কলকাতায় বৃষ্টি
 

|| হার্ড ড্রাইভ-৫ ||

বুতাইয়ের বাবা চলে যাবার পর সংসারে তেমন কাজকর্ম নেই। চায়ের কাপ নিয়ে সকাল থেকে টিভির খবর দেখা। চান খাওয়া পুজোআচ্চা সেরে দুপুরে সোফায় শুয়ে শুয়ে সিরিয়ালে চোখ। জলো খুঁড়িয়ে চলা গপ্পো হলে সেখানেই একটু চোখ জোড়ানো ভাতঘুম। টানটান ঘটনাপ্রবাহ হলে গোগ্রাসে গেলা। দুপুরে বেশি ঘুম হলে আজকাল রাতে মোটে ঘুম আসতে চায় না।
সন্ধেবেলা খবর। জমজমাট বাকযুদ্ধ। চা বা কফি । সঙ্গে একটু ভুজিয়া বা নিমকি। আর সেই সঙ্গে একে ওপরের মুণ্ডুপাত। বেশ লাগে। বোরোলিনের মতোই বঙ্গজীবনের অঙ্গ। প্রতি সন্ধ্যার নেশা। আবার খানিকপর থেকে সিরিয়াল। একটার পর একটা। অস্বাভাবিক। অসম্ভব। তবু দৈনন্দিন সঙ্গী তো। এখন কে ক’টা খোঁজখবর নেয়। এরাই তো থাকে সঙ্গে।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৫: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৫

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭১: কৃষ্ণের প্রতি ভীষ্মের শ্রদ্ধার্ঘ্য, শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে মানুষ ও দেবতার সমন্বয়

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

সেখানেই এই নাম দুটো বিনীতা শুনেছে। শ্রেয়া বাসু আর ধৃতিমান চৌধুরী! তাদের তত্ত্বাবধানেই নাকি লোকাল থানা বুতাইদের সাধের ফ্ল্যাট সিল করে দিয়ে গিয়েছে। এমনকি ওদের দুটো গাড়িও কদিন ব্যবহার করতে মানা করেছে। পুলিশ নাকি ফরেনসিক স্যাম্পেল নেবে। বুতাই এখানেই থাকবে। ফোন করে কাজের লোক ড্রাইভারদের এ মাসটা ছুটি দিয়ে দিয়েছে। আজ বেশ খানিকটা বেলায় বুতাই ঘরের দরজা খুললো। চেহারার ওপর ঝড় বয়ে গেছে। ওর নিজের ফোন বন্ধ রেখেছে। একটার পড় একটা ফোন আসছে। এই চ্যানেল ওই চ্যানেল। তারপর নিয়মমাফিক দুঃখ জানানোর ফোন।
আরও পড়ুন:

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

এ বাড়িতে একটা ফোন আছে বুতাইয়ের। সেটা এখানেই থাকে। বিনীতা দরকার পড়লে ল্যান্ডলাইনে ফোন করে নিতো। এখনকার দিনে সেটাই খালি থাকে।
— গাড়ি, বাড়ি কতদিন আটকে রাখবে?
— পুলিশের যতদিন ইচ্ছে।
— বাড়িঘর জিনিসপত্র এভাবে আটকে রাখতে পারে?
— নিশ্চয়ই পারে। আইন সে অধিকার পুলিশকে দিয়েছে। আর দেখুক না ইনভেস্টিগেশন করে।
— তোর জামাকাপড় সব তো!
— এখানে এক আলমারি বোঝাই শাড়ি ড্রেস রয়েছে। প্রায়ই নানান অনুষ্ঠানে যেতে হতো তাই দামিদামি পোশাক-আশাক ওখানে রয়েছে। এখন আর ওসবের দরকার পড়বে না!
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…

বিনীতা আর কথা না বাড়িয়ে বুতাইয়ের জলখাবার সাজাতে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায় !
— কোথায় যাচ্ছো?
— দেরিতে উঠলি। জলখাবার তো কিছু খাবি!
— খুব একটা খিদে নেই মা।
— কাল রাতে কিচ্ছু খাসনি। এখন কিছু না খেলে যে খালি পেটে পিত্তি পড়বে বুতাই!
— তুমি কেন? কমলাদি আসেনি?
— আমি মানা করেছি।
— কেন?
— তুই যদি আসিস বা যদি সরকারি লোকজন তোর সঙ্গে দেখা করতে আসে! কানখাড়া করে সবসময় ঘুরঘুর করবে।
— কি মুশকিল? ভালো করে বুঝিয়ে বলে দিলেই আর ওরা ঘরের কথা বাইরে বলবে না! আর মা পেট খালি মানে স্টমাক খালি থাকলে খুব খিদের সময় খাবার না খেলে অ্যাসিড সিক্রেশন হয়! হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড! ওই যেটা দিয়ে বাথরুমের প্যান পরিস্কার করা হয় সেই অ্যাসিড। আর গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পিত্তরস থাকে। বাইল জুস। তেল ঘি জাতীয় খাবার খেলে তখন পিত্তরস বা বাইল জুস সিক্রেশন হয় ।এতো বছর ভুল শিখেছো ভুল বলেছ ভুল শুনেছ।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

বিনীতা বেশ অবাক। মাত্র গতকাল ভোরেই বুতাইয়ের জীবনের এতও বড়ো একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে। তারপর গোটা একটা দিনের ছোটাছুটি! হাসপাতাল শ্মশান! কিন্তু আজ বুতাইকে দেখে মনে হচ্ছে এক তার মনে কোনও কষ্ট নেই আর নাহলে ইচ্ছে করে পাগলের মতো বকবক করছে। জোর করে শোকের থেকে শকের থেকে নিজেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনতে চাইছে মেয়েটা।
— মা! ঠাকুর মশাইকে খবর দিও! আমার তো একটা পুজো করতে হবে। অপঘাতে মৃত্যু! —চলবে।

হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content