শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

পৈতৃক সম্পত্তির কোনও ভাগ সে আশাও করেনি, দাবিও করেনি। কিন্তু ভবিষ্যতের আইনি জটিলতা এড়াতে কাকা জ্যাঠা এবং খুড়তুতো জাড়তুতো ভাই-বোনেরা ওয়ারিশন বাবদ একটা থোক টাকা ধৃতিমানকে দিতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, তাদের উকিল বুঝিয়েছেন, ভবিষ্যতের যেকোনও সময় ধৃতিমানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের দাবি ন্যায্য এবং আদালতে গ্রাহ্য হবে। সুতরাং সমস্যাটা এখনই মিটিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ঈশ্বরের পরম করুণায় শান্তিদা শান্তি সর্বজ্ঞ ছিলেন ধৃতিমানের বাঁধা প্রোডাকশন কন্ট্রোলার। অনেকটা বয়সে ধৃতিমানের সঙ্গে পরিচয়। তাই সে সকলের মতো শান্তিদা বলতো না, উল্টে শান্তি কাকা বলে ডাকত।
এই বয়স্ক মানুষটি ধৃতিমানের বাড়ি ছেড়ে আসা এবং তার পূর্ব-ইতিহাস জানত। তাই তিনিও আদর করে ধৃতিমানকে ভাইপো বলে ডাকতেন। টাকাটা ব্যাঙ্কে আসা মাত্র ধৃতিমান তার পরবর্তী ছবির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শুরু করে দিয়েছিল। আশ্চর্যভাবে বাধা দিলেন ইন্ডাস্ট্রির বর্ষীয়ান প্রোডাকশন কন্ট্রোলার শান্তি সর্বজ্ঞ। কাজ চালু হলে তিনিই তো মাইনে পেতেন। কিন্তু স্বার্থপরের মতো স্বার্থহীন মানুষও যথেষ্ট রয়েছে এই দুনিয়ায়!
—ভাইপো প্রি-প্রোডাকশন শুরু করছো তোমার কাছে টাকা কোথায়?
—কেন এতগুলো টাকা তো ব্যাঙ্কে ঢুকল!
— কোথায় টাকা! পাশবইয়ে দেখাও।
—পাশবই আবার আমার কাছে কবে থাকে, সবই তো আপনার কাছে। দেখান!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৫: ডেসডিমোনার রুমাল/৫

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৯: শেফালিকার বিপদ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

ছবি বা ডকুমেন্টারির প্রোডাকশনের দেখভাল করলেও শান্তি সর্বজ্ঞ আসলে ধৃতিমানের টাকাপয়সা ব্যাঙ্কে জমা করা ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলা, সরকারি অফিসে কাজের সূত্রে টেন্ডার ফি জমা করা সব কাজ করতেন। তিনি ব্যাগ থেকে পাশবইটা খুঁজে ধৃতিমানের সামনে ধরলেন।
— একি! এটা কবে হল।
—কেন তারিখ আছে তো!
—সে তো আছে। কিন্তু এতগুলো টাকা এফডি করা হল আমি তো কিছু…
— কি আশ্চর্য ব্যাঙ্ক কি আমার কথায় আমার সইতে তোমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা এফডিতে জমা নেবে?
—না সে সই তো আমিই করেছি!
—ভাগ্যিস সন্ন্যাসী রাজার সিনেমার মতো তোমার বেখেয়ালে সই করিয়ে টাকাটা মেরে দিইনি। তোমার নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে দিয়েছি! জোর করে না করলে ওই টাকা তুমি ছবিতে ঢেলে দিতে। বুবুকে নিয়ে খেয়ে পরে বাঁচতে তো হবে ভাইপো! এই টাকাটার জোরেই তুমি ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবে।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৪: সুন্দরবনের পাখি: গোত্রা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

সেই শান্তিকাকার সৌজন্যে মাসে মাসে পাওয়া একটা মোটা ব্যাঙ্ক ইন্টারেস্ট থেকেই বাবু-বুবুর সংসার, বাড়ি ভাড়া দিয়েও মোটামুটি ভালোভাবে সংসারটা চলে যায়। শান্তিকাকা আজ আর বেঁচে নেই। কিন্তু বাবুর প্রতিমাসে ব্যাঙ্কের ইন্টারেস্ট ঢোকার এসএমএস পেলেই শান্তিকাকার কথা মনে করে চোখে জল এসে যায়!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৬: বিষণ্ণ সকাল, নিঃসঙ্গ আদিনাথ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৩ : জনঅরণ্য: সরস্বতী না লক্ষ্মী?

ঐশী পালকে জানাশোনা লেডিস হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন শ্রেয়া। কয়েক দিনের মধ্যেই ফরেনসিকের ফলাফল জানা গেল। ধৃতিমানের অনুমান অভ্রান্ত। নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেননি আনন্দ পাল। তাকে ভরপেট ঘুমের ওষুধ এবং মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। ঘুমের ওষুধ খুব সম্ভবত মদেই মেশানো ছিল। কিন্তু সে প্রমাণ পাওয়া এখন সম্ভব নয়। ধুরন্ধর অপরাধী প্রমাণ লোপাট করেছে। যাইহোক, তারপর অচৈতন্য আনন্দ পালের মৃতদেহ গলায় ফাঁস লাগিয়ে হুকে ঝুলিয়ে দিয়ে কপিকলের মতো টেনে হিঁচড়ে তুলে একটা আত্মহত্যার চেহারা দেওয়া হয়েছে। এটা পেশাদার খুনিদের কাজ! কিন্তু পরিকল্পনায় অত্যন্ত বুদ্ধির ছাপ!
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৬: জীবন নিয়ে কৌতুক আর ‘যৌতুক’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী এবার তাহলে খুনিদের চিহ্নিত করতে হবে। ছাদে পড়ে থাকা সেই অ্যালমুনিয়ামের ফোল্ডিং সিঁড়িতে অনেকগুলি পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে। সেগুলো কাদের? আনন্দ ঐশীর ঘরের মধ্যে একাধিকজনের হাতের এবং পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে। আনন্দ এবং ঐশী ছাড়াও ওই ঘরে অজ্ঞাত লোকেদের উপস্থিতি আন্দাজ করা যাচ্ছে। আমাদের দেশের আইডেন্টিফিকেশন অফ প্রিজনার্স অ্যাক্ট ১৯২০ এবং ক্রিমিনাল প্রসিজিউর (আইডেন্টিফিকেশন) অ্যাক্ট ২০২২ অনুযায়ী, তদন্তকারী অফিসার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিতে পারেন, এর জন্য আলাদা করে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি লাগে না। কিন্তু যিনি অভিযুক্ত নন তেমন কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিতে গেলে অনুমতি না নিলে পরে। সেই প্রমাণ আদালত গ্রাহ্য করতে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু যদি এমন কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট লাগে যাকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত মনে করা হচ্ছে কিন্তু তিনি আবার অভিযুক্ত নাও হতে পারেন এমন একটা সম্ভাবনাও আছে, সেক্ষেত্রে পুলিশকে চালাকি করতে হয়। সন্দেহজনক কিন্তু অভিযুক্ত নন এমন কারও কাছ থেকে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট তাকে না জানিয়ে সংগ্রহ করা হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিল গেলে তখন আবার যথাযথভাবে আদালতের অনুমতি নিয়ে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের আবেদন করা হয়। এক্ষেত্রে খানিকটা সন্দেহের বশবর্তী হয়েই ধৃতিমানের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রেয়া শুভঙ্কর মুখার্জির ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েছিলেন। কিন্তু শুভঙ্কর মুখার্জির ফিঙ্গারপ্রিন্টের সঙ্গে সংগৃহীত ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলল না।

তাহলে কী ঘটেছিল? —চলবে।

আনন্দ পাল হত্যা রহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর, ২০২৫।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content