কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। ছবি: সংগৃহীত।

 

|| হার্ড ড্রাইভ-৯ ||

বাড়ি ফিরে সচরাচর ঈপ্সিতার সঙ্গে পুলক আজকাল কথা বলে না। খানিকক্ষণ চুপ করে বসে থাকে। তারপর ফোন আসতে থাকে। আবার মদ নিয়ে বসে। গুরুত্বপূর্ণ কথা হলে নিজের অফিস রুমটাতেই ঢুকে যায়। কাচের দরজা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়। ভিতর থেকে রিমোটে লক ওপেন না করলে বাইরে থেকে কেউ ঢুকতে পারে না। ঈপ্সিতা ঢোকার চেষ্টাও করে না। কখনও-সখনও রাতে ডিনার করে। বেশিরভাগ সময়ই করে না।
রাজনীতির নানান প্যাঁচপয়জার স্ট্র্যাটেজি। ঈপ্সিতা ওর মধ্যে ঢুকতে চায় না। নিজে পছন্দ করে বাবার সঙ্গে যুদ্ধ করে বিয়েটা করেছে। তাই নিজেদের মধ্যেও বাইরের কাউকে ঢুকতে দিতে চায় না সে। কিন্তু সেদিনের মতো এতও রাগতে পুলককে কখনও দেখেনি ইপ্সিতা! তবু সে শান্তকণ্ঠে সরাসরি প্রশ্ন করে
— মানে?
— মানেটা তুমি জানো। আমি মিনিস্টার! অনেক কনফিডেন্সিয়াল কাজকর্ম থাকে যেটা বিরূপাক্ষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়! আমার ফোন আজ বন্ধ ছিল আর বন্ধ ফোন দুটো ছিল বিরূপাক্ষের কাছে। তুমি তাকে ফোন করলে। আর জানালে আমার সঙ্গে তোমার ফোনে কথা হয়েছে। ছেলেটার কাছে মিথ্যে বলে আমার কী উপকার করলে তুমি?
— তোমার কাছে তো আর একটা ইমার্জেন্সি নম্বর থাকে।
— সেটার খবর কেউই জানে না, বিরূপাক্ষও নয়! আমার সঙ্গে কথা হয়েছে বলায় ওর সেই সন্দেহটাই হবে দাদা আমাকে এই ফোনের কথা জানাননি।
— সেই ফোনটাতেও নো রিপ্লাই হল!
— তোমার ইমার্জেন্সিটা কী ছিল?
— কিছু না! তোমার দুটো ফোনই সুইচড অফ তাই।
— কী ভাবলে এক্সিডেন্ট হয়েছে? তাহলে সোশ্যাল মিডিয়াতে আগে জানতে পারবে! অনেকে খুশি হবে।
— তুমি এভাবে কথা বলছ কেন?
হাতে তাঁর দুটো ফোন নিয়ে পুলক জবাব না দিয়ে চান করতে চলে গেল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল? না ভীষ্ম?

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫০: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ৩০

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৫: শিয়রচাঁদা

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

পুলক তার ল্যাপটপের ব্যাগটা সোফায় ফেলে গিয়ে। ব্যাগটা সামনের চেনটা বন্ধ হয়নি। চেনে একটা সুতো ফেঁসে গিয়েছে। ইপ্সিতা ওসিডি-রপেশেন্ট! ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার’ সবকিছু সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে রাখার একটা অদম্য দুর্বলতা। ক্লিপ গুছিয়ে রাখা না থাকলে, পাপোশ বেঁকে থাকলে। কিংবা শার্ট বা প্যান্ট গুছিয়ে না রাখা থাকলে রান্নাঘর কিছু অগোছালো থাকলে ঈপ্সিতার মনের মধ্যে অস্বস্তি হয়। অচেনা লোকের বাড়িতে গিয়েও কখনওসখনও অপরের জিনিসও গুছিয়ে সোজা করে রেখেছে। প্রথম প্রথম পুলক এই নিয়ে ঠাট্টা করতো। পরে বিশিষ্ট হয়ে ওঠার পর পুলক রীতিমতো বিরক্ত হত।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৩: জোড়া আন্তোনিওর রহস্য

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

ব্যাগের মধ্যে থেকে ফোনের ভাইব্রেশনের চাপা গোঁ গোঁ শব্দ! পুলকের স্নানে অনেক সময় লাগে! নানা রকমের বডিলোশন মাখা। এটা সেটা। তার এসব আছে। তাই ফোন নিয়েই চানে যায়।কিন্তু এটা কী সেই পারসোন্যাল নম্বরের ফোন!? হতে পারে খুব কনফিডেন্সিয়াল ফোন! সিএম হতে পারেন?
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : হৃদয়হরণ

ফোনের শব্দ আন্দাজ করে দামী ল্যাপটপ ব্যাগটার সামনের ঢাকনা তুলতেই ফোনটা পেল। নামটা দেখেই ঈপ্সিতার মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। টেলি উত্তরা… , মানে এর কাছেও ওর পার্সোনাল নম্বর দেওয়া আছে। এইসব নায়িকা-ফায়িকারা মন্ত্রী পুলক ভট্টাচার্যের এতও ক্লোজ! উত্তরার কাছে এই ফোন নম্বর আছে ভেবে যতটা রাগ হয়েছিল আজ এই ফোনটা ভাইব্রেশনে থাকার কারণেই ইপ্সিতা ফোনে পুলককে পায়নি এটা জেনে ততটাই নিশ্চিন্ত হল। টেলিনায়িকা উত্তরা মুখার্জিকে প্রথম দেখেছিল একটা অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে গিয়ে। ‘সেরা বৌমা’ ট্রফি জিতেছিল উত্তরা মুখার্জি। সিরিয়ালের কি একটা নাম ছিল মনে নেই।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

ঈপ্সিতা ওঠে যাচ্ছিল! হঠাৎ মাথায় ওসিডি-র পোকা নড়ে উঠল। ল্যাপটপের পিছনের চেন দেওয়া অংশে একটা লাল সুতো মতো কী যেন বেরিয়ে আছে! সেটা টানাটানি করতে খুলে গেল! কিন্তু এটা কী দেখছে ঈপ্সিতা? —চলবে।

হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content