কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

 

|| হার্ড ড্রাইভ-১১ ||

কারও ব্যাগে যে এরকম কিছু থাকতে পারে কোনও সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ যে এরকম কিছু রাখতে পারে সেটা বিশ্বাস করতে পারে না ঈপ্সিতা। লাল রঙের যে সুতোটা চেনের জিপারে আটকে গিয়েছিল একটু টানাটানিতে যে লালসুতোটা খুলে গিয়েছিল। ব্যাগের চেনটা খুলতেই সেটা স্পষ্ট দেখা গেল! একটা লাল রঙের দামি প্যান্টি। তার সঙ্গে গিঁট বাঁধা একটা দরজার চাবি লাগানো। তাতে ছোট্ট পেতলের ট্যাগ ‘The Heaven B-1301’। ঈপ্সিতা ভেবেছিল চট করে একটা মোবাইলে ছবি তুলে নেবে। কিন্তু তার আগেই বাথরুমের দরজা খোলার শব্দ পেল। চট করে সব ল্যাপটপ ব্যাগের মধ্যে রেখে দিয়ে, ব্যাগ যেমন ছিল তেমন রেখে দিল।
সারারাত দু’ চোখের পাতা এক করতে পারেনি ঈপ্সিতা। ঈপ্সিতা অত্যন্ত বুদ্ধিমতী। তার সেই বুদ্ধিদীপ্ত অন্তরাত্মা তাকে বলছে, কে এই নোংরা কাজটি করেছে? কিন্তু ঈপ্সিতা অত্যন্ত ধীরস্থির। চট করে সিদ্ধান্ত নেয় না। কিন্তু তা বলে কি তার ভুল হয় না? ভুল তো হয়েছে। এই বিছানায় কিছুটা দূরেই যে মানুষটা শুয়ে আছে। তাকে বাছতেই ভুল হয়ে গিয়েছিল। আজ মনে হচ্ছে ঈপ্সিতার বাবা শতদল চ্যাটার্জি পুলকের সঙ্গে বিয়ের বিরোধিতা করে ঠিকই করেছিলেন।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৮৭ : আকাশ এখনও মেঘলা

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৫: শিয়রচাঁদা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল? না ভীষ্ম?

বাবা মাকে ঠিকঠাক বুঝতে গেলে আগে অনেকটা সময় যায় বা ভয়ঙ্করভাবে ঠকতে হয়। সেদিন বাবাকে ভিলেন বলে মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল পুরনো সময়ের মানুষ দুটো ছেলেমেয়ের নির্মল ভালবাসাকে মেনে নিতে পারছেন না। শুধু সাফল্য শুধু সার্থক জীবন কোন মানুষের জীবনের মাপকাঠি হতে পারে না! আসলে বাবা-মা তারা যে এই জগৎটা আমাদের থেকে বেশিদিন দেখেছেন এটা মেনে নিতে কোথায় যেন একটা বাধা আসে। একটা সময় মনে হয় যে আমি যা ভাবছি যা ভেবেছি সেটা অভ্রান্ত। দেখার চোখে একটা ভালোবাসার মোহ লেগে থাকে তো তাই ভুল হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৯ : ঘটজাতক/৪ : বীরভোগ্যা বসুন্ধরা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

অভিভাবকের চোখে কোনও মোহ নেই। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ যাচিয়ে নেবার তীব্রতা আছে। ঈপ্সা মানে কিছু পাবার ইচ্ছে। লাভ করার আকাঙ্খা। ঈপ্সু হল যে পেতে চায়। ঈপ্সিতা হলো যে নারীকে সকলে পেতে চায়। পুলকও তাকে তীব্রভাবে পেতে চেয়েছিলো। আর ওই বয়সের কিশোরীদের মনে এমন একটা কথা জানার পর যে অসম্ভব উথালপাথাল হয় তাতেই ভেসে গিয়েছিলো সেদিনের ঈপ্সিতা চ্যাটার্জি।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

ঈপ্সিতার স্মৃতি খুব প্রখর। যাকে বলে ক্যামেরা মেমরি! একবার কিছু দেখলে ভোলে না। ‘The Heaven B-1301’ সে ভোলেনি। গুগল করে দেখে নিয়েছে, এটি উত্তর কলকাতার একটি হালফ্যাশনের রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স। এবিসিডি করে আটখানা টাওয়ার আছে। পরের দিন সকালে প্রথম কাজ হল গাড়ি নয়, ওলা বা উবের-এর আটঘন্টার গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৪: বুনো তেঁতুল, বাঘা ওল

ইপ্সিতা পৌঁছে গেল সেই ঠিকানায়! দ্য হেভেন। সরাসরি বি ব্লক এ পৌঁছে সিকিউরিটি গার্ডকে ডেকে পাঠালো। গম্ভীরভাবে বলল
— শুনুন একটা সমস্যা হয়েছে! বি১৩০১ আমাদের ফ্ল্যাট!
সার সার লেটার বক্সের দিকে দেখাল ঈপ্সিতা। কথা বলতে বলতে হাত গলিয়ে একবার দেখে নিল ভেতরে কোনও চিঠি আছে কিনা। নেই!
— ওই যে লেখা পি ভট্টাচার্য। পুলক ভট্টাচার্য আমার স্বামী। মিনিস্টার। চেনেন তো?
— হ্যাঁ ম্যাডাম! উনি তো মাঝে মধ্যে আসেন! আপনাকে আগে দেখিনি!
— না আমাদের সানি পার্কে ফ্ল্যাট। বালিগঞ্জ থেকে নর্থ ক্যালকাটা অনেকটা আসতে হয়। গৃহপ্রবেশের সময় এসেছিলাম। শুনুন ভাই একটু হেল্প করতে হবে।
— হ্যাঁ ম্যাডাম বলুন না!
— ওই থার্টিন্থ ফ্লোরের বি১৩০১ আমাদের ফ্ল্যাটের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ একবার দেখব। ফ্ল্যাটে ডুপ্লিকেট চাবিটা স্যার হারিয়েছেন। আমি জানি এখানে পড়ে থাকবে না তবু একবার দেখা আর কি? গাড়িতেও চেক করেছি। —চলবে।

হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content