কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

শাক্যকে দেখে লোকটার হাত থেকে মোবাইল খসে পড়ল। যাঃ! সব শেষ। একবার তার মনে পড়ল, স্ত্রী-সন্তানদের কথা, তার অনেক যত্ন আর মায়ায় ঘেরা বাড়িটার কথা, তারপর সে চোখ বুজল ক্লান্তিতে। শেষরক্ষা হল না। নিজেকে বাঁচাতে পারল না সে। বুঝতে পারছিল, এবার থেকে দীর্ঘদিনের জন্য তার ঠিকানা জেল। ওরা কীভাবে কী করবে, হাতের টাকা ফুরাতে কতক্ষণ। কলসীই হোক বা জালা, জল খরচ করতে-করতে একদিন ফুরিয়ে যাবেই, যদি না তার আগে জল ভরার ব্যবস্থা করা হয়। আর তার তো ঘটি। উপুড় করলেই শেষ। তার অবর্তমানে বস কিংবা দল যে তার পরিবারকে দেখবে, এমন আশা কম। এর আগেও কয়েকজন পুলিশে হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে গুলি খেয়ে মরেছে। এনকাউন্টার করেই মেরেছে পুলিশ। কিন্তু বিষয়টা চেপে গিয়েছে বেমালুম। সেক্ষেত্রে তো দেখেছে সে, দল কিছুই করেনি। কয়েকটি পরিবার স্রেফ ধুঁকতে ধুঁকতে ভিক্ষার ঝুলি হাতে শহরের দিকে চলে গিয়েছে, কিংবা কাছের জংশন স্টেশনে। তার পরিবারও কিছুদিনের মধ্যেই যাবে। সে যদি কখন ছাড়া পায়, তখন তাদের সঙ্গে আর দেখা হবে কিনা কে জানে! আচ্ছা, বে-আইনি অস্ত্রকারবারে জড়িত থাকলে কতদিনের সাজা হয়? জানে না সে, কিচ্ছু ভালো লাগছে না।
“এই ওঠ! যেতে হবে তো!” শাক্য তাড়া লাগাল লোকটিকে। আসলে সে বুঝতে পারছে, লোকটি পালাতে গিয়ে হাতের ইনজুরিকে অবহেলা করতে বাধ্য হয়েছে। অন্য কেউ হলে যেভাবেই হোক ক্ষতস্থানে কিছু বেঁধে অন্তত রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করত। কিন্তু এই লোকটি সে সুযোগ পায়নি। যত দ্রুত সম্ভব একে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নাহলে একে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যাবে। এভাবে একজন ক্রিমিন্যালকে হাতে পেয়েও হারাতে চায় না সে। তাছাড়া তাড়া লাগানর অন্য কারণও আছে। এ যদি ইতিমধ্যেই তার দলবলকে সংকেত পাঠিয়ে থাকে, তাহলে তারা এসে পড়লে তারই বিপদ। ছুটতে-ছুটতে জঙ্গলের এত ভিতরে চলে এসেছে, এর সাহায্যেই বেরুতে হবে। নাহলে ফোন করতে হবে পিনাকীবাবুর মতো কাউকে। কিন্তু তিনি স্থানীয় হলেও এই জঙ্গলের এত ভিতরে কখন এসেছেন কিনা সন্দেহ। চিনতে পারা মুশকিল। তাছাড়া চেনা রাস্তা ধরে নিশ্চয়ই আসেনি লোকটি। সে তাড়া দিল আবার। লোকটি কোনরকমে চোখ খুলল।
শাক্য বলল, “কথা কানে যাচ্ছে না? ওঠ!”
“ওঠার ক্ষমতা নেই স্যার! আপনি আমার হালত খারাপ করে দিয়েছেন!” লোকটি যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে বলল। এতক্ষণে সে বুঝতে পারছিল, বেশ কষ্ট হচ্ছে তার। হাতটা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে পড়বে মনে হচ্ছে। সে বেঁচে থাকলেও হাতটা বোধহয় চিরকালের মতো হারাবে সে। চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে এল তার। একে অভাবের সংসার। তার উপর হাত হারালে কে তাকে বসিয়ে-বসিয়ে খাওয়াবে?
“রিভলভার-টার আর কী আছে দে!” শাক্য বলল।
“একটাই ছিল স্যার, আপনার গুলি লেগে সে তো হাত ফস্কে পড়ে গেছে তখনই!” লোকটি বিকৃতমুখে বলল।
“জানি। আর নেই?”
“না স্যার। একটাই মাল থাকে। ভাবিনি ব্যবহার করতে হবে!”
“গুলি কিন্তু তুই আগে চালিয়েছিলি! আমি পরে!”
“ভুল করেছিলাম স্যার। আমার দেখে পালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কেন যে গেলাম না! হিরো সাজার শখ হয়েছিল বোধহয়! এখন সাজা ভুগছি।”
“রক্ত তো কম বেরোয়নি। আর দেরি করলে হাতও হারাবি, জীবনও। নে, হাতটা বাড়া। রুমাল দিয়ে অন্তত ক্ষতমুখটা বেঁধে দিই। তারপর হাসপাতালে যেত হবে। গুলি না বার করলে গ্যাংগ্রিন হয়ে হাত আর জান দুইই রেখে চলে যেতে হবে!” শাক্য হাঁটু মুড়ে বসল। যতই অপরাধী হোক, মানুষ তো। সুতরাং সে অন্তত অমানবিক হতে পারবে না।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭২ : শুধু হাসি-খেলা?

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৪: ভাবি প্রশাসক রামের প্রশিক্ষণের সূচনা—রাক্ষস খরের সঙ্গে সংঘাত

এত যন্ত্রণার মধ্যেও লোকটির চোখেমুখে বিস্ময় ফুটে উঠল, “আপনি, আপনি আমার আঘাতের জায়গায় বাঁধন দেবেন স্যার? আমি আপনার উপর গুলি চালিয়েছি জেনেও?”
“কথা কম বল, কাজ করতে দাও!” বলে পকেট থেকে রুমাল বার করে সে ক্ষতমুখের উপর শক্ত করে বাঁধন দিতে লাগল। রুমালটি বড় এবং একেবারে পরিষ্কার। এইরকম আরও একটি রুমাল তার পকেটে আছে। সে সবসময় দুটি রুমাল ক্যারি করে। ওয়েট-পেপার থাকলেও তা দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা কতটা সঠিক হত তা জানে না সে। এমনিতে ওয়েট-পেপার পকেটে করে ঘোরা না-পসন্দ তার।
রুমালটা দু-ফেরতা পেঁচিয়ে বেঁধে দিল শাক্য। তার নিজের হাতেও রক্ত লেগে। সবচেয়ে বড় কথা কাজটা করার সময় সার্ভিস রিভলভার সে হোলস্টারে রেখে কাজটা করছে। লোকটি যদি এই অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তাকে আক্রমণ করে বসে, কিংবা আর কিছু, সে কতটা সামলাতে পারবে জানে না নিজেই।
তবে তেমন কিছু করল না লোকটা। আসলে এতক্ষণ রক্তপাত আর দৌড়ানোর জন্য লোকটির শরীরে শক্তি ক্রমেই
কমে আসছে বুঝতে পেরেছে সে। একেবারে অচৈতন্য হয়ে যাওয়ার আগে একে এখান থেকে বার করে নিয়ে যেত হবে তাকে। কাজ শেষ হতে উঠে দাঁড়াল সে। কোনমতে পকেট থেকে আর একতা রুমাল বার করে হাতের রক্ত মুছে নিল। তারপর রিভলভারটা আবার হাতে নিয়ে সে লোকটিকে কোনমতে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য করল। তাড়া লাগাল তারপর আবার, “এবার শান্তশিষ্ট ভাবে যেদিক দিয়ে এসেছিলি সেদিক দিয়েই গুহামুখে ফিরে চল। কোনরকম চালাকি করলে বুঝতেই পারছিস, এখানে কীভাবে ফেলে রেখে যাবো!”

লোকটি একবার তার মুখের দিকে তাকাল। তার চোখ রক্তাভ এবং মুখমন্ডল ফ্যাকাশে। তারপর বলল, “এনকাউন্টার করে মারবেন আমাকে? ওইজন্য বুঝি আঘাতের জায়গাটা বেঁধে দিলেন!” তারপর আপনমনেই বলল, “হুম। বুঝেছি এবার। এইজন্য ভাবি, পুলিশেরা এত সদয় কীভাবে হতে পারে!”
শাক্য রিভলভারের খোঁচা দিল এবার লোকটির পিঠে। বলল, “তুই খুব বুদ্ধিমান বুঝতে পারছি। নাম কী তোর?”
“বলব না! উকিল ছাড়া আমি মুখ খুলব না!” একরোখাভাবে বলল লোকটি।
“ধরা পড়ে খুব তড়পাচ্ছিস যে! একটু আগে তো কুঁইকুঁই করছিলি যন্ত্রণায়। আর একটা গেঁথে দিলে তো নেই হয়ে যাবি!”
“দিন, দিন, তাড়াতাড়ি দিন। যন্ত্রণা শেষ হয়ে গেলেই আমি বাঁচি। হাতটা যদি তার আগে কেটে দিতেন। উফফ্, আর পারছি না!” লোকটি আর্তনাদ করে উঠল।
“নাম কী?”
“অনন্ত হেমব্রম!”
“তা অনন্ত বাবু, তাড়াতাড়ি চল। তোর হাত বাঁচানোর চেষ্টাই করছি। ওখানে পুলিশের গাড়ি আছে। তাতে করে তাড়াতাড়ি তোকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে গুলিটা বার করে ফেলতে হবে। যত দেরি করবি তত কিন্তু বিষ ছড়িয়ে পড়ছে তোর শরীরে। হাতটা বাদ গেলে বাঁচবি কী করে?”
“হ্যাঁ, আমি বাঁচতে চাই স্যার। বাড়িতে আমার বউ-বাচ্চা আছে। আমাকে অদের জন্য বেঁচে থাকতে হবেই। তাড়াতাড়ি চলুন !” অনন্ত ব্যগ্র ভাবে বলল।

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৪ : শেষ অঙ্ক

আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৪০: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২১

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৭: ধেড়ে ইঁদুর

অনন্ত এমনভাবে বলল, শাক্যর মনে পড়ে গেল ঋত্বিক ঘটকের “মেঘে ঢাকা তারা”ইয় সুপ্রিয়াদেবীর সংলাপ। আসলে সকলেই বোধহয় বাঁচতেই চায়।
অনন্ত কথা না বাড়িয়ে যতটা সম্ভব দ্রুত যেদিক থেকে এসেছিল তারা, সেদিকেই ফিরতে লাগল। পিছন-পিছন শাক্য।
অনন্ত বলল, “আমাকে চার্চ-হাসপাতালে নিয়ে চলুন স্যার। ওখানে নিয়ে গেলেই হাত বেঁচে যাবে, হেলথসেন্টারে নিয়ে যাবেন না। ওখানে তো ডাক্তারবাবু নেই…! তাঁকে নাকি কারা যেন তুলে নিয়ে…” কথা শেষ করল না সে, বাকি কথা গিলে নিল।
“তুই জানলি কী করে ? তাহলে ওই গ্যাং-এও তুইই আছিস?”
“না না স্যার। আমি না, আমি না…!”
“তাহলে কে?”
“আমি জানি না স্যার। ডাক্তারবাবু নেই এ-কথা চারদিকে সকলেই জানে!”
“আর তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে, সে-কথাটা তোরা কে কে জানিস?”
“স্যার!” অনন্ত বুঝল বেফাঁস বলে ফেলেছে সে। কোনওরকমে ফ্যাঁসফেঁসে গলায় বলল, “আমি কিছু জানি না স্যার! আমার ঘুম পাচ্ছে!”
“অনন্ত! আমার সঙ্গে নাটক করতে এস না বুঝলে? আমি যেমন ভালো, তেমন খারাপ হতে পারি। তুমি জান না!” শাক্য কড়া গলায় বলল।
অনন্ত কিছু বলতে যাচ্ছিল, এমনসময় অনেকের গলার আওয়াজ শোনা গেল। শাক্য একটু থমকে গেল। অনন্তর দলবল নাকি? তার কাছে খবর পেয়েই বেরিয়ে পড়েছে। আর তারা যদি হয়, তাহলে ত শিকারী কুকুরের মত তাকে দেখতে পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে তার উপর। অনন্তের হাতের যা অবস্থা, নাহলে তার হাত দুটিকে পিছমোড়া করে বেঁধে দিত সে।
“অ্যাই, কারা আসছে রে? তোর দলকে ডেকেছিস তাই না?”
“না না স্যার… আমি তো…”
“মিথ্যে কথা বলবি না। তোর ফোন কিন্তু এখন আমার পকেটে…! মিথ্যে বললেও পরে ধরা পড়ে যাবি।”
“মিথ্যে বলছি না স্যার। আর আমি কোন গ্যাং-এর মেম্বার নই। মাঝেমধ্যে জঙ্গলে টুকটাক শিকার করি, সেজন্য…”
“তোর হাত যদি ওভাবে জখম না হতো, তাহলে তোকে এখানেই মেরে শুইয়ে দিতাম। জঙ্গলে শিকার করার জন্য পকেটে পিস্তল নিয়ে ঘুরিস। তুই আমাকে বোকা পেয়েছিস?” শাক্য দাঁতে-দাঁত চেপে বলল।
অনন্ত কিছু বলল না। মুখটা কোনরকমে নামিয়ে নিল সে। থেকে-থেকেই মুখ বিকৃত করছে অনন্ত। যন্ত্রণায় তার একদিক অসাড় হয়ে আসছে।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

কোলাহলটা কাছেই এগিয়ে আসছে। শাক্য ভাবল, কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। অনন্তের দলবল যদি হত, তাহলে নিশ্চয়ই এত হট্টগোল করে তারা আসত না, নিঃশব্দে এসে নিঃশব্দে কাজ মিটিয়ে যাওয়াই তারা পছন্দ করত। তাহলে কি অন্য কেউ। জঙ্গলে অনেকসময় পাতাকুড়ানি, কাঠকুটো কুড়ানোর জন্য স্থানীয় মানুষেরা আসেন দলবল নিয়ে। কিন্তু আজ তো পিশাচপাহাড় গ্রামে উৎসব। খাওয়াদাওয়া। এর মধ্যে গ্রামের লোকজন পাতা কুড়ানোর জন্য জঙ্গলে আসবে, তাও এমন দল বেঁধে এটা কেমন বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছিল না। তাহলে কি অন্য যে সম্ভাবনার কথা সে ভাবছে, সেটাই ঠিক? আর তা যদি হয়, তাহলে তার চেয়ে খুশি কেউ হবে না। কিন্তু ফোন করেনি কেন? অবশ্য জঙ্গলের মধ্যে সবজায়গায় নেটওয়ার্ক না-ও পেতে পারেন ওঁরা। ভাবতে-না-ভাবতেই সে শুনল, কেউ তার নাম ধরে ডাকছে। এসপি নয়, ডিএম নয়, পিনাকীবাবুও নয়, গলাটা সম্ভবত কর্নেলের, “মিঃ সিংহ, আপনি কি কাছাকাছি কোথাও আছেন? থাকলে সাড়া দিন। আপনি কি আহত? তাহলে যেখানে আছেন, সেখানেই থাকুন। আমরা খুঁজে নিচ্ছি আপনাকে?”
অনন্ত ঝিমিয়ে পড়ছে। তাকে এক হাতে কোনরকমে ধরে রেখে শাক্য চেঁচিয়ে উত্তর দিল, “কর্নেল আমি এখানে। আপনাদের কাছাকাছিই। আমি আহত নই। কিন্তু একজন গুরুতর আহত লোক আমার সঙ্গে আছে। তাড়াতাড়ি আসুন !”
কর্নেলের গলায় খুশি ঝরে পড়ল, চেঁচিয়ে বললেন, “আর একবার কথা বলুন। মোটামুটি দিক বুঝতে পারছি। দূরত্বটা একটু মেপে নিই তাহলে!”
শাক্য গলা আরও চড়িয়ে বলল, “কর্নেল আমি এখানে!”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬০ : কাকজাতক — ভেবে দেখ মন

মিনিট দুয়েকের মধ্যেই কর্নেলকে দেখা দেল। হাতে রিভলভার বাগিয়ে তিনি বেরিয়ে এলেন সামনের গাছপালার ফাঁক থেকে। পিছন-পিছন বাকিরাও। ডিএমকে অবশ্য দেখা গেল না। এসপি, পুলিশ অফিসার, পিনাকীবাবু—এঁরা এসেছেন। আর একজন কনষ্টেবল সম্ভবত ডিএমের সঙ্গে আছেন।

কর্নেল বললেন, “দেখুন, ঠিক খুঁজে নিয়েছি। মিলিটারি এক্সপিরিয়েন্স মিঃ সিংহ। রক্তের দাগ যদিও হেল্প করেছে। কে কে আহত হয়েছে? গুলিগোলা চলছিল, এই লোকটি কে? ক্রিমিন্যাল?”

শাক্য বলল, “সব বলছি। আপাতত এই জঙ্গল থেকে তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে। এই লোকটির হাতে গুলি লেগেছে। অনেক রক্ত বেরয়ে গেছে। একে বাঁচাতেই হবে যে-কোন মূল্যে। না-হলে অস্ত্রগ্যাং-এর খবরাখবর পাওয়া যাবে না। তাছাড়া এই কেসে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীও এ!”
পুলিশ অফিসারটি এগিয়ে এসে বলল, “স্যার, আপনি অনেকখানি কষ্ট করেছেন, এবার আমাকে দিন। আমি নিয়ে যাচ্ছিস!”

কর্নেল বললেন, “একা নিয়ে যেতে গেলে আপনার কষ্ট হবে। তার চেয়ে ওর একটা হাত আমার কাঁধে তুলে দিন, আর একটা হাত আপনি কাঁধে নিন। তারপর চাগিয়ে নিয়ে চলুন যাই। দুজনের মধ্যে লোকটির বডিওয়েট ভাগ হয়ে গেলে খুব সহজেই যাওয়া যাবে। আরে মিলিটারিতে এসব নানা কায়দাকানুন শেখান হয়। আমি করেনেল ছিলাম, ভুলে যান কেন?” বলে এগিয়ে এসে লোকটির একটি হাত নিজের কাঁধে তুলে নিলেন, যেন কোন ব্যাপারই নয়। —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content