কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

 

|| হার্ড ড্রাইভ-৩ ||

সানি পার্ক এর বাড়ি থেকে সেদিনই অনেকটা রাতে বুতাই চলে এসেছে। বুতাই মানে বিধবা বিনীতার সদ্য বিধবা কন্যা ঈপ্সিতা। রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী পুলক ভট্টাচার্যের স্ত্রী ঈপ্সিতা ভট্টাচার্য। কাল রাত থেকে ঘরের মধ্যে দরজা বন্ধ করে আছে বুতাই। টেলিভিশন বসার ঘরে। সাউন্ড মিউট করে দিয়েছে বিনীতা। পাছে মেয়ের কানে অবিরাম সারাদিন বয়ে যাওয়া এইসব খবর পৌঁছে যায়।
ঘটনাটা ঘটেছে ভোরবেলায়। রাজ্য রাজনীতির ব্যস্ত মন্ত্রী কিন্তু ভোরবেলায় উঠে হাঁটতে যেত পুলক। বহুদিন আগে যখন প্রথম মন্ত্রী হয়েছিল তখন স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে যেত। সানি অ্যাপার্টমেন্টের পিছনটা টেনিস কোর্ট। তারও ওপাশে গেলে সিসিএফসি গ্রাউন্ড। ওসব জায়গায় অবাধ যাতায়াত ছিল। সঙ্গে থাকতো সরকারি পিএসও। পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার। মন্ত্রীর সাতখুন মাফ। কুকুর নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এলাকার ধনী ব্যক্তিরাও সমঝে চলতেন। পরের দিকে মানে বছর দুয়েক বাদে আর ইপ্সিতা যেত না।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৩: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৩

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৯: যুধিষ্ঠির-আয়োজিত রাজসূয়যজ্ঞের মহাসম্মেলন ও চেদিরাজ শিশুপালের ভূমিকা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৬ : আলোচনার টেবিলে

বিয়ের অনেকদিন পরেও পুলক ও ইপ্সিতার কোনও সন্তান নেই। প্রথম বেশ কয়েকবছর অনেকের মতো এটা আধুনিক দাম্পত্যের নিয়মকানুন ভেবে বিনীতা চুপচাপ ছিলেন। একই মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিংয়ে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন থাকার সুবিধে-অসুবিধে দুটোই আছে। আচমকা সমস্যায় পাশে পাওয়া যায়, কিন্তু তারা ভীষণভাবে ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়েন। তবু আত্মীয়তার দাবি মানতে হয়। আগেকার দিনের মতো বিপদে-আপদে আজকাল প্রতিবেশি পাওয়া যায় না। যাঁরা পান তাঁরা নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ডাকা, রাতে হাসপাতালে থাকা এসব কাজের জন্যে কমবয়েসী যুবকরা আজ আর বেকার নেই। তারা কিছু না কিছু কাজে জড়িয়ে আছে।
আরও পড়ুন:

রথযাত্রা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৬ : উত্তরায়ণ

একটু কথাবার্তা বলতে পারলে দাদার বা দিদির একটু নেকনজরে থাকলে উপনেতা-নেত্রী হয়ে একটা সুনিশ্চিত রোজগারের ব্যবস্থা। ডিজিটাল জ্ঞানগম্যি থাকলে তো কথাই নেই! নেতা-নেত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়া সামলানোর দায়িত্ব। মিছিলে মিটিংয়ে গলা না ফাটিয়েও শুধু ভিডিও কাটাছেঁড়া করেই স্বচ্ছন্দ মাস মাইনে। দাদা-দিদিদের এগুলো আসে না। সেটাই চাবিকাঠি। যাদের এসব গুণ নেই তাদেরও ইউটিউব ভিডিও বা রিল বানানোর ব্যস্ততা আছে। রাজনৈতিক পর্যালোচনা বা সিনেমার সমালোচনা, সহজে দেওয়ালের দাগ তোলা থেকে চট করে বোতাম সেলাই করা। সমাজমাধ্যমে বিষয়ের অন্ত নেই। লক্ষ্য রোজগার। তার জন্য চাই খদ্দের। মানে যারা সারাদিন সারাক্ষণ মোবাইল খুলে এই সব গিলবেন আর নিখরচায় শেয়ার করবেন লাইক দেবেন। তারাই লক্ষ্মী আনবেন।
আরও পড়ুন:

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…

বিনীতার ছোট বোন বা ভাইয়ের বউ বারে বারে জানতে চেয়েছে বিনীতা কবে দিদা হচ্ছে। শেষে অতিষ্ঠ হয়েই লজ্জার মাথা খেয়ে মেয়েকেই বিনীতা জিজ্ঞেস করেছিল
— এখনকার চল একটু দেরিতে মা-বাবা হওয়া। কিন্তু ছেলেপুলে মানুষ করতেও তো একটা সময় লাগে বুতাই! তারপর মেয়েদের বয়েস বেড়ে শুনেছি নানান অসুবিধেও, এতটুকু অস্বস্তিতে না পড়ে ইপ্সিতার শান্ত প্রশ্ন।
— তোমার প্রশ্ন নাকি মামি, মাসিরা তোমাকে দিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করছে।
— আরে বাবা এতো স্বাভাবিক! আত্মীয়স্বজন তো ঠারেঠোরে জানতে চাইবেই।
— তুমি ওদের ঠারেঠোরে জানিয়ে দিও, মেয়ে কিছু উত্তর দেয়নি!
— উত্তর দেয়নি মানে।
— উত্তর দেয়নি মানে উত্তর দেয়নি! টিভিতে পলিটিক্যাল লোকজনকে দেখেও অনেক শেখার জিনিস আছে! যে প্রশ্নটা অস্বস্তিকর বা যে উত্তরটায় সমস্যা হতে পারে, সেটা এড়িয়ে যাওয়া!
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

— বাড়িতেও পলিটিক্স!
— বাড়ির পলিটিক্সটাই সমাজে রাজ্যে দেশে বা বিশ্বে হয় মা! তুমি সময় বিশেষে কখনও বড় মামাকে সাপোর্ট করো কখনও মেজ মামাকে! আমাদের বিয়ের আগে ছোটমামির থেকে ছোটমাসিকে তুমি বেশি রিলে করতে। আফটার অল তোমার নিজের বোন!
— তোদের ছেলেপুলের কথায় এসব আসছে কেন?
— আসছে কারণ আমি সোজা উত্তরটা দিলে তোমার খারাপ লাগবে, রাতে দুশ্চিন্তা করবে! অবশ্য এখন না বললে তোমার ছটফটানি আরও বাড়বে। মা-একা তো সন্তান আনতে পারে না। বাবাকেও লাগে। সন্তান জন্মের থেকে তাকে লালনপালন করতে সবসময় বাবাকে লাগে! আমার ক্ষেত্রে সেটার সমস্যা আছে। আমার স্বামী দেশের কাজে ব্যস্ত এক নেতা। —চলবে।

হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content