শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছব: প্রতীকী।

দুর্গাপুজোর শেষ দিকে যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, আগেই তা জানিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বলা হয়েছিল, দশমীর দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই মতো বৃহস্পতিবার কলকাতায় জারি করা হল কমলা সতর্কতা। একাধিক জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী এবং অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দশমীতে শেষবেলায় আরও কিছু ঠাকুর দেখে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে তা মাটি হতে পারে। কারণ, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হয়েছে। ধীরে ধীরে তা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে। একই পূর্বাভাস রয়েছে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। শুক্রবার অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে। এ ছাড়া, বৃহস্পতিবার হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে। চলবে রবিবার পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। ঝড় হতে পারে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে। এর ফলে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। শুক্রবারের পর সমুদ্রে হাওয়ার দাপট কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

রবিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গেও ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে। শুক্র ও শনিবার এই জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে। ওই দু’দিন উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহেও হতে পারে ভারী বর্ষণ। এ ছাড়া রবিবার উত্তরবঙ্গের পাহাড়ঘেঁষা পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টি হবে।

বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.২ ডিগ্রি বেশি। বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি কম।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপটি ছিল, তা গত কয়েক ঘণ্টায় আরও উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়েছে এবং গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এই সময় তার বেগ ছিল ১৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। আপাতত গভীর নিম্নচাপ অবস্থান করছে পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে, অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনম থেকে ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব, ওড়িশার গোপালপুর থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব, পুরী থেকে ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ, বিশাখাপত্তনম থেকে ২৫০ কিলোমিটার পূর্বে এবং পারাদ্বীপ থেকে ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ আকারে তা ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূলবর্তী গোপালপুর এবং পারাদ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে।

অষ্টমীর রাতে অল্প বৃষ্টি হয়েছে। তবে মহানবমীর বিকেল থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফকর। কলকাতায় দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেলের মধ্যে দমকা হাওয়া এবং বৃষ্টি হতে পারে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদেরা। হাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন বলছে, বিকেল পর্যন্ত কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ও হাওড়ার বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টি হতে পারে। তবে হালকা থেকে মাঝারি পরিমাণ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। হাওয়ার গতি হতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। তাই সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া দফতর। এদিকে, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় দুপুর থেকেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

পুজোর শেষের দিকে যে বৃষ্টি হবে, আগেই সেই আভাস দিয়ে রেখেছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সেই মতো বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই তা নিম্নচাপে পরিণত হবে। দশমীতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি চলবে। অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি জেলায়।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর নতুন করে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। এটি আরও উত্তর-পূর্বে সরবে এবং ২ অক্টোবর সকালের মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হবে। ৩ অক্টোবরের মধ্যে নতুন নিম্নচাপটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশার উপকূলের মধ্যে দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে চলেছে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টি চলবে।

আরও পড়ুন:

অন্য পুজো: যাঁকে ছবিতে দেখা যায় না, অথচ সকলে তাঁর কথা বলে : অঞ্জন মুখোপাধ্যায়/১

অন্য পুজো /২ : আনন্দশঙ্করের অনুষ্ঠানের জন্য রুদালীর রেকর্ডিংয়ে বম্বে যেতে পারিনি: সরোজ বড়ুয়া

শারদীয়ার গল্প-৩: নতুন পৃথিবীর সন্ধানে

অন্য পুজো: ইতিহাসের আলোকে ত্রিপুরায় দুর্গাপূজা

১ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ এবং ওড়িশা সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী সমুদ্র উত্তাল থাকবে। বইতে পারে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝো়ড়ো হাওয়া। এই সময়ের মধ্যে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

কলকাতায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে বুধবার। তবে ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে বৃহস্পতিবার, দশমীতে। ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পাশাপাশি হতে পারে বজ্রপাত। কোথাও কোথাও হাওয়ার বেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। এ ছাড়া, শহরে শুক্রবার এবং শনিবার বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

কলকাতার পাশাপাশি দশমীতে ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলিতে। এ ছাড়া, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরে হতে পারে অতি ভারী বর্ষণ (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার)। শুক্রবার একাদশীতে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে। শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ

চলতি সপ্তাহে উত্তরবঙ্গেও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার উত্তরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে। শুক্রবার এবং শনিবার এই পাঁচ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সতর্কতা রয়েছে উত্তর দিনাজপুরেও। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

বুধবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি কম। মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ১.২ ডিগ্রি বেশি।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content