
|| হার্ড ড্রাইভ-৬ ||
কিন্তু এটা নিয়ে অশান্তি চায়নি ইপ্সিতা। দাম্পত্য দিনে দিনে যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে। পুলক ব্যস্ত হয়েছে। বাড়িতে সময় কমেছে। সংসারের প্রাচুর্য বেড়েছে। পুলকের রাজনৈতিক দায়িত্ব বেড়েছে। ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। বাড়িতে সময় আরও কমেছে। হঠাৎ কোনও সমস্যায় পড়ে ফোন করলে ফোন কেটে দিয়েছে। পরক্ষণেই পুলকের আপ্তসহায়ক বিরুপাক্ষের ফোন এসেছে।
— ম্যাডাম! বিরূপাক্ষ! কোনও সমস্যা? স্যার মিটিংয়ে। আমাকে বলুন প্লিজ! আই উইল টেক কেয়ার!
— ম্যাডাম! বিরূপাক্ষ! কোনও সমস্যা? স্যার মিটিংয়ে। আমাকে বলুন প্লিজ! আই উইল টেক কেয়ার!
মাঝে মাঝে মনে হত, সুদর্শন ক্যারিসম্যাটিক পূর্তমন্ত্রী পুলক ভট্টাচার্যের থেকে তাঁর রোগাটে মাথায় অল্প চুল মোটা লেন্সের চশমাপরা আপ্তসহায়ক বিরূপাক্ষ ভৌমিকের ক্ষমতা বেশি। যে কোনও দৈন্যন্দিন সমস্যার ম্যাজিকের মতো সমাধান হয়ে যেত বিরূপাক্ষকে ফোন করবার পর। কীভাবে হত সেটা কখনও জানতে চায়নি ঈপ্সিতা। পুলকের ক্ষমতাকেই ব্যবহার করত বিরুপাক্ষ। কিন্তু কোথায় কতটুকু কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সেটা তার চেয়ে আর বেশি ভালো কেউ জানতো না।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৭

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

মানুষকে দেখি গণদেবতার বেশে…

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো
কিন্তু একটা সমস্যার সমাধান কেউই করতে পারবেন না। শত ক্ষমতাবান হলেও না। সেটা পুলকই পারে? অথচ পুলক তাদের দাম্পত্য এই সন্তানহীনতার সংকট নিয়ে কখনও কোনও কথা বলেনি। মাঝে মাঝে ইপ্সিতার মনে হয় পুলকের মতো অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষ নিশ্চয়ই নিজের সক্ষমতা বা অক্ষমতার পরীক্ষা করে নিয়েছে। অক্ষমতাটা আবিষ্কৃত হয়েছে তাই পুলকের মতো লোক মুখ বুজে রয়েছে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৯ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ২

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
পুলকের সঙ্গে বন্ধুত্ব-প্রেম-দাম্পত্যে ঈপ্সিতার দিক থেকে কোনও খাদ ছিল না। কিন্তু পুলকের ক্ষেত্রে প্রথম জীবনের উত্তাপ একটু একটু করে কমছে সেটা ঈপ্সিতার নজর এড়ায়নি। এই তফাতটা বোঝা যায়। চেষ্টা করলেও দাম্পত্যের পরিসরে এটা গোপন করা যায় না। তবে বহুদিন মানে বহু বছর ঈপ্সিতা এটা নিয়ে মাথা ঘামায়নি। ভেবেছে যে পুলক অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। খুব স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক দায়িত্ব বাড়ছে বা পুলক বাড়াতে চাইছে। মন্ত্রিসভায় চাইছে। দলে চাইছে। একক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টায় পুলক প্রাণপাত করতে পারে। স্বাভাবিকভাবে দাম্পত্যের সময়টুকু সে নিজের কেরিয়ারের পিছনে দিয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮০: যাত্রাপথে

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা
বলিউডের কোনও এক আইকনিক স্টারের স্ত্রী একবার বলেছিলেন, বিখ্যাত মানুষের ঘরণীদের গান্ধীজির তিন বাঁদরের কথার মনে রেখে জীবন কাটানো উচিত। স্বামীর সম্বন্ধে খারাপ কথা শুনবো না, খারাপ কথা বলবো না, খারাপ কিছু দেখব না। ইপ্সিতা এভাবে জীবন কাটাচ্ছিল।
হঠাৎ এক দিনদুপুরে ঈপ্সিতা পুলকের তিনটে মোবাইল নম্বরেই তাকে পেল না। পার্সোনাল দুটো নম্বর বন্ধ করা। অন্য ইমার্জেন্সি নম্বরটা বেজে গেল। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেদিন বিরূপাক্ষ ফোন করেনি। তাহলে পুলক কোথায়?
হঠাৎ এক দিনদুপুরে ঈপ্সিতা পুলকের তিনটে মোবাইল নম্বরেই তাকে পেল না। পার্সোনাল দুটো নম্বর বন্ধ করা। অন্য ইমার্জেন্সি নম্বরটা বেজে গেল। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেদিন বিরূপাক্ষ ফোন করেনি। তাহলে পুলক কোথায়?
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭২: কামোদ্দীপক প্ররোচনা ও রাবণের পরস্ত্রী-অপহরণের লোলুপতা আজও অব্যাহত
পুলক বুদ্ধিমান। কিন্তু ঈপ্সিতা একইরকম বুদ্ধিমতী এবং স্থিরলক্ষ্য। তাই অন্য যে কোনও স্ত্রী যেখানে মাথা গরম করে বুদ্ধিভ্রষ্ট হবে সেখানে ঈপ্সিতা পরের ফোনটা করলো বিরূপাক্ষকে। সেই রোবটের মতো জবাব।
— ম্যাডাম! বিরূপাক্ষ! কোনও সমস্যা? স্যার মিটিংইয়ে। আমাকে বলুন প্লিজ! আই উইল টেক কেয়ার!
— নানা! আপনাকে এমনিই ফোন করলাম! এতোবার ফোনে কথা হয় কিন্তু বাড়িতে কখনও আসেননি। দাদাকে নামিয়ে নীচের থেকেই ফিরে যান। মিসেসকে নিয়ে আসুন একদিন!
বলটা বিরূপাক্ষের জন্য ইয়র্কড হয়ে গেল।
— হ্যাঁ হ্যাঁ! ঠিক আছে!
— পুলকের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার!
— অ্যাঁ! কথা হয়েছে?
— হ্যাঁ! কেন বলুন তো?
— ন্ নানা! ঠিক আছে। ছাড়ি?!
হঠাৎ কী হল? বিরূপাক্ষ তড়িঘড়ি ফোনটা ছেড়ে দিল কেন? পুলকের সঙ্গে কথা হয়েছে শুনে বিরূপাক্ষ ঘাবড়ে গেল কেন? বিরূপাক্ষ অন্যদিন যতটা আত্মবিশ্বাসী থাকে আজ তেমন লাগলো না কেন? মনে হল আজকের ফোনটার জন্য বিরূপাক্ষ যেন তৈরি ছিল না! কেন? পুলককে ফোনে না পেলে ঈপ্সিতা তো বিরূপাক্ষকেই ফোন করে? আজ পুলক কোথায় আছে সেটা কি বিরূপাক্ষ জানে না? —চলবে।
— ম্যাডাম! বিরূপাক্ষ! কোনও সমস্যা? স্যার মিটিংইয়ে। আমাকে বলুন প্লিজ! আই উইল টেক কেয়ার!
— নানা! আপনাকে এমনিই ফোন করলাম! এতোবার ফোনে কথা হয় কিন্তু বাড়িতে কখনও আসেননি। দাদাকে নামিয়ে নীচের থেকেই ফিরে যান। মিসেসকে নিয়ে আসুন একদিন!
বলটা বিরূপাক্ষের জন্য ইয়র্কড হয়ে গেল।
— হ্যাঁ হ্যাঁ! ঠিক আছে!
— পুলকের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার!
— অ্যাঁ! কথা হয়েছে?
— হ্যাঁ! কেন বলুন তো?
— ন্ নানা! ঠিক আছে। ছাড়ি?!
হঠাৎ কী হল? বিরূপাক্ষ তড়িঘড়ি ফোনটা ছেড়ে দিল কেন? পুলকের সঙ্গে কথা হয়েছে শুনে বিরূপাক্ষ ঘাবড়ে গেল কেন? বিরূপাক্ষ অন্যদিন যতটা আত্মবিশ্বাসী থাকে আজ তেমন লাগলো না কেন? মনে হল আজকের ফোনটার জন্য বিরূপাক্ষ যেন তৈরি ছিল না! কেন? পুলককে ফোনে না পেলে ঈপ্সিতা তো বিরূপাক্ষকেই ফোন করে? আজ পুলক কোথায় আছে সেটা কি বিরূপাক্ষ জানে না? —চলবে।
হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















