রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

পুজোর পরিসরে মৃত্যু ভীষণ স্পর্শকাতর বিষয়। তাই লোকাল পুলিশ স্টেশনের ওপর ভরসা না করে তড়িঘড়ি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হল গোয়েন্দা দফতরকে। তার আর একটা কারণও ছিল। এলাকার কিছুটা হরিদেবপুর পুলিশ স্টেশন, আর কিছুটা ঠাকুরপুকুর পুলিশ স্টেশনের আওতার মধ্যে পড়ে। দুটোই সাউথ-ওয়েস্ট বেহালা ডিভিশনের আওতায়, কিন্তু দায়িত্ব ঠেলাঠেলি এড়াতে গোয়েন্দা দফতর আসরে নামল।
প্রতিবছর পুজোর সময় ধৃতিমানের বাড়িতে ঢুকতে বেরোতে খুবই অসুবিধে হয়। উত্তর কলকাতার জমজমাট পুজো তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীনের ফুটপাতে নিশ্চিদ্র বাঁশের বেড়া গলে বের হতে হয়। এলাকার মানুষরা মুখ বুজে সবই সহ্য করেন, কারণ তেলেঙ্গাবাগানের পুজোর পাড়ায় থাকার একটা প্রচ্ছন্ন গরিমা তো আছে। সকালে তবু বেরনো যায়, কিন্তু রাতের বেলায় ফেরার কথা ভাবলেই আতঙ্ক হয়। ওলা, উবর থেকে যাত্রী-সাথী সকলে মুখ ফিরিয়ে নেয়। পুজোর সময়টা না উল্টোডাঙা মোড় না খান্না সিনেমার মোড়, কোনও দিক দিয়েই বিধাননগর রোড মানে উল্টোডাঙা চত্বরে ঢোকা যায় না। একমাত্র রাস্তা হল শোভাবাজার সুতানুটি মেট্রো স্টেশনে নেমে শেয়ার অটো স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া। একে বেঁকে নদী-নালা দিয়ে অটোর ঢেউ যতদূর পৌঁছবে ততদূর পর্যন্ত যাওয়া।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০২: ডেসডিমোনার রুমাল / ১

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৫ ন হন্যতে

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২: মালা বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৯: হাট্টিমা

তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে অটো ভাইদের অসীম ধৈর্য। পুজোর সময় বলেই তারা নিদেনপক্ষে উল্টোডাঙা স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছতে চায়। কারণ শিয়ালদা আর ওদিকে দমদমের দিক থেকে ক্ষণে-ক্ষণে বৃষ্টিধারার মতো পুজোর আনন্দ উপভোগ করা মানুষের স্রোত জমা হচ্ছে স্টেশনে। তাদেরও একমাত্র নিকাশি ব্যবস্থা হল এই অটো। সারা ভারতের জনতা একে রিকশা বলে ডাকে। কলকাতা শহর ডাকে অটো বলে। কারণ এখনও কলকাতা শহরে হাতে টানা প্যাডেলে রিকশা রয়ে গিয়েছে। আবার শহরতলী ও বাংলার গ্রামাঞ্চলে যাতায়াতের সঙ্গী অটোর অগ্রজ ভাই টোটো।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৩: মহর্ষিকে অনুসরণ করে তাঁর পত্নীও বাড়ির পুজোতে যোগ দিতেন না

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

জোকার আমন্ত্রণ হাউজিংয়ে সকাল সকাল পৌঁছেছিল গোয়েন্দা বিভাগের টিম। ধৃতিমান পৌঁছে দেখল বছর ৩৮-এর এক যুবকের মৃতদেহ ফ্যান থেকে ঝুলছে। নাম আনন্দ পাল। নীচে একটা চেয়ার উল্টে পড়ে আছে। লোকাল থানাকে টেলিফোন করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, ক্রাইমসিন ঘিরে দিতে, কিন্তু মৃতদেহ যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় রেখে দিতে। মৃতদেহ ফ্যানের থেকে নামানোর আগে মফিজুলের টিম পরীক্ষাটা শুরু করে দিল। গোয়েন্দা যদি চিত্রপরিচালক হয় তার চোখটা অন্যভাবে ঘুরতে থাকে। প্রথম যে খটকাটা লাগলো সেটা হল হাইট। আনন্দ পাল মাঝারি হাইটের রোগাটে গড়নের মানুষ। আন্দাজ অনুযায়ী, উচ্চতা কত হবে। পাঁচ ফুট ছয় সাড়ে ছয়। বেশ কিছুদিন আগে তৈরি হওয়া বলে এখানে ফ্ল্যাটের উচ্চতা বেশ খানিকটা উঁচু। এখন সাড়ে পাঁচফুট উচ্চতার আনন্দ পাল আড়াইফুট উচ্চতার চেয়ারটায় উঠে প্রায় সাড়ে আট ফুট উঁচুতে ফ্যানের রডে দড়িটা বাঁধলো কী করে? তাহলে আরও কোন উঁচু টুল বা সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল কী? যদি তা হয়ে থাকে তাহলে আত্মহত্যা করার পর সেই সিঁড়িটা সরিয়ে এই চেয়ারটা এখানে কে রাখল? আনন্দের ভুত নিশ্চয়ই নয়!
আরও পড়ুন:

আমার দুর্গা: বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ

এই সন্দেহটা জোরদার হল আনন্দ পালের মৃতদেহ নামানোর পর লাইগেশন মার্ক দেখে। কিন্তু আনন্দপালকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে নাকি আনন্দ ফ্যানে মোটা নাইলনের দড়ি বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সেটা শুধু লাইগেশন মাপ দেখেই বলে দেওয়া সম্ভব নয়। গলায় ফাঁস দিয়ে বা নাকে মুখে বালিশের চাপা দিয়ে শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছে নাকি দড়ির ওপর শরীরের ভার পড়ায় গলায় চাপ পড়ে মৃত্যু হয়েছে সেটা জানতে গেলে মফিজুলদের ডিপার্টমেন্টে ফরেন্সিক প্যাথলজিকে বিস্তর পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

কিন্তু সন্দেহটা বাড়ছে। আরও গন্ডগোলে হল একটা সুইসাইড নোট। মৃতের মোবাইল থেকে তার স্ত্রীর মোবাইলে হোয়াট্‌সঅ্যাপ করা হয়েছে। পরিষ্কার বাংলায় লেখা, “তুমি জানো চাকরির অনিশ্চয়তা আমাকে অস্থির করে তুলেছে। এভাবে বেঁচে থাকার আর কোনও অর্থ নেই। আমি তোমায় মুক্তি দিয়ে গেলাম।”—আনন্দ। — চলবে

‘ডেসডিমোনার রুমাল পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর ২০২৫।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content