মঙ্গলবার ৯ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

শ্রেয়ার কথাটা শোনামাত্র ধৃতিমানের চোখের সামনের ধোঁয়াশা যেন কেটে গেল।
—তার মানে এই ন’ মিনিটের মধ্যে শুভ্রাংশু মুখার্জি আনন্দ পালের পাঁচতলার গিয়েছিল! বাড়িতে সুপারি কিলার ঢুকিয়ে দিয়েছিল। এটা করতে পেরেছিল কারণ অন্যান্য ফ্ল্যাটের সকলে ফাংশানে গিয়েছিল।
—বেশ! কিন্তু আনন্দ কি আগে থেকে ড্রিঙ্ক করছিল?
—এই জায়গাটা একটু গড়বড় লাগছে। সামথিং এলস হ্যাপেন্ড! যেটা আমরা মিস করে যাচ্ছি!
—৭-৮ মিনিটের মধ্যে ড্রিংস অ্যারেঞ্জ করে তাতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ড্রিঙ্ক করিয়ে লিফটে আবার স্টেজে ফিরে আসা…নাহ, কিছু একটা মিস করছি!
—শুভ্রাংশু মুখার্জির ফুটপ্রিন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাড়িতে কিচ্ছু নেই! সেটা কি করে সম্ভব!
—আমরা ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশনের সময় কিভাবে ঢুকি? সেসব প্রিকশন নিলেই হল!
—আনন্দ পালের সন্দেহ হবে তো?
—যদি তখন আনন্দ অলরেডি ইনটক্সিকেটেট থাকে?
—উঠে আনন্দ দরজা খুলেছিল বলছেন?
—ল্যাচ কী! বাইরে থেকে চাবি দিয়ে তো খোলা যাবে! আবার সুপারি কিলাররা কাজ সেরে মেনডোর বাইরে টানলেই দরজা বন্ধ—
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১১৭: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৬

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বাঘরোল

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫০: মধ্যরাতের বিপদ-আপদ

—ডুপ্লিকেট চাবিটা ঐশী দিয়েছিল?
সুতোয় পড়া জটের মতই জড়িয়ে যাওয়া গিঁটটা খুলতে একটু ধৈর্য ধরে সুতোগুলোকে আলাদা আলাদা করতে হয়, না হলে আবার জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। তদন্তের ক্ষেত্রেও তাই। কী হয়েছিল সেটা মোটামুটি স্পষ্ট কিন্তু আইনের বিচার প্রমাণসাপেক্ষ। এমন অকাট্য প্রমাণ যেটা বিচার করতে আর বুদ্ধি লাগবে না, একেবারে জলের মতো সোজা। সাত একে সাত হলে, সাত দু গুণে চোদ্দ। তিন সাত্তে একুশ! বিপক্ষের উকিল যতই কালো কোর্ট হাঁকিয়ে ভারিক্কি চালে ভারি ভারি বইপত্তর নিয়ে নাড়াচাড়া করুক, সাতের নামতা বদলাবে না!
আরও পড়ুন:

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৬: কুণ্টণি জাতক : ক্ষতির খতিয়ান

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র

হযবরল-এর কাকেশ্বর কুচকুচের হিসেব চলবে না। সময়ের সঙ্গে সাতের নামতা বদলে আগে বললে পৌনে চোদ্দ। ঠিক সময়ে চোদ্দ আর একটু দেরি হলেই আপনাআপনি সোয়া চোদ্দ হয়ে যাবার কোনও সম্ভাবনা নেই! কারণ আমাদের কারও ‘সময়ের বাজে খরচ’ নিয়ে আদৌ কোনও মাথাব্যাথা নেই! হযবরল-এর জন্মকাল ১৯২১ সালেও ছিল না। ১০৫ বছর পেরিয়ে এসে, এখনও নেই! আর আইন-আদালতে তো ‘তারিখ পে তারিধ’ কাঠগড়া , কালো কোর্ট, কাঠের হাতুড়ির মতো এক চিরায়ত ঐতিহ্য! তাই অকাট্য প্রমাণের বঁড়শিতে টান পড়ল!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি পর্ব-৯২: অবিবেচনা যত দ্রুত সিদ্ধান্ত আনে, তত দ্রুত ধ্বংসও আনে

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৭: পরবাস প্রস্তুতি (তিন)

শ্রেয়ার জোরাজুরিতে আবার ঐশী পালকে জেরা করার জন্যে গোয়েন্দা দফতরে হাজির করা হল। একই দিনে শুভ্রাংশু মুখার্জীকে ডাকা হল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়নি সুতরাং উকিল ডেকে তার সামনে কথা বলার কোন ওজর আপত্তি টিকবে না। বলা হল পুলিশ এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছে এটা আত্মহত্যা না খুন। তাই আবার ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। দুটি আলাদা ঘরে ঐশী এবং শুভ্রাংশকে ইন-ক্যামেরা একই সঙ্গে একই প্রশ্ন বারবার করা হতে লাগলো।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮০ : হাত বাড়ালেই বন্ধু

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

এবার শ্রেয়াকে প্রশ্ন করতে বসল ধৃতিমান এবং এসিপি রনজয় রায়। হ্যাঁ সেই কৌশিকী দত্তগুপ্ত হত্যারহস্য মানে বাথটাব হত্যায় ধৃতিমানের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যে এসিপির রনজয় রায়ের মনোমালিন্য হয়েছিল এবং পরে যাঁরা একই সঙ্গে তদন্ত করেছিলেন।
সেই তদন্তের সাফল্যের পর থেকে ধৃতিমানের সঙ্গে রণজয়ের সম্পর্ক খুব ভালো। ধৃতিমান বলল
—রায়সাহেব ইন্টারোগেট আপনিই করুন আমি সাসপেক্টকে অবজার্ভ করব।
—মিঃ চৌধুরী এখনো দেখছি আপনি আমার ওপর রাগ করে আছেন!
—না রায় সাহেব! একেবারেই না। আমি আপনাকে বুঝিয়ে বলছি। তিনটে অ্যাঙ্গেল আছে! এক: এর আগেরবারে শ্রেয়ার সঙ্গে আমি ইন্টারোগেশনে বসেছিলাম! আমন্ত্রণ আবাসনে ইনিশিয়াল ইনভেস্টিগেশনে আমিই গিয়েছিলাম। সুতরাং এবার আমি না থাকলে ঐশী যদি কোন ভুল করে থাকে তাহলে আপনার সামনে ওর মধ্যে একটা ভয় কাজ করবে। দুই পুলিশ ইনভেস্টিগেশনে প্রথমবারটা উতরে গিয়েছে সমস্যা হয়নি! কিন্তু আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হলেই ব্যাক অফ দ্য মাইন্ডে একটা জিনিস কাজ করবে যে, আগের বলা কথার মধ্যে কি ভুল পেয়েছে ? আর তিন, আপনি তো জানেন যে আমার কথার মধ্যে সেই থ্রাস্ট নেই যেটাতে সাসপেক্টের একটু ভয় হয়।
—আর আপনি বলছেন পুলিশ ফোবিয়া।
—এগজ্যাক্টলি – আমি বাইরে থেকে ওকে নোট করতে থাকব, তারপর সেকেন্ড লটে আপনি নোট করবেন আমি ইন্টারোগেট করব যাতে কনফিউজ হয়ে আসল কথা বেরিয়ে আসে।
—ওকে ডান!—চলবে।

আনন্দ পাল হত্যা রহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content