
ছবি : প্রতীকী।
|| হার্ড ড্রাইভ-১ ||
— আমি!!
মিডিয়ার ক্যামেরা সামনে শপথগ্রহণের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অন্য অনেকের সঙ্গে রাজ্যপালের উচ্চারিত শপথ পাঠ করলেন বিজয়ী দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও বিধায়ক পুলক ভট্টাচার্য। রাজ্যপাল দুটি শপথ পাঠ করান, অথ অফ অফিস (Oath of Office) আর অথ অফ সিক্রেসি (Oath of Secrecy)। দু’বারই শুরুতে রাজ্যপাল বলেন ‘আমি’। অনেকের সঙ্গে পুলক পড়ে গেলেন
—‘‘আমি, পুলক ভট্টাচার্য, ঈশ্বরের নামে শপথ করছি যে, সত্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ভারতের সংবিধানের প্রতি, আমি প্রকৃত বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করব; আমি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করব।”
মিডিয়ার ক্যামেরা সামনে শপথগ্রহণের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অন্য অনেকের সঙ্গে রাজ্যপালের উচ্চারিত শপথ পাঠ করলেন বিজয়ী দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও বিধায়ক পুলক ভট্টাচার্য। রাজ্যপাল দুটি শপথ পাঠ করান, অথ অফ অফিস (Oath of Office) আর অথ অফ সিক্রেসি (Oath of Secrecy)। দু’বারই শুরুতে রাজ্যপাল বলেন ‘আমি’। অনেকের সঙ্গে পুলক পড়ে গেলেন
—‘‘আমি, পুলক ভট্টাচার্য, ঈশ্বরের নামে শপথ করছি যে, সত্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ভারতের সংবিধানের প্রতি, আমি প্রকৃত বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করব; আমি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করব।”
পুলকের বাড়ি চন্দননগর। তবে কাল কলকাতায় বালিগঞ্জ প্লেসের শ্বশুরবাড়িতে ছিল পুলক। পুলক আর ইপ্সিতা। ইপ্সিতার বাবা চন্দননগর পৌরনিগমের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। পুলক পড়ত চন্দননগরের নামী স্কুল দুর্গাচরণ রক্ষিত বঙ্গ বিদ্যালয়ে, আর ইপ্সিতা সেন্ট জোসেফ’স কনভেন্ট স্কুলে।
ইপ্সিতার বাবা শতদল চট্টোপাধ্যায় গত দু’ বছর হল মারা গিয়েছেন। ইপ্সিতার মা বিনীতা চন্দননগরের বাড়ি বিক্রি করে বালিগঞ্জ প্লেসে তাঁর পুরনো বাপেরবাড়ি ভেঙে নতুনভাবে গড়ে ওঠা বহুতলে চলে এসেছেন। পৈতৃকবাড়ির ভাগ পেয়েছেন তাদের চার ভাইবোন। একভাই মুম্বইয়ের পাকাপাকি বাসিন্দা। সে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছেন। একভাই আর এক বোন এই একই বিল্ডিংয়ে থাকেন। ভাই-বোনেদের সঙ্গে নিচেরতলায় গ্যারাজ সমেত প্রত্যেকে দু’কামরার ফ্ল্যাট পেয়েছেন। বাকি ফ্ল্যাট প্রোমোটার চড়াদামে বিক্রি করেছে।
ইপ্সিতার বাবা শতদল চট্টোপাধ্যায় গত দু’ বছর হল মারা গিয়েছেন। ইপ্সিতার মা বিনীতা চন্দননগরের বাড়ি বিক্রি করে বালিগঞ্জ প্লেসে তাঁর পুরনো বাপেরবাড়ি ভেঙে নতুনভাবে গড়ে ওঠা বহুতলে চলে এসেছেন। পৈতৃকবাড়ির ভাগ পেয়েছেন তাদের চার ভাইবোন। একভাই মুম্বইয়ের পাকাপাকি বাসিন্দা। সে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছেন। একভাই আর এক বোন এই একই বিল্ডিংয়ে থাকেন। ভাই-বোনেদের সঙ্গে নিচেরতলায় গ্যারাজ সমেত প্রত্যেকে দু’কামরার ফ্ল্যাট পেয়েছেন। বাকি ফ্ল্যাট প্রোমোটার চড়াদামে বিক্রি করেছে।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু: পর্ব-১৪১: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২২

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৭: রাজসূয়যজ্ঞ কী শুধু একচ্ছত্র ক্ষমতার প্রদর্শনী? না স্বতঃস্ফূর্ত গণসমর্থনলাভের উদ্যোগ?

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৪ :কালাদেও নয়?

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৫ : নিশীথে
মায়ের জন্মদিনে মেয়ে জামাইয়ের গিফট করা নতুন ৫৫ ইঞ্চির ঝকঝকে রঙিন টেলিভিশনে সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পরা জামাইকে গড়গড় করে শপথ পাঠ করতে দেখছেন বিনীতা।
— রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে আমার বিবেচনাধীন যে বিষয়গুলো আনা হবে বা আমি যে বিষয়গুলো জানতে পারব, তা কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের কাছে আমি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে…
একই কথা সকলেই বলছেন। কথা ক’জন রাখবেন তা ভবিষ্যৎ বলবে। পাঞ্জাবিটা গত সন্ধেবেলা ফ্যাব ইন্ডিয়া থেকে কেনা। মেয়ে ঈপ্সিতা পরেছে ফরাসডাঙ্গার বিখ্যাত তাঁতের শাড়ি।
— রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে আমার বিবেচনাধীন যে বিষয়গুলো আনা হবে বা আমি যে বিষয়গুলো জানতে পারব, তা কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের কাছে আমি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে…
একই কথা সকলেই বলছেন। কথা ক’জন রাখবেন তা ভবিষ্যৎ বলবে। পাঞ্জাবিটা গত সন্ধেবেলা ফ্যাব ইন্ডিয়া থেকে কেনা। মেয়ে ঈপ্সিতা পরেছে ফরাসডাঙ্গার বিখ্যাত তাঁতের শাড়ি।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৮: কালো ইঁদুর
এক স্কুলে না হলেও পুলক আর ইপ্সিতার ভাবসাব বহু বছর। অবশ্য উত্তম-সুচিত্রার অনেক ছবির মতো ঝগড়া দিয়ে আলাপ ও ক্রমে ঘনিষ্ঠতা। তবে শতদলবাবুর মত ছিল না একেবারেই। পড়াশোনায় মন্দ নয়। দেখতে ভালো। সুন্দর কথা বলে। কিন্তু সাধারণ ছেলেপুলের মতো সরল, সোজা সে নয়। তার স্বপ্ন উচ্চাশা রাজনীতিতে সাফল্য। আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার না হলে চাকুরী বৃত্তি শিক্ষকতা এই গণ্ডীতেই ঘোরাফেরা করতো। ব্যবসায় ভয় চিরকালের। আর রাজনীতি যে পেশা হয়ে উঠবে সেটা দু’দশক আগেও কেউ কল্পনা করেননি। তাই সহজ-সরল পথে মেধার জোরে পেশাদারি চাকরি করা শতদল চট্টোপাধ্যায় মেয়ের জেদে মত দেননি।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৩ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /২

সরস্বতীর লীলাকমল, পর্ব-৩৮: নন্দিতা কৃপালনি— বিশ শতকের বিদুষী
তাই প্রেম ছিল কিন্তু বিয়েটা হয়নি। এদিকে মেয়েও নাছোড়বান্দা। বিয়েটা হয়েছে শতদলবাবুর মৃত্যর পর। বিনীতা মেনে নিয়েছিলেন মেয়ের জন্য। সেদিন বিনীতা খুব খুশি হয়েছিলেন। সমাজের গুণীমানীদের ভিড়ে টিভি ক্যামেরার চোখ ছিল তাঁর জামাইয়ের দিকেই। তিনি চন্দননগরের বিজয়ী তখন প্রথমবারের বিধায়ক, আগামীদিনের পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী পুলক ভট্টাচার্য। সেদিন বেশ কয়েকবার তাঁর গর্বিত মেয়ে ইপ্সিতাকেও দেখা গিয়েছিল টিভিতে। সুন্দর লাগছিল বুতাইকে। মেয়ে ইপ্সিতাকে মা-বাবা আদর করে বুতাই নামে ডাকতেন। সেদিন অনেক সকালে ইপ্সিতা পার্লার থেকে লোক ডাকিয়ে এনে সেজেগুজে আগামীদিনের মন্ত্রী-স্বামীর শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। বিনীতার চোখের সামনে থেকে শপথ গ্রহণের রঙিন অতীতটা সরে যায়।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৯ : জলসাঘর—অস্তশিখর
আজও টিভিতে চোখ বিনীতার। এটা বর্তমান। চোখ জলে ভেসে যাচ্ছে। টিভিতে এখন যেন রঙিন নয় সাদা কালো ছবি দেখা যাচ্ছে। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি সাদা শাড়ি সাদা সালোয়ার স্যুট পরে নামী-দামি সেলিব্রিটি নেতা-মন্ত্রীরা এসএসকেএম হাসপাতালে ছুটে ছুটে আসছেন। বালিগঞ্জ প্লেস থেকে গাড়িতে ৫ মিনিট দূরত্বে সানি পার্কে মেয়ে জামাইয়ের নতুন কেনা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। ছ’ তলার সেই ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে অসাবধানে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে রকেটের গতিতে রাজ্য রাজনীতিতে যার উথান,- সেই পুলক ভট্টাচার্য রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী। —চলবে।
হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















