রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
ধৃতিমানের ধারণা, তার সন্দেহ যদি সঠিক হয় তাহলে এই ডিজিটাল সুইসাইড নোটের বদলে কাগজে লেখা চিঠি পাওয়া যেত। গোয়েন্দা হিসেবে যেহেতু খুন না আত্মহত্যা এই গুলিয়ে যাওয়া রহস্যের তদন্ত করতে হয়। তাই ধৃতিমান এসব নিয়ে রীতিমতো মন দিয়ে গবেষণার নথিপত্র নিয়মিত উল্টেপাল্টে দেখে। সেরকমই একটি গবেষণা জানাচ্ছে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে আত্মহত্যা করার মধ্যে সময়টুকু শতকরা ৩৬ ভাগের ক্ষেত্রে ৫ মিনিটের কম। শতকরা ৪৪ ভাগের ক্ষেত্রে ১০ মিনিট আর মোটামুটি বাকি শতকরা ২০ ভাগ মানুষ তিন ঘণ্টা বা ১৮০ মিনিট পর্যন্ত সময় নেন। হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে পড়া বা উত্তেজনার থেকে হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে যাওয়া চুপচাপ হয়ে যাওয়া এইসব বা এর কোনও একটির সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়াও সে তার বন্ধু-বান্ধব বা কাছের জনের কাছ থেকে কোনওভাবে সরে যাওয়ার কথা বলবে। এবার সুইসাইড নোট। সেটার চেহারা নির্ভর করবে এ ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে দূর্ঘটনা ঘটার সময়টা কতটা লম্বা।
সুতরাং কতক্ষণ সময় নিয়েছেন তার ওপর নির্ভর করছে, কীভাবে তিনি জানিয়ে যাবেন তার স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা। এছাড়াও গবেষণা বলছে, অনেকগুলো সিম্পটমস বা লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাবে। আত্মহত্যার একটা প্রবণতা থাকতে পারে। লক্ষণীয় মানসিক অবসাদ থাকতে পারে। কোনও একটা ক্রনিক রোগের ভুগতে পারেন যার থেকে মুক্তি পেতে গিয়ে এরকম একটা সিদ্ধান্ত। পরিবারে কোনও এ ধরনের ঘটনার মিল থাকতে পারে। ভয়ঙ্কর পারিবারিক মানসিক অশান্তির মধ্যে থাকার সম্ভাবনা বেশি। আত্মহত্যাপ্রবণ কারো সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে। এই মানুষটির ব্যবহারে কথাবার্তায় অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা যাবে।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৩: ডেসডিমোনার রুমাল/২

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৪: বিশাল বপু নিয়ে দিনেন্দ্রনাথ ধপাস করে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের উপর

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৮ শচীন দেববর্মণ ও ত্রিপুরার রাজপরিবার

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৩: শঙ্করের দেশান্তর, আখ্যানের অন্য পথ

প্রখ্যাত চিত্রতারকা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়াতে স্বঘোষিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকের ছড়াছড়ি খেয়াল করেছি আমরা সবাই। গলায় দড়ি দিলে নাকি গলায় সার্কুলার দাগ হয় না। একদিকটা উঁচু হয়ে যাওয়া একটা প্যারাবলিক চিহ্ন পড়ে। নিটোল গোলদাগ মানেই গলাতে আগে থেকে বেল্ট জাতীয় কিছু দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়েছে। আবার এক্ষেত্রে সেটা নাকি সুশান্ত সিংহের আদরের পোষ্যের গলার বেল্ট এক এক ঘণ্টার অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ সুশান্ত অনুরাগী অপেক্ষা করছেন।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২১: সুন্দরবনের পাখি: ছোট গুলিন্দা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

নতুন কী জানা গেল? নিটফল শূন্য আর কিছু সুযোগসন্ধানী ইউটিউবার ভিউয়ারশিপের ব্যবসা করে লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়ে নিল। রহস্য যেখানে ছিল সেখানেই থেমে রয়েছে। আজও! কিন্তু ফরেনসিক সাইন্স-এর নিয়ম অনুযায়ী থেমে থাকার কথা নয়। গলায় যে লাইগেশন মার্ক থাকে তার চামড়ার সঠিক নমুনা সংগ্রহ করতে পারলে এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায় গলা বা ঘাড়ের গলা ঘষটে যাওয়া ছিঁড়ে যাওয়া অংশের সেই কুঁচকে যাওয়া ক্ষতবিক্ষত চামড়া বা স্কিন সাল্কাসের চামড়ার ইমিনো-হিস্টোলজিকাল টেস্ট থেকে গলার সামনের দিকের অংশের টিস্যুর বিন্যাস মৃতদেহের থাইরয়েড, লারিংস ও ফুসফুসের অবস্থান থেকে একজন অভিজ্ঞ ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ফাঁসিতে ঝুলে পড়ার জন্য মৃত্যু আর মৃত্যুর পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার তফাৎটা স্পষ্ট বুঝতে পারেন। এই পোস্টমর্টেম আর পোস্টমর্টেম পরবর্তী সময়সাপেক্ষ হিস্টোলজিক্যাল টেস্ট যদি নিয়ম মেনে সঠিকভাবে হয়ে থাকে বা হয় তাহলে মৃত্যুর কারণ এবং মৃত্যুর সময় প্রায় নিখুঁতভাবেই বলা যায়। অনেক পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক বা পাহাড়প্রমাণ ঘুষের চাপে সবসময় সেগুলো হয়ে ওঠে না। আমরা সর্বংসহা নির্বাক জনগণ সবই বুঝতে পারি, মৌনব্রতী হয়ে থাকি। এই বেশ ভালো আছি, ঝামেলায় গিয়ে লাভ কী?
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৬: মত্ত হস্তির দাপাদাপি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৩: যুধিষ্ঠিরের সভায় উপস্থিত মহর্ষি নারদের প্রশ্নগুলি যেন রাজনীতির সার্বিক দিগদর্শন

ধৃতিমানের আগের গবেষণার সূত্রগুলো নাড়াচাড়া করতে গেলেই বোঝা যাবে সুশান্ত সিংহ রাজপুতের এর মধ্যে কোনও একটি উপসর্গও ছিল না। হ্যাঁ, মাদকাসক্তির কিছু কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানে নিজের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার যে প্রচণ্ড চাপ সেটা অনেকে তাঁদের মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে সামলাতে পারেন, অনেকেই পারেন না। তখন তাদের মাদকাসক্তির অবলম্বন লাগে। এটাও মানসিক দূর্বলতা। অধুনা অসময়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুহওয়া এক সংগীতশিল্পীর জীবনে এমন মাদকাসক্তির প্রভাবের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এটুকু ছাড়া সুশান্ত সিংহের ক্ষেত্রে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, তার জীবনবোধ বা আগামী ছবি নিয়ে প্রযোজক-পরিচালকের সঙ্গে তার আলোচনা এসব কিছুই তাঁর আত্মহত্যার থিওরিকে সমর্থন করে না।
আরও পড়ুন:

আমার দুর্গা: বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

দেহ মর্গে যাওয়ার পর ধৃতিমান ওই ফ্ল্যাটবাড়ির সাততলায় ছাদে গেল। আনন্দ পাল থাকতেন পাঁচতলায়। ছাদের ভূগোলটা দেখাই উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে জিওগ্রাফির বদলে ফিজিক্সের খোঁজ পেল একটা ফোল্ডিং সিঁড়ি। দুর্গাপুজোয় যত্রতত্র সিঁড়ি পড়ে থাকাটা আশ্চর্য নয়। কিন্তু এ বাড়ির ছাদে কেন ফোল্ডিং সিঁড়ি? কোনও বিল্ডিঙের ছাদে তো কোনও আলো লাগানো নেই, এ বাড়িতেও নেই।—চলবে।

ডেসডিমোনার রুমালপরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content