
|| হার্ড ড্রাইভ-৮ ||
শ্রেয়া আর ধৃতিমান এলো! পুলকের বিষয়ে কিছু রুটিন জিজ্ঞাসাবাদ করে চলে গেল। শ্রেয়া ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করে। ধৃতিমান বাইরে থেকে সাহায্য করে। ছেলেটা ভালো। নম্র। ভদ্র! তুলনায় শ্রেয়া মেয়েটা রাফ-টাফ। শ্রেয়া আর ধৃতিমানকে একসঙ্গে বেশ লাগে ঈপ্সিতার! ওরা কি একে ওপরের প্রতি? … বাড়াবাড়ি করে ফেলছে সে! তার স্বামী রাজ্যের মন্ত্রী পুলক ভট্টাচার্য! নিজের ছ’তলা ফ্ল্যাটের কাচের সুবিশাল খোলা ব্যালকনি দিয়ে থেকে নিচের ড্রাইভওয়েতে পড়ে ছিন্ন-বিছিন্ন হয়ে গিয়েছে, সে তখন এসব ভাবছে কী করে? নিজেই নিজেকে থামিয়েছিল ঈপ্সিতা! আবার পুরোনো ভাবনার বুননে ফেরে।
হ্যাঁ, পুলকের নিজস্ব একটা রুম আছে সেখানে কিছু ফাইলস আছে আর একটা ডিজিটাল সেফবক্স আছে। মোটা কাচের দরজা। দেখা যায়। কথা শোনা যায় না। কাছে পৌঁছনো যায় না। ওখানে পার্টির গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা হয়। কাগজপত্র থাকে ঈপ্সিতা ওই ঘরে খুব একটা যায় না। সে একবার তাঁর গয়নাগাটি ওই ডিজিট্যাল সেফবক্সে রাখবে ভেবেছিল। পুলক বলেছিল
— তুমি একটা আলাদা নিয়ে নাও।
— তুমি একটা আলাদা নিয়ে নাও।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৪৯: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৯

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৪: সোনার হরিণ কোথায় নেই? আছে সর্বত্র

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৮ : দেয়া নেয়া

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪
সেই বারে পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ভয়ে ঈপ্সিতা নেয়নি। আর কে যেন বলেছিল ব্যাংকের লকারের গয়না থাকলে লকারে ডাকাতি হলে ব্যাংক গয়না ফেরত দেবে না। সেই থেকে নিজের গয়নাগাটি কিছুটা নিজের কাছে রাখে। বাকিটা মায়ের বাড়ির বাড়িতে রেখে দিয়েছে।
তার মানে কি পুলকের কাছে গয়নাগাটির থেকেও দামি কিছু আছে ?
তার মানে কি পুলকের কাছে গয়নাগাটির থেকেও দামি কিছু আছে ?
আরও পড়ুন:

সংস্কৃত দিবস

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
থ্রি বিএইচকে এই ১৬০০ স্কয়ারফিটের ফ্ল্যাটে। একটা বেডরুম। হলঘর কিচেন আর দুটি বেডরুম, আর পুলকের এই ছোট্ট অফিস রুম। ঘরটার কাচের দরজা টেনে দেওয়াই থাকে। ইপ্সিতাও ঘরে যায় না। কিন্তু সে জানে পুলকের ঘরের এই ডিজিটাল সেফকে ওয়াই-ফাই দিয়ে মনিটর করা যায়। পুলকের এসব ডিজিটাল গ্যাজেট নিয়ে খুব মাতামাতি আছে। তার মোবাইল নানারকম অ্যাপে ঠাসা। বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাবে বলেছিল ঈপ্সিতা তার নির্দিষ্ট আপত্তি জানিয়ে দিয়েছে।
— না!
— না কেন? সেফটি!
— মেনডোরের বাইরে লাগাও! বাড়ির ভিতরে কখনওই নয় !
— তুমি মায়ের ওখানে যাও। বাড়িটা সেফ থাকবে। কাজের লোকজন আছে।
— তুমি তো জানো আমি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে মানুষ হয়েছি! কাজের লোকের হাতে বাড়ি ছেড়ে আমি কখনওই যাবো না। যাব যখন বাড়ি বন্ধ করে ঢুকবো যখন চাবি খুলে।
— কিন্তু বাড়িতে ক্যামেরা থাকলে তোমার আপত্তিটা কোথায়?
– আপত্তিটা আমার প্রাইভেসি।
— প্রাইভেসি? মানে?
— নিজের মোবাইল নিয়ে তোমার কোনও হুঁশ থাকে না! বিরূপাক্ষদের হাতে থাকে। আমি বাড়িতে কোনও সময় বেখেয়ালে থাকব বাইরের ক্যামেরায় আমার ছবি রেকর্ড হবে। না না এ হতে পারে না!
— না!
— না কেন? সেফটি!
— মেনডোরের বাইরে লাগাও! বাড়ির ভিতরে কখনওই নয় !
— তুমি মায়ের ওখানে যাও। বাড়িটা সেফ থাকবে। কাজের লোকজন আছে।
— তুমি তো জানো আমি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে মানুষ হয়েছি! কাজের লোকের হাতে বাড়ি ছেড়ে আমি কখনওই যাবো না। যাব যখন বাড়ি বন্ধ করে ঢুকবো যখন চাবি খুলে।
— কিন্তু বাড়িতে ক্যামেরা থাকলে তোমার আপত্তিটা কোথায়?
– আপত্তিটা আমার প্রাইভেসি।
— প্রাইভেসি? মানে?
— নিজের মোবাইল নিয়ে তোমার কোনও হুঁশ থাকে না! বিরূপাক্ষদের হাতে থাকে। আমি বাড়িতে কোনও সময় বেখেয়ালে থাকব বাইরের ক্যামেরায় আমার ছবি রেকর্ড হবে। না না এ হতে পারে না!
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮২: ডাবল ধামাকা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৪: গোখরো
ক্যামেরা মেন দরজার দু’দিকে আর ওদের ফ্লোরের ল্যান্ডিংয়ে সিলিংয়ে লাগান হয়েছিল! ফ্লোর প্রতি দুটো করে ফ্ল্যাট! ওদের উল্টোদিকে মাথুরদের ফ্ল্যাট। সারা বছর বন্ধই থাকে। ছেলে আর মেয়ে দু’জনেই বিদেশে সেটল্ড! একজন সিঙ্গাপুর, অন্যজন লন্ডন! গরমকালটা চারমাস লন্ডন শীতকালটা চারমাস সিঙ্গাপুর। আর মাঝে দুর্গাপুজোর কিছু আগে থেকে কালীপুজোর পর অগস্ট সেপ্টেম্বর অক্টোবর নভেম্বর এই সময়টা কলকাতায়।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?
ডিজিটাল লক লাগানো হল, যা যা বলা হয়েছিল সবই করা হল। কিন্তু যেদিন পুলকের ফোন বন্ধ থাকায় বিরূপাক্ষকে ঈপ্সিতা ফোন করেছিল সেদিন প্রথম পুলক বাড়ি ফিরে উদ্ধত ব্যবহার করল। যেদিন সম্পূর্ণ এক অন্য চেহারার পুলককে দেখল ঈপ্সিতা। রুক্ষ সাংঘাতিক উত্তেজিত কিছুটা উন্মত্ত পুলক আজকাল মদ্যপ হয়ে ফেরে। এত সাফল্যের পরেও কী চায় পুলক? মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার? সেদিন সে আরও অস্বাভাবিক ছিল।
— তুমি কি আজকাল আমার মুভমেন্ট মনিটর করছো নাকি?—চলবে।
— তুমি কি আজকাল আমার মুভমেন্ট মনিটর করছো নাকি?—চলবে।
হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















