কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি প্রতীকী। সংগৃহীত।

 

|| হার্ড ড্রাইভ-৬ ||

বিনীতা অবাক অপঘাতে মৃত স্বামীর চতুর্থীর কথা এভাবে বলছে কী করে মেয়েটা? ইপ্সিতার বাবা শতদল চট্টোপাধ্যায়। বিনীতার স্বামী। ছিলেন। চন্দননগর পৌরনিগমের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। অনেকদিন সবাইকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু এখনও বিনীতা ভুলতে পারে না। শতদল জানতো শ্বশুরমশায়ের বালিগঞ্জ প্লেসে পুরনো বাড়ি আছে। তখন কোলকাতায় পুরনো বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাটবাড়ি গড়ে উঠছে। পৈতৃক সম্পত্তির আচমকা ভোল বদলে সেইসব ভাগ্যবান বংশধরেরা হঠাৎ করেই আলাদীনের আশ্চর্য হাতে পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শতদল কিছুতেই শ্বশুরমশায়ের সম্পত্তিতে থাকতে চাননি। তিনি জীবিত থাকলে হয়তো আসতেন না। কিন্তু বিনীতাকে বাধ্য হয়েই ভাইবোনেদের সঙ্গে এই বাড়ির ভাগ নিয়ে থাকতে হচ্ছে। আজকালকার ছেলেমেয়ে যারা নিজেরাই মেলামেশা করে বিয়ে করে তারা বোধহয় বিনীতাদের থেকে অনেক স্বাধীন, অনেক শক্ত। অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
ইপ্সিতা বুঝতে পারছে মায়ের কাছে সে এখন একটা বড়ও জিজ্ঞাসা চিহ্ন। কিন্তু সেদিকে মাথা দেওয়ার সময় তার নেই। এ বাড়িতে যে ফোনটা থাকে, সেখানেই দরকারি সব ফোন নম্বর সেভ করা আছে। তাই সেটা থেকেই ড্রাইভার আর কাজের লোকদের জানিয়ে দিল অনলাইনে এখনই মাস মাইনে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু শর্ত একটাই এসব নিয়ে কেউ যেন কোথাও কথা না বলে আর এই ফোন নম্বরটা তার নয়, অন্য একজনের।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৬

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭২: কামোদ্দীপক প্ররোচনা ও রাবণের পরস্ত্রী-অপহরণের লোলুপতা আজও অব্যাহত

শ্রদ্ধাঞ্জলি : বাইশে শ্রাবণ

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো

মায়েরা অকারণে ভয় পায়। দুনিয়াটা পাল্টে গিয়েছে। হ্যাঁ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ সংসার বদলায়। কিন্তু আজকের বদলটা সাঙ্ঘাতিক। এই গত দশ বছরে নীতিনৈতিকতার পাঠ নতুন করে শিখতে হয়েছে। সানি পার্কের বাড়িতে কতো ধরণের লোকজন আসতো। বিজনেসম্যান বা রাজনীতির কম পরিচিত চেহারাদের, নয় সকলে চেনেন না। কিন্তু আজকাল যাদের সেলিব্রিটি বলা হয় তারা আসতেন। কিন্তু ইপ্সিতা সানি পার্কের কাজের লোকেদের পরিষ্কার বলে দিয়েছিল ঘরের কোন কথা বাইরে যাবে না। বাইরে কথা বের হলে কোথা থেকে সে কথা বেরিয়েছে সেটা সে জেনে যাবো এবং বারোটা বাজিয়ে দেবে। ইপ্সিতা অখন মন্ত্রীর বউ ছিল। দাপট ছিল। কাজের লোকেরা জানত ইচ্ছে করলেই ম্যাডাম বারোটা চোদ্দোটা বাজাতে পারেন। কিন্তু আজ হলে তারা কী শুনতো। মাত্র একটা দিনের এধার-ওধার। জীবনের খাতাটা বদলে গেল?
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৮ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ১

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

কাজের লোকদের অনলাইনে মাসমাইনে পাঠাতে গিয়ে একটা নতুন জিনিস শিখলো ইপ্সিতা। ল্যাপটপ থেকে ইউপিআই পেমেন্ট মোবাইলের মতো হয় না। কারণ ল্যাপটপ থেকে মোবাইল ওয়ালেট সরাসরি অপারেট করা যায় না। যদি যেত তাহলে ডিজিটাল জোচ্চুরির নতুন একটা অধ্যায়ের সূচনা হতো। তবে ল্যাপটপ দিয়ে গুগল পে অ্যাপে পেমেন্ট করতে হলে সেভ করা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৯ : নুনিয়ার টান

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

ছোটমাসি বা ছোটমামি এখনও কেউ আসেনি। কাল খবরটা বাইরে আসার পর এসেছিল কিনা সেটা মাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। ছোটমামা শ্মশানে এসেছিল কাল। কোনও কথা হয়নি। তখন ইপ্সিতা জানতো না সানি পার্কের বাড়িতে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে শ্রেয়া বাসু আর ধৃতিমান চৌধুরী আসবেন। ফ্ল্যাট পুলিশ সিল করে যাবে। ইপ্সিতা জানে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন এখন টেলিভিশনের সবকটা চ্যানেল আর মোবাইলে এই নিয়ে ছোটখাট সব পোস্ট খুঁটিয়ে দেখে পরীক্ষার প্রিপারেশান নেওয়ার মতও তৈরি হয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

অথচ এরা সকলে পুলকের ক্ষমতার সুবিধে নিয়েছে। ছোটখাট স্কুল-কলেজে ভর্তি নয়, চাকরিও হয়েছে। তবে পুলক অনেকটা এগিয়ে ভাবতো! পুলক জানতো যতদিন ক্ষমতা ততদিন স্বাছন্দ্য। তাই সরকারি চাকরির রাস্তায় পুলক যায়নি। প্রাইভেট কোম্পানিতে বলে ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। যতদিন সে মন্ত্রী থাকবে ততদিন চাকরি টিকবে। মন্ত্রিত্ব গেলেও চাকরী থাকলে যে চাকরি করছে তার কপাল। না থাকলে কিছু বলার নেই।

সরকারি চাকরি দিতে অনেক হ্যাপা। পরে এ নিয়ে খোঁচাখুঁচি হলে ঝঞ্ঝাট অনেক। কিন্তু এতও হিসেবী এতো বুদ্ধিমান হয়েও ইপ্সিতার কাছে পুলকের পরকীয়া ধরা পড়ে গেল। মা কেন, ইপ্সিতা ছাড়া সারা পৃথিবীর আর কেউ জানে না। পুলক হাঁটুর বয়সী টেলিনায়িকা উত্তরা মুখার্জির সঙ্গে ডুবে ডুবে বিষপান করছে।

পুলককে সন্দেহ হচ্ছিল। বহুদিন সন্তান না হওয়ায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল ইপ্সিতা। নিশ্চিত হতে সে নিজের পরীক্ষা করিয়েছিল। একে একে পেলভিক আলট্রা সাউন্ড, হর্মোনাল টেস্ট, এইচএসজি, ল্যাপারোস্কোপি, হিস্টেরোস্কোপি যা যা প্রয়োজন সব করানোর পরে নিশ্চিত হয়েছে —সমস্যা ইপ্সিতার নয়। —চলবে।

হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content