
কোনওরকমে টাইম ওভার হয়ে যেতেই বিশেষ সাইট থেকে সাইন-আউট করে বেরিয়ে এল অরণ্য। তার সারা শরীর দিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছে। কোনওরকমে হাত বাড়িয়ে সে টাওয়েলটা টেনে নিয়ে উদোম শরীরের ঘাম মুছে সেটা কোমরে জড়িয়ে নিল। অন্য ফোনটা বন্ধ করে দিল, যাতে কেউ না সেই ফোনে ফোন করতে পারে। সে নিজেই বুঝতে পারছিল, ভয়ে তার সারা শরীর কাঁপছে। অথচ এখন সকাল, রাত নয়। আর একটু পরে সূর্য প্রখর রূপ নিয়ে চারদিক ঝলসে দেবে। সেই প্রস্তুতিই চলছে। এই সময়ে কালাদেও তাকে অ্যাটাক্ করতে এসেছে ভেবে সে অবাকও হচ্ছে। এত! এক্ষুনি সে তৃধাকে ডাকতে পারে। তৃধাকে সব কথা বলে ফোন করলে সে কাপাডিয়াকে বলে পুলিশে ইনফর্ম করতে পারবে। কিন্তু পুলিশ কিছু করবে কিনা সেটাই আসল কথা। আর করতে চাইলেই কতটা পারবে।
কালাদেও যদি অপ্রাকৃত কোনও প্রেত হয়, তাহলে তার সঙ্গে পুলিশবিভাগের লড়াই করা হবে হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করার সামিল। কিন্তু একটা কথা সে বুঝতে পারছে না। আগে তার মাথায় আসেনি। এখন এল। কালাদেও প্রেত হলে তার কাছে দরজা বন্ধই থাক কিংবা খোলা কী যায় আসে? প্রেত তো সর্বত্রগামী হয়, তাই না? তাহলে সে যতই দরজা এঁটে ঘরের মধ্যে বসে থাক-না-কেন, সেখানে কালাদেওর ঢুকে পরতে তো কোন অসুবিধা নেই। তাহলে কেন সে দরজা নক্ করছে বারবার? এর আগেও একই ব্যাপার হয়েছে। অর্ক মিছিমিছি ভয় পায় নি। কেউ একজন ছিল তার দরজার বাইরে। অমূলক কল্পনা করে সে ভীত হয়ে পড়েনি। এই পয়েন্টটায় এসে অরণ্যর মন যত খুঁতখুঁত করতে লাগল, ততই সে বুকের মধ্যে বল ফিরে পেতে লাগল।
ওয়াশরুমে গিয়ে সত্যিকারের একটা ছোট বাইরে করে ফ্রেশ হয়ে পোশাক পরে আগে ব্যালকনিতে যাবে। তৃধা কি পিছনের লনে ওয়ার্কআউট করছে? যদি করে তাহলে তাকে ডাকবে। উপরে আসতে বলবে। তৃধা অবাক হবে নিশ্চিতভাবে। দু’ ঘণ্টা টাইম চেয়ে নিয়েছিল সে। মাত্র ঘন্টাখানেক হয়েছে। এর মধ্যেই তৃধার ডাক পড়েছে শুনে তৃধা নিশ্চয়ই ভাববে, হায় লাঠি, তোমার দিন গিয়াছে! লাঠিই বটে। মনে পড়ায় এত ভয়ের আবহে তার হাসিই পেল। তৃধা একদিন বলেছিল, “এভাবে গুঁতোচ্ছ কেন? একটু আস্তে করতে পারো না? ওটা কি পুলিশের লাঠি, আর আমি কি আসামী যে অমনভাবে জোরে-জোরে গুঁতচ্ছো?”
কালাদেও যদি অপ্রাকৃত কোনও প্রেত হয়, তাহলে তার সঙ্গে পুলিশবিভাগের লড়াই করা হবে হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করার সামিল। কিন্তু একটা কথা সে বুঝতে পারছে না। আগে তার মাথায় আসেনি। এখন এল। কালাদেও প্রেত হলে তার কাছে দরজা বন্ধই থাক কিংবা খোলা কী যায় আসে? প্রেত তো সর্বত্রগামী হয়, তাই না? তাহলে সে যতই দরজা এঁটে ঘরের মধ্যে বসে থাক-না-কেন, সেখানে কালাদেওর ঢুকে পরতে তো কোন অসুবিধা নেই। তাহলে কেন সে দরজা নক্ করছে বারবার? এর আগেও একই ব্যাপার হয়েছে। অর্ক মিছিমিছি ভয় পায় নি। কেউ একজন ছিল তার দরজার বাইরে। অমূলক কল্পনা করে সে ভীত হয়ে পড়েনি। এই পয়েন্টটায় এসে অরণ্যর মন যত খুঁতখুঁত করতে লাগল, ততই সে বুকের মধ্যে বল ফিরে পেতে লাগল।
ওয়াশরুমে গিয়ে সত্যিকারের একটা ছোট বাইরে করে ফ্রেশ হয়ে পোশাক পরে আগে ব্যালকনিতে যাবে। তৃধা কি পিছনের লনে ওয়ার্কআউট করছে? যদি করে তাহলে তাকে ডাকবে। উপরে আসতে বলবে। তৃধা অবাক হবে নিশ্চিতভাবে। দু’ ঘণ্টা টাইম চেয়ে নিয়েছিল সে। মাত্র ঘন্টাখানেক হয়েছে। এর মধ্যেই তৃধার ডাক পড়েছে শুনে তৃধা নিশ্চয়ই ভাববে, হায় লাঠি, তোমার দিন গিয়াছে! লাঠিই বটে। মনে পড়ায় এত ভয়ের আবহে তার হাসিই পেল। তৃধা একদিন বলেছিল, “এভাবে গুঁতোচ্ছ কেন? একটু আস্তে করতে পারো না? ওটা কি পুলিশের লাঠি, আর আমি কি আসামী যে অমনভাবে জোরে-জোরে গুঁতচ্ছো?”
ওয়াশরুমে গিয়ে যখন চোখেমুখে জল দিল, তখন তার ভয়-উত্তেজনা একটু প্রশমিত হল। আয়নায় দেখল নিজেকে। শেভ করা হয়নি তিনদিন। মুখে দাড়িগোঁফ বড় তাড়াতাড়ি বাড়ে তার। রোজ না কাটলে মনে হয় জঙ্গল হয়ে গিয়েছে। আজকেও তেমনই লাগছিল। রাস্টিক লুক অনেক মেয়ে পছন্দ করে। সে নিজে অবশ্য ক্লিন শেভ থাকতেই বেশি পছন্দ করে। এখন কী করবে সে? শেভ করতে বসবে? নিজেই মাথা নাড়ল সে। একটু আগেই সে ভয়ে কাঁপছিল। তাছাড়া যা ঘটে গিয়েছে, তা তো স্বপ্ন নয়। কেউ তার দরজায় নক্ করছিল, ফোনও করছিল আননোন নাম্বার থেকে। সে কে? ফোন আসার কথা মনে হতেই তার আবার মনে হল, কালাদেও কীভাবে ফোন করবে? কালাদেওর কি মোবাইল আছে? মোবাইল দরকার হয় তার? হাসি পাচ্ছে তার এখন। মানুষ কত বোকাই না হয়। অন্য কেউ। স্প্যাম কল্ও হতে পারে। ওই ফোনে না-হলে আর কে করবে? আর যে-কেউই করুক, কালাদেও তো নয়। কালাদেও কোন রঘু ডাকাত নয় যে, আগে থেকে চিঠি লিখে কিংবা ফোন করে বলবে যে, অপেক্ষা কর। আমি আসছি। পত্রদ্বারা থুড়ি ফোনদ্বারা জানানোর ত্রুটি মার্জনীয়। হাসি পেল তার। নিছকই ভয় পেল। রুমসার্ভিস হতে পারে। তৃধা হয়ত পাঠিয়ে দিয়েছে। বেড-টি দিতে বলে। তারাই হয়ত নক্ করছিল। ইস্, সে কী বোকা। একবার তৃধাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করে নিলেই তো হতো।
ভাবতে-ভাবতে তার নিজের বোকামির কথা ভেবে এত মজা লাগছিল যে, সে শাওয়ার খুলে তার তলাতে দাঁড়িয়েই পড়ল। শিশ্ন আবার জেগে উঠছে। ইস্, ভয় না পেলে, এখন এই শাওয়ার সিন লাইভ করে ভালো ইনকাম করা যেত। কিন্তু কী-আর করা যাবে। অনেকক্ষণ প্রায় মিনিট পনেরো ওইভাবে শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে থাকল সে। তারপর বেরিয়ে এল। গায়ের জল মুছে একটা ভালো ট্রেণ্ডি শার্ট আর মানানসই কার্গো পরে সে ব্যালকনিতে বেরিয়ে এসে একটা সিগারেট ধরাল। জিম করে বলে সে ধূমপান নিয়মিত করে না। তবে ব্র্যান্ডেড প্যাকেট কয়েকটা সঙ্গে থাকে। ইচ্ছে হলে খায়, নাহলে গ্রুপে খাওয়ায়। আর্য কতদিন তার কাছে হাত পেতে সিগারেট চেয়ে নিয়ে গেছে। আর চাইবে না। তার ধারেকাছেও ঘেঁষছে না সেদিনের পর থেকে। হাসি পেল অরণ্যর। একটু আগেও সে ভেবেছিল, তার জীবনের অন্তিম ক্ষণ বুঝি উপস্থিত। আর এখন? তার মনে হচ্ছে, আজ সকালটা তার সঙ্গে দারুণ মজাদার এক জোক দিয়ে শুরু করল। আর করল বলেই তার মেজাজ এখন খুশ।
ভাবতে-ভাবতে তার নিজের বোকামির কথা ভেবে এত মজা লাগছিল যে, সে শাওয়ার খুলে তার তলাতে দাঁড়িয়েই পড়ল। শিশ্ন আবার জেগে উঠছে। ইস্, ভয় না পেলে, এখন এই শাওয়ার সিন লাইভ করে ভালো ইনকাম করা যেত। কিন্তু কী-আর করা যাবে। অনেকক্ষণ প্রায় মিনিট পনেরো ওইভাবে শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে থাকল সে। তারপর বেরিয়ে এল। গায়ের জল মুছে একটা ভালো ট্রেণ্ডি শার্ট আর মানানসই কার্গো পরে সে ব্যালকনিতে বেরিয়ে এসে একটা সিগারেট ধরাল। জিম করে বলে সে ধূমপান নিয়মিত করে না। তবে ব্র্যান্ডেড প্যাকেট কয়েকটা সঙ্গে থাকে। ইচ্ছে হলে খায়, নাহলে গ্রুপে খাওয়ায়। আর্য কতদিন তার কাছে হাত পেতে সিগারেট চেয়ে নিয়ে গেছে। আর চাইবে না। তার ধারেকাছেও ঘেঁষছে না সেদিনের পর থেকে। হাসি পেল অরণ্যর। একটু আগেও সে ভেবেছিল, তার জীবনের অন্তিম ক্ষণ বুঝি উপস্থিত। আর এখন? তার মনে হচ্ছে, আজ সকালটা তার সঙ্গে দারুণ মজাদার এক জোক দিয়ে শুরু করল। আর করল বলেই তার মেজাজ এখন খুশ।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৩ : পিঞ্জরে অচিন পাখি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৯ : জলসাঘর—অস্তশিখর

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৪ : শেষ অঙ্ক
সে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে ব্যালকনি দিয়ে ঝুঁকে দেখল। তৃধাকে খুঁজছিল সে। কিন্তু দেখল পিছনের লন পুরো ফাঁকা। সকালের প্রথম আলো এসে পড়েছে লনে রাখা সাদা রং করা সিমেন্টের চেয়ারগুলিতে। ফুলের গাছগুলিতে মরশুমি ফুলের বাহার। মাঝে অনেকখানি প্রশস্ত খোলা অংশ। এই সব মফসসল এলাকায় জায়গার অভাব নেই বলে ছোটখাট রিসর্টও কেমন অনেকখানি জায়গা নিয়ে বেশ সাজিয়েগুছিয়ে নিয়েছে। কলকাতা হলে ভাবতে পারত? এইরকম কন জায়গায় সেও যদি এইরকম একটা রিসর্ট খুলতে পারত! কিন্তু পুঁজি? সে একটা জিমের মালিক এবং সোশ্যাল-ইনফ্লুয়েন্সার হলেও, তার পকেটে এত রেস্ত নেই যে, এইরকম একটা রিসর্ট খুলে বসে। লোন নেওয়াই যায়, জিম মর্টগেজ রেখে, কিন্তু শোধ দিতে না পারলে? তার চেয়ে জিমই ভালো। বরং জিমের আর একটা ব্রাঞ্চ খোলার ইচ্ছে তার অনেকদিনের। প্রপার কলকাতা নয়, কিন্তু কলকাতার গা-ঘেঁষে গড়ে ওঠা নতুন শহরতলিগুলিতে খুলবে। কলকাতায় হেড অফিস জানলে মফসসলের লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়বে, বিশেষ করে জিম-অ্যাডিক্টরা। দেখা যাক। আপাতত তৃধাকে খোঁজা যাক্। বলে সে আবারও দেখার চেষ্টা করল, তৃধা কোথায়? কিন্তু তৃধাকে কোথাও দেখতে পেল না সে। তৃধা কি তবে সামনের দিকে আছে? সেক্ষেত্রে তাকে নিচে নামতে হবে। তাদের সকলের রুমগুলি পিছনের দিকে বলে এদিক থেকে সামনের দিক দেখার উপায় নেই। একটা ব্যাপার অদ্ভুত লাগল এখন, এই রিসর্টের ম্যানেজার থেকে শুরু করে রিশেপশনে বসা লোকজনের কারুরই মাথায় বুদ্ধি নেই। সামনের দিকের রুমগুলি তো ফাঁকাই পড়ে আছে, পিছনদিকের রুমগুলি দেওয়ার কী মানে? শ্লাম এইজন্যই এরা যেই গাঁইয়া ভূত ছিল, সেই গাঁইয়া ভূতই থেকে যাবে। এর চেয়ে দীঘা কিংবা মন্দারমণির রিসর্টগুলির লোকজনের মাথায় বুদ্ধি আছে।
পাঁচ মিনিট উঁকিঝুঁকি মেরেও যখন তৃধাকে দেখতে পেল না সে, তখন ভাবল, আগে ফোন করে নিই। ফোনে তৃধাকে জিজ্ঞাসাও করা যাবে, সকালবেলা সে কাউকে দ্বিতীয় নাম্বার দিয়েছিল কিনা। আর সে-ই কাউকে পাঠিয়েছিল কিনা মর্নিং টি দিয়ে যাওয়ার জন্য? যদিও অরণ্য এখন নিশ্চিত যে, এইরকমই কিছু একটা হয়েছে, তবুও ডাবল্চেক্ আর-কি। চারদিকে আজ খুশি-খুশি ভাব। এদিকে ল-ইয়্যারও এসে পড়বেন। যদি সমস্তকিছু ঠিক থাকে তৃধা এবং সে আর-ক’দিনের ভিতরেই পিশাচপাহাড় থেকে মুক্তি পাবে। বাপসস, আর যদি কখন পা রেখেছে সে এখানে! অনেক শিক্ষা হয়েছে। আড্ডায় যেদিন থেকে ঠিক হয়েছিল, পিশাচপাহাড় নামের অদ্ভুত কিন্তু অ্যাট্রাকটিভ এই ডেস্টিনেশন জোনে আসা হবে, সেদিন থেকেই ভাগ্যদেবী তাদের উপর কুদৃষ্টি দিয়েছিলেন। তা-না-হলে ফানট্রিপ এইভাবে নাইটমেয়ার ট্রিপে পরিণত হয়?
পাঁচ মিনিট উঁকিঝুঁকি মেরেও যখন তৃধাকে দেখতে পেল না সে, তখন ভাবল, আগে ফোন করে নিই। ফোনে তৃধাকে জিজ্ঞাসাও করা যাবে, সকালবেলা সে কাউকে দ্বিতীয় নাম্বার দিয়েছিল কিনা। আর সে-ই কাউকে পাঠিয়েছিল কিনা মর্নিং টি দিয়ে যাওয়ার জন্য? যদিও অরণ্য এখন নিশ্চিত যে, এইরকমই কিছু একটা হয়েছে, তবুও ডাবল্চেক্ আর-কি। চারদিকে আজ খুশি-খুশি ভাব। এদিকে ল-ইয়্যারও এসে পড়বেন। যদি সমস্তকিছু ঠিক থাকে তৃধা এবং সে আর-ক’দিনের ভিতরেই পিশাচপাহাড় থেকে মুক্তি পাবে। বাপসস, আর যদি কখন পা রেখেছে সে এখানে! অনেক শিক্ষা হয়েছে। আড্ডায় যেদিন থেকে ঠিক হয়েছিল, পিশাচপাহাড় নামের অদ্ভুত কিন্তু অ্যাট্রাকটিভ এই ডেস্টিনেশন জোনে আসা হবে, সেদিন থেকেই ভাগ্যদেবী তাদের উপর কুদৃষ্টি দিয়েছিলেন। তা-না-হলে ফানট্রিপ এইভাবে নাইটমেয়ার ট্রিপে পরিণত হয়?
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪১: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২২

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৬: রাক্ষস খরের নিধনের নিরিখে রামচন্দ্রের মূল্যায়ন
আর সময় নষ্ট না করে তৃধাকে ফোন করল সে। ঠিক করল, যদি তৃধা নিচে থাকে, মানে সামনের দিকে, তাহলে তাকে সেখানেই অপেক্ষা করতে বলবে সে। একসঙ্গে নিচে গিয়েই মর্নিংটি খাবে। তারপর একটু হাঁটতে বেরোবে। ফিরে এসে আজ হেভি ব্রেকফাস্ট করবে। ভালো কিছু বানাতে বলে যাবে ক্যান্টিনে। সেই একঘেয়ে ব্রেড উইথ বাটার, এগপোচ, জ্যাম আর ফ্রুটস্ খেয়ে খেয়ে মুখে অরুচি ধরে গেছে। তার আজকে বিশুদ্ধ বাঙালি খাবার খেতে ইচ্ছে করছে। ফুলকো লুচি, সাদা আলুর তরকারি, বেগুনভাজা, জিলিপি কিংবা অমৃতি, সেইসঙ্গে সিমুইয়ের পায়েস। রসগোল্লাই চাইতে পারত। কিন্তু এখানে রসগোল্লা খেয়ে দেখেছে, অতীব বাজে। এমনিতে সে সুগার ইনটেক করে না। কিন্তু আজ এত খুশি খুশি লাগছে, যে আজকের দিনটা সর্বার্থেই চিট-ডে হিসেবে পালন করলে মন্দ হয় না। কলকাতায় তো ফিরছে শিগগিরই, জিমে ওয়ার্কআউট করে এক্সট্রা ফ্যাট বার্ণ করতে তার অন্তত অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
তৃধা ফোন তুলল, “কী হল? ব্যবসা শেষ?”
“আরে আরে আরে! কী সব কথাবার্তা তোমার। ব্যবসা আবার কী?”
“তাহলে কি সোশিয়াল ওয়ার্ক বলব? যাক্ বল কেন ফোন করলে?”
“তুমি কোথায়?”
“বাব্বা! সক্কাল-সক্কাল উত্তেজিত হয়ে পরেছ নাকি?”
“আরে ইয়ার্কি রাখ ? তুমি কি সামনের দিকের লনে?”
“না না, আমি আর আর্য একটু হাঁটতে বেরিয়েছি!”
“আর্য? হোয়াট ইজ হি ডুয়িং উইথ ইউ? ব্লাডি বাস্টার্ড একটা!”
“অরণ্য! ভুলে যেও না আমরা সকলেই বন্ধু। আর তোমার সঙ্গে ওর ব্যাপারে কোন কথা বলতে আমি চাইনা। তুমি ফোন কেন করেছ, বল!”
“দরকার আছে বলে তো মনে হচ্ছে না। তবে বলে রাখি আর্য কিন্তু তোমাকে সুখ দিতে পারবে না। যতই জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাও ওকে। ও একটা ফ্রিজিড্ মাল!”
“অরণ্য! তোমার যদি সত্যিই এ-সব কথা ছাড়া আর কিছু বলার না থাকে, আমি তাহলে রাখছি!”
“আরে শোন শোন, আমি নামছি। তোমাদের সঙ্গে জয়েন করছি। ফিরে এসে হেভি ব্রেকফাস্ট করব তিনজনে। তো্যমার অনারে আর্যর বিল আজ আমি পে করব! অঞ্জনকে করতে হবে না!” বলে ফোন রেখে দ্রুত ঘরের মধ্যে এল। তাড়াতাড়ি নিচে নেমে ওরা যে-পথে গেছে, সেদিকে যেতে হবে, ধরতে হবে ওদেরকে। আর্য সেদিনের ঘটনা ফলাও করে বলবে বলেই নিশ্চয়ই ডেকে নিয়ে গিয়েছে তৃধাকে। আশ্চর্য নির্ল্লজ্জ পাবলিক। আর কেউ হলে নিজের এমন হেনস্থার কথা সবাইকে বলে-বলে বেরাত না। একেবারে দু-কান কাটা যাকে বলে। আত্মসম্মানবোধ বলতে কিচ্ছু নেই। অবশ্য থাকলে কী আর উন্মেষা-অঞ্জনের তাকায় এখানে ফুর্তি মারতে আসে? পকেটে ওয়ালেটতা ভরে দরজার দিকে এগোবে, এমনসময় মনে হল আরে, সে তো কই জিজ্ঞাসা করল না, সকালে তৃধাই বেড-টি দিতে রুমসার্ভিসকে বলে গিয়েছিল কিনা? তাছাড়া ফোনটা কি তাদেরই কেউ করছিল? ইসস, নিজের হাত কামড়াতে ইচ্ছে হল তার। যেজন্য ফোন করা, সেটাই ভুলে গেল সে? আসলে এমন উল্টোপাল্টা কথা বলতে শুরু করল তৃধা! তখন মাথার ঠিক থাকে? যাই হোক, ওদের ধরা যাক্ তো আগে, তারপর না-হয় তৃধার কাছে জিজ্ঞাসা করে নেবে। আচ্ছা, ওরা কোনদিকে গেছে তা তো জানা হল না। রিসর্টের কেউ যদি না দেখে, তাহলে সে কোন্দিকে যাবে? আবার ফোন করবে তৃধাকে? যা রেগে চটিতং হয়ে আছে, না-ও বলতে পারে।
তৃধা ফোন তুলল, “কী হল? ব্যবসা শেষ?”
“আরে আরে আরে! কী সব কথাবার্তা তোমার। ব্যবসা আবার কী?”
“তাহলে কি সোশিয়াল ওয়ার্ক বলব? যাক্ বল কেন ফোন করলে?”
“তুমি কোথায়?”
“বাব্বা! সক্কাল-সক্কাল উত্তেজিত হয়ে পরেছ নাকি?”
“আরে ইয়ার্কি রাখ ? তুমি কি সামনের দিকের লনে?”
“না না, আমি আর আর্য একটু হাঁটতে বেরিয়েছি!”
“আর্য? হোয়াট ইজ হি ডুয়িং উইথ ইউ? ব্লাডি বাস্টার্ড একটা!”
“অরণ্য! ভুলে যেও না আমরা সকলেই বন্ধু। আর তোমার সঙ্গে ওর ব্যাপারে কোন কথা বলতে আমি চাইনা। তুমি ফোন কেন করেছ, বল!”
“দরকার আছে বলে তো মনে হচ্ছে না। তবে বলে রাখি আর্য কিন্তু তোমাকে সুখ দিতে পারবে না। যতই জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাও ওকে। ও একটা ফ্রিজিড্ মাল!”
“অরণ্য! তোমার যদি সত্যিই এ-সব কথা ছাড়া আর কিছু বলার না থাকে, আমি তাহলে রাখছি!”
“আরে শোন শোন, আমি নামছি। তোমাদের সঙ্গে জয়েন করছি। ফিরে এসে হেভি ব্রেকফাস্ট করব তিনজনে। তো্যমার অনারে আর্যর বিল আজ আমি পে করব! অঞ্জনকে করতে হবে না!” বলে ফোন রেখে দ্রুত ঘরের মধ্যে এল। তাড়াতাড়ি নিচে নেমে ওরা যে-পথে গেছে, সেদিকে যেতে হবে, ধরতে হবে ওদেরকে। আর্য সেদিনের ঘটনা ফলাও করে বলবে বলেই নিশ্চয়ই ডেকে নিয়ে গিয়েছে তৃধাকে। আশ্চর্য নির্ল্লজ্জ পাবলিক। আর কেউ হলে নিজের এমন হেনস্থার কথা সবাইকে বলে-বলে বেরাত না। একেবারে দু-কান কাটা যাকে বলে। আত্মসম্মানবোধ বলতে কিচ্ছু নেই। অবশ্য থাকলে কী আর উন্মেষা-অঞ্জনের তাকায় এখানে ফুর্তি মারতে আসে? পকেটে ওয়ালেটতা ভরে দরজার দিকে এগোবে, এমনসময় মনে হল আরে, সে তো কই জিজ্ঞাসা করল না, সকালে তৃধাই বেড-টি দিতে রুমসার্ভিসকে বলে গিয়েছিল কিনা? তাছাড়া ফোনটা কি তাদেরই কেউ করছিল? ইসস, নিজের হাত কামড়াতে ইচ্ছে হল তার। যেজন্য ফোন করা, সেটাই ভুলে গেল সে? আসলে এমন উল্টোপাল্টা কথা বলতে শুরু করল তৃধা! তখন মাথার ঠিক থাকে? যাই হোক, ওদের ধরা যাক্ তো আগে, তারপর না-হয় তৃধার কাছে জিজ্ঞাসা করে নেবে। আচ্ছা, ওরা কোনদিকে গেছে তা তো জানা হল না। রিসর্টের কেউ যদি না দেখে, তাহলে সে কোন্দিকে যাবে? আবার ফোন করবে তৃধাকে? যা রেগে চটিতং হয়ে আছে, না-ও বলতে পারে।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৩ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /২

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
নিচে নেমে কাপাডিয়াকে দেখতে পেল সে। তুম্বো মুখে বসে আছেন। তাকে দেখেও গুড মর্নিং বললেন না। অরণ্য নিজেই বলল, “গুড মর্নিং মি. কাপাডিয়া!”
“গুড মর্নিং!” নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বে বললেন কাপাডিয়া।
“কী হয়েছে? মেজাজ খুশ নেই দেখছি ? রাতে ভালো ঘুম হয় নি নাকি?”
“আর ঘুম! আরে স্যার, দুখের কথা ক্যা বলুঁ? ম্যানেজমেন্ট কো বোলা থা কিছু দিন কে লিয়ে ছুট্টি লেঙ্গে, তা তারা মানা করে দিয়েছে। কাল রাতেই মেইল এসেছে। এভাবে দিনের পর দিন এখানে পড়ে থাকা যায় বলুন? আমারও তো বিবিবাচ্চা আছে নাকি?” ব্যাজার মুখে বললেন কাপাডিয়া।
অরণ্য বুঝতে পারল, ভদ্রলোক সত্যিই মুষড়ে পড়েছেন। তা মুষড়ে পড়াই উচিত। স্ত্রী-সন্তানদের অতদূরে ফেলে রেখে দিনের পর দিন এখানে পড়ে থাকা যে বেশ চাপের, সেটা সে মানে। কিন্তু কি আর করবে সে এসব শুনে? ম্যানেজমেন্টের লোকজনই যখন বুঝতে চাইছে না, তখন তাঁদের আর কে বোঝাবে? সে মুখে সহানুভূতির শব্দ করে বলল, “খুব খারাপ লাগল। আমার মতে আপনি আপনার এমার্জেন্সি বুঝিয়ে ইমিডিয়েট বাড়ি যাওয়ার জন্য ছুটি চেয়ে আবার আবেদন করুন, আমার মনে হয় তাঁরা বুঝবেন। একবার বলে যখন কাজ হয় না, তখন বারবার বলা উচিত!”
“হ্যাঁ, দেখি। আসলে মনেরও তো একটা হিসেবনিকেশ থাকে, সেটা না মিললে খারাপ লাগে আর-কি। সার্ভিস তো কম দিচ্ছি না! যাই হোক, আপনি চললেন কোথায়? তৃধা ম্যাডামকেও তো দেখলুম, আর্যবাবুর সঙ্গে বেরিয়ে গেলেন!”
“আর্যবাবু আর তৃধাম্যাম কি একসঙ্গে নামলেন?”
“না না, আর্যবাবু তো নিচে চা খাচ্ছিলেন। তৃধা ম্যাম দেখে গড় মর্নিং জানালেন, তারপর উনিও চা খেলেন। পরে তাঁরা হেঁটে আসি বলে বেরিয়ে গেলেন।”
“কোনওদিকে গেলেন দেখেছেন?”
“বাঁদিকে। আপনি যাবেন? যান না!”
“আচ্ছা একটা কথা, তৃধা ম্যাম কি আমার জন্য বেড-টি পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন?”
“কেন বলুন তো?” কাপাডিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
“না আমি যোগা করছিলাম, সেইসময় কেউ রুমের দরজায় নক্ করে, আমার খুলতে দেরি হয়েছিল, তখন কেউ ছিল না !” একটু মিথ্যে কথাই বলল সে।
“হ্যাঁ, তৃধা ম্যামই তো পাঠাতে বললেন। রুমসার্ভিসের ছেলেটির তো এখন সবে ঘুম ভেঙেছে। যে চা বানাচ্ছিল সে নিজে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আপনার নাম জানে না বলে নাম ধরে দাকতে পারেনি। যাক্ গে, ও চা খেতে হবে না। হেঁটে আসুন, তখন চা খাবেন জমিয়ে।”
“গুড মর্নিং!” নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বে বললেন কাপাডিয়া।
“কী হয়েছে? মেজাজ খুশ নেই দেখছি ? রাতে ভালো ঘুম হয় নি নাকি?”
“আর ঘুম! আরে স্যার, দুখের কথা ক্যা বলুঁ? ম্যানেজমেন্ট কো বোলা থা কিছু দিন কে লিয়ে ছুট্টি লেঙ্গে, তা তারা মানা করে দিয়েছে। কাল রাতেই মেইল এসেছে। এভাবে দিনের পর দিন এখানে পড়ে থাকা যায় বলুন? আমারও তো বিবিবাচ্চা আছে নাকি?” ব্যাজার মুখে বললেন কাপাডিয়া।
অরণ্য বুঝতে পারল, ভদ্রলোক সত্যিই মুষড়ে পড়েছেন। তা মুষড়ে পড়াই উচিত। স্ত্রী-সন্তানদের অতদূরে ফেলে রেখে দিনের পর দিন এখানে পড়ে থাকা যে বেশ চাপের, সেটা সে মানে। কিন্তু কি আর করবে সে এসব শুনে? ম্যানেজমেন্টের লোকজনই যখন বুঝতে চাইছে না, তখন তাঁদের আর কে বোঝাবে? সে মুখে সহানুভূতির শব্দ করে বলল, “খুব খারাপ লাগল। আমার মতে আপনি আপনার এমার্জেন্সি বুঝিয়ে ইমিডিয়েট বাড়ি যাওয়ার জন্য ছুটি চেয়ে আবার আবেদন করুন, আমার মনে হয় তাঁরা বুঝবেন। একবার বলে যখন কাজ হয় না, তখন বারবার বলা উচিত!”
“হ্যাঁ, দেখি। আসলে মনেরও তো একটা হিসেবনিকেশ থাকে, সেটা না মিললে খারাপ লাগে আর-কি। সার্ভিস তো কম দিচ্ছি না! যাই হোক, আপনি চললেন কোথায়? তৃধা ম্যাডামকেও তো দেখলুম, আর্যবাবুর সঙ্গে বেরিয়ে গেলেন!”
“আর্যবাবু আর তৃধাম্যাম কি একসঙ্গে নামলেন?”
“না না, আর্যবাবু তো নিচে চা খাচ্ছিলেন। তৃধা ম্যাম দেখে গড় মর্নিং জানালেন, তারপর উনিও চা খেলেন। পরে তাঁরা হেঁটে আসি বলে বেরিয়ে গেলেন।”
“কোনওদিকে গেলেন দেখেছেন?”
“বাঁদিকে। আপনি যাবেন? যান না!”
“আচ্ছা একটা কথা, তৃধা ম্যাম কি আমার জন্য বেড-টি পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন?”
“কেন বলুন তো?” কাপাডিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
“না আমি যোগা করছিলাম, সেইসময় কেউ রুমের দরজায় নক্ করে, আমার খুলতে দেরি হয়েছিল, তখন কেউ ছিল না !” একটু মিথ্যে কথাই বলল সে।
“হ্যাঁ, তৃধা ম্যামই তো পাঠাতে বললেন। রুমসার্ভিসের ছেলেটির তো এখন সবে ঘুম ভেঙেছে। যে চা বানাচ্ছিল সে নিজে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আপনার নাম জানে না বলে নাম ধরে দাকতে পারেনি। যাক্ গে, ও চা খেতে হবে না। হেঁটে আসুন, তখন চা খাবেন জমিয়ে।”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৭: ধেড়ে ইঁদুর
মনটা হালকা হয়ে গেল অরণ্যের। যাক্ তাহলে কালাদেও নয়। সে আজকের স্পেশাল ব্রেকফাস্ট খাওয়ার কথা বলল। কাপাডিয়া বললেন, “ঠিক আছে, আমি দেখছি। কতটা কী করা যায়। আসলে এ-তো বড় শহর নয় যে, চাইলেই সব হাতের কাছে পেয়ে যাব। যাক্ গে, ফিরে আসুন, আমি ব্যবস্থা করছি যতটা করা যায়!”
বাইরে বেরিয়ে এসে বাঁদিকের রাস্তা ধরল সে। আস্তে-আস্তে রিসর্ট চোখের আড়াল হয়ে গেল। রাস্তার দুধারে নবীন পাতায় ভরা শাল-মহুয়ার বন। কুসুমগাছের রক্তাভ সোনালি পাতাগুলি মাঝেমধ্যেই চোখ ঝলসে দিচ্ছিল সৌন্দর্যে। সে দ্রুত চলতে-চলতেই সেই সৌন্দর্য উপভোগ করছিল। যদিও তার মন পড়ে রয়েছে তৃধা আর আর্য কী কথা বলছে, সেই দিকে। বেশ খানিকটা গিয়েও ওদের দেখা না-পাওয়ায় মনে-মনে সে উদ্বিগ্ন হচ্ছিল। এমনসময় পিছন থেকে তার নাম ধরে একটা চেনা গলার ডাক শুনে সে থমকে দাঁড়াল। দূর থেকে বোঝা যাচ্ছিল সে আসছে। দাঁড়িয়ে পড়ল অরণ্য সেদিকে ফিরে। অপেক্ষা করতে লাগল। এমনসময় পিছন থেকে হঠাৎ কী একটা যেন তার মাথার উপর নেমে এল। শেষ মুহূর্তে কে যেন তাকে সতর্ক করে দিয়েছিল, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে বলে, ফলে মাথাটা সামান্য সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু তাও শেষরক্ষা হল না। ফট্ করে একটা আওয়াজ আর গলগল করে বেরিয়ে আসা রক্ত শরীরে মেখে পথের উপরেই লুটিয়ে পড়ল সে। অচেতন হওয়ার আগে কেবল শুনতে পেল, দূর থেকে সাইকেলের ঘন্টির মতো কিছু একটা বাজছে আর ধুপধাপ একটা আওয়াজ! —চলবে।
বাইরে বেরিয়ে এসে বাঁদিকের রাস্তা ধরল সে। আস্তে-আস্তে রিসর্ট চোখের আড়াল হয়ে গেল। রাস্তার দুধারে নবীন পাতায় ভরা শাল-মহুয়ার বন। কুসুমগাছের রক্তাভ সোনালি পাতাগুলি মাঝেমধ্যেই চোখ ঝলসে দিচ্ছিল সৌন্দর্যে। সে দ্রুত চলতে-চলতেই সেই সৌন্দর্য উপভোগ করছিল। যদিও তার মন পড়ে রয়েছে তৃধা আর আর্য কী কথা বলছে, সেই দিকে। বেশ খানিকটা গিয়েও ওদের দেখা না-পাওয়ায় মনে-মনে সে উদ্বিগ্ন হচ্ছিল। এমনসময় পিছন থেকে তার নাম ধরে একটা চেনা গলার ডাক শুনে সে থমকে দাঁড়াল। দূর থেকে বোঝা যাচ্ছিল সে আসছে। দাঁড়িয়ে পড়ল অরণ্য সেদিকে ফিরে। অপেক্ষা করতে লাগল। এমনসময় পিছন থেকে হঠাৎ কী একটা যেন তার মাথার উপর নেমে এল। শেষ মুহূর্তে কে যেন তাকে সতর্ক করে দিয়েছিল, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে বলে, ফলে মাথাটা সামান্য সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু তাও শেষরক্ষা হল না। ফট্ করে একটা আওয়াজ আর গলগল করে বেরিয়ে আসা রক্ত শরীরে মেখে পথের উপরেই লুটিয়ে পড়ল সে। অচেতন হওয়ার আগে কেবল শুনতে পেল, দূর থেকে সাইকেলের ঘন্টির মতো কিছু একটা বাজছে আর ধুপধাপ একটা আওয়াজ! —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















