
বিজয়া দশমীতে আমন্ত্রণ হাউসিং সোসাইটিতে বড়সড় অনুষ্ঠান হয়। এটা প্রায় ১০ বছরে গিয়ে পা দেবে। ঠাকুরপুকুর টপকে ডায়মন্ড হারবার রোড দিয়ে এগোলে আইআইএম জোকার রাস্তায় প্রায় ডায়মন্ড হারবার রোড লাগোয়া বেশ বড়সড় কমপ্লেক্স আমন্ত্রণ হাউসিং। তখন ছিল জোকা ট্রাম ডিপো। আর ছিল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট, জোকা।
একসময় বেশ ফাঁকা ফাঁকা ছিল। কিন্তু মেট্রোরেল হবার সম্ভাবনা তৈরি হতেই পিলপিল করে ফ্ল্যাট তৈরি হতে শুরু হল। একসময় ঠাকুরপুকুর ছিল প্রান্তিক এলাকা। একদিকে বিবিরহাট বাখরাহাট রায়পুর হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্তরে ঢুকে যাওয়ার রাস্তা। খানিক আগে গিয়ে জেমস লং সরণি শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপরটা ওই ডায়মন্ডহারবার লাগোয়াই ধরা হতো। এখন ভূগোল বদলে গিয়েছে। আজ মেট্রোতে মাঝেরহাট পর্যন্ত যাওয়া যাচ্ছে, কয়েকবছর পর এসপ্ল্যানেড সেক্টর ফাইভ-নিউটাঊন ছুঁয়ে দমদম এয়ারপোর্ট হয়ে দিল্লি বম্বে ব্যাঙ্গালোর এমনকি লন্ডন সিঙ্গাপুরও জোকার হাতের মুঠোয় হয়ে যাবে। তাই জোকা এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, হ্যালো বাবু! পর্ব-১০১: গ্রিন টি /৯

অন্য পুজো: বুবুদা মানে শমিত ভঞ্জ আমাকে তার সেক্রেটারি হিসেবে চেয়েছিলেন : অঞ্জন মুখোপাধ্যায়/২

অন্য পুজো : ভি বালসারা আমাকে প্রথম হিন্দুস্থান রেকর্ডসে নিয়ে গিয়েছিলেন : সরোজ বড়ুয়া/৩

শারদীয়ার গল্প-৩: নতুন পৃথিবীর সন্ধানে

অন্য পুজো: ইতিহাসের আলোকে ত্রিপুরায় দুর্গাপূজা
বদলে যাচ্ছে আমন্ত্রণ হাউসিং-ও। আজ থেকে বছর দশেক আগে যাঁরা পর্ণশ্রী অঞ্চলে ফ্ল্যাট কিনতে পারেননি তাঁরা বেহালার তারে তারে শাখায় প্রশাখায় ছড়িয়ে না পড়ে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে পিছিয়ে গিয়েছিলেন জোকাতে। বাড়ি খুঁজতে গিয়ে তাঁরা দেখেছিলেন ঠিকানায় লোকজন বড় রাস্তার বাসস্টপের কথা বলেন, পাঠক পাড়া, ১৪ নম্বর, ট্রাম ডিপো, বেহালা বাজার, সিদ্ধেশ্বরী তলা, বেহালা চৌরাস্তা বাসস্টপে নেমে বাড়ি খুঁজতে গেলে গলি গলি তস্য গলি হয়ে মনে হবে ‘নিজেকে হারায় খুঁজি’। যেমন নামেই তালপুকুর কিন্তু ঘটি ডোবে না। তখন বেহালার অন্তঃস্থলে পুকুর মরাই সবজি বাগান প্রায় সবই ছিল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে
বেহালা মিউনিসিপালিটি সিমেন্টের রাস্তাটুকু বানিয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু সেই রাস্তায় যে কোন কাজে গাড়ি ঢুকতে পারে সেটা বোধহয় ভাবেননি। আর বর্ষা হলে তো ইনসিওরেন্স করিয়ে ঢোকার ব্যাপার ছিল অন্ধকারে যেকোনও সময় রাস্তা এবং নর্দমা, জমাজলের সমোচ্চশীলতা ধর্মে একই রকম দেখা তো। আর ছিল তানপুরার সুরে বাঁধা মশাদের গান। বেহালার মশাদের বাজারে বেশ নাম ছিল। আমন্ত্রণ হাউসিংয়ের ক্রেতারা তাই সঠিক অর্থে ডায়মন্ড হারবার রোডের ওপর থাকার জন্য পিছিয়ে গিয়েছিলেন। আজকাল তাঁরা এগিয়ে এসেছেন। পুরনো অনেক স্যান্যাল কাকু মুখার্জি বৌদি বোসদা শ্রীধরণ আন্টি তাঁদের দু-কামরার ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়ে চলে গিয়েছেন। রিটায়ারমেন্ট-এর পর মানুষ আর্থিকভাবে একটু ভীতু হয়ে পড়ে। একসময় যে টাকা রোজগার করেছেন তার অনেক কমে সংসার চালাতে হয়। শারীরিক অসুস্থতার জন্য খরচাপাতি ব্লাড প্রেসারের মতোই ঊর্ধ্বমুখী। সকলে তো আর সরকারি সুযোগ পান না।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ
তাই কেউ কেউ প্রবাসী ছেলে বা মেয়ের কাছে চলে গিয়েছেন কেউ আরও দূরে মহেশতলা বাটানগর বা বাখরাহাট ধরে আরও পিছনে ডোঙ্গারিয়া মুচিশা নোদাখালি আরও গঙ্গার দিকে সরে গিয়েছেন। তাদের বিক্রি করা ফ্ল্যাটে এসেছেন আধুনিক সময়ের চাকুরে দম্পতি। কেউ কেউ ভাড়া দিয়েছেন ফ্ল্যাট সেখানেও অনেক নতুন লোকজনের ভিড় হয়েছে যে ভিড় বদলে বদলে যায়। আগের মতো পারস্পরিক পারিবারিক সম্প্রীতি কিছুটা আলগা হয়ে গেছে। সবাই সবাইকে খুব একটা চেনেন না। আগে সচরাচর লোকজন কমিটি মেম্বার হতেই চাইতেন না, এখন রীতিমত ভোট হয়। কমিটির রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পর ক্ষমতাও বেড়েছে, নিয়মকানুন বেড়েছে। অবিবাহিত পুরুষ বা মহিলাকে সচরাচর ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া হয় না। একসঙ্গে দু তিনজন ছেলে বা মেয়েদের গ্রুপকে ভাড়া দেওয়া হতো। কিছু কিছু অসামাজিক ঘটনা ঘটায় সেটাও বন্ধ হয়েছে।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
দুর্গাপুজোতে তবে সব কিছু ছাড়। কমিউনিটি হলের প্যান্ডেলে একসঙ্গে হুল্লোড় করা ছাড়াও ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে খাওয়াদাওয়া রাত করে নাচগান এসব চলতে থাকে। প্রতিবছরের মতো এবারও দশমীর রাতে জমজমাট অনুষ্ঠান হল। কিন্তু একাদশীর ভোরে একটা ভয়ংকর দুঃসংবাদে গোটা আমন্ত্রণ হাউসিং সোসাইটি মুষড়ে পড়ল। আনন্দ পাল আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন এসে জানালো তাঁরা সন্দেহ করছেন এটা খুন! — চলবে।
‘ডেসডিমোনার রুমাল পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ০৯ অক্টোবর ২০২৫।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















