দশভুজা : আমার দুর্গা—বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩২: কবিকন্যা মীরার স্বামী রবীন্দ্রনাথকে ভর্ৎসনা করেছিলেন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান

এবার আসা যাক ষোড়শ শতকের রাজা বিজয় মাণিক্যের (১৫৩২-৬৩ খ্রিস্টাব্দ) কথায়। এই রাজা ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক। কিন্তু তাঁর রাজত্বকালে শিব, শাক্ত ও বৈষ্ণব সব ধর্মই রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিল। বিজয় মাণিক্যের রাজত্বকাল ত্রিপুরাকে সমৃদ্ধি দিয়েছে, বিস্তৃত হয়েছে রাজ্যের সীমানাও। ‘রাজমালা’ সূত্রে জানা যায় যে, রাজা হর (শিব) এবং গৌরীর (দুর্গা) আরাধনা করতেন। ১৪৮২ শকাব্দের বিজয় মাণিক্যের মুদ্রায় শিব ও দুর্গার অর্দ্ধ নারীশ্বরের চিত্র বিস্ময়ের উদ্রেক করে। মুদ্রা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এই মুদ্রা চিত্রকে সিংহবাহিনী,কেউ মহিষাসুর মর্দিনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ত্রিপুরার মধ্যযুগের বীর নৃপতি বিজয় মাণিক্যের যুদ্ধ বিজয়ের স্মারক মুদ্রায় শিব দুর্গার ছবি যেন আমাদের সে সময়ে দুর্গা পূজার রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

এবার আসা যাক অমর মাণিক্যের (১৫৭৭-৮৬ খ্রিস্টাব্দ) কথায়। তিনিও মধ্যযুগের ত্রিপুরার অন্যতম বীর নৃপতি। তাঁর আমলে যে রাজপরিবারের উদ্যোগে সাড়ম্বরে দুর্গোৎসব পালন করা হতো তার প্রমাণ ছড়িয়ে আছে ‘রাজমালা’র পৃষ্ঠায়। অমর মাণিক্য তাঁর রাজত্বকালের প্রায় পুরোটাই যুদ্ধবিগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন। প্রথম দিকে বিভিন্ন যুদ্ধে তিনি বিজয়ী হলেও শেষপর্যন্ত আরাকানের সঙ্গে যুদ্ধে তাঁর শোচনীয় পরাজয় ঘটেছিল। তিনি রাজধানী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। যাইহোক, সে সময় চট্টগ্রামের যুদ্ধক্ষেত্রে আরাকানের মগদের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতি চলছিল ত্রিপুরার রাজার। সৈন্যগণ শুয়ে বসে দিন কাটায়। গৃহে প্রত্যাবর্তনের জন্য উন্মুখ সবাই।দুর্গা পূজাও এগিয়ে আসছে। শরতের আকাশে মেঘের ভেলা, নদী পাড়ে কাশবনে দোলা।চট্টগ্রাম যুদ্ধ শিবিরে অবস্থানরত সেনাপতি পুত্র রাজধরকে রাজা লিখলেন-দুর্গোৎসব এসে গেছে।পুত্র যেন রাজধানীতে ফিরে আসেন।…
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

‘রাজমালা’য় রয়েছে:
“…যে সব লিখিছ তুমি এই তত্ত্ব সার।
দুর্গোৎসব নিকট হইল আইস পুনর্বার।।…”

সপ্তদশ শতকে ত্রিপুরার রাজা ছিলেন কল্যাণ মাণিক্য। ১৬২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ত্রিপুরার সিংহাসনে বসেছিলেন।বীর নৃপতি কল্যাণ মাণিক্য মূলত শৈব ছিলেন।তবু অন্যান্য ধর্মীয় ভাবধারা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিল। তিনি বিষ্ণু,দুর্গা এবং কালী মন্দিরও নির্মাণ করিয়েছিলেন। কল্যাণ মাণিক্যের আমলে দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠা থেকে স্পষ্টতই ধারণা হয় যে,তখনও দুর্গা পূজার রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। শৈব রাজা দেবী দুর্গার আরাধনার ব্যবস্থা করেছিলেন। ‘রাজমালা’য় রয়েছে:
“দোল মঞ্চ নির্ম্মাইল তার পূর্ব্ব দিকে
দুর্গা গৃহ নির্ম্মাইল সন্নিকটে ভাগে।।”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ

জলাশয় খনন,মন্দির নির্মাণ-সহ প্রজা কল্যাণে নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছিলেন কল্যাণ মাণিক্য। এই রাজাই প্রথম বাংলা ভাষায় তাম্রশাসন প্রদান করেছিলেন।রাজধানীর বাইরে নগরায়নের কাজ প্রথম শুরু করেছিলেন তিনি। কল্যাণ মাণিক্য ত্রিপুরার প্রাচীন দুর্গ কৈলারগড়ে কৃষ্ণবর্ণ প্রস্তর নির্মিত সিংহবাহিনী মহিষাসুর মর্দ্দিনীর দশভূজা মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কথিত আছে রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্রীহট্টের ধর্ম্মসর গ্রাম থেকে এই বিগ্ৰহ এনেছিলেন। ত্রিপুরার অতীত ইতিহাস এবং প্রত্ন সম্পদে দেবী দুর্গার আরাধনের নানা প্রমাণ ছড়িয়ে আছে। রাজা তাঁর মুদ্রায় কখনও দেবীর চিত্র, কখনও উল্লেখ করেছেন দেবীর কথা। এমনকি, ত্রিপুরার রাজবংশের কুলদেবতা চতুর্দ্দশ দেবতার মধ্যেও উমা অর্থাৎ দুর্গা রয়েছেন।ত্রিপুরার ঊনকোটি পাহাড়ের গায়ে খোদিত আছেন সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা।দেবতামুড়া পাহাড়ের গায়ে খোদিত আছেন মহিষাসুরমর্দ্দিনী। রাজ্যের নানা প্রান্তের প্রত্ন সম্পদও এই ধারণা দৃঢ় করে যে, অতি প্রাচীনকাল থেকেই ত্রিপুরায় দেবী দুর্গা পূজিতা হয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

ত্রিপুরার অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালের রাজাদের সময়েও সাড়ম্বরে দুর্গোৎসব হয়েছে। আজও রাজধানী আগরতলার দুর্গাবাড়ি যেন মাণিক্য রাজবংশের দুর্গা পূজার ঐতিহ্য বহন করছে।এখানে পূজায় দেবী দুর্গার দুটি হাত দৃশ্যমান। বাকি আট হাত থাকে বিগ্ৰহের পেছনের দিকে। দেবী এখানে দৃশ্যত কেন দ্বিভূজা হলেন তা নিয়েও রয়েছে এক জনশ্রুতি। সিংহাসনে তখন কৃষ্ণকিশোর মাণিক্য (১৮২৯-৪৯ খ্রিঃ)। রাজধানী বর্তমান পুরান আগরতলায়। মহা ধূমধামের সঙ্গে রাজবাড়িতে দুর্গা পূজার আয়োজন হয়েছে। রানি সুদক্ষিণা দেবী সন্ধ্যারতির সময় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিতা দেবীর দশভূজা মূর্তি দেখে হঠাৎ ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। পরের বছর প্রতিমা গড়ার সময় উঠল সেই প্রসঙ্গ। রানি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন দেবীর দশ হাত দেখে। কিন্তু দুর্গাতো দশভূজাই হবেন।পন্ডিতগণ তখন বিধান দিলেন,রাজবাড়ির পূজায় দেবী দুর্গার দুই হাত দৃশ্যমান হবে। অবশ্য সামনে দুটি হাত থাকলেও পেছনে বাকি আট হাত দিয়ে প্রতিমা গড়া হবে।তারপর থেকেই নাকি এই নিয়ম চলে আসছে।

কালক্রমে ত্রিপুরার প্রজা সাধারণের মধ্যেও দুর্গাপূজার প্রচলন হয়েছে। রাজবাড়ির আঙিনা ছাড়িয়ে দেবী নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষের মাঝে। পূজা এখন সার্বজনীন। দুর্গা পূজায় দুর্গ কিংবা যুদ্ধের আবহ নেই। সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি আর আনন্দের জন্য দুর্গাপূজা আজ এক সার্বজনীন উৎসবে পর্যবসিত হয়েছে।শহরাঞ্চলের মতো ত্রিপুরার গ্রাম পাহাড়েও আজ সার্বজনীন দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজ্যের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাতে কখনও দেবীর প্রতিমাকে তাদের চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী পোষাকেও সজ্জিত হতে দেখা যায়।পরম ভক্তিভরে সুদীর্ঘকাল ধরে ত্রিপুরার জনজাতিদের বৃহত্তর অংশ দুর্গাপূজা করে আসছেন। সব মিলিয়ে দুর্গা পূজা আজ ত্রিপুরার অন্যতম বৃহৎ উৎসবে পরিণত হয়েছে। — চলবে
* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content